বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৪১ পি.এম
দেশের বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিকিকরণ নিয়ে তিনটি বড় খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ এবং ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়াও অনুমোদন হয়েছে।
চলতি মেয়াদের সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে এর মধ্যে সংগতি অনুযায়ী ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরকে গতিশীল করার জন্য এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানা গেছে।
দেশের বিনিয়োগকারীদের সেবা পেতে আরও সহজ ও দ্রুত করতে সরকারের তরফ থেকে বড় ধরনের সংস্কার হাজির হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে তৈরি ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়াটি আজ চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে মন্ত্রিসভা।
নতুন এই আইনের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপি) কার্যক্রমকে একক কাঠামোর মধ্যে উপস্থিত করা। প্রস্তাবিত নতুন কর্তৃপক্ষ হবে দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা।
এর ফলে, বিনিয়োগকারীরা একটি মাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’-এর মাধ্যমে লাইসেন্স, অনুমোদন ও নিবন্ধন সহ যাবতীয় সরকারি সেবা পাবেন। এতে বিভিন্ন সংস্থার কাজের দ্বৈততা কমবে। সরকারের অব্যবহৃত জমি, স্থাপনা বা শেয়ার উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে এই আইনে। ক্ষুদ্র পিপিপি প্রকল্পের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সহজ পদ্ধতিতে অনুমোদন দিতে পারবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা এবং আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের তৈরি ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ খসড়াটি অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ৩১টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বিশেষজ্ঞ এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এই কৌশলপত্রের মূল লক্ষ্য হলো, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে নির্ধারিত করতে হবে। একই সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অন্তত ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
বেসরকারি বিনিয়োগ টানতে এই কৌশলপত্রে রুফটপ সোলার, স্মার্ট গ্রিড, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ শুল্ক ছাড় ও কর অবকাশের (ট্যাক্স হলিডে) সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রায় একই সঙ্গে একটি বিশেষ ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফান্ড’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এই খাতের প্রযুক্তিগত জনবল তৈরিতে অন্তত ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে এবং পুরো কার্যক্রম তদারকিতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ‘জাতীয় পলিসি কাউন্সিল’ ও রিয়াল-টাইম অনলাইন মনিটরিং ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক চর্চার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
নতুন নীতি আদেশে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে অর্থ পরিশোধ পদ্ধতিতে। এখন থেকে প্রচলিত এলসি বা লেটার অব ক্রেডিটের পাশাপাশি ‘ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি’ (সেলস কনট্রাক্ট) এবং ওপেন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মূল্যসীমা ছাড়াই পণ্য আমদানি করতে পারবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের ব্যবসায়ীরা।
রফতানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন কাঁচামাল ‘ফ্রি অব কস্ট’ (এফওসি) বা বিনা মূল্যে আমদানির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া দেশে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশকে আঞ্চলিক লজিস্টিকস ও পুনঃরফতানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
নতুন নীতি আদেশে প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসী বাংলাদেশি’র স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবাসীরা যাতে দেশে এসে সহজে বিনিয়োগ ও শিল্প স্থাপন করতে পারেন, সেজন্য ক্যাপিটাল মেশিনারি ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।
পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর প্রমাণিত কয়েকটি কীটনাশক আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। তবে দেশের প্রাণিসম্পদের প্রজনন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বার্থে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট প্যাথোজেনমুক্ত (এসপিএফ) এবং বিএসই-মুক্ত গরু, মহিষ ও ছাগলের সিমেন আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) আজ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম-সংক্রান্ত একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই সভায় দেশের বিভিন্ন মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের (প্রেস) মালিকরা অংশগ্রহণ করেছেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা।
মতবিনিময় সভায়, প্রেস মালিকরা পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন। তিনি উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এনসিটিবির আশা, সরকার, এনসিটিবি এবং মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানসমূহের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা প্লাবিত হয়ে অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানাচ্ছেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর অনেক এলাকা inundated হয়েছে। এ সবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে সাতকানিয়া উপজেলায়।
সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রত্যেকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে গিয়েছে। ডলু নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে পৌরসভা ও রামপুর এলাকায় পানি প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। সব মিলিয়ে সাতকানিয়ায় অন্তত তিন লাখ লোক পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। যদিও এখানে ৮৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে, মোবাইল নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের কারণে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। ঝড়ে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাঙ্গু নদী, ডলু ও হাঙ্গর খালের মাধ্যমে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি বেশি থাকায় ভাটি এলাকায় পানি বাড়ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুসারে, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর দোহাজারী অংশে পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলা প্রশাসক জানাচ্ছেন, সাতকানিয়ায় উদ্ধারকাজে গতি আনতে ১০টি স্পিডবোট চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আপাতত নৌকাগুলোর মাধ্যমে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে।
বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আঁকন জানিয়েছেন, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে পুঁইছড়ি, নাপোড়া, ছনুয়া, সরল, শেখের খীল, বৈলছড়ী ও কাথারিয়া ইউনিয়নের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। সব মিলিয়ে এই উপজেলায় অন্তত ৩৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।
চন্দনাইশ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, হাশিমপুর ও জোয়ারা ছাড়া উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন কমবেশি দুর্গত হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১৪ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
লোহাগাড়ার ইউএনও বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে সাঙ্গু ও ডলু নদী সংলগ্ন আমিরাবাদ, আধুনগর, পদুয়া ও লোহাগাড়া ইউনিয়নে পানি বেশি উঠেছে। এর মধ্যে আমিরাবাদ ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রামে রোববার(৫ জুলাই) থেকে টানা পাঁচ দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে, তবে আজ বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সন্ধ্যা পর্যন্ত ২২৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে। বানভাসি মানুষ যাতে খাদ্যসংকটে না পড়েন, সেই জন্য এসব বরাদ্দ ইউএনওদের চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত বিতরণ করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী এলাকায় বজ্রপাতে নিহত চারটি গরুর মালিক দুজন কৃষকের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই ২০২৬) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে এই সহায়তার অর্থ তুলে দেন।
এর আগে গত ৭ জুলাই দুপুরে চলমান বৃষ্টির মধ্যে আকস্মিক বজ্রপাতে নলুয়াবাগী এলাকার মাঠে চরতে থাকা চারটি গরুর মৃত্যু ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বজ্রপাতে কৃষক মো. নিজাম প্যাদার তিনটি এবং কৃষক মো. রুহুল আমিনের একটি গরু মারা যায়। এর ফলে দুই কৃষকের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতি লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গরুপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে কৃষক মো. নিজাম প্যাদা তার তিনটি গরুর জন্য মোট ৩০ হাজার টাকা এবং কৃষক মো. রুহুল আমিন একটি গরুর জন্য ১০ হাজার টাকা অনুদান গ্রহণ করেন।
সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুল নবী, গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিব বিশ্বাস এবং গলাচিপা উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সব সময় রয়েছে। আগামীকালের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
গলাচিপার সকল স্তরের জনগণ ইউএনও ইজাজুল হকের এই উপকারের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার পুরাতন জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হাজতি ইমন মাঝিকে, পালানোর মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার কিছু কিছুক্ষণ আগে নগরীর লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া সেকেলার বটতলা এলাকায়, নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক করার পর, রাতেই পুনরায় তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।
এর আগেই, বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৫টার সময়, কারাগারের পূর্ব পাশের দেয়াল টপকে পালিয়ে যান ইমন মাঝি। উল্লেখ্য, তিনি নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় দায়ের করা একটি চুরির মামলায় ১৩ জুন থেকে হাজতি হিসেবে এই কারাগারে ছিলেন।
খুলনা জেলা কারাগারের জেল সুপার আবু ছায়েম এ বিষয়ে জানান, পালানোর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারারক্ষীদের একাধিক দল কাজ শুরু করে। একটি দল ইমন মাঝির বাড়িতে অবস্থান নেয়। কিছু সময়ের মধ্যেই, যখন তিনি বাড়িতে আসেন, তখন স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়। আউট অব কারাগার পালানোর এই ঘটনার বিষয়ে খুলনা সদর থানায় একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ