ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুবিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টারিং, ছাত্রদলের নিন্দা ও প্রতিবাদ


কুবিতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টারিং, ছাত্রদলের নিন্দা ও প্রতিবাদ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) এর ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর ঘটনা নিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ এবং সদস্যসচিব মো. আবুল বাশারের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের কার্যক্রম, প্রচারণা কিংবা পোস্টার-ব্যানার প্রদর্শন করা গ্রহণযোগ্য নয়। এমন ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক এবং এটি আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধির পরিপন্থী হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে যাতে ঘটনাটির দ্রুত তদন্ত করা হয় এবং পোস্টার লাগানোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে দাবি জানানো হয়, ভবিষ্যতে যাতে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত বা প্রচারিত হতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, শিক্ষাবান্ধব ও রাজনৈতিক সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃড় এবং নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করে কুবি ছাত্রদল।

কুবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, গত জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ সংগঠন ঘোষণা করেছে। এর ফলে আইন অনুযায়ী তাদের কোনো মতবাদযোগ্য রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সম্প্রতি ঘোষিত ছাত্রলীগের কমিটিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের অনেককেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা চেনেন না এবং তারা ক্যাম্পাস বা স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাও নন বলে দাবি করেন তিনি।

মোস্তাফিজুর রহমান শুভ আরও বলেন, ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে ক্যাম্পাসের ভেতর বা এর ১০০ গজের মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে সাধারণ শিক্ষার্থী, কুবি ছাত্রদল এবং অন্যান্য ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপতৎপরতা প্রতিহত করবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ১২ আগস্ট দিবাগত রাতে, অর্থাৎ ১৩ আগস্টের প্রথম প্রহরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ১৫ আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষে পোস্টার সাঁটানোর অভিযোগ ওঠে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহের মহেশপুরে মাদকের টাকার জন্য গলাকেটে মা/কে হ/ত্যার অভিযোগ সন্তানের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ পি.এম


ঝিনাইদহের মহেশপুরে মাদকের টাকার জন্য গলাকেটে মা/কে হ/ত্যার অভিযোগ সন্তানের বিরুদ্ধে

ঝিনাইদহের মহেশপুরে মাদকের টাকা না দেয়ায় নিজের সন্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে জন্মদাত্রী মাকে গলাকেটে হত্যার। এই ঘটনার পর অভিযোগকারী ছেলে, পালানোর সময় স্থানীয়দের দ্বারা আটক হয়ে পুলিশে সোপর্দ হয়।

এখন থেকে শুরু করে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোররাতে উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শকের বানু (৫০) ওই গ্রামের মৃত জেকের আলীর স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। অপর দিকে, অভিযুক্ত ঘাতক ছেলেটির নাম হচ্ছে ইখলাস (৪০)।

স্থানীয় সাংবাদিক মশিউর রহমান টিংকু জানিয়েছেন, ইখলাস দীর্ঘধর্র মাদক সেবন করে আসছিলেন। মাদকের টাকা পাওয়ার জন্য প্রায় সময় তিনি তার বৃদ্ধা মায়ের কাছে টাকা দাবি করতেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনও এক সময়, ইখলাস তার মায়ের কাছে টাকা চেয়েছিলেন। তবে মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষুব্ধ হয়ে ভোররাতে তিনি গলাকেটে তার মাকে হত্যা করেন এবং পালিয়ে যান।

শুক্রবার সকালে, নিহত শকের বানুর ছোট ছেলের স্ত্রী খাবার দিতে তার শাশুড়ির ঘরে গিয়েছিলেন। সেই সময় বিছানায় শাশুড়িকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তিনি তৎক্ষণাৎ পুলিশে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এদিকে ঘটনার পর, সকালে পালানোর সময় অভিযুক্ত ইখলাসকে আটক করে স্থানীয় মানুষ। পরে, তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান এ বিষয়ে জানান, ‘অভিযুক্ত ইখলাসকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনার জন্য আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এসএসসিতে শতভাগ ফেল, সমালোচনার মুখে ৩১২ প্রতিষ্ঠানকে শোকজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


এসএসসিতে শতভাগ ফেল, সমালোচনার মুখে ৩১২ প্রতিষ্ঠানকে শোকজ

এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করা বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জনের কম রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশও নেই। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, এসব প্রতিষ্ঠান কিভাবে অনুমোদন পেয়েছে; এটি নিয়ে শিক্ষা গবেষকরা প্রশ্ন তুলছেন।

এদিকে, শতভাগ ফেল করা ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ করছে শিক্ষা বোর্ড।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মাত্র পাঁচজন পরীক্ষার্থী। তাদের সকলেই ফেল করেছে। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংখ্যা সাতজন। শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, নানা সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল খারাপ হয়েছে। একজন শিক্ষকের দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে গণিতের শিক্ষক বেতন না পাওয়ায় তিনি নিয়মিত ক্লাসে আসছেন না। এর ফলস্বরূপ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

গাজীপুরের মেরুয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১৮ জন। তাদের মধ্যে একজনও পাস করেনি। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন ১৮ জন। শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের অনেক অভিভাবক পড়াশোনার বিষয়ে সচেতন নন। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। অনেক সময় ক্লাস চলাকালীন অভিভাবক এসে মেয়েদের নিয়ে যান, পরে জানা যায় তাদের বিয়ে হয়ে গেছে।

শতভাগ ফেল করা বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের চিত্রও প্রায় একই। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ জনের কম শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র পাঁচ থেকে সাতজন এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭২ শতাংশই মাদ্রাসা।

এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা বোর্ড শোকজ করছে। ধাপে ধাপে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সদস্যরা। আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের অবহেলা বা তাদের নিজেদের সমস্যার কারণে যদি এমন ফলাফল হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী জানান, পুরো উপজেলায় মাত্র একজন শিক্ষা কর্মকর্তা ও তার সঙ্গে এক বা দুইজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকেন। তাদের পক্ষে পুরো জেলার সব প্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয় এবং তাদের আরও অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই কারণে, দূর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।

এবার এত শিক্ষার্থী কেন ফেল করল, সেই কারণও অনুসন্ধানের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিগত সময়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর শিক্ষার মান দূরের কথা, উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশও নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শতভাগ ফেল করা এসব প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান কতদিন ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে ? ইরান বর্তমানে যুদ্ধে প্রবেশ করেছে তৃতীয় ছয় মাসে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


ইরান কতদিন ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে ?  ইরান বর্তমানে যুদ্ধে প্রবেশ করেছে তৃতীয় ছয় মাসে

ইরান বর্তমানে যুদ্ধে প্রবেশ করেছে তৃতীয় ছয় মাসে। যদিও অর্থনীতির ওপর চাপ পড়েছে তবে যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং কবে শেষ হবে, তা ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে দেশটির নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকেও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। তাই তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক মূল্য বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে যাতে ওয়াশিংটন কিছু দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।

তবে, যুদ্ধের প্রসঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- ইরান কতদিন এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে?

ইরানের সামরিক শক্তি কি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে সক্ষম?

ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার সময় নিশানা করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে নিরপেক্ষ তথ্য পাওয়া যায়নি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘চ্যাথাম হাউজ’ জানিয়েছে, ইরানের কাছে বর্তমানে মৌলিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই।

সময়ের সাথে সাথে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাত্রা বা ঢেউ ছোট হয়ে এসেছে। তবে যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা শুধুমাত্র ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যার উপর নির্ভর করে না। ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করা তুলনামূলকভাবে সহজ এবং দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব।

অন্যদিকে, এই যুদ্ধে নিহত কমান্ডারদের পদে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে এবং সামরিক কমান্ড কাঠামো এখনও অক্ষুণ্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এই প্রসঙ্গে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ গায়েদি বলেন, ইরান সম্ভবত দীর্ঘ সময় ধরে উৎক্ষেপণ কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা বজায় রাখতে পারবে, যদিও তার মাত্রা কমতে পারে। তারা হরমুজ প্রণালিতেও বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম।

অধ্যাপক গায়েদি আরও বলেন, তেলের দামের উপর যুদ্ধের প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তেহরানে আশা সৃষ্টি হয়েছে যে, তারা ওয়াশিংটনকে নিজেদের কিছু শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করতে সক্ষম হবে।

তেহরানের লক্ষ্য হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে পরাজিত করা নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী এবং অত্যন্ত ব্যয়সাধ্য একটি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। যা চাপ তৈরি করে দেয়ার একটি পন্থা হতে পারে। কিন্তু বর্তমান সময়ে সামরিক সীমাবদ্ধতার কারণে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই।

কতদিন টিকবে ইরানের অর্থনীতি?

যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ, তাদের নিজস্ব মুদ্রা ‘রিয়াল’-এর মূল্য হ্রাস এবং ব্যাপক কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতার মত একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইরানের অর্থনীতি প্রায় ২.৭ শতাংশ সংকুচিত হবে এবং এই অর্থবছরের শেষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের প্রভাব দেখা গেছে।

এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুনভাবে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সে দেশে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে।

ইরানের শ্রম উপমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থানের দিক থেকে ১০ লাখেরও বেশি পদের উপর যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। শুধু তাই নয়, প্রত্যক্ষ যোগাযোগ বা পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল মনেটারি ফান্ড (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে ২০২৬ সালে ইরানের অর্থনীতি প্রায় ৫.৪ শতাংশ সংকুচিত হবে এবং মূল্যস্ফীতি ৬৯ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাবে।

তেহরানে যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে মতভেদ

বর্তমানে, তেহরানের অভ্যন্তরে কোন পন্থা সবচেয়ে উপযোগী সে বিষয়ক মতভেদ রয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় দরকষাকষির দায়িত্বে থাকা দলের প্রধান মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ আগেই সতর্ক করেছেন যে, ইরান যেন কোনোভাবে ‘দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষয় সৃষ্টিকারী সংঘাতের’ ফাঁদে না পড়ে। তিনি এই আলাপ-আলোচনার বিরোধিতাকারীদেরও সমালোচনা করেন।

তবে এই মতপার্থক্য নির্দিষ্টভাবে ‘যুদ্ধের সমর্থক’ এবং ‘শান্তির সমর্থক’ দুই শিবিরে বিভক্ত করা যায় না। এদিকে, মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানিয়েছেন যে, তিনি এমন কোনো চুক্তি মেনে নেবেন না যা ইরানের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হবে।

ইরানের জনসাধারণ কী ভাবছেন?

যুদ্ধ চালানোর বিষয়ে ইরানের নাগরিকদের মতামত নিয়ে কোনো নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপ নেই। সামাজিক মিডিয়া সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম নয়।

তবে এক গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে ইরান-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং ‘জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স’-এর ভিজিটিং ফেলো হামিদরেজা আজিজি জানিয়েছেন, এই ইসলামি প্রজাতন্ত্রর জন্য তাদের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক ফ্রন্ট’ হয়ে উঠতে পারে।

যুদ্ধ থেকে বেরোনোর কৌশল

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ইরানের আঞ্চলিক পর্যায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেহরান উপসাগরীয় আরব দেশগুলির সঙ্গে বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা চালিয়েছে। তবে ছিন্নমূল সামরিক ঘাঁটিগুলি এবং অবকাঠামো, নৌ-চলাচলের পথে অব্যাহত হামলা সেই প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।

ইরানের কাছে যুদ্ধের একটি গ্রহণযোগ্য সমাপ্তি ঘটাতে পারে এমন একটি চুক্তি কেমন হবে এবং কোন পথে পৌঁছানো যাবে, তা সাম্প্রতিক এই সময়ে স্পষ্ট নয়।

যদিও তেহরান প্রমাণ করেছে যে তারা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বড় পরিমাণ মাশুল দিতে বাধ্য করতে সক্ষম। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তারা কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতপূর্ণ অবস্থায় টিকে থাকবে, সেটা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো বিদ্যমান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ্বিতীয় দিনেও টাইগারদের দাপট, হ/তাশ অজিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


দ্বিতীয় দিনেও টাইগারদের দাপট, হ/তাশ অজিরা

ডারউইনে প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ দল। টাইগার ব্যাটাররা স্টার্ক-কামিন্সের চোখে চোখ রেখে ব্যাট করেছেন। এর ফলে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা ১৫৩ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে।

অজিদের ১৯৮ রানের বিপরীতে ব্যাট করতে নামার ফলে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৫১ রান হয়েছে। মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ রানে ও ১৩ রানে অপরাজিত রয়েছেন হাসান মাহমুদ।

এর পূর্বে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাংলাদেশ দলের ১ উইকেট নিয়ে ৯৬ রানে দিনের খেলা শুরু হয়েছিল। ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শুরু করেন মুমিনুল হক ও তানজিদ।

সেই জুটি একশ ছোঁয়ার পথে ছিল। ইতোমধ্যে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেছে তানজিদ। ৩২ রানে দিনের খেলা শুরু করেছিলেন তিনি, অন্য প্রান্তে ৩৫ রানে দিন শুরু করেছিলেন মুমিনুল।

৩৬তম ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে ফিফটি উদযাপন করেন তানজিদ। তার ১০২ বলের ইনিংসে ৫টি চার ছিল। তামিমকেও সঙ্গ দিয়ে রান তুলতে থাকেন অধিনায়ক শান্ত।

দুজনের ব্যাটে ভর করে প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশ ২ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান সংগ্রহ করেছে। দ্বিতীয় সেশনে মাঠে নেমে রান তুলতে থাকেন তামিম এবং শান্ত। ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট করে ৭৪ বলে ফিফটি তুলে নেন শান্ত।

অন্যদিকে, তামিম ১৮৮ বলে সেঞ্চুরি হাঁকান। কিন্তু এরপর ১ রান যোগ করেই স্টার্কের বলে ক্যাচ আউট হন এই টাইগার ওপেনার। এটি ছিল বাংলাদেশ দলের তৃতীয় উইকেট, যে উইকেট ২৩১ রানে হারায় তারা।

তামিমের বিদায়ের পর শান্তকে সঙ্গ দেন মুশফিকুর রহিম। দুজনের ব্যাটের মাধ্যমে বাংলাদেশের লিড একশো ছাড়িয়েছে। পরবর্তীতে শান্ত সাজঘরে ফেরেন। তিনি ১ ছক্কা ও ৪ বাউন্ডারিতে ১২৬ বলে ৮৪ রান করেন।

এ দিন ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি লিটনও। তিনি ১২ বল খেলেই রান শূন্য থাকেন। ৫৫ বলে ৩৬ রান করে মুশফিকুর রহিম তাকে সঙ্গ দেন।

২ রান নিয়ে ২ অভিজ্ঞ ব্যাটার হারালে সফরকারীরা চাপের মধ্যে পড়ে। কিন্তু হাসান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন মিরাজ। তিনি অজিদের চাপ সামাল দিয়ে ৩২ রানে অপরাজিত আছেন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি করে উইকেট শিকার করেছেন মিচেল স্টার্ক ও জস হ্যাজলউড। এছাড়া প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%