ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সার ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ, ৬৪ জেলায় কৃষকরা পাবে শতভাগ বরাদ্দ


সার ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ, ৬৪ জেলায় কৃষকরা পাবে শতভাগ বরাদ্দ

কৃষকের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সার ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। এর আওতায় অক্টোবর মাসের জন্য দেশের ৬৪ জেলার চাহিদার বিপরীতে সারের শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে রবি ও বোরো মৌসুমের চাহিদা বিবেচনায় আগাম আমদানি, মজুত, পরিবহন ও মাঠপর্যায়ে মনিটরিংয়ের সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার ১৪ সেপ্টেম্বরের বরাদ্দপত্র ও সংযুক্ত সারণি থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সরকারি হিসাবে, আগামী অক্টোবর মাসে ৬৪ জেলার টিএসপি সারের চাহিদা ৭০ হাজার ৫২ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন এবং এমওপি ৯৩ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টন। তিন ধরনের নন-ইউরিয়া সারের মোট চাহিদা ৩ লাখ ১৪ হাজার ৬১৬ মেট্রিক টন এবং এই পরিমাণ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌরশক্তিচালিত সেচে কৃষি খাতে ব্যয় কমছে, উৎপাদন বাড়ছে

এর মধ্যে টিএসপির সম্পূর্ণ ৭০ হাজার ৫২ মেট্রিক টনই বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে। ডিএপির ১ লাখ ৫০ হাজার ৯১০ মেট্রিক টনের মধ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ১ হাজার এবং বিএডিসি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন বরাদ্দ করেছে। এমওপির ৯৩ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টনের সমপরিমাণ বরাদ্দও জেলাভিত্তিকভাবে প্রদান করা হয়েছে।

বরাদ্দ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কেন্দ্রীয়ভাবে একক পরিমাণ নির্ধারণ না করে জেলা ও মাঠপর্যায়ের চাহিদা বিবেচনা করে আলাদা আলাদা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলাভিত্তিক বরাদ্দের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি উৎপাদনের চাহিদা ও জেলার প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সার বরাদ্দ করা হয়েছে। টিএসপি সারের ক্ষেত্রে ঢাকায় ৭৪০ মেট্রিক টন, নারায়ণগঞ্জে ৮৪০ মেট্রিক টন, মুন্সীগঞ্জে ৮৯৬ মেট্রিক টন, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ৬৮৪ মেট্রিক টন, নরসিংদীতে ১ হাজার ৪৮৭ মেট্রিক টন, টাঙ্গাইলে ১ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন, ময়মনসিংহে ১ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন এবং কুষ্টিয়ায় ১ হাজার ৮৮২ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া টিএসপি সারের তুলনামূলক বেশি চাহিদার জেলাগুলোর মধ্যে বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায় চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর জেলাগুলোতে কৃষি উৎপাদনের প্রয়োজন বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ডিএপি সারের ক্ষেত্রেও জেলাভিত্তিক চাহিদা অনুসারে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে সার সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সদরপুরের মাঠে আমনের সবুজ ঢেউ, কৃষকদের প্রত্যাশা ও দুশ্চিন্তা

তথ্যানুযায়ী, প্রতিটি জেলার মোট চাহিদার বিপরীতে বিসিআইসি ও বিএডিসির বরাদ্দ মিলিয়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পূরণের ব্যবস্থা দেখা যায়। বগুড়ায় ৪ হাজার ৫৪০ মেট্রিক টন, পাবনায় ২ হাজার ৪৮৩ মেট্রিক টন, নওগাঁয় ২ হাজার ২৬৯ মেট্রিক টন, নাটোরে ১ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন, রাজশাহীতে ৩ হাজার ৩৬০ মেট্রিক টন এবং ময়মনসিংহে ১ হাজার ৯৩০ মেট্রিক টন এমওপি সার বরাদ্দ করা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নথিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মাসভিত্তিক চাহিদার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, জুলাই থেকে পরবর্তী মাসগুলোতে ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে সরবরাহ ও মজুতের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা মজুত হিসেবে ইউরিয়া ৫ লাখ মেট্রিক টন, টিএসপি ৪ লাখ, ডিএপি ৫ লাখ এবং এমওপি ৩ লাখ মেট্রিক টন রাখার লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ থেকে শুরু করে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা এবং পার্বত্য তিন জেলাসহ কোনো জেলাকেই কেন্দ্রীয় বরাদ্দের বাইরে রাখা হয়নি। ৬৪ জেলার প্রত্যেকটির চাহিদা পৃথকভাবে বিবেচনায় নিয়ে বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলাওয়ারি বরাদ্দে কৃষিপ্রধান জেলাগুলোর জন্য তুলনামূলক বড় পরিমাণ সার বরাদ্দের চিত্রও পাওয়া যায়। যেমন- টিএসপির ক্ষেত্রে ময়মনসিংহ, নরসিংদী, কুমিল্লা, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার মতো জেলাগুলোতে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাতের আঁধারে সার পাচারের সময় হাতেনাতে ধরল এলাকাবাসী

এমওপির ক্ষেত্রে বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, নাটোর ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন কৃষিপ্রধান জেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ায় ৪ হাজার ৫৪০ মেট্রিক টন, রাজশাহীতে ৩ হাজার ৯৬০ মেট্রিক টন এবং নাটোরে ১ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন এমওপি বরাদ্দের তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিএপির ক্ষেত্রেও বড় কৃষি এলাকার চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএডিসি ও বিসিআইসির বরাদ্দ মিলিয়ে জেলার মোট চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শুধু জেলাভিত্তিক বরাদ্দ নয়, কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার আমদানি ও মজুতের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে। সরকারি হিসাবে রবি ও বোরো মৌসুমে সারের মোট চাহিদা ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে প্রস্তুত সরবরাহ রয়েছে ৫১ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কৃষি খাতের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে মোট ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে বেলারুশ থেকে ৩০ হাজার টন এমওপি, মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া রয়েছে।

আরও পড়ুন: পলাশবাড়ীতে ২ বিঘা জমির লাউক্ষেত ধ্বংস, কৃষানির কান্না থামছে না

এর আগে আগস্টেও বিভিন্ন উৎস থেকে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ইউরিয়া ৪ লাখ ১৮ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, ডিএপি ৩ লাখ ২ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯০০ টন মজুত ছিল। একই সময়ে পরিবহনের পথে ছিল টিএসপি ১ লাখ ২৮ হাজার ২০০ টন, ডিএপি ১ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টন এবং এমওপি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ টন।

নতুন ব্যবস্থায় বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি সার বিতরণ ও সরবরাহের মাঠপর্যায়ের মনিটরিং জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৬৪ জেলায় সার মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগের কথাও সরকারি তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দপত্রে বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত সার বিধি অনুযায়ী ডিলারদের মধ্যে উপজেলার বরাদ্দের সমহারে উপ-বরাদ্দ দিতে হবে। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী মাসে বেসরকারি খাতে বরাদ্দ করা সারের এলসিভিত্তিক উত্তোলন ও অনুত্তোলনের তথ্য সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। ডিলারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা জমা দিয়ে সার উত্তোলন এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের কাছে বিক্রি নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন: ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিটিজেন চার্টারেও নন-ইউরিয়া সারের নিয়মিত মাসিক বরাদ্দ পরবর্তী মাসের জন্য প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, সার ব্যবস্থাপনায় বর্তমান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হচ্ছে চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা ও আগাম প্রস্তুতি। শুধু সার আমদানি বা মজুত করাই নয়, কোন এলাকায় কতটুকু সার প্রয়োজন, কখন প্রয়োজন এবং কীভাবে তা কৃষকের কাছে পৌঁছানো হবে— এসব বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার নিশ্চিত করতে সরকার শুরু থেকেই আগাম ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ করে জেলাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অক্টোবর মাসের জন্য টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের চাহিদার বিপরীতে শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে সার নিয়ে কৃষকের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন: একসময় পোলট্রি বিপ্লবের কেন্দ্র, এখন জরাজীর্ণ জামালগঞ্জ খামার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সরকার জাহাজভাঙা শিল্পের উন্নয়ন চায়, মৃত্যুহারও জিরোতে নামাতে হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


‘সরকার জাহাজভাঙা শিল্পের উন্নয়ন চায়, মৃত্যুহারও জিরোতে নামাতে হবে’

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাশেদুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, সরকার জাহাজভাঙা শিল্পের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং মৃত্যুহারকে জিরোতে নামানোর প্রয়োজন রয়েছে।

গত ১৪ আগস্ট চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় ১০ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে টেকসই জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA), শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ড (BSRB)-এর সহযোগিতায় চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হোটেলে নিরাপত্তা সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান যুগ প্রযুক্তির। এখন শিল্প কারখানা ইয়ার্ডের কার্যক্রম ঘরে বসেই ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা সম্ভব। প্রযুক্তির সুযোগ গ্রহণ করতে হবে। সবকিছু এখন হাতের মুঠোয়, তাই চাইলে মোবাইলের মাধ্যমে দেখা যাবে। ফলে নিজে দায়মুক্ত থাকতে পারবেন। অভিজ্ঞতাকে বেশি বিশ্বাস না করে, যিনি কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন, তিনি সজাগ থাকবেন।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে জাহাজভাঙা শিল্পে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হবে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশেদুল ইসলাম।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশন (BSBRA)-এর সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

হেলথ, সেফটি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (HSE) পেশাজীবী, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ডের প্রতিনিধি, পরামর্শক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও নিরাপত্তা সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশেদুল ইসলাম অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। তিনি দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ২ মিনিটের নীরবতা পালন করেন। এছাড়া জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে কার্যকর ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে BSBRA-এর সভাপতি মোহাম্মদ মোহসিন শিল্পে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে শিল্পখাতের পক্ষ থেকে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর আলোকপাত করেন। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়, মো. জুনাইত কাওসারও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কর্মসূচিতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এর অংশ হিসেবে ১৪ আগস্টের দুর্ঘটনার তদন্তে প্রাপ্ত ফলাফল উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (BUET) অধ্যাপক ড. ইয়াসির আরাফাত খান।

JICA-এর বিশেষজ্ঞ আকিরা ওকামোতো দুর্ঘটনা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা এবং আবদ্ধ স্থানে (Enclosed Spaces) কাজের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় নিরাপত্তা প্রোটোকল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের (BSRB) মহাপরিচালক গাজী মো. আসাদুজ্জামান কবির জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে নিরাপত্তা সংস্কৃতির উন্নয়নে শিল্প মন্ত্রণালয় ও BSRB-এর প্রস্তাবিত সুপারিশসমূহ তুলে ধরেন। তিনি সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এ খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার করণীয় ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করেন।

নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ জোরদার, নিরাপত্তা সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা, যথাযথ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ব্যবহার এবং হংকং কনভেনশন ও বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং রুলস এবং লেবার রুলস অনুযায়ী প্রযোজ্য নির্দেশনা ও নিরাপত্তা বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, BSBRA-এর সদস্য, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং BSRB-এর মহাপরিচালক ভবিষ্যতে এ শিল্পে শূন্য ঘটনা ও শূন্য দুর্ঘটনা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে যেকোনো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার আগে শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

JICA-এর প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী সৌমিক শরীফ দীপ্ত বলেন, বাংলাদেশে নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে JICA শিল্প মন্ত্রণালয়, BSRB এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে সক্ষমতা বৃদ্ধি, কারিগরি সহায়তা এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে JICA-এর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদীতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদীতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে

চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদী থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একটি অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের মাথাভাঙ্গা ব্রিজের নিচে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে মাথাভাঙ্গা ব্রিজের নিচে নদীর পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মরদেহটি উদ্ধার করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম ও পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান বলেন, "ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআইসহ পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ, এসএসসি পাসেই আবেদন শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৭ পি.এম


মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ, এসএসসি পাসেই আবেদন শুরু

মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় একটি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানে এবং এর অধীনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়সমূহ ও সার্কিট হাউজে ৪টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টায় এবং শেষ হবে ১৪ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

অফলাইন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আবেদন ফি টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এসএসসি পাসের চাকরি প্রার্থীরাও এই নিয়োগের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এক নজরে মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬

পদের বিবরণ

আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আবেদন শুরু: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা

আবেদনের শেষ তারিখ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪টা পর্যন্ত

আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে

চাকরির ধরন: অস্থায়ী

প্রার্থীর ধরন: নারী - পুরুষ। তবে প্রার্থীদের অবশ্যই মাগুরা জেলার স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।

কর্মস্থল: মাগুরা জেলা

বয়স: ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স হতে হবে ১৮ - ৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এবং বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি এবং ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না।

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইড সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ ১ - ২ নং পদের জন্য ১১২ টাকা এবং ৩ - ৪ নং পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭০ হাজার ফেরেশতা প্রতিদিন ইবাদত করেন বায়তুল মামুরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৮ পি.এম


৭০ হাজার ফেরেশতা প্রতিদিন ইবাদত করেন বায়তুল মামুরে

মানুষের চোখের আড়ালে একটি বিশাল জগত বিদ্যমান, যা কেবল কোরআন ও সহিহ হাদিসের বর্ণনায় প্রকাশিত। আকাশমণ্ডলীর এই বিস্ময়কর স্থান বায়তুল মামুর। সপ্তম আকাশে অবস্থিত এই পবিত্র ঘরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ফেরেশতা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হয়ে থাকেন।

ইসলামি বর্ণনা অনুসারে, প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা বায়তুল মামুরে প্রবেশ করেন। ইবাদত শেষে ফেরেশতারা বের হয়ে যান এবং তারপর আর কখনো সেখানে ফিরে আসার সুযোগ পান না। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মিরাজের রাতে নিজ চোখে বায়তুল মামুর দেখেছেন।

বায়তুল মামুর কী

‘বায়ত’ শব্দের অর্থ ঘর এবং ‘মামুর’ শব্দের অর্থ আবাদ, জনবহুল বা যেখানে নিয়মিত মানুষের যাতায়াত রয়েছে। সুতরাং, বায়তুল মামুর হলো এমন একটি আবাদ ঘর, যেখানে ফেরেশতাদের অবিরাম আনাগোনা ও ইবাদত হয়ে থাকে।

পবিত্র কোরআনের সুরা তুরে আল্লাহ তাআলা বায়তুল মামুরের শপথ করেছেন। আল্লাহ বলেন—

وَالْبَيْتِ الْمَعْمُورِ ۝ وَالسَّقْفِ الْمَرْفُوعِ ۝ وَالْبَحْرِ الْمَسْجُورِ ۝ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعٌ ۝ مَا لَهُ مِنْ دَافِعٍ

অর্থ: ‘শপথ বায়তুল মামুরের, সুউচ্চ ছাদের এবং উত্তাল সমুদ্রের। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকের শাস্তি অবশ্যম্ভাবী। তা প্রতিহত করার কেউ নেই।’

— সুরা তুর, আয়াত ৪–৮

মিরাজের রাতে দেখেছিলেন মহানবী (সা.)

বায়তুল মামুর সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা পাওয়া যায় মিরাজের সহিহ হাদিসে। মহানবী (সা.) যখন সপ্তম আকাশে পৌঁছান, তখন তাঁকে বায়তুল মামুর দেখানো হয়।

হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, মহানবী (সা.) যখন হযরত জিবরাইল (আ.)-কে বায়তুল মামুর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তখন তিনি বলেন—

«هَذَا الْبَيْتُ الْمَعْمُورُ، يَدْخُلُهُ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ، إِذَا خَرَجُوا مِنْهُ لَمْ يَعُودُوا فِيهِ»

অর্থ: ‘এটি বায়তুল মামুর। প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা এতে প্রবেশ করেন। তারা একবার বের হয়ে গেলে আর কখনো এতে ফিরে আসেন না।’

— সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২০৭

এই হাদিস আল্লাহর সৃষ্টিজগতের বিশালতার একটি বিস্ময়কর চিত্র তুলে ধরে। প্রতিদিন নতুন ৭০ হাজার ফেরেশতা বায়তুল মামুরে ইবাদতের জন্য প্রবেশ করেন। তাঁদের প্রত্যেক দল একবার সেখানে যাওয়ার পর আর ফিরে আসে না।

ফেরেশতাদের ইবাদতের পবিত্র স্থান

মুফাসসিরদের ব্যাখ্যায়, বায়তুল মামুর ফেরেশতাদের ইবাদতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পৃথিবীতে মুসলমানরা যেমন পবিত্র কাবাঘরকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ ও ইবাদত করেন, তেমনি আসমানের ফেরেশতারা বায়তুল মামুরে ইবাদত করেন।

তাফসিরে ইবনে কাসিরে সহিহ হাদিসের আলোকে বায়তুল মামুরে ফেরেশতাদের ইবাদত ও তাওয়াফের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অদৃশ্য জগতের বিষয় হওয়ায় বায়তুল মামুরের আকৃতি, গঠন বা অবস্থান সম্পর্কে কোরআন-হাদিসে যতটুকু তথ্য পাওয়া যায়, ততটুকুতেই বিশ্বাস সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। অনুমাননির্ভর অতিরিক্ত কোনো বিবরণকে ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ বানানো উচিত নয়।

কাবাঘরের সঙ্গে কী সম্পর্ক

মুফাসসিরদের বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, বায়তুল মামুর কাবাঘরের সরাসরি ওপরের দিকে সপ্তম আকাশে অবস্থিত। ফলে পৃথিবীতে কাবাঘর এবং আসমানে বায়তুল মামুরের মধ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সাদৃশ্যের কথা বলা হয়।

দুনিয়ায় মানুষ কাবাঘরকে কেন্দ্র করে আল্লাহর ইবাদত করেন। আর আসমানে ফেরেশতারা বায়তুল মামুরে ইবাদত করেন। তবে বায়তুল মামুরের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও গঠন সম্পর্কে সহিহ সূত্রে যতটুকু বর্ণনা রয়েছে, তার বাইরে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা উচিত নয়।

বায়তুল মামুরের কাছে ইব্রাহিম (আ.)

মিরাজের রাতে সপ্তম আকাশে মহানবী (সা.) হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে, তিনি বায়তুল মামুরের কাছে হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে দেখতে পান।

এই ঘটনাও মিরাজের বিস্ময়কর ঘটনাবলির অন্যতম অংশ। একই সঙ্গে এটি বায়তুল মামুরের মর্যাদা ও আসমানি জগতের সঙ্গে এর সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনে।

আল্লাহর সৃষ্টির বিশালতার এক নিদর্শন

বায়তুল মামুর মানুষের চোখের আড়ালে এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতার সেখানে প্রবেশ, ইবাদত এবং এরপর আর ফিরে না আসার বর্ণনা আল্লাহর সৃষ্টিজগতের বিশালতা উপলব্ধির সুযোগ দেয়।

মিরাজের রাতে মহানবী (সা.)-এর বায়তুল মামুর প্রত্যক্ষ করার ঘটনা মুমিনের জন্য আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, অদৃশ্য জগতের বাস্তবতা এবং ফেরেশতাদের বিপুল সংখ্যার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%