বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৪ পি.এম
দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ানোর তালিকায় প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি থাকলেও প্রধান মূল্যসূচক কমে গেছে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও হ্রাস পেয়েছে। ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক চলতি বছরের ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমলেও সেখানে লেনদেন বেড়েছে।
বুধবার লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমে যায়। এর ফলে দিনের শুরুতেই প্রধান সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। লেনদেন শুরুর প্রায় তিন ঘণ্টার মাথায় ডিএসইএক্স একপর্যায়ে ২২ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
সূচকের এই উত্থানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা তৈরি হয়। কিন্তু শেষ এক ঘণ্টায় এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ান। এতে দাম বাড়ানোর তালিকা থেকে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপতনের তালিকায় চলে আসে। বিশেষ করে বড় মূলধনের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সূচক পতনেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৬৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৫০টির দাম কমেছে এবং ৭২টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।
ভালো কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত, অর্থাৎ ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০৩টির শেয়ারদর বেড়েছে। কমেছে ৬২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির দর। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৫টির কমেছে এবং ১২টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৫টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ৬৩টির দর কমেছে এবং ৩০টির অপরিবর্তিত রয়েছে। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৭টির দাম বেড়েছে, ২টির কমেছে এবং ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ানোর তালিকা বড় হলেও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩৭ পয়েন্টে নেমেছে। এর ফলে সূচকটি চলতি বছরের ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। ওই দিন ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৫২০ পয়েন্ট।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১০ পয়েন্টে উঠেছে।
সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনও কমেছে। বুধবার বাজারটিতে ৫১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৫৯০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৭০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে এনভয় টেক্সটাইল। কোম্পানিটির ২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ২৭ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল।
লেনদেনের দিক থেকে ডিএসইর শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের বাকি কোম্পানিগুলো হলো এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সেনা ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম কটন, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং সামিট এলায়েন্স পোর্ট।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দরপতনের চিত্র ছিল বেশি স্পষ্ট। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭৩টির দাম কমেছে এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর কমায় সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৫৯ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৮৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
তবে সূচক কমলেও সিএসইতে লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বুধবার সেখানে ৮৭ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
ফলে বুধবারের বাজারে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ডিএসইতে কিছুটা বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়লেও বড় মূলধনের শেয়ারে বিক্রির চাপ সূচককে নিচে নামিয়েছে এবং লেনদেনও কমেছে। অন্যদিকে সিএসইতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর কমলেও লেনদেন বেড়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার একটি বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যাতে আকস্মিক বা সাময়িক গ্যাস সংকটে শিল্পখাত বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয়। নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধান এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে আনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য তুলে ধরেন। সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের জ্বালানি পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে যদি হঠাৎ গ্যাস সংকট দেখা দেয়, তবে শিল্পখাত যাতে গ্যাসের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন অন্যতম। টার্মিনালগুলোর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সংকটের সময়ে শিল্পকারখানায় জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।
নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহের আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রমও চলছে। ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সেখান থেকে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা ওই অঞ্চলের সমুদ্র উপকূলের সুবিধাজনক স্থানে জরুরি ভিত্তিতে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কুতুবজোমের টার্মিনাল এবং অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে দেশে এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আকস্মিক সংকটের সময় শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ ধরে রাখাই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খনন
দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশের গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজতে বড় পরিসরে ভূকম্পন জরিপও পরিচালিত হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার এলাকায় ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমুদ্রাঞ্চলেও তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে ২০২৬ সালের ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। বিড দাখিলের সময়সীমা নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ প্রণয়নের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
ভোলার গ্যাস শিল্পে ব্যবহারের উদ্যোগ
ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে এনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের বিষয়েও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। গ্যাস প্রাপ্তি সাপেক্ষে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে তা সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেড এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন বা বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল গ্যাস সঞ্চালন লাইনে আনতে দীর্ঘ সময় লাগবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ কাজে সাত বছর সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে ভোলায় কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
ছাদে সৌরবিদ্যুতে বাড়তি সুবিধা
গ্যাস ও জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বিশেষ সুবিধার কথাও জানান তিনি। ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেসব গ্রাহক নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তাঁরা পরবর্তী তিন বছর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা মূল্য পাবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সামনে এসব উদ্যোগের আরও সুফল পাওয়া যাবে।
প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ নিয়েও কঠোরতা
সংসদে প্রধানমন্ত্রী সরকারি প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়েও সরকারের পদক্ষেপের কথা জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নানা দুর্বলতা ধরা পড়েছে।
এ কারণে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সমীক্ষা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করা এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে নিবিড় তদারকি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ আমলে নেওয়া মেগাপ্রকল্পগুলোর অতিরঞ্জিত ব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। কয়েকটি প্রকল্পের তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় কমিয়ে জনগণ যাতে কম খরচে সর্বোচ্চ সুবিধা পায়, সরকার সে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
গত ১৭ বছরের দুর্নীতি ও দুঃশাসন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার যে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল, সেটিকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এই নিয়োগের মধ্যে ৫ হাজার কৃষি শ্রমিক এবং ৫ হাজার মৎস্যজীবী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত চূড়ান্ত করার জন্য আগামী মাসে ওমানের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওমানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ওমানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের আলোচনা হয়েছে। আলোচনার ফলস্বরূপ ৫ হাজার কৃষক এবং ৫ হাজার মৎস্যজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ওমানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ থেকে মোট ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার কৃষক এবং ৫ হাজার মৎস্যজীবী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই বিষয়ে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামী মাসে ওমানের আরেকটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মী নিয়োগের পরবর্তী ধাপগুলো চূড়ান্ত করা হবে।
এদিকে, ওমানে বাংলাদেশি কৃষি শ্রমিক নিয়োগের জন্য ৫ হাজারের একটি অনুমোদিত কোটা ইতিমধ্যে চালু হয়েছে। ওমানের কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের নিবন্ধিত সদস্যদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় এই কোটা বণ্টন করে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশিদের জন্য ওমানের ভিসা পুনরায় চালুর বিষয়েও সরকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শামা ওবায়েদ। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন কারণে ওমানের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আগের সরকারের সময়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশিরা নিয়মিতভাবে ওমানে যেতে পারেন, সেজন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যে শ্রম খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি চলতি বছরের দ্বিপক্ষীয় আলোচনাতেও গুরুত্ব পেয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা অটো-ক্যান্সেলেশন সমস্যার সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ব্রিফিংয়ে ইতালিতে শিল্পী বাঁধনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার নিন্দা জানান শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, মিলান কনস্যুলেট ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে ওই শিল্পীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
তিনি বলেন, মামলাসহ ইতালিতে শিল্পী বাঁধনের অবস্থানকালীন প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে তার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার কারণে কিশোরগঞ্জে শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও গতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার সমস্ত কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইসাথে, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন শিক্ষকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেন।
সভায় জেলার শিক্ষা পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে কমে যাওয়া উপস্থিতি এবং শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রমে মনোযোগী হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামীকাল নির্ধারিত সময়ে জেলার কোনো কোচিং সেন্টার পরিচালনা করা যাবে না। পাশাপাশি, বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে আসার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে।
শিক্ষার আলো জ্বালানোর মূল ঠিকানা শ্রেণিকক্ষ। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে সেই শ্রেণিকক্ষ ধীরে ধীরে তার প্রাণ হারাচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়গুলো আবারও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে-এমন প্রত্যাশা এখন কিশোরগঞ্জবাসীর।
শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। এতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. কামরুল হাসান মারুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার। সদর উপজেলার একাডেমিক সুপার ভাইজার এন এম বদরুজ্জামান তালুকদারের পরিচালনায় এতে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মমতাজ বেগম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুল হক, উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ জয়নুল আলম তালুকদার, কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মালেক চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমানোর উদ্দেশ্যে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্পের জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে, প্রকল্পটির বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা আবশ্যক। অর্থায়ন নিশ্চিত হলে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা এবং সময়সূচি নির্ধারণ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য প্রদান করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদের বৈঠক বেলা সাড়ে ৩টায় শুরু হয় এবং শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন।
মোহাম্মদ এনামুল হক জানতে চেয়েছিলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমাতে সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, বিশেষ করে ইলেকট্রিক বা বুলেট ট্রেন চালুর বিষয়ে। যদি থাকে, তবে সেটি কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জবাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরকে কেন্দ্র করে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই রুটের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও সক্ষম করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর, ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি কর্ডলাইন নির্মাণ এবং ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর ব্যবস্থা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর এর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা এবং সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থায়ন পাওয়া সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এতে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।”
অর্থাৎ, ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর জন্য কারিগরি প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো শেষ হলেও নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পরই বাস্তবায়নের সময়সূচি ঠিক করা হবে।
সরকার শুধু ট্রেনের গতি বাড়ানো নয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের রেলপথের দূরত্বও কমাতে চায়। এ জন্য ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত সরাসরি কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ বর্তমানে চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে রেলপথের দূরত্ব কমবে। একই সঙ্গে ট্রেনের গড় গতিও বাড়বে। এতে দুই শহরের মধ্যে কম সময়ে যাতায়াত করা সম্ভব হবে।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম অংশে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে।
লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদিকে, টঙ্গী-আখাউড়া অংশের প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি প্রণয়নের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আশা, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে। একই সঙ্গে রেলপথে ট্রেনের গতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুট দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। এই পথে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। সরকারের নেওয়া সমন্বিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে এই রুটে দ্রুত ও সক্ষম রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ