০৩:৩১ পি.এম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে একটি জাতির স্বকীয়তা দুর্বল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ধরনের আগ্রাসন প্রতিরোধের জন্য দেশের যুবকদের নিজেদের সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে মরমি সাধক লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে ‘কালচার ফর ইউনিটি বাংলাদেশ’ ।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের ওপর বিভিন্নভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রচেষ্টা চলতে থাকবে। তবে আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা হচ্ছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক গভীরতার উন্মোচন, চর্চা ও অনুশীলন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চর্চা বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
তিনি আরও বলেন, গত ১৬-১৭ বছরে দেশকে একমুখী করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই সময়ে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন পরিচালিত হয়েছে এবং স্বাধীনতার কথা বলে অন্য দেশের দাসত্ব করা হয়েছে। তবে আশার বিষয় হলো, তরুণেরা এসব বিষয় উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার কথা বলা হলেও বাস্তবে দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের সিনেমা হলে ভারতীয় সিনেমার অবাধ প্রদর্শনের উদ্যোগও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের একটি উদাহরণ। একটি জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তার সার্বভৌমত্ব। সেই সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদী চেতনা ও নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে ভাবনার যে বিকাশ ঘটেছে, তার প্রকাশ ঘটেছিল জুলাই আন্দোলনে। নিপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে যখন মানুষ জেগে ওঠে, তখন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি অমানবিক শাসনের পতন ঘটে।
বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, লালন শাহ, মুকুন্দরামসহ বাংলার লোককবিদের চিন্তায় মানবতাবাদী দর্শনের প্রকাশ ঘটেছে। তাদের দর্শন সহজ ভাষায় মানুষের মর্যাদা, আত্মপরিচয় ও মানবিকতার কথা বলেছে। পরবর্তী সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য-সংগীতেও এই ধারার প্রভাব দেখা যায়।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
তিনি বলেন, লালনের গান ও বাউল সুর বাংলা সাহিত্য-সংগীতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতেও বাউল সুরের প্রভাব বিদ্যমান। তাই সাংস্কৃতিক চর্চা ও জাতীয় চেতনায় মানবতাবাদী দর্শনকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক কাজী জেসিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন