ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ধসে পড়ল স্কুল ভবন


ধসে পড়ল স্কুল ভবন

খুলনার কয়রার গাজী আব্দুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ দুই তলা অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনের অংশ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

দীর্ঘসময় ধরে ভবনটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। ভবনের ছাদ ও পিলারে বড় বড় ফাটল দেখা যাচ্ছিল, পলেস্তারা খসে পড়ছিল এবং রড বেরিয়ে এসেছিল। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার সমস্যাও চলছিল।

নতুন ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু কার্যাদেশ জারি না হওয়ায় নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগেই ওই দুইতলা ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

ঘটনাটি খুলনার কয়রার গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে, যেখানে মাধ্যমিকের ক্লাস অনুষ্ঠিত হতো।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলবেলায় ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদসহ সামনের অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ওইদিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক কেউ সেই সময় উপস্থিত ছিলেন না। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

তবে ভবনটির ধসের ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ রোববার (১৯ জুলাই) থেকে পাশের একতলা ভবনে মাধ্যমিক এবং কলেজ— দুই শাখার ক্লাস একসাথে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ছিল উপকূলের অন্যতম পুরাতন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০০০ সালে এই দুইতলা অ্যাকাডেমিক ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

আইলা, ইয়াস ও রিমালের মত ঘূর্ণিঝড়ে লবণাক্ত পানিতে বারবার প্লাবিত হওয়ার কারণে ভবনটির কাঠামো দুর্বল হয়ে যায়। একসময়ে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও শ্রেণিকক্ষে সংকটের কারণে ক্লাস চলতে থাকে।

ধসে পড়া ভবনে প্রাণহানি না হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবার ছুটির দিন বড় অংশ ধসে পড়া ক্রিকেটার ঘটনার কারণে প্রাণহানির সন্ধি হয় নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক গোলাম রসুল বলেন, শুক্রবার স্কুল বন্ধ ছিল ঠিক তাই ভবনটি ভেঙে পড়েছে। কিন্তু যদি ক্লাস চলাকালে ভবনটি ধসে পড়ত, তাহলে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এখন আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক শাখার শিক্ষক রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে মাধ্যমিকে ২৩০ জন শিক্ষার্থী ও ১৯ জন শিক্ষক এবং ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। ধসে পড়া ভবনে তাদের ক্লাস নেওয়া সম্ভব হবে না। এর ফলে পাশের একতলা ভবনে এতদিন শুধুমাত্র কলেজ শাখার ক্লাস চলত, এখন মাধ্যমিক ও কলেজ— দুই শাখার ক্লাস একসাথে পরিচালনা করতে হবে। এর ফলে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হবে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কোনো ঘূর্ণিঝড় হলে স্থানীয় মানুষের জন্য বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে। কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশরঞ্জন মৃধা বলেছেন, ভবনটি ধসে পড়ায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ার সাথে সাথে দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দ্রুত নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু এবং বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন।

নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভবন ধসে পড়ার পর বিষয়টিকে আরো গুরুত্ব সহকারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে।

জানা গেছে, গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য চলতি বছর আবার দরপত্র (টেন্ডার) সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি মূলত ২০১৭–১৮ অর্থবছরে অনুমোদিত হয়েছিল। তবে এলাকার মাটির স্তর (সয়েল লেয়ার) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নকশা ও কারিগরি বিষয় একাধিকবার পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। সয়েল টেস্টের জটিলতা কাটিয়ে আবারও টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে।

খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ধনঞ্জয় মিস্ত্রী জানিয়েছেন, প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরবর্তীতে চারতলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা যাবে। পাশাপাশি পাঠদান সচল রাখতে দুই ইউনিট টিনশেড ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। যদিও এখনো কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) জারি হয়নি। কার্যাদেশ জারি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে নির্মাণকাজ শুরু হবে। দরপত্রে ঠিকাদারের দেওয়া দর অনুযায়ী প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানোর ঘটনা সংশ্লিষ্ট তরুণীর বিষয়টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২২ পি.এম


কাশিমপুর কারাগার থেকে পালানোর ঘটনা সংশ্লিষ্ট তরুণীর বিষয়টি

একটি সিআর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে রিম্পা (২১) নামের তরুণী গত ৯ জুলাই কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে গিয়েছিলেন। তবে তিনি মাত্র ৮ দিনের মধ্যেই কাশিমপুরের মতো উচ্চ নিরাপত্তার কারাগার থেকে পালাতে সক্ষম হন। তার এই পলায়নটি কারাগারে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন মেট্রন এবং চার মহিলা কারারক্ষীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে যে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কারাগারে কয়েকজন নারী বন্দিকে দিয়ে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। এক পর্যায়ে রিম্পা কারাগারের অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশের উপর দিয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান।

পলাতক রিম্পা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়पुर গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় থাকতেন।

এ ঘটনার পরপরই কারা কর্তৃপক্ষ সার্বিকভাবে কারাগারে তল্লাশি চালালেও রিম্পার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে গেছেন।

দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ায় বরখাস্ত হওয়া সাতজন হলেন- মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা, রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।

এ বিষয়ে এআইজি প্রিজন্স জান্নাতুল ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনার পর কোনাবাড়ি থানায় মামলা ইলেকট্রনিক ভাবে হয়েছে। পলাতক বন্দিকে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। এত নিরাপত্তার মাঝেও একজন বন্দি কীভাবে পালালো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকে বন্দি রিম্পাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই ব্যাপারে আমাদের টিম কাজ করছে এবং তারা একটি ‘ক্লু’ পেয়েছে। কোনাবাড়ি এলাকার এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন থেকে ওই নারী তার বাড়িতে কথা বলেছেন। এর সূত্র ধরে অভিযান চলছে। নিয়ম অনুযায়ী বিকাল ৫টার মধ্যে বন্দিদের লকআপ করতে হয়। ওই সময়ের মধ্যে বন্দিদের লকআপ না করানোর কারণে এক বন্দি কৌশলে কারাগার থেকে পালিয়ে যান।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কোনাবাড়ি থানার ওসি ইফতেখার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, শুক্রবার কারাগারের জেলার শিরীন আক্তার বাদী হয়ে মহিলা কারাগার থেকে এক বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পালিয়ে যাওয়া বন্দিকে গ্রেপ্তারে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেয়ে হত্যা মামলায় খুলনায় আটক বাবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৫ পি.এম


মেয়ে হত্যা মামলায় খুলনায় আটক বাবা

খুলনায় চাঞ্চল্যকর কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি, ভুক্তভোগীর বাবা আলিম হোসেন ওরফে আকাশকে (৪০) গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬ স্পেশাল কোম্পানি এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদর থানার যৌথ আভিযানিক দল।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ডুমুরিয়া বাজার এলাকায় আব্দুল কুদ্দুসের চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব-৬ জানায়, গ্রেফতার আলিম হোসেন আকাশ খুলনা সদর থানাধীন মিস্ত্রিপাড়া খাল রোডের বাসিন্দা। তিনি চাঞ্চল্যকর নির্জনা হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত প্রধান সন্দেহভাজন আসামি।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই রাতে দুর্বৃত্তরা আরফানা হোসেন নির্জনাকে হত্যা করে তার মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে ভরে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় খুলনা সদর থানার নারী উপপরিদর্শক (এসআই) লাভলী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর তদন্তে নেমে র‍্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে খেলনা এবং টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে খেলনা এবং টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল শিশু

মাদারীপুরে বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর নগদ ৬৪ হাজার টাকারও বেশি অর্থ ও প্রিয় খেলনা নিয়ে শিশুকে (৮) উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘটেছে একদিন পরে, যেখানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা শিশুটিকে উদ্ধার করেছেন।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) ভোররাতে পুলিশের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর উদ্ধার হওয়া অর্থসহ শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এটি ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু, যার মধ্যে উদ্ধার হওয়া শিশুটি সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামের সুমন জমাদ্দারের ছেলে মাহিম জমাদ্দার (৮)।

জানা গেছে, বুধবার (১৫ জুলাই) তারিখে মাদারীপুর জেলার শিরখাড়া এলাকা থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ১০টার সময় মাদারীপুর সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে একা ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। এই সময় জেলা সদর হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্য অন্তর মিয়া বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরবর্তীতে তিনি হাসপাতাল আনসার ক্যাম্প ইনচার্জ মোখলেসুর রহমানকে বিষয়টি জানান।

আনসার সদস্যরা শিশুটির সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে তাকে নিরাপদ হেফাজতে নেন। পরে, তাদের তল্লাশি কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুটির খেলনার পাশাপাশি ব্যাগে থাকা নগদ ৬৪ হাজার ১২০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর আনসার সদস্যরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মনির হোসেনকে বিষয়টি জানান। তিনি জেলা হাসপাতালে গিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্যের মাধ্যমে শিশুটির বাবা ও চাচার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) বিষয়টি জানানো হয়।

শিশুটির বাবা সুমন জমাদ্দার সাংবাদিকদের জানালেন, "ছেলেকে হারিয়ে পরিবারের সবাই পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। হাসপাতালের আনসার সদস্যরা উদ্ধার না করলে আমার ছেলে হয়ত আরও দূরে কোথাও হারিয়ে যেত। ছেলেকে ফিরে পেয়ে আমাদের পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে।" এ বিষয়ে উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, শিশুটিকে ও তার সঙ্গে থাকা অর্থ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, সন্তানদের প্রতি বাবা-মাকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ারও অনুরোধ জানান।

মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, রাতেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্থানীয় প্রশাসন স্লুইসগেটের রক্ষণাবেক্ষণ করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৫ পি.এম


স্থানীয় প্রশাসন স্লুইসগেটের রক্ষণাবেক্ষণ করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজারের বন্যাকবলিত অঞ্চল পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ভবিষ্যতে স্লুইসগেটের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিবর্তে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা পালন করবেন। এতে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত স্লুইসগেট খুলে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে এবং ফলশ্রুতিতে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি কমানোর কাজও সহজ হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা দু'টোর দিকে পেকুয়ার বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করার পর, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এই সময় তিনি ভাঙা সড়ক, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কালভার্ট ও অন্যান্য অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। এরপর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের খবরও নেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বন্যা-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারে কাজ করা হচ্ছে।

এর আগে উপজেলা কেন্দ্রীয় মাঠে আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণের সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে ঘর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় পেকুয়াসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন, সরকার এবং রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন অতীতের মতো এবারও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। গৃহহারা মানুষের জন্য ঘর নির্মাণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করে তারা মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। এজন্য ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ জানান।

শামসুল হক ফাউন্ডেশন জানায়, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য তারা ১০০টি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সহযোগিতায় পেকুয়ার ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ঘর নির্মাণের সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকী পরিবারগুলোর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলবে।

এর আগে শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চকরিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং অভুক্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%