১০:২৫ পি.এম
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ-অ্যাফিলিয়েটেড মাইক্রোবায়োলজিস্টস (ISBM)-এর উদ্যোগে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের আনোয়ারুল আজিম চৌধুরী লেকচার গ্যালারিতে দিনব্যাপী একটি বিশেষ ক্যারিয়ার ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনের শিরোনাম ছিল "ISBM Career Workshop: Pathway for Future Leaders in Pharma & Business"। এর মূল লক্ষ্য তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য কর্পোরেট ও ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা ছিল।
আজকের কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রেখেছিলেন আইএসবিএমের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল করিম খান। তিনি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী এবং পেশাজীবীদের কাছে কর্মশালার বিশেষজ্ঞ বক্তাদের শিক্ষাগত ও পেশাগত দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী পর্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্টস (BSM)-এর প্রেসিডেন্ট ড. লতিফুল বারী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শাকিলা নার্গিস খান। তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তোলার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ বক্তব্য দেন আইএসবিএম (ISBM)-এর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ড. ফখরুল মনোয়ার হোসেন। তিনি এই কর্মশালাকে সফল করায় সকল আমন্ত্রিত বক্তা, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি দেশে মাইক্রোবায়োলজি সংশ্লিষ্ট সকল পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে আরও অংশগ্রহণমূলক কর্মপরিকল্পনা ও টেকসই ক্যারিয়ার উন্নয়নমূলক ইভেন্ট আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী এই সেশনে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যালস এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ জিএম ইসমাইল বাবলু তার দূরদর্শী প্রেজেন্টেশনে ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার বাস্তবসম্মত একটি রোডম্যাপ তুলে ধরেন। তিনি দেখান কীভাবে প্রোডাকশন, কোয়ালিটি কন্ট্রোল (QC), কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স (QA) থেকে শুরু করে সেলস, প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট (PMD) এবং ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের মতো বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে মাইক্রোবায়োলজিস্টরা নেতৃত্ব দিতে পারেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ যে শুধু সিজিপিএ (CGPA) নয়, বরং কর্পোরেট দুনিয়ায় সফল হতে হলে টেকনিক্যাল স্কিলের পাশাপাশি প্রোডাক্টিভিটি, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স, ইফেক্টিভ কমিউনিকেশন এবং সঠিক মানসিকতা বা 'অ্যাটিটিউড' অর্জন করা জরুরি।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (কোয়ালিটি) সুমনা লোহানী তার প্রেজেন্টেশনে ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিতে কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ও কোয়ালিটি কন্ট্রোলের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি ওষুধের সুনাম বজায় রাখতে অণুজীববিজ্ঞানীদের ভূমিকা অপরিসীম। ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের টেকনিক্যাল দক্ষতার পাশাপাশি গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (GMP) সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ইন্টারসায়েন্স টেকনোলজিসের সিইও এম. এ. বাতেন তার বক্তব্যে কর্পোরেট সেক্টরে মাইক্রোবায়োলজির বাণিজ্যিক ও প্রায়োগিক দিকগুলো আলোচনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ল্যাবরেটরির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে মার্কেটিং, সেলস এবং বিজনেস স্ট্র্যাটেজিতে নিজেদের দক্ষ করে তোলার পরামর্শ দেন এবং কীভাবে অণুজীববিজ্ঞানের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এন্টারপ্রেনার বা উদ্যোক্তা হওয়া যায়, সেবিষয়ে একটি দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ 'সিভি রাইটিং' মাস্টারক্লাস পরিচালনা করেন Bdjobs.com-এর সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের ডিরেক্টর প্রকাশ রায় চৌধুরী। তিনি মানসম্মত ও পেশাদার সিভি তৈরির খুঁটিনাটি কৌশল ও ইন্টারভিউতে সফল হওয়ার বিভিন্ন টিপস শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।
আয়োজনের শেষ পর্বে সকলকে সমাপনী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ড. সংগীতা আহমেদ। তিনি এই সফল আয়োজনের পেছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করা ভলান্টিয়ার, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং সর্বোপরি স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান।
দিনশেষে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও করার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে একাডেমিক শিক্ষার সাথে ইন্ডাস্ট্রির চাহিদার দূরত্ব কমিয়ে আনা যায়।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
এই ক্যারিয়ার ওয়ার্কশপ আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং ISBM এর যুগ্ম সচিব ড. সংগীতা আহমেদ। এছাড়াও আয়োজক কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ISBM ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মনজুরুল করিম খান (ঢাবি), বোর্ড অফ ডিরেক্টর মেম্বার ড. মিজানুর রহমান (NIH, USA), যুগ্মসচিব ফাহমিনা জামান মুনা (Toronto, Canada), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নাদিয়া দীন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জায়েদুল হাসান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ড. সালমা আক্তার প্রমুখ। উল্লেখ্য যে, ISBM Fellow মুহাম্মদ নাজমুস সাকিব এই কর্মশালা আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন