ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘কাঁদলে লাশ গায়েব করে দেবো’ ইমনের মায়ের বর্ণনা


‘কাঁদলে লাশ গায়েব করে দেবো’ ইমনের মায়ের বর্ণনা

‘লাশ পেয়েছেন, কাঁদতে পারবেন না। কাঁদলে লাশ গায়েব করে দেবো।’ শহীদ ইমনের মা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জানান, জুলাই আন্দোলনে নিহত ১৪ বছরের ইমনের মরদেহ পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের একজন নেতার কাছ থেকে তিনি এমন হুমকি পেয়েছিলেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় ২৩ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি প্রদান করেন। নিরাপত্তার কারণে সাক্ষীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে মামলার পাঁচ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ইমনের মায়ের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

জবানবন্দিতে ইমনের মা বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সকাল ৭টার দিকে ইমন বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যায়। সন্ধ্যার দিকে তিনি তেঁতুলতলা মোড়ে ছেলেকে দেখতে পান। সেদিন গুলিতে ইমনের বোনের ভাশুরও নিহত হন। ছেলেকে বাসায় ফিরে যেতে বলার পর তিনি তার মরদেহ দেখতে তেঁতুলতলা মোড়ে যান। পরে কারফিউ জারি হলে তিনি বাসায় ফিরে আসেন।

তিনি আরও বলেন, আমি ছেলেকে আন্দোলনে যেতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু শহীদ ইয়ামিনের একটি ভিডিও দেখিয়ে ইমন বলেছিল, "দেখছো, আমার বয়সী ছেলেদের কীভাবে মেরে ফেলছে। আমি কেন আন্দোলনে যাবো না?"

পরদিন ২০ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে খাওয়া-দাওয়া করে ইমন তার বন্ধু নাঈম ও শাহীনকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যায়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শাহীন বাসায় এসে ইমনের বড় ভাই রাজীবকে জানায়, ইমন গুলি খেয়েছে।

খবর পেয়ে ইমনের মা, বাবা ও বড় ভাই রাজীব এম জেড হাসপাতালের সামনে তেঁতুলতলা মোড়ে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা চারদিক থেকে গুলি চলতে দেখেন। এমনকি ওপরের দিক থেকেও গুলি ছোড়া হচ্ছিল বলে জবানবন্দিতে জানান ইমনের মা।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

তেঁতুলতলা মোড়ে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ইমনকে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তার জ্ঞান ছিল না। ছেলের এমন অবস্থা দেখে মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনজন ব্যক্তি ইমনকে রিকশায় করে বাসার সামনের রাস্তায় নিয়ে আসেন। অচেতন অবস্থায় ইমনের মাকেও বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জ্ঞান ফেরার পর ছেলের মরদেহের বর্ণনা দিতে গিয়ে ইমনের মা বলেন, ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেখি, মাথার পেছনে খুলিতে গুলির একটি চিহ্ন। বাম গালের চামড়া ইঁদুরের গর্তের মতো হয়ে ঝুলে ছিল। বুকের একপাশেও গুলির চিহ্ন দেখতে পাই।

এ সময় লম্বা চুলওয়ালা আওয়ামী লীগের এক নেতা এসে তাকে ধমক দেন বলেও জানান তিনি। ওই নেতা বলেন, "লাশ পেয়েছেন, কাঁদতে পারবেন না। না হলে লাশ গায়েব করে দেবো।"

পরে ইমনের মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আরও বাধার মুখে পড়তে হয় বলে জানান তার মা। এলাকার একটি মসজিদ থেকে খাটিয়া আনতে গেলেও ইমনের বড় ভাই রাজীবকে তা দেওয়া হয়নি। পরে অন্য একটি মসজিদ থেকে খাটিয়াসহ গোসল করানোর লোক নিয়ে আসা হয়।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, রাত ১১টার দিকে ইমনের জানাজা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তারা। তখনও চারদিক থেকে গুলি চলছিল। গ্রামের পথে তিন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের গাড়ি আটকে দেন। পরে অনুরোধ করে সেখান থেকে ছাড়া পান তারা।

পরদিন ২১ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান তারা। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় ১৪ বছরের ইমনকে।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ছেলের হত্যার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামকে দায়ী করেন ইমনের মা। এ সময় অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি।

ইমনের মা বলেন, "১৯ জুলাই যদি কারফিউ না দেওয়া হতো, তাহলে আমার ছেলে বেঁচে থাকত।" তিনি ছেলের হত্যার বিচারও দাবি করেন।

আরও পড়ুন: বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আপিলের চূড়ান্ত শুনানি ৮ ডিসেম্বর

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু, হতাশায় ঘাটে ফিরছেন পটুয়াখালীর জেলেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ পি.এম


২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু, হতাশায় ঘাটে ফিরছেন পটুয়াখালীর জেলেরা

দেশের নদী ও সমুদ্রের মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আবারও শুরু হতে যাচ্ছে। মা ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাত থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার।

নিষেধাজ্ঞার পূর্বে শেষ সময়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর জেলেরা ঘাটে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে মৌসুমজুড়ে বৈরী আবহাওয়া এবং সাগরে জলদস্যুদের আতঙ্কের কারণে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় তারা হতাশ হয়ে ফিরছেন।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরে মৌসুমের বড় একটি সময় মাছ ধরতে পারেননি জেলেরা। কিছু জেলে মাছ পেলেও বেশিরভাগ জেলের অভিযোগ, ট্রলারের জ্বালানি, বরফ, খাবার ও জালের খরচও উঠেনি।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জেলেরা গত কয়েক মাস ধরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় অনেকেই দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে দিন কাটাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

রাঙ্গাবালীর উপজেলা চরমোন্তাজ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের জেলে জামাল ফরাজী বলেন, "সাগরে এখন আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ট্রলারে যে খরচ হয়, অনেক সময় সেটাই ওঠে না। আবার নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এই সময়ে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।"

একই ইউনিয়নের আরেক জেলে আসাদুল প্যাদা বলেন, "মাছ না পাওয়ায় আমাদের অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সাগরে যাই। এখন নিষেধাজ্ঞার সময় কিস্তি ও সংসারের খরচ কীভাবে চালাব, সেটাই বড় চিন্তা।"

জেলেদের অভিযোগ, মাছ ধরার শেষ সময়েও সাগরে জলদস্যুদের আতঙ্ক ছিল। এ কারণে অনেক জেলে ঝুঁকি নিয়ে সাগরে যেতে পারেননি। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা দ্রুত ও সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হবে।

তবে মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, রাঙ্গাবালীর জন্য ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তার চাল বরাদ্দ হয়েছে। উপজেলার ১২ হাজার ৫০০ নিবন্ধিত জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ভিক্টর বাইন বলেন, "রাঙ্গাবালীর জন্য চাল বরাদ্দ হয়েছে। উপজেলার ১২ হাজার ৫০০ জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।"

তবে সরকারি সহায়তার পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে জেলেদের মধ্যে। তাদের দাবি, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে ২৫ কেজি চাল একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি প্রকৃত অনেক জেলের নাম তালিকায় না থাকায় তারা সরকারি সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

জেলেদের দাবি, শুধু চাল নয়, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সংসার চালাতে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ নজরদারি ও অভিযান জোরদার থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, "সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ নজরদারি ও অভিযান চলবে। কেউ আইন অমান্য করে সাগর বা নদীতে মাছ ধরতে গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিন নিরাপদে পার করতে সরকারি সহায়তা দ্রুত পাওয়ার পাশাপাশি ঋণের কিস্তির চাপ কমানোর ব্যবস্থা চান রাঙ্গাবালীর জেলেরা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেলিগ্রামে হিসাব, অনলাইনে জুয়ার টাকা বিদেশে পাচার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ পি.এম


টেলিগ্রামে হিসাব, অনলাইনে জুয়ার টাকা বিদেশে পাচার

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অনলাইন বেটিং ও জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবে জমা করে পরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পাবনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন পাবনা সদর উপজেলার ঈদগাহ রোড বাইলেন এলাকার মো. মনোয়ার হোসেন (৪১), রামচন্দ্রপুরের মো. মারুফ হোসেন হলি (২৭) এবং সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রাম এলাকার মো. ইলিয়াস হোসেন রাজু (২৬)।

সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে আতাইকুলা থানার বনগ্রাম বাজার এলাকা থেকে ইলিয়াস হোসেন রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর বাজার এলাকা থেকে মনোয়ার হোসেন ও মারুফ হোসেন হলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ জানান, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন বেটিং ও জুয়া পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়। চক্রটি বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন নামে ওয়েবসাইট খুলে বেটিং ও জুয়ার কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এসব ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও প্রচার করা হতো।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে বেটিংয়ের আয়োজন করত চক্রটি। জুয়ায় অংশ নিতে ব্যবহারকারীদের প্রথমে নির্দিষ্ট মাধ্যমে টাকা জমা বা ‘টপ-আপ’ করতে হতো। এজন্য বিভিন্ন এমএফএস, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমার নির্দেশনা দেওয়া হতো।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বেটিং সাইটে টাকা জমা ও উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নিয়মিত পরিবর্তন করা হতো। এজন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের কাছ থেকে একাধিক এমএফএস নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করত চক্রটি।

পরে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে এসব হিসাব ও নম্বরের তথ্য বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। এরপর ওই হিসাবগুলো ব্যবহার করে বেটিংয়ের অর্থ লেনদেন করা হতো।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে আসা অর্থ এসব এজেন্টের মাধ্যমে একত্র করা হতো। এজেন্টরা কমিশন রেখে বাকি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করত। পরে সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

সিআইডির দাবি, এভাবে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে।

এ ঘটনায় সিআইডি বাদী হয়ে গত ১৯ মে পল্টন থানায় মামলা করেছে। মামলায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২০(২), ২১(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন বেটিং চক্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা এবং জুয়ার টাকা সংগ্রহের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তবে কী পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে, অর্থপাচারের পুরো প্রক্রিয়া এবং দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোর সঙ্গে কারা জড়িত এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।

অনলাইন বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি ব্যক্তি ও চক্রের সদস্যদের শনাক্ত, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন ও অর্থপাচারের প্রকৃত পরিমাণ ও পদ্ধতি উদঘাটন এবং অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সংস্থাটি বলছে, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের অবৈধ লেনদেন, অর্থপাচার এবং এর সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের ২০২৫ সালের ২৮ মে জারি করা নির্দেশনায় অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এরপরও সংঘবদ্ধ চক্রটি অবৈধ অনলাইন বেটিং ও আর্থিক লেনদেন চালিয়ে আসছিল বলে সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে।

অনলাইন জুয়া ও বেটিং থেকে বিরত থাকতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমে অর্থ লেনদেন না করার এবং অনলাইন জুয়া বা অর্থপাচার সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের কল্যাণমূলক কাজের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ পি.এম


শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের কল্যাণমূলক কাজের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, "আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় কোনো কিছুই মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।" তিনি বলেন, "দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।"

সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটি বাড়ানোর জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তারা জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়েছে।

মতবিনিময়কালে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বলেন, "সরকার সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।" তিনি আরও বলেন, "সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করব। আপনাদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।"

এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে কঠিন চীবর দান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।

হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

পরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করেন।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুর্গাপূজার জন্য ৪ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। একইভাবে, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা চেয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন।

এছাড়া, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০-২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিন ছুটি ঘোষণা করে সরকার।

বরাদ্দের অর্থ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট/বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে উপকারভোগীরা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বরাদ্দের অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য মিস সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া ইসলামে জায়েজ নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ পি.এম


সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া ইসলামে জায়েজ নয়

ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র এবং পাত্রী উভয়ের সম্মতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অধিকার বাবা-মায়ের নেই। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের পূর্বে তাদের মতামত ও সম্মতি নেওয়ার বিষয়টি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, "হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

ইসলামে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন বা তারিখ নেই। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে ইজাব বা প্রস্তাব, কবুল বা গ্রহণ এবং সাক্ষীর উপস্থিতি অপরিহার্য।

নারীর সম্মতি নেওয়া জরুরি

নারীর মতামত ও সম্মতি নেওয়ার বিষয়টি হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আগে বিয়ে হয়েছে এমন নারীকে তার মতামত বা সম্মতি ছাড়া এবং কুমারি নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।" কুমারি নারীর অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, "তার নীরবতাই তার সম্মতি।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে এমন ঘটনা ঘটেছিল যেখানে সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। খানসা বিনতে খিজাম আনসারি (রা.) বর্ণনা করেন যে, তার বাবা তাকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেন। তিনি ওই বিয়ে অপছন্দ করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করলে, তিনি বিয়েটি বাতিল করে দেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৩৮)

অন্য একটি বর্ণনায়, এক নারী অভিযোগ করেন যে, তার বাবা তাকে তার ভাতিজার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন নিজের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বিষয়টি ওই নারীর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেন। পরে তিনি জানান, তিনি বাবার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন, তবে তার উদ্দেশ্য ছিল যে নারীরা যেন জানতে পারে—বিয়ের বিষয়ে বাবার একতরফা সিদ্ধান্তের অধিকার নেই। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৭৪)

ছেলে-মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়া যাবে না।

ইসলামি শরিয়তের আলোকে, প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়। বিয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সন্তানের নিজস্ব মতামতকে উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, "মা-বাবার জন্য সমীচীন নয় যে তারা ছেলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এমন কোনো মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দেবেন, যাকে সে পছন্দ করে না।" ছেলে এমন বিয়ে প্রত্যাখ্যান করলে তাকে অবাধ্য হিসেবে গণ্য করা হবে না। (মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড: ৩২, পৃষ্ঠা: ৩০)

শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, "কোনো সন্তানের অপছন্দে তাকে কারও সঙ্গে বিয়ে দিতে বাধ্য করার অধিকার মা-বাবার নেই।" সন্তানের অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া ইসলামে জায়েজ নয়। ছেলে বা মেয়ে রাজি না হলে বাবা-মায়ের জোর করে বিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, "বাবা-মা যদি জোর করে সন্তানের জন্য অনুপযুক্ত জায়গায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে চান, তাহলে সন্তানের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।" সন্তানের ন্যায্য দাবি ও মতামত শোনা মা-বাবার দায়িত্ব।

বিয়েতে পারিবারিক সম্মতি ও সন্তানের মত দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলাম বাবা-মায়ের সম্মান ও তাদের সঙ্গে সদাচরণকে গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের সম্মতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই অভিভাবকদের উচিত পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সন্তানের মতামত নেওয়া এবং তার ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে সম্মান করা।

অর্থাৎ, সন্তানকে জোর করে বিয়েতে বাধ্য না করে পারিবারিকভাবে আলোচনা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%