০২:৫৯ পি.এম
এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করা বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জনের কম রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্য উপযুক্ত পরিবেশও নেই। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, এসব প্রতিষ্ঠান কিভাবে অনুমোদন পেয়েছে; এটি নিয়ে শিক্ষা গবেষকরা প্রশ্ন তুলছেন।
এদিকে, শতভাগ ফেল করা ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ করছে শিক্ষা বোর্ড।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মাত্র পাঁচজন পরীক্ষার্থী। তাদের সকলেই ফেল করেছে। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংখ্যা সাতজন। শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, নানা সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল খারাপ হয়েছে। একজন শিক্ষকের দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে গণিতের শিক্ষক বেতন না পাওয়ায় তিনি নিয়মিত ক্লাসে আসছেন না। এর ফলস্বরূপ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
গাজীপুরের মেরুয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১৮ জন। তাদের মধ্যে একজনও পাস করেনি। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন ১৮ জন। শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের অনেক অভিভাবক পড়াশোনার বিষয়ে সচেতন নন। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। অনেক সময় ক্লাস চলাকালীন অভিভাবক এসে মেয়েদের নিয়ে যান, পরে জানা যায় তাদের বিয়ে হয়ে গেছে।
শতভাগ ফেল করা বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের চিত্রও প্রায় একই। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ জনের কম শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র পাঁচ থেকে সাতজন এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭২ শতাংশই মাদ্রাসা।
এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা বোর্ড শোকজ করছে। ধাপে ধাপে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সদস্যরা। আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেছেন, প্রতিষ্ঠানের অবহেলা বা তাদের নিজেদের সমস্যার কারণে যদি এমন ফলাফল হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী জানান, পুরো উপজেলায় মাত্র একজন শিক্ষা কর্মকর্তা ও তার সঙ্গে এক বা দুইজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকেন। তাদের পক্ষে পুরো জেলার সব প্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয় এবং তাদের আরও অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। এই কারণে, দূর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।
আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ
এবার এত শিক্ষার্থী কেন ফেল করল, সেই কারণও অনুসন্ধানের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিগত সময়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর শিক্ষার মান দূরের কথা, উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশও নেই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শতভাগ ফেল করা এসব প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন