ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও একজনের, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৩ রোগী


ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও একজনের, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৩ রোগী

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ১৫৩ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৭৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৯ জন, খুলনা বিভাগে চার জন, বরিশাল বিভাগে চার জন রয়েছেন।

চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৩১০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮৯ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক হাজার ১৬৭ জন।

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেরানীগঞ্জে ইয়াবা কারখানার সন্ধান, বিপুল কাঁচামালসহ আটক ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৯ পি.এম


কেরানীগঞ্জে ইয়াবা কারখানার সন্ধান, বিপুল কাঁচামালসহ আটক ৪

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরির একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। এই অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ৯৬৮ পিস ইয়াবা, ইয়াবা তৈরির জন্য ব্যবহার করা বিভিন্ন ধরনের পাউডার সদৃশ কাঁচামাল, কিছু যন্ত্রপাতি, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি ওজন পরিমাপক যন্ত্র।

গ্রেফতার করা আসামিরা হলেন, রাজধানীর বংশাল থানার চাঙ্গেরপুল এলাকার বাসিন্দা মোঃ আলমগীর ওরপে আন্ডে (৪০), মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের মোঃ আলী আরমান (৩৬), সাভার থানার মোঃ শাহজাহান (৪০) এবং আদাবর থানার রিংরোড এলাকার বাসিন্দা সোনিয়া (৩০)।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মধ্যেরচর দক্ষিণ বালুচর এলাকায় একটি ইয়াবা তৈরি ও ক্রয়-বিক্রয় কারখানায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়া তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তারা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করে নিজেদের জন্য ইয়াবা উৎপাদন করতেন। পরে সেগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন। গ্রেপ্তার আলমগীর ওরফে আন্ডের বিরুদ্ধে রাজধানীর রামপুরা, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর থানায় মোট তিনটি মাদক আইনের মামলা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা, কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতিসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করার জন্য কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‍্যাব নিশ্চিত করেছে যে, মাদক, অস্ত্র, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যদি এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে নিকটস্থ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী বা র‍্যাবকে অবহিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন র‍্যাবের ওই কর্মকর্তা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা করেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা করেছে ইরান

হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের উপর হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর(আইআরজিসি)। অন্যদিকে সতর্কবার্তা পেয়ে অন্য চারটি ট্যাঙ্কার ফিরে যায়। আইআরজিসির অভিযোগ, ট্যাঙ্কারগুলো তেহরানের প্রটোকল বা নিয়মকানুন ‘লঙ্ঘন’ করার চেষ্টায় একটি অননুমোদিত পথ ব্যবহার করছিল।

আইআরজিসি তাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার(৩১ জুলাই) ভোরের দিকে এই ঘটনা ঘটে। তখন মার্কিন বিমান পাহাড়ায় দুটি ট্যাঙ্কার চলাচল করছিল যা ইরানের অঘোষিত রুট হিসেবে চিহ্নিত ছিল। এমনকি এই ট্যাঙ্কারগুলো ইরানের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই দুটি ট্যাঙ্কারকে আঘাত করে থামানো হয় এবং অন্য চারটি দ্রুত তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে ফিরে যায়। আইআরজিসি জানায়, গত রাতে সেন্টকমের মিথ্যা বিবৃতির জবাবে তারা সমস্ত শিপিং ও বীমা কোম্পানির মালিকদের সতর্ক করে জানায় যে, সেন্টকমের বিবৃতির প্রতি যেন তারা কোনো গুরুত্ব না দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছিল, নিয়মকানুন পুরোপুরি মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য তারা ২৪টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করিয়েছিল এবং অন্য চারটি জাহাজকে অচল করে সেগুলোতে আরোহণ করেছিল।

আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল অনিরাপদ। তবে সেন্টকম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, বেসামরিক নাবিক ও কর্মীদের জন্য প্রধান হুমকি হলো আইআরজিসির কার্যকলাপ। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে এবং এর জবাবে তেহরান পুরো অঞ্চলজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জামকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

ইরানের সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-র মাধ্যমে প্রকাশিত পরবর্তী এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জোর দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার জন্য জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় অভিযানে আওয়ামী লীগের ৭ নেতাকর্মী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


বগুড়ায় অভিযানে আওয়ামী লীগের ৭ নেতাকর্মী আটক

বগুড়ার শেরপুর এবং ধুনট উপজেলায় নাশকতা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের ৭ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলা রয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীরা হলেন শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. মোমিনুর রহমান (৫০), সীমাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আব্দুল হাকিম (৫০), ধুনট উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা লাবলু খন্দকার এবং নজরুল ইসলাম মিঠু।

অপরদিকে ধুনটে বিএনপি ও যুবদল নেতার দায়ের করা পৃথক দুটি নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৩ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার রাতে তারা নিজ নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে উপজেলার চিথুলিয়া গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে ও গোসাইবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আরিফুর রহমান দুলাল (৫২), ধুনট পৌর এলাকার শাহজাহান আলীর ছেলে ও পৌর যুবলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক সুমন (৩৬) এবং বিশ্বহরিগাছা গ্রামের তাহের তালুকদারের ছেলে ও চৌকিবাড়ি ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল তালুকদার (৪২)।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধুনট শহরের কলাপট্টি এলাকায় বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার ফলে দুটি জিপ, দুটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর এবং ১০টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহীন ধুনট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ধুনট শহরের শহীদ মিনার চত্বরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মশাল মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর ১৯ ফেব্রুয়ারি ধুনট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিপন সেখ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৯৬ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার আসামিদের ধুনট থানা হাজত থেকে বগুড়ার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালোমাথা কাস্তেচরা পাখি ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৭ পি.এম


কালোমাথা কাস্তেচরা পাখি ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়

প্রকৃতির বিশাল ভুবনে সমাজবদ্ধ জীবনযাপন ও একাকী পথচলা দুটিরই অস্তিত্ব রয়েছে। কেউ কেউ একাকী পথচলা পছন্দ করে, আবার কেউ খাদ্যের নিরাপত্তা ও স্বস্তির জন্য দলবদ্ধ জীবনযাপনে খোঁজে সন্তুষ্টি। প্রাণিজগতের মধ্যে এমন বৈচিত্র্যও দেখা যায়। এই একই দলবদ্ধ জীবনযাপনের আলাদা উদাহরণ রূপে রয়েছে কালোমাথা কাস্তেচরা পাখি।

বাংলাদেশের জলাভূমিতে এদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও, তারা একসঙ্গে বিচরণ করতে বিশেষভাবে পছন্দ করে। প্রয়োজনবোধে তারা অন্য প্রজাতির পাখির সঙ্গেও মিশে যায়।

সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জে একসঙ্গে দলবদ্ধ কালোমাথা কাস্তেচরার উপস্থিতি দেখা গেছে। এই বিরল মুহূর্তের ছবি বন্দী করেছেন বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী, কবি ও লেখক রানা মাসুদ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর একসাথে একাধিক পাখির ছবি তুলতে পেরে তিনি তার আনন্দ প্রকাশ করেছেন।

কালোমাথা কাস্তেচরার বৈজ্ঞানিক নাম হলো থ্রেস্কিওর্নিস মেলানোসেফালাস। এটি কাস্তেচরা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি বড় আকারের জলচর পাখি। এর বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ ‘কৃষ্ণমস্তক পবিত্রপক্ষী’। এজন্য অনেকেই একে ‘ধার্মিক পাখি’ বলে উল্লেখ করে থাকেন।

বিশ্বজুড়ে কালোমাথা কাস্তেচরার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এই প্রজাতিকে প্রায় বিপদগ্রস্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনেও এটি সংরক্ষিত। পাখিবিদদের ধারণা, বর্তমান পৃথিবীতে মাত্র ১০ থেকে ২০ হাজার কালোমাথা কাস্তেচরা টিকে আছে।

এরা মিঠাপানি ও লোনাপানি- উভয় পরিবেশে স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারে। সাধারণত কাদা ও অগভীর পানিতে তাদের লম্বা বাঁকানো ঠোঁট ডুবিয়ে খাবার খুঁজতে দেখা যায়। মাঠে গরু, ছাগল কিংবা অন্যান্য প্রাণির চলাচলে বের হয়ে আসা পোকামাকড়ও তাদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে।

দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই পাখির দেহের প্রধান অংশ সাদা হলেও, তাদের মাথা, গলা ও ঘাড় সম্পূর্ণ কালো এবং পালকহীন। তাদের লম্বা কালো ঠোঁটটি নিচের দিকে কাস্তের মতো বাঁকানো, যা তাদের নামকরণের উৎস। পূর্ণবয়স্ক পাখির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। তাদের চোখ লালচে, পা কুচকুচে কালো এবং বুকে হালকা হলুদ আভা দেখা যায়।

পুরুষ ও স্ত্রী পাখির মধ্যে বাহ্যিক পার্থক্য খুবই নগণ্য। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা ও ঘাড়ের নিচের অংশে কোমল কালো পালক থাকে। প্রজনন মৌসুমে তাদের মাথায় নীলাভ আভা এবং ডানার নিচে লালচে পট্টি দেখা যায়, যা তাদের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও রয়েছে বৈচিত্র্য। তারা প্রধানত মাছ, ব্যাঙ, শামুক, কেঁচো, পোকামাকড় এবং নরম জলজ উদ্ভিদ খায়। উড়ার সময় তারা বকের মতো গলা ভাঁজ করে না। শীতকালে সাধারণত তারা নীরব থাকে, কিন্তু গ্রীষ্মে বাসার কাছাকাছি শূকরের মতো কর্কশ স্বরে ডাকতে শোনা যায়।

খাবারের সন্ধানে তারা প্রায়ই স্থান পরিবর্তন করে। তাই অনেক পাখিবিদ কালোমাথা কাস্তেচরাকে যাযাবর স্বভাবের পাখি মনে করেন। সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে তাদের প্রজনন মৌসুম দেখা যায়। ছোট মাচার মতো বাসায় স্ত্রী পাখি দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। ২৩ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে ছানা বের হয় এবং প্রায় ৪০ দিন বয়স না হওয়া পর্যন্ত তারা উড়তে পারে না।

কালোমাথা কাস্তেচরা পাখির আলোকচিত্রী রানা মাসুদ বলেন, “খাদ্য ও আবাসস্থল সংকটের কারণে কালোমাথা কাস্তেচরা এখন আর সহজে চোখে পড়ে না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দলবদ্ধ এই পাখিগুলোর ছবি তুলতে পেরেছি, যা আমার কাছে অসাধারণ এক প্রাপ্তি।”

তিনি আরও বলছেন, “নির্দিষ্ট সময়ের আগে কিছুই হয় না, অতএব অপেক্ষার কোনো বিকল্প নেই।” প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য অপেক্ষা করতে জানা প্রয়োজন।

প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি প্রাণির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই বিরল এই কালোমাথা কাস্তেচরাকে টিকিয়ে রাখতে জলাভূমি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণের বিষয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন। তা না হলে একদিন হয়তো দলের সঙ্গে উড়ে বেড়ানো এই পাখিটি শুধুমাত্র স্মৃতির পাতায় নিজের জন্য জায়গা করে নেবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%