ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কৃষি খাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও গবেষণায় জোর দিচ্ছে সরকার: মাহ্দী আমিন


কৃষি খাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও গবেষণায় জোর দিচ্ছে সরকার: মাহ্দী আমিন

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের আধুনিক কৃষি, গবেষণা ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহ্ডী আমিন।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে শেকৃবির ছাত্র-শিক্ষক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত লেভেল-১, সেমিস্টার-১ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ড. মাহদী আমিন বলেন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দেশের কৃষির প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানো অথবা গবেষণাতেই ভূমিকা রাখেনি, বরং বিশ্বদরবারেও এর এলামনাইদের অনবদ্য অবদান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে, সেখানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে প্রথম কেবিনেট বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে। সারাদেশে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে, এর মাধ্যমে কৃষকরা সুলভ মূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি পাওয়ার সুবিধা পাচ্ছেন।

কৃষি পণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণ ও প্রসেসিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ফল ও সবজি নষ্ট হওয়া রোধে এবং ঢাকায় দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দক্ষ সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা জরুরি। আম থেকে চাটনি কিংবা টমেটো থেকে সস তৈরি এমন ভ্যালু এডিশন বা বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে একদিকে যেমন অপচয় কমবে, অন্যদিকে রপ্তানিমুখী শিল্পের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আশ্বাস দেন যে, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও মেধার মূল্যায়ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যে শিক্ষার্থীরা গবেষণায় নামতে চায় কিংবা কৃষি উদ্যোক্তা হতে চায়, তাদের প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সব সহযোগিতা সরকার দেবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি।

শেকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নবাগত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদারীপুরে সড়ক অভাবের কারণে তিন গ্রামের মানুষের চরম দুর্ভোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১১ পি.এম


মাদারীপুরে সড়ক অভাবের কারণে তিন গ্রামের মানুষের চরম দুর্ভোগ

বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছরই জেলার কুলপদ্দি বাজার থেকে বাহের মাদ্রা, আজিতুল্লাপাড়া ও ব্রাহ্মন্দী গ্রামের একমাত্র প্রধান সংযোগ সড়কটির অধিকাংশ জায়গাতেই হাঁটুসমান কাদা ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। আর এতে তিন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

দেশ স্বাধীন হওয়ার দীর্ঘ ৫৫ বছর অতিক্রম হলেও, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন আসেনি। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাঁচা সড়কটি বাহের মাদ্রা, ব্রাহ্মন্দী ও আজিতুল্লাপাড়ার হাজার হাজার মানুষের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র প্রধান পথ। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়কটি কাদার সাগরে পরিণত হয়ে যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, কৃষক এবং মুমূর্ষু রোগীদের জন্য এক চরম অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কুলপদ্দি বাজার থেকে দক্ষিণে সন্নামত বাড়ি হয়ে বাহের মাদ্রা, আজিতুল্লাপাড়া ও ব্রাহ্মন্দী গ্রামের এ সংযোগ সড়কের অধিকাংশ জায়গাতেই হাঁটুসমান কাদা। অনেক স্থানে বৃষ্টির পানি জমে ছোট ছোট জলাশয় এবং বিপজ্জনক ড্রেনের অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন সকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করছেন তিন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষসহ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। একটিবারের বৃষ্টিতে কোনো ধরনের যানবাহনের প্রবেশাধিকার থাকে না বললেই চলে।

এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, ‘মাদ্রা মিঠু হাওলাদারের বাড়ি থেকে নয়া পুকুরপাড় পর্যন্ত’ অংশটি কাগজে-কলমে একাধিকবার সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে আজ পর্যন্ত কোনো প্রকল্প থেকেই মাটি কাটা বা পাকা করার কাজ শুরু হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি এবং বর্ষাকালে পিচ্ছিল কাদা যেকোনো মুহূর্তে এখানে বড় ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।

সড়কের এমন করুণ দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কাদা এবং গর্ত পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। অনেক সময় জামাকাপড় নষ্ট হওয়ার ভয়ে বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীরা আর ক্লাসে যেতে পারছে না। এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে স্থানীয় শিক্ষার হারের ওপর।

অন্যদিকে, উর্বর এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, পাট, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষি পণ্য সঠিক সময়ে হাটে-বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে না পারায় অকে সময়ে লোকসান গুণতে হচ্ছে। কাঁচা রাস্তায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষকদের কুলি দিয়ে বা নিজেদের কাঁধে করে অথবা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে পণ্য বাজারে পৌঁছাতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা এবং অতিরিক্ত যাতায়াত খরচের কারণে কৃষি ও অর্থনীতিতে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তখন তৈরি হয় যখন কোনো গর্ভবতী নারী, বয়োবৃদ্ধ বা জরুরি মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রশ্ন আসে। রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স কিংবা থ্রি-হুইলার প্রবেশ করতে না পারায় চাদরে বেঁধে বা খাটিয়ায় করে রোগীকে প্রধান সড়কে নিয়ে যেতে হয়। ফলে রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

হতাশা প্রকাশ করে স্থানীয় জ্যেষ্ঠ বাসিন্দা আলিম মাতুব্বর বলেন, ‘স্বাধীনতার এত বছর পার হয়ে গেলেও এ রাস্তা যেন আমাদের জন্য এক মরণফাঁদ হয়ে রয়েছে। চারপাশের সব জায়গায় কত উন্নয়ন হলো, কিন্তু এ রাস্তার এত বছরেও কোনো উন্নয়ন হয়নি। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না, আমরা বয়স্করা হেঁটে মসজিদেও যেতে পারি না। দেশের আনাচে-কানাচে ডিজিটাল উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও আমাদের গ্রাম যেন আগের সেই আদিম অন্ধকার যুগেই পড়ে আছে।’

আক্ষেপের সুরে স্থানীয় মিজান মাতুব্বর বলেন, ‘মাদ্রা ও এর আশেপাশের এলাকা যেন অবহেলার এক চরম নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশের সব ইউনিয়নের রাস্তাঘাট পাকা হয়ে গেলেও আমাদের এই সংযোগ সড়কটি আজও কাঁচা অবস্থায় রয়েছে। আমাদের দাবি একটাই, দ্রুত সড়কটি পাকা করে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করা হোক।’

অবকাঠামোগত এই জটিলতার বিষয়ে ঝাউদি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মিন্টু হাওলাদার বাসস’কে বলেন, ‘আমি স্থানীয় মেম্বার হিসেবে সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার লিখিত আবেদন করেছি। ইউপি সমন্বয় সভায়ও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি অর্থ বরাদ্দ বা কাজের চূড়ান্ত অনুমোদন আমরা পাইনি।’

এদিকে মাদারীপুর সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকল্প প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তবে ওই সড়কটির সুনির্দিষ্ট সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের বিষয়ে আমাদের দপ্তরে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন বা অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত প্রস্তাব পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব বাসস’কে বলেন, ‘উপজেলার যেসব কাঁচা সড়ক জরুরি সংস্কার বা পাকাকরণ প্রয়োজন, সেগুলোর একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে বরাদ্দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদন করা হবে।’

এদিকে দীর্ঘদিনের এই অনাবিল ভোগান্তি ও দুর্দশা থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে তিন গ্রামের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এক হয়ে মাদারীপুর-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে একটি যৌথ লিখিত আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।

এলাকাবাসীর আকুল প্রত্যাশা, জনস্বার্থ, মানবিক বিবেচনা এবং তিন গ্রামের মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট লাঘবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ অতিদ্রুত সড়কটি পাকাকরণের বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেবে। একটি টেকসই পাকা সড়ক শুধু তাদের চলাচলের সুবিধাই বাড়াবে না, বরং বাহের মাদ্রা, ব্রাহ্মন্দী ও আজিতুল্লাপাড়ার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ এবং সামগ্রিক স্থানীয় অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুক্তাগাছায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


মুক্তাগাছায় মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে

ময়মনসিংহ, ২৬ জুলাই, ২০২৬ : জেলার মুক্তাগাছায় মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে ১০ জন মাদকসেবী ও কারবারিকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে এবং তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন প্রশান্ত চৌহান (২৮), নূর হাবিব (৩০), আসাদুজ্জামান বাবু (২২), শামীমুল ইসলাম শামীম (৩১), মো. সোহাগ (২৫), মো. হাসমত আলী (৪২), রাজীব আলী (২৫), সুজন মিয়া (৩২), তারা মিয়া (৬৭) এবং নাজমুল ইসলাম রাজু (৩০)।

এর আগে গতকাল শনিবার রাতে মুক্তাগাছা পৌরসভার ৪ এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যরা তাদের আটক করে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কৃষ্ণ চন্দ্র বাসসকে জানান, মাদক সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি। মাদকের বিরুদ্ধে সংসদ সদদ্যের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনের এই অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে।

কঠোর ভাবে আইন অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান নিয়মিত চলছে। স্থানীয় জনগণ ও মাদকবিরোধী কমিটির সহযোগিতায় এই ধরনের অভিযানকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জাকির হোসেন বাবলু বাসসকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।

কোনো অবস্থাতেই মাদক বিরোধী আভযানে ঢিলে গতি সহ্য করা হবে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাঁশ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিসিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


বাঁশ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বিসিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন

এই জেলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প এখন প্রায় বিলুপ্তির সীমানায় পৌঁছে গেছে। কিছু পরিবার এখনও তাদের পূর্বপুরুষের পেশা রক্ষা করতে বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছেন।

বাঁশ শিল্পের কারিগরদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতা, প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাবের কারণে এই শিল্প এখন হুমকির সম্মুখীন। তাই দেশের উত্তর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এই কুটির শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি। তারা আবেদন জানিয়েছেন যে বাঁশ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি ও হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন কারিগর এই পেশা ধরে রেখেছেন। তবে বাঁশজাত দ্রব্যের চাহিদা হ্রাস পাওয়া, কাঁচামাল হিসেবে বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়া এবং শ্রমের সঠিক মূল্য না পাওয়ার কারণে অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে এক সময় বাঁশের তৈরি শিল্পপণ্যের ব্যবসা ছিল খুবই সফল। প্রতিটি পরিবারের হাতে কুলা, ডালি, ঝুড়ি, মোড়া, খেলনা, মাছ ধরার ডার্কি, খলইসহ নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক সামগ্রীর উৎপাদন করা হতো। গ্রামীণ হাটবাজারে এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও, প্লাস্টিকের সস্তা এবং টেকসই বিকল্পের কারণে বাঁশের তৈরি পণ্যের বাজার হ্রাস পেয়েছে।

সপ্তাহিক বা দৈনিক বাজারগুলোতে বাঁশ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী বেচাকেনা হলেও, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মতে, দিন দিন এসব সামগ্রীর বিক্রি কমতে চলেছে।

বোচাগঞ্জ হাটে বাঁশের তৈরি পণ্যের কারিগররা জানান, বাঁশের পণ্য তৈরিতে সময় ও শ্রমের তুলনায় তারা এখন ন্যায্য মূল্য পেতে পারছেন না। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির ফলে, উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এক সময় স্থানীয় বাঁশ সহজে পাওয়া যেত, এখন বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে বেশি দামে বাঁশ কিনতে হচ্ছে।

চল্লিশ বছর ধরে বাঁশ শিল্পের সাথে জড়িত অভিজ্ঞ কারিগর সুবাশ পাল বাসসের সঙ্গে আলাপকালে জানান, আগে বাঁশের কাজ করে সংসার ভালো চলত, এখন আর ভালো চলে না। ছেলে-মেয়েরা এই কাজ শিখতে আগ্রহী নয়। সবাই অন্য কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ছে। অনেক কারিগর এখন দিনমজুর বা ইজিবাইক চালাচ্ছেন।

কারিগর অধীরচন্দ্র রায় বলেন, বাঁশের দাম এখন অনেক বেড়ে গেছে। তৈরি করা পণ্যের বেচাকেনাও অনেক কমে গেছে। লাভ কম-বেশি যাই হোক, বাধ্য হয়ে পূর্বপুরুষদের এই পেশা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা ছোট থেকে এই বাঁশের জিনিস তৈরির কাজ শিখেছি। বাবা-দাদাদের কাজ করা দেখেই এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কুলা, ডালি, হাঁস ঢাকা চালা, পাখা তৈরি করি। ৩০ বছর ধরে এই ব্যবসা করছি।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, 'হয়তো এক সময় আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই পেশা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।' আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম অন্য পেশায় চলে যাবে। তখন হয়তো এই পেশায় আর কোনো কারিগর পাওয়া যাবে না!'

কারিগর কান্তিলাল রায় বলেন, 'আমার বাপ-দাদারা এই ব্যবসা করেছেন, এখন আমিও এটি করছি। দাম বেড়ে গেছে, শ্রম ও হাজিরা মূল্যও বেড়ে গেছে। আমরা সপরিবারে বাঁশ শিল্পের কাজ করি। সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। শুধুমাত্র ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য এই কাজ করছি।'

কারিগর সুরেশ বর্মন জানান, আমার তিন সন্তান। বড় ছেলেকে অন্য পেশায় দিয়েছি। কারণ এই ব্যবসা দিয়ে সংসার চলে না। ছোট ছেলে বাঁশ শিল্পের কাজে আমার সাথে থাকে। মেয়ে লেখাপড়া করছে। আমি সেতাবগঞ্জ, কাহারোল, ধুকুরঝাড়ি, দিনাজপুর, মঙ্গলপুর হাটে বাঁশের তৈরি পণ্য নিয়ে ব্যবসা করি।

কারিগর জামাল উদ্দিন কুলা, ঢাকি, পাখা, চালনসহ বিভিন্ন বাঁশের পণ্য তৈরি করে বিক্রি করছেন। তিনি জানান, ডালির দাম সাইজ অনুযায়ী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, অন্য সব বাঁশের তৈরি পণ্যের দাম একই রকম।

তিনি বলেন, 'আধুনিকতার ছোঁয়ায় তৈরি বাঁশের পণ্য রং দিয়ে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারলে, ভালো দামে বিক্রি করা যায়। এজন্য আমি বাঁশের পণ্য ওই আঙ্গিকে তৈরি করে বাজারজাত করতে শুরু করেছি। এতে আমার ভালো লাভ হচ্ছে।'

তরুণ উদ্যোক্তা সোহাগ হোসেন বলেন, বাঁশ শিল্প শুধুমাত্র অর্থনৈতিক খাত নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির একটি অংশ। শিল্পটি বিলুপ্ত হলে আমাদের ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে। এটি রক্ষা করতে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা, আধুনিক এবং মানসম্মত বাঁশ শিল্পের প্রসার ও বাজারজাতকরণে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। তবেই এই শিল্পটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব।

কারিগরদের মতে, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী নতুন ডিজাইনের পণ্য তৈরিতে বিসিক কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মানসম্মত পণ্য তৈরি ও বাজারজাত নিশ্চিত করা হলে কারিগররাও উৎসাহিত হবে। এছাড়াও, এই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল বাঁশের বাণিজ্যিক উৎপাদনে কৃষকদের উৎসাহ প্রদান এবং সহজ ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য বাঁশ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।

তারা জানান, এই শিল্পের কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ আবশ্যক। অন্যথায় দিনাজপুরে বাঁশ শিল্পের ইতিহাস বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

বিসিক দিনাজপুরের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে আধুনিকায়নের বিকল্প নেই। বাঁশের কারিগরদের জন্য কমপক্ষে তিন মাস মেয়াদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। ঋণ নিতে ইচ্ছুক কারিগরদের জন্যও ব্যবস্থা আছে। শিল্পটির তদারকি ও সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে। যা মানসম্মত এবং টেকসই পদ্ধতিতে বাঁশের পণ্য তৈরি ও বাজারজাতকরণের জন্য সহায়ক হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৫ দিনে দেশে এলো ২৮ হাজার ৪৭ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


২৫ দিনে দেশে এলো ২৮ হাজার ৪৭ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

চলতি জুলাইয়ের প্রথম ২৫ দিনে প্রবাসীরা দেশে ২২৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। দেশের মুদ্রায়, প্রতিটি ডলার ১২২ টাকার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এর পরিমাণ প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি।

রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদকৃত প্রতিবেদনে জানা গেছে এই তথ্য।

অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, ২৫ জুলাই পর্যন্ত প্রবাসীরা ২২৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে ২২ থেকে ২৫ জুলাই সময়কালে মাত্র তিন দিনে দেশে ১২ কোটি ৯০ মিলিয়ন ডলার এসেছে। গত বছরের একই সময়ে, ১৯০ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন। এভাবে বছর ভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

এর আগে, ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে ২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন। দেশীয় মুদ্রায়, প্রতিটি ডলার ১২২ টাকা দরে, এর পরিমাণ ছিল প্রায় ২৬ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%