প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লার ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হওয়ায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীক পরিবর্তনের পর পুনরায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এনসিটিবি জানিয়েছে।
তবে মুদ্রণমালিকদের মতে, বইটির ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তাই মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা বইগুলো সংগ্রহ করে সংশোধন করতে হলে অতিরিক্ত খরচ ও সময়ের প্রয়োজন হবে।
এদিকে, এনসিটিবির বই ছাপানোর হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বই ছাপানোর কাজের গতি ধীর। এর মধ্যে মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা বই সংগ্রহ করে পরিমার্জন শেষে আবার শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। এতে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বই পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীকটি পরিমার্জনের পর শিক্ষার্থীদের কাছে আবার সরবরাহ করা হবে। আপাতত ছাপার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মাঠে বিতরণ করা বই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ভুল তথ্য না পায়, সেটি নিশ্চিত করতে চান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির এক কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, দাঁড়িপাল্লা মূলত একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি প্রতীক। এই কারণে প্রতীকটি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে যেভাবে যুক্ত হলো ‘দাঁড়িপাল্লা’
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে। পিরামিডটিতে নিচ থেকে ওপরের দিকে চারটি স্তর রয়েছে—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তর বোঝাতে আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে।
উপাত্ত স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো দেখতে একটি বৃত্তাকার প্রতীক। তথ্য স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে একটি প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। জ্ঞানের স্তর বোঝাতে রয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লা রাখা হয়েছে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির এই আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর অধিকাংশ ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। এছাড়া, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।
আগের শিক্ষাবর্ষের বইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে প্রজ্ঞার প্রতীক ব্যবহারের পরিবর্তনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। সেই অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল।
চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে এসেছে। এ নিয়ে বিতর্কের পর এনসিটিবি এবার প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন