প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মানুষের চোখের আড়ালে একটি বিশাল জগত বিদ্যমান, যা কেবল কোরআন ও সহিহ হাদিসের বর্ণনায় প্রকাশিত। আকাশমণ্ডলীর এই বিস্ময়কর স্থান বায়তুল মামুর। সপ্তম আকাশে অবস্থিত এই পবিত্র ঘরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ফেরেশতা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হয়ে থাকেন।
ইসলামি বর্ণনা অনুসারে, প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা বায়তুল মামুরে প্রবেশ করেন। ইবাদত শেষে ফেরেশতারা বের হয়ে যান এবং তারপর আর কখনো সেখানে ফিরে আসার সুযোগ পান না। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মিরাজের রাতে নিজ চোখে বায়তুল মামুর দেখেছেন।
বায়তুল মামুর কী
‘বায়ত’ শব্দের অর্থ ঘর এবং ‘মামুর’ শব্দের অর্থ আবাদ, জনবহুল বা যেখানে নিয়মিত মানুষের যাতায়াত রয়েছে। সুতরাং, বায়তুল মামুর হলো এমন একটি আবাদ ঘর, যেখানে ফেরেশতাদের অবিরাম আনাগোনা ও ইবাদত হয়ে থাকে।
পবিত্র কোরআনের সুরা তুরে আল্লাহ তাআলা বায়তুল মামুরের শপথ করেছেন। আল্লাহ বলেন—
وَالْبَيْتِ الْمَعْمُورِ وَالسَّقْفِ الْمَرْفُوعِ وَالْبَحْرِ الْمَسْجُورِ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعٌ مَا لَهُ مِنْ دَافِعٍ
অর্থ: ‘শপথ বায়তুল মামুরের, সুউচ্চ ছাদের এবং উত্তাল সমুদ্রের। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালকের শাস্তি অবশ্যম্ভাবী। তা প্রতিহত করার কেউ নেই।’
— সুরা তুর, আয়াত ৪–৮
মিরাজের রাতে দেখেছিলেন মহানবী (সা.)
বায়তুল মামুর সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা পাওয়া যায় মিরাজের সহিহ হাদিসে। মহানবী (সা.) যখন সপ্তম আকাশে পৌঁছান, তখন তাঁকে বায়তুল মামুর দেখানো হয়।
হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, মহানবী (সা.) যখন হযরত জিবরাইল (আ.)-কে বায়তুল মামুর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তখন তিনি বলেন—
«هَذَا الْبَيْتُ الْمَعْمُورُ، يَدْخُلُهُ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ، إِذَا خَرَجُوا مِنْهُ لَمْ يَعُودُوا فِيهِ»
অর্থ: ‘এটি বায়তুল মামুর। প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা এতে প্রবেশ করেন। তারা একবার বের হয়ে গেলে আর কখনো এতে ফিরে আসেন না।’
— সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২০৭
এই হাদিস আল্লাহর সৃষ্টিজগতের বিশালতার একটি বিস্ময়কর চিত্র তুলে ধরে। প্রতিদিন নতুন ৭০ হাজার ফেরেশতা বায়তুল মামুরে ইবাদতের জন্য প্রবেশ করেন। তাঁদের প্রত্যেক দল একবার সেখানে যাওয়ার পর আর ফিরে আসে না।
ফেরেশতাদের ইবাদতের পবিত্র স্থান
মুফাসসিরদের ব্যাখ্যায়, বায়তুল মামুর ফেরেশতাদের ইবাদতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পৃথিবীতে মুসলমানরা যেমন পবিত্র কাবাঘরকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ ও ইবাদত করেন, তেমনি আসমানের ফেরেশতারা বায়তুল মামুরে ইবাদত করেন।
তাফসিরে ইবনে কাসিরে সহিহ হাদিসের আলোকে বায়তুল মামুরে ফেরেশতাদের ইবাদত ও তাওয়াফের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অদৃশ্য জগতের বিষয় হওয়ায় বায়তুল মামুরের আকৃতি, গঠন বা অবস্থান সম্পর্কে কোরআন-হাদিসে যতটুকু তথ্য পাওয়া যায়, ততটুকুতেই বিশ্বাস সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। অনুমাননির্ভর অতিরিক্ত কোনো বিবরণকে ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ বানানো উচিত নয়।
কাবাঘরের সঙ্গে কী সম্পর্ক
মুফাসসিরদের বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, বায়তুল মামুর কাবাঘরের সরাসরি ওপরের দিকে সপ্তম আকাশে অবস্থিত। ফলে পৃথিবীতে কাবাঘর এবং আসমানে বায়তুল মামুরের মধ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সাদৃশ্যের কথা বলা হয়।
দুনিয়ায় মানুষ কাবাঘরকে কেন্দ্র করে আল্লাহর ইবাদত করেন। আর আসমানে ফেরেশতারা বায়তুল মামুরে ইবাদত করেন। তবে বায়তুল মামুরের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও গঠন সম্পর্কে সহিহ সূত্রে যতটুকু বর্ণনা রয়েছে, তার বাইরে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা উচিত নয়।
বায়তুল মামুরের কাছে ইব্রাহিম (আ.)
মিরাজের রাতে সপ্তম আকাশে মহানবী (সা.) হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে, তিনি বায়তুল মামুরের কাছে হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে দেখতে পান।
এই ঘটনাও মিরাজের বিস্ময়কর ঘটনাবলির অন্যতম অংশ। একই সঙ্গে এটি বায়তুল মামুরের মর্যাদা ও আসমানি জগতের সঙ্গে এর সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনে।
আল্লাহর সৃষ্টির বিশালতার এক নিদর্শন
বায়তুল মামুর মানুষের চোখের আড়ালে এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতার সেখানে প্রবেশ, ইবাদত এবং এরপর আর ফিরে না আসার বর্ণনা আল্লাহর সৃষ্টিজগতের বিশালতা উপলব্ধির সুযোগ দেয়।
মিরাজের রাতে মহানবী (সা.)-এর বায়তুল মামুর প্রত্যক্ষ করার ঘটনা মুমিনের জন্য আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, অদৃশ্য জগতের বাস্তবতা এবং ফেরেশতাদের বিপুল সংখ্যার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন