প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খুলনার কয়রার গাজী আব্দুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ দুই তলা অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনের অংশ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।
দীর্ঘসময় ধরে ভবনটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। ভবনের ছাদ ও পিলারে বড় বড় ফাটল দেখা যাচ্ছিল, পলেস্তারা খসে পড়ছিল এবং রড বেরিয়ে এসেছিল। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার সমস্যাও চলছিল।
নতুন ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু কার্যাদেশ জারি না হওয়ায় নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগেই ওই দুইতলা ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে।
ঘটনাটি খুলনার কয়রার গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে, যেখানে মাধ্যমিকের ক্লাস অনুষ্ঠিত হতো।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলবেলায় ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদসহ সামনের অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ওইদিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক কেউ সেই সময় উপস্থিত ছিলেন না। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তবে ভবনটির ধসের ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ রোববার (১৯ জুলাই) থেকে পাশের একতলা ভবনে মাধ্যমিক এবং কলেজ— দুই শাখার ক্লাস একসাথে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ছিল উপকূলের অন্যতম পুরাতন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০০০ সালে এই দুইতলা অ্যাকাডেমিক ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
আইলা, ইয়াস ও রিমালের মত ঘূর্ণিঝড়ে লবণাক্ত পানিতে বারবার প্লাবিত হওয়ার কারণে ভবনটির কাঠামো দুর্বল হয়ে যায়। একসময়ে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও শ্রেণিকক্ষে সংকটের কারণে ক্লাস চলতে থাকে।
ধসে পড়া ভবনে প্রাণহানি না হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল হায়দার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবার ছুটির দিন বড় অংশ ধসে পড়া ক্রিকেটার ঘটনার কারণে প্রাণহানির সন্ধি হয় নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক গোলাম রসুল বলেন, শুক্রবার স্কুল বন্ধ ছিল ঠিক তাই ভবনটি ভেঙে পড়েছে। কিন্তু যদি ক্লাস চলাকালে ভবনটি ধসে পড়ত, তাহলে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এখন আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক শাখার শিক্ষক রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে মাধ্যমিকে ২৩০ জন শিক্ষার্থী ও ১৯ জন শিক্ষক এবং ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। ধসে পড়া ভবনে তাদের ক্লাস নেওয়া সম্ভব হবে না। এর ফলে পাশের একতলা ভবনে এতদিন শুধুমাত্র কলেজ শাখার ক্লাস চলত, এখন মাধ্যমিক ও কলেজ— দুই শাখার ক্লাস একসাথে পরিচালনা করতে হবে। এর ফলে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কোনো ঘূর্ণিঝড় হলে স্থানীয় মানুষের জন্য বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে। কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশরঞ্জন মৃধা বলেছেন, ভবনটি ধসে পড়ায় পাঠদান ব্যাহত হওয়ার সাথে সাথে দুর্যোগের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দ্রুত নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু এবং বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন।
নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভবন ধসে পড়ার পর বিষয়টিকে আরো গুরুত্ব সহকারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হবে।
জানা গেছে, গাজী আবদুল জব্বার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য চলতি বছর আবার দরপত্র (টেন্ডার) সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি মূলত ২০১৭–১৮ অর্থবছরে অনুমোদিত হয়েছিল। তবে এলাকার মাটির স্তর (সয়েল লেয়ার) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নকশা ও কারিগরি বিষয় একাধিকবার পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। সয়েল টেস্টের জটিলতা কাটিয়ে আবারও টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে।
খুলনা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ধনঞ্জয় মিস্ত্রী জানিয়েছেন, প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরবর্তীতে চারতলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা যাবে। পাশাপাশি পাঠদান সচল রাখতে দুই ইউনিট টিনশেড ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। যদিও এখনো কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) জারি হয়নি। কার্যাদেশ জারি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে নির্মাণকাজ শুরু হবে। দরপত্রে ঠিকাদারের দেওয়া দর অনুযায়ী প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন