ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুকুর হত্যার অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা


কুকুর হত্যার অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

পটুয়াখালীতে দুটি পোষা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে দুই ব্যক্তির নামে মামলা করা হয়েছে। রবিবার (২৬ জুলাই) পটুয়াখালী সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দাখিল করেছেন।

পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক মামলাটি সরাসরি গ্রহণ করে আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হচ্ছেন দক্ষিণ বাদুরা এলাকার মো. মঞ্জু হাওলাদার (৫০) এবং মো. জহির হাওলাদার (৪৫)।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই সকাল ১১টার সময় আউলিয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরা খেজুরতলা স্ট্যান্ড এলাকায় দুটি কুকুরকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে দড়ি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে, ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পটুয়াখালী সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দৃষ্টিগোচর হয়।

মামলার বাদী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মাধ্যমে আমি বিষয়টি জানতে পারি। এরপর যাচাই বাছাই করে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইমরান বলেন, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি সরাসরি আমলে নিয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুতের তারে আহত লজ্জাবতী বানর চা বাগান থেকে উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


বিদ্যুতের তারে আহত লজ্জাবতী বানর চা বাগান থেকে উদ্ধার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত একটি বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী লজ্জাবতী বানর (Bengal Slow Loris) উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার জেরিন চা বাগান এলাকা থেকে স্থানীয়রা প্রাণীটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সকালে জেরিন চা বাগানে যাওয়ার পথে রাস্তার পাশে আহত অবস্থায় প্রাণীটিকে দেখতে পান খোকন মাদ্রাজি ও সাগর কাহার নামে দুই চা-শ্রমিক। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এটি গুরুতর আহত হয়েছে।

পরে তারা প্রাণীটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে প্রাথমিক সেবা দেন। তবে বিরল এ বন্যপ্রাণীটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে অনির্বাণ সেনগুপ্ত আহত লজ্জাবতী বানরটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে প্রাণীটি শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী উদ্ধারকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তাজুল ইসলাম বলেন, সকালে আহত লজ্জাবতী বানরটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণে প্রাণীটির শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে গেছে। বর্তমানে উদ্ধারকেন্দ্রে এর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা চলছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে আবরণযুক্ত (ইনসুলেটেড) বৈদ্যুতিক তার ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করে আসছি। কিন্তু এখনো পুরো এলাকায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জের আওতাধীন শ্রীমঙ্গলের বন্যপ্রাণীরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বহিরাগত নয়, নোবিপ্রবির শিক্ষককে ট্রেজারার হিসেবে চান শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৫ পি.এম


বহিরাগত নয়, নোবিপ্রবির শিক্ষককে ট্রেজারার হিসেবে চান শিক্ষার্থীরা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ট্রেজারার পদে শিক্ষার্থীরা দাবী করেছেন, বহিরাগত নয়, নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদ থেকেই ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হোক। শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে ট্রেজারার নিয়োগের জন্য, যেখানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য শিক্ষককে ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগের দাবি করেছেন।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করে। এ সময় তারা ওই দাবিসংক্রান্ত বিভিন্ন ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থীরা বলেছেন, ট্রেজারার পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। দক্ষ অ্যাকাডেমিশিয়ান এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষককে অগ্রাধিকার দিয়ে ট্রেজারার পদে নিয়োগের দাবি জানান তারা।

তারা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হওয়ার মতো যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কেন বহিরাগত শিক্ষককে ট্রেজারার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে? যারা বিগত সময়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, তাদের মূল্যায়নের সময় এখন এসেছে।

শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন, যদি বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার দায়বদ্ধতা তুলনামূলক কম থাকে। এর পাশাপাশি, নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন করা হয়। তাছাড়া, নতুন কেউ দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাকে প্রতিষ্ঠানটি বুঝতে অনেক সময় লাগে। বেশির ভাগ সময়, পরিবেশ বুঝে ওঠার আগেই চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তাই তাদের একটাই দাবি- বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য শিক্ষককে ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কৃষি খাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও গবেষণায় জোর দিচ্ছে সরকার: মাহ্দী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৯ পি.এম


কৃষি খাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও গবেষণায় জোর দিচ্ছে সরকার: মাহ্দী আমিন

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের আধুনিক কৃষি, গবেষণা ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহ্ডী আমিন।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে শেকৃবির ছাত্র-শিক্ষক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত লেভেল-১, সেমিস্টার-১ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ড. মাহদী আমিন বলেন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের কৃষির প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানো অথবা গবেষণাতেই ভূমিকা রাখেনি, বরং বিশ্বদরবারেও এর এলামনাইদের অনবদ্য অবদান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে, সেখানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে প্রথম কেবিনেট বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে। সারাদেশে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে, এর মাধ্যমে কৃষকরা সুলভ মূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি পাওয়ার সুবিধা পাচ্ছেন।

কৃষি পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণ ও প্রসেসিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ফল ও সবজি নষ্ট হওয়া রোধে এবং ঢাকায় দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দক্ষ সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা জরুরি। আম থেকে চাটনি কিংবা টমেটো থেকে সস তৈরি এমন ভ্যালু এডিশন বা বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে একদিকে যেমন অপচয় কমবে, অন্যদিকে রপ্তানিমুখী শিল্পের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আশ্বাস দেন যে, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও মেধার মূল্যায়ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যে শিক্ষার্থীরা গবেষণায় নামতে চায় কিংবা কৃষি উদ্যোক্তা হতে চায়, তাদের প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সব সহযোগিতা সরকার দেবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি।

শেকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নবাগত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারীপুরে সড়ক অভাবের কারণে তিন গ্রামের মানুষের চরম দুর্ভোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১১ পি.এম


মাদারীপুরে সড়ক অভাবের কারণে তিন গ্রামের মানুষের চরম দুর্ভোগ

বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছরই জেলার কুলপদ্দি বাজার থেকে বাহের মাদ্রা, আজিতুল্লাপাড়া ও ব্রাহ্মন্দী গ্রামের একমাত্র প্রধান সংযোগ সড়কটির অধিকাংশ জায়গাতেই হাঁটুসমান কাদা ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। আর এতে তিন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

দেশ স্বাধীন হওয়ার দীর্ঘ ৫৫ বছর অতিক্রম হলেও, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাঁচা সড়কটি বাহের মাদ্রা, ব্রাহ্মন্দী ও আজিতুল্লাপাড়ার হাজার হাজার মানুষের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র প্রধান পথ। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়কটি কাদার সাগরে পরিণত হয়ে যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, কৃষক এবং মুমূর্ষু রোগীদের জন্য এক চরম অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কুলপদ্দি বাজার থেকে দক্ষিণে সন্নামত বাড়ি হয়ে বাহের মাদ্রা, আজিতুল্লাপাড়া ও ব্রাহ্মন্দী গ্রামের এ সংযোগ সড়কের অধিকাংশ জায়গাতেই হাঁটুসমান কাদা। অনেক স্থানে বৃষ্টির পানি জমে ছোট ছোট জলাশয় এবং বিপজ্জনক ড্রেনের অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন সকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করছেন তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষসহ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। একটিবারের বৃষ্টিতে কোনো ধরনের যানবাহনের প্রবেশাধিকার থাকে না বললেই চলে।

এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, ‘মাদ্রা মিঠু হাওলাদারের বাড়ি থেকে নয়া পুকুরপাড় পর্যন্ত’ অংশটি কাগজে-কলমে একাধিকবার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে আজ পর্যন্ত কোনো প্রকল্প থেকেই মাটি কাটা বা পাকা করার কাজ শুরু হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি এবং বর্ষাকালে পিচ্ছিল কাদা যেকোনো মুহূর্তে এখানে বড় ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।

সড়কের এমন করুণ দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কাদা এবং গর্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। অনেক সময় জামাকাপড় নষ্ট হওয়ার ভয়ে বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীরা আর ক্লাসে যেতে পারছে না। এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে স্থানীয় শিক্ষার হারের ওপর।

অন্যদিকে, উর্বর এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, পাট, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষি পণ্য সঠিক সময়ে হাটে-বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে না পারায় অকে সময়ে লোকসান গুণতে হচ্ছে। কাঁচা রাস্তায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষকদের কুলি দিয়ে বা নিজেদের কাঁধে করে অথবা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে পণ্য বাজারে পৌঁছাতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা এবং অতিরিক্ত যাতায়াত খরচের কারণে কৃষি ও অর্থনীতিতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তখন তৈরি হয় যখন কোনো গর্ভবতী নারী, বয়োবৃদ্ধ বা জরুরি মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রশ্ন আসে। রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স কিংবা থ্রি-হুইলার প্রবেশ করতে না পারায় চাদরে বেঁধে বা খাটিয়ায় করে রোগীকে প্রধান সড়কে নিয়ে যেতে হয়। ফলে রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

হতাশা প্রকাশ করে স্থানীয় জ্যেষ্ঠ বাসিন্দা আলিম মাতুব্বর বলেন, ‘স্বাধীনতার এত বছর পার হয়ে গেলেও এ রাস্তা যেন আমাদের জন্য এক মরণফাঁদ হয়ে রয়েছে। চারপাশের সব জায়গায় কত উন্নয়ন হলো, কিন্তু এ রাস্তার এত বছরেও কোনো উন্নয়ন হয়নি। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না, আমরা বয়স্করা হেঁটে মসজিদেও যেতে পারি না। দেশের আনাচে-কানাচে ডিজিটাল উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও আমাদের গ্রাম যেন আগের সেই আদিম অন্ধকার যুগেই পড়ে আছে।’

আক্ষেপের সুরে স্থানীয় মিজান মাতুব্বর বলেন, ‘মাদ্রা ও এর আশেপাশের এলাকা যেন অবহেলার এক চরম নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশের সব ইউনিয়নের রাস্তাঘাট পাকা হয়ে গেলেও আমাদের এই সংযোগ সড়কটি আজও কাঁচা অবস্থায় রয়েছে। আমাদের দাবি একটাই, দ্রুত সড়কটি পাকা করে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করা হোক।’

অবকাঠামোগত এই জটিলতার বিষয়ে ঝাউদি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মিন্টু হাওলাদার বাসস’কে বলেন, ‘আমি স্থানীয় মেম্বার হিসেবে সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেছি। ইউপি সমন্বয় সভায়ও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি অর্থ বরাদ্দ বা কাজের চূড়ান্ত অনুমোদন আমরা পাইনি।’

এদিকে মাদারীপুর সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকল্প প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে ওই সড়কটির সুনির্দিষ্ট সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের বিষয়ে আমাদের দপ্তরে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন বা অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত প্রস্তাব পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বাসস’কে বলেন, ‘উপজেলার যেসব কাঁচা সড়ক জরুরি সংস্কার বা পাকাকরণ প্রয়োজন, সেগুলোর একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে বরাদ্দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদন করা হবে।’

এদিকে দীর্ঘদিনের এই অনাবিল ভোগান্তি ও দুর্দশা থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে তিন গ্রামের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এক হয়ে মাদারীপুর-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে একটি যৌথ লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।

এলাকাবাসীর আকুল প্রত্যাশা, জনস্বার্থ, মানবিক বিবেচনা এবং তিন গ্রামের মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট লাঘবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ অতিদ্রুত সড়কটি পাকাকরণের বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেবে। একটি টেকসই পাকা সড়ক শুধু তাদের চলাচলের সুবিধাই বাড়াবে না, বরং বাহের মাদ্রা, ব্রাহ্মন্দী ও আজিতুল্লাপাড়ার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ এবং সামগ্রিক স্থানীয় অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%