ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আজ পালিত হচ্ছে নজরকাড়া শার্ট পরার দিন


আজ পালিত হচ্ছে নজরকাড়া শার্ট পরার দিন

বাহারি রঙ, অদ্ভুত নকশা এবং নজরকাড়া পোশাক—এগুলো সব মিলিয়ে একটি আনন্দের ব্যতিক্রমী আয়োজন। তবে এটি শুধুমাত্র সাজপোশাকের আনন্দের জন্য নয়, এর পেছনে রয়েছে একটি গভীর উদ্দেশ্য। ‘লাউড শার্ট ডে’ (রঙিন শার্ট পরার দিন) পালিত হয় শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এবং তাদের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে।

এই বিশেষ দিনে মানুষ বিভিন্ন রঙের ও নকশার শার্ট পরে উদযাপনে অংশ নেন। স্কুল, অফিস এবং বিভিন্ন সামাজিক পরিসর রঙিন হয়ে ওঠে। পোশাকের বৈচিত্র্যের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়—প্রত্যেক মানুষের স্বতন্ত্রতাকে সম্মান জানানো এবং ভিন্নতাকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করা।

রঙিন পোশাকের পেছনে যে উদ্দেশ্য

আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন

লাউড শার্ট ডে দেখতে আনন্দময় হলেও এর মূল লক্ষ্য হল শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করা। এসব শিশুর কথা শুনতে শেখা, কথা বলা এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত শ্রবণযন্ত্র, কথা বলার প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক পর্যায়ের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদি প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যায়, তবে অনেক শিশুর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। এতে তাদের পরিবারও নতুন করে আশার আলো দেখতে পায়। তাই রঙিন পোশাকের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিশুদের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এই দিনের অন্যতম লক্ষ্য।

যেভাবে শুরু হয়েছিল লাউড শার্ট ডে

লাউড শার্ট ডে-র সূচনা হয়েছে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায়। বর্তমানে ‘ক্যান:ডু ৪কিডস’ নামে পরিচিত কোরা বার্কলে কেন্দ্রে একদিন কফির আড্ডায় এই আয়োজনের ভাবনা উঠে আসে। সেখানকার কর্মীরা শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের সহায়তায় কাজ করছিলেন এবং তারা এমন একটি উদ্যোগের কথা ভাবছিলেন, যা আনন্দের পাশাপাশি সচেতনতার বার্তাও ছড়িয়ে দিতে পারে।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ

সেখান থেকেই রঙিন ও নজরকাড়া শার্ট পরার ধারণা এসেছে। বাহারি পোশাকের মাধ্যমে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে শিশুদের সমস্যা ও প্রয়োজন তুলে ধরাই ছিল এর উদ্দেশ্য। উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস ছিল, আনন্দময় একটি উদ্যোগ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

অল্প সময়ের মধ্যেই উদ্যোগটি জনপ্রিয়তা অর্জন করে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য অঞ্চল এবং নিউজিল্যান্ডেও ছড়িয়ে পড়ে এই আয়োজন। বর্তমানে কুইন্সল্যান্ডের ‘হিয়ার অ্যান্ড সে’, নিউ সাউথ ওয়েলসের ‘দ্য শেফার্ড সেন্টার’ এবং নিউজিল্যান্ডের ‘সাদার্ন ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট কর্মসূচি’র মতো সংস্থাগুলোও এতে অংশগ্রহণ করে।

যেভাবে উদযাপন করবেন দিনটি

লাউড শার্ট ডে পালনে বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। নিজের পছন্দের রঙিন শার্ট পরে বাড়ি, স্কুল অথবা অফিস থেকেই এতে অংশগ্রহণ করা সম্ভব। বড় নকশা, বিচিত্র রং অথবা মজার ছাপযুক্ত পোশাক বেছে নেওয়া যেতে পারে। এ দিনের সাজপোশাকে বাঁধাধরা নিয়মের চেয়ে সৃজনশীলতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, প্রেমিকা এআই জানালেন

নিজের রঙিন পোশাকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে অন্যদেরও অংশ নিতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। স্কুল বা অফিসে বাহারি পোশাকের বিশেষ দিন উদযাপন করা যেতে পারে। সবচেয়ে নজরকাড়া পোশাকের জন্য ছোট পুরস্কার কিংবা ছবি তোলার বিশেষ জায়গার ব্যবস্থা করেও উদযাপনকে আনন্দময় করে তোলা সম্ভব।

আনন্দের সঙ্গে ছড়িয়ে দিন সচেতনতা

শুধুমাত্র রঙিন পোশাক পরলেই এই দিনের উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, এ বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা অথবা অন্যদের সচেতন করাও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ।

সামর্থ্য অনুযায়ী এমন কোনো বিশ্বস্ত সংস্থায় আর্থিক সহায়তাও দেওয়া যেতে পারে। সহায়তার পরিমাণ ছোট হোক বা বড়, তা শিশুদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন: আজ নতুন বন্ধু বানানোর দিন, পুরোনো বন্ধুত্বের গুরুত্বও তুলে ধরা হচ্ছে

এছাড়া বাড়ি, স্কুল কিংবা কোনো সামাজিক কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে ছবি আঁকার আয়োজন করা যেতে পারে। তাদের নিজের পছন্দমতো রং ও নকশা দিয়ে স্বপ্নের শার্ট আঁকতে বলা যেতে পারে। কেউ আঁকতে পারে উজ্জ্বল ফুল, কেউ বেছে নিতে পারে মজার নকশা অথবা নানা রঙের জ্যামিতিক আকৃতি।

একটি শার্টেই ছড়িয়ে পড়ুক মানবিকতার বার্তা।

প্রতি বছর লাউড শার্ট ডে-র আয়োজন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। স্কুল, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এতে অংশ নিচ্ছে। রঙিন পোশাকের মধ্য দিয়ে মানুষ যেমন আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন, তেমনি শ্রবণশক্তির সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

একটি বাহারি শার্ট হয়তো একাই সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। তবে সেই শার্টকে ঘিরে তৈরি হওয়া সচেতনতা, সহমর্মিতা এবং সহায়তার উদ্যোগ শিশুদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: পূজায় মিষ্টিমুখ, ঘরেই বানান সুস্বাদু নারকেলের নাড়ু

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ মর্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ পি.এম


কক্সবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ পর্যটকের মরদেহ মর্গে

কক্সবাজারের ইনানী পাটুয়ারটেক টুপটুপ রিসোর্ট এন্ড রেস্টুরেন্টে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পোড়া মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শোভক্তদীন আহমেদ সোহেল জানিয়েছেন, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ টেস্টের উদ্দেশ্যে আলামত সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হবে।

এর আগে, শনিবার সকাল ৭টায় কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১০ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দগ্ধ অবস্থায় ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— রাজধানী ঢাকার বনশ্রী এলাকার ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁও এলাকার লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহমেদ (৫)।

এই ঘটনায় আহত ছয়জন হলেন— মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাহাব উদ্দিন (৩১), তার স্ত্রী ডা. নাফিজা নাওয়ার খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, টুপটুপ রিসোর্টে মোট ১৮ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে ২ জন মর্নিং ওয়ার্কের জন্য হোটেল থেকে বের হয়ে যান, ফলে তারা বেঁচে যান।

অন্যদিকে, এই ঘটনার অনুসন্ধানের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এর কাছে কোনো অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না। গত জুন মাসেও তাদের ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউইয়র্কের পাতালরেলে গুলিতে নিহত একজন ব্যক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ পি.এম


নিউইয়র্কের পাতালরেলে গুলিতে নিহত একজন ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি পাতালরেল স্টেশনে দুই ব্যক্তির মধ্যে বিরোধের ফলস্বরূপ গুলিতে একজন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে থিয়েটার জেলা এলাকার ৫৩তম স্ট্রিট ও সেভেনথ অ্যাভিনিউ স্টেশনে। ঘটনার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালিয়ে গেছে এবং তাকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে স্টেশনে গুলির শব্দ শুনে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে দুপুর ১টা ৬ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিহতের নাম কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। পরিবারের সদস্যদের আগে খবর দেওয়ার জন্য তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, নিহত ব্যক্তির বয়স ৩০ বছরের কাছাকাছি হতে পারে।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি উত্তরমুখী ই ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে নিহত ব্যক্তির কাছে গিয়ে তার বুকে একবার গুলি করে। এরপর সে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়।

পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, দুই ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ প্ল্যাটফর্মে শুরু হয়। পরে তাদের মধ্যে বিরোধ ট্রেনের ভেতরে চলতে থাকে এবং আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে। তবে ঠিক কোথায় গুলি চালানো হয়েছে, তা তদন্তকারীরা নিশ্চিত হতে পারেননি।

কর্তৃপক্ষের মতে, ঘটনাটি আকস্মিক বা নির্বিচার হামলা ছিল না। দুই ব্যক্তির বিরোধের সঙ্গে গুলির ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে।

ম্যানহাটনের এই এলাকায় পর্যটক ও নাটক দেখতে আসা মানুষের ভিড় থাকে। এমন ব্যস্ত স্থানে গুলির ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মেট্রোপলিটন পরিবহন কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান মাইকেল কেম্পার বলেন, হামলাকারীর বিরুদ্ধে বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি এও জানান যে, সংঘর্ষের বাইরে থাকা অন্য কেউ আহত হননি।

ঘটনার পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে সেভেনথ অ্যাভিনিউ পাতালরেল স্টেশনের প্রবেশপথে হলুদ পুলিশি ফিতা টানিয়ে দেওয়া হয়।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুন: বন্ধুদের সঙ্গে আর দেখা হবেনা ফাইজানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুন: বন্ধুদের সঙ্গে আর দেখা হবেনা ফাইজানের

চুয়াডাঙ্গার দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়ার গলিতে আর কখনো ফিরবেনা ফাইজান। বাড়ির সামনের ছোট্ট ফাঁকা মাঠে আর বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার সুযোগ থাকবেনা তার। ফাইজানের মা ফারিয়া কবির কেক অর্ডার করেছিলেন, কিন্তু সেই কেকও আর কখনো খাওয়া হবে না।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার বাসিন্দা ফারিয়া কবীর (৩৩) এবং তার পাঁচ বছরের ছেলে ফাইজান।

তথ্য অনুযায়ী, ফারিয়া কবীর ঔষধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার নুর আলমের স্ত্রী। চাকরির কারণে গত আট বছর ধরে নুর আলম তার পরিবার নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করছিলেন। ফারিয়া কবীরের গ্রামের বাড়ি বরিশালে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তারা গত ১৪ অক্টোবর বেড়ানোর উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগলে প্রাণ হারান ফারিয়া কবীর এবং তার শিশু সন্তান ফাইজান।

একই পরিবারের মা ও শিশুসন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

চুয়াডাঙ্গার দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়ার হারুন অর রশিদের বাড়িতে সপরিবারে দীর্ঘ আট বছর ধরে ভাড়া থাকতেন নুর আলম। তারা চারতলা বিল্ডিংয়ের তিনতলায় বসবাস করতেন।

ওই ভবনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নুর আলমের পরিবার ছিল অত্যন্ত ভালো। ফারিয়া কবীর মাঝে মাঝে অসুস্থ থাকতেন। শিশু ফাইজান মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতো। স্মৃতিগুলো ভুলতে পারছি না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগ্রাসন রুখতে দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর আহ্বান রিজভীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


আগ্রাসন রুখতে দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর আহ্বান রিজভীর

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে একটি জাতির স্বকীয়তা দুর্বল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ধরনের আগ্রাসন প্রতিরোধের জন্য দেশের যুবকদের নিজেদের সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে মরমি সাধক লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে ‘কালচার ফর ইউনিটি বাংলাদেশ’ ।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের ওপর বিভিন্নভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রচেষ্টা চলতে থাকবে। তবে আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা হচ্ছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক গভীরতার উন্মোচন, চর্চা ও অনুশীলন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চর্চা বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬-১৭ বছরে দেশকে একমুখী করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই সময়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন পরিচালিত হয়েছে এবং স্বাধীনতার কথা বলে অন্য দেশের দাসত্ব করা হয়েছে। তবে আশার বিষয় হলো, তরুণেরা এসব বিষয় উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার কথা বলা হলেও বাস্তবে দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের সিনেমা হলে ভারতীয় সিনেমার অবাধ প্রদর্শনের উদ্যোগও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের একটি উদাহরণ। একটি জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তার সার্বভৌমত্ব। সেই সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদী চেতনা ও নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে ভাবনার যে বিকাশ ঘটেছে, তার প্রকাশ ঘটেছিল জুলাই আন্দোলনে। নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে যখন মানুষ জেগে ওঠে, তখন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি অমানবিক শাসনের পতন ঘটে।

বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, লালন শাহ, মুকুন্দরামসহ বাংলার লোককবিদের চিন্তায় মানবতাবাদী দর্শনের প্রকাশ ঘটেছে। তাদের দর্শন সহজ ভাষায় মানুষের মর্যাদা, আত্মপরিচয় ও মানবিকতার কথা বলেছে। পরবর্তী সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-সংগীতেও এই ধারার প্রভাব দেখা যায়।

তিনি বলেন, লালনের গান ও বাউল সুর বাংলা সাহিত্য-সংগীতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতেও বাউল সুরের প্রভাব বিদ্যমান। তাই সাংস্কৃতিক চর্চা ও জাতীয় চেতনায় মানবতাবাদী দর্শনকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক কাজী জেসিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%