প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জনগণের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন প্রদান করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি শনিবার (১১ জুলাই) বিশ্বের জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার (১০ জুলাই) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী লেখেন, জনমিতিক সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা এবং নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও লেখেন, আমাদের উন্নয়ন-অভিযাত্রার অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণদের সম্ভাবনাকে জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করা।
সেই উদ্দেশ্যে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য সরকার বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী, বিশেষ করে নবীন প্রজন্মকে দিবসটির চেতনা ধারণ ও বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘এ বছরের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ আমাদের জাতীয় উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে এক সুতোয় গাঁথা।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ভর করছে এমন একটি প্রজন্মের ওপর, যারা হবে শিক্ষিত, দক্ষ, প্রযুক্তিবান্ধব, সুস্থ, মানবিক ও উদ্ভাবনী।
তরুণদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বিকাশে রাষ্ট্রকে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা লাভ করবে এবং নিজেদের ইচ্ছা, সক্ষমতা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সুখী পরিবার গঠনে সক্ষম হবে।
আজকের তরুণরাই তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির প্রধান শক্তি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ, যেখানে প্রত্যেক তরুণ-তরুণী যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারবে এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়, তাহলে তরুণরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে এবং দায়িত্বশীল পরিবার গঠন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও সচেতনভাবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’
তারেক রহমান জানান, একটি উন্নত জাতি গঠনের জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন সুস্থ জনগোষ্ঠী।
সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকার সবাইকে সহজলভ্য, মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে কাজ করছে।
একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা, প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
এ সমন্বিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি সুদৃঢ় করবে।
তিনি বলেন, ‘তবে বাল্যবিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব এবং অপুষ্টির মতো চ্যালেঞ্জগুলো এখনো আমাদের তরুণ প্রজন্মের বিকাশ ও অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
এসব সমস্যা এককভাবে একজন কিশোরী বা একটি পরিবারের নয়; এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষার ধারাবাহিকতা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ-মূল্যবোধ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ও জাতীয় উৎপাদনশীলতার উপরে।’
এ কারণে সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কিশোর-কিশোরীদের জন্য মানসম্মত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, পুষ্টি এবং জীবনদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও সেবা জোরদারে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও লেখেন, আমি দৃঢ় বিশ্বাস করি, প্রত্যেক তরুণ-তরুণী যদি সমান সুযোগ পায় সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার, তাহলে তারা ভবিষ্যতে সম্ভাবনাময়, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণে প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে প্রত্যেক তরুণের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা বাস্তবে বিকশিত হবে এবং একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও মানবিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
আমি বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন