মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩০ পি.এম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ফটোপোস্টের কারণে সম্প্রতি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। এক বছর আগে দেওয়া একটি বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘যতটুকু পাপ কামাইছি সব ধুয়ে মুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই। আর যে কয়দিন বাঁচবো আল্লাহ খোদার নাম করে যাবো’—এই বক্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর শুরু হয় বিতর্ক। এ বিষয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই নন্দিত অভিনেত্রী।
পপি পরিষ্কারভাবে জানান, তিনি কখনোই চলচ্চিত্রে অভিনয়কে ‘পাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, মানুষ জেনে-না জেনে ভুল বা পাপ করতে পারে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়।
সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এবং নিজের অভিনয় জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু আমার ব্যক্তব্যে একটি বারের জন্যও বলিনি যে আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পাপ করেছি। মানুষ কী তার নিজের পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান না? আমরা তো জেনে না জেনে অনেক পাপ করি, সেসব পাপের জন্য কী আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যাবেনা? তো আমি আমার পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে যদি আমার স্বামী সংসার নিয়ে সুখে শান্তিতে ভালো থাকতে পারি সেটাতো অন্যায়ের কিছু নয়। আমিতো একটি বারের জন্য বলিনি যে আমি সিনেমাতে অভিনয় করে পাপ করেছি। যে সিনেমা আমাকে এতো যশ এতো খ্যাতি এতো সম্মান এনে দিয়েছে, যে সিনেমা থেকে আমি অনেক কষ্ট করে টাকা রোজগার করেছি, যে সিনেমার কারণে আজও দর্শক আমাকে এতো ভালোবাসেন সেই সিনেমা কিংবা সিনেমা শিল্পকে নিয়ে আমি খারাপ কিছু বলবো নেগেটিভ মন্তব্য করবো-প্রশ্নই আসেনা। আমি আমার চলচ্চিত্রকে এখনো অনেক ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি।’
পপি আরো বলেন, ‘জীবনের প্রয়োজনে আমি আজ হয়তো দূরে আছি, কিন্তু ফেলে আসা দিনগুলো আমি ভীষণ মিস করি। বিয়ের পর একটি মেয়েকে তার স্বামীর কথা মতো চলতে হয়। আমার স্বামী আদনান আমাকে ভীষণভাবে আগলে রাখে, আমার একমাত্র ছেলে আয়াতকে নিয়েই আমার সময় কেটে যায়। আমার সুখের সংসার। আপনাদের সবার দোয়াতেই আমার এই সুখের সংসার। আর চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সময়টাতে আমি দিনের পর দিন রোদে পুরে গরমে, বৃষ্টি বাদলে অনেক কষ্ট করে শুটিং করে টাকা রোজগার করেছি। অনেক কষ্টের পরে হালার রোজগার করেছি। নিজের পরিবারকে লালন পালন করেছি, তো যে চলচ্চিত্র থেকে আমার এতোকিছু সেই চলচ্চিত্রকে কোনোদিনই অসম্মান করে কিংবা অভিনয় পেশাকে অসম্মান করে আমি কিছু বলবো না।’
অভিনয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিনয়ে অবসর আমি নেইনি। যদি কোনোদিন কোনো গল্প ভালো লাগে হয়তো আমি অভিনয় করতেও পারি, আবার হয়তো আর অভিনয়ে নাও ফেরা হতে পারে। তবে সিনেমা প্রয়োজনায় আসার ইচ্ছে আছে। ইচ্ছে আছে নিজের বায়োগ্রাফিতে অভিনয় করার। সবাই ভালো থাকবেন, আমার জন্য দোয়া করবেন।’
পপি অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিলো ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশান’। যদিও কয়েকটি সিনেমার কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পপি আর অভিনয় করেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটের ওসমানীনগরে পৃথক কর্মসূচি আয়োজন করেছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের অনুসারী নেতাকর্মীদের দুই বলয় এবং সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী লুনার নেতৃত্বাধীন উপজেলা বিএনপি। তবে এই পৃথক কর্মসূচির কারণে তিন পক্ষের প্রচার-প্রচারণার মধ্যে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও বিরোধের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলার তাজপুর বাজারে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সিনিয়র সদস্য সৈয়দ এনামুল হক এনাম পীরের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে, বিকেল ৩টায় গোয়ালাবাজারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দাল মিয়া, ইউপি সদস্য ইমরান রব্বানী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গয়াছ মিয়া ও জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমানের নেতৃত্বে আরেকটি অংশ পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে।
দুই বলয়ের এই পৃথক কর্মসূচিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিছিল, আলোচনা সভা এবং অন্যান্য বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উভয় বলয়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এদিকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সৈয়দ এনামুল হক এনাম পীরের নেতৃত্বে তাজপুর বাজার থেকে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কদমতলা হয়ে পুনরায় তাজপুর বাজারে ফিরে বনফুলের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত পথসভায় মিলিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
একই সময়ে কদমতলা থেকে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী লুনার নেতৃত্বাধীন উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা তাজপুরমুখী আরেকটি বর্ণাঢ্য মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসেন। মিছিলটি বনফুলের সামনে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকেই পথসভা করছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের অনুসারী নেতাকর্মীরা। ফলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে এসে পড়েন।
এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরস্পরকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। যদিও পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও উভয় পক্ষের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে উপজেলার তাজপুর বাজারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় তার অনুসারী দুই বলয়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল, তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পৃথক কর্মসূচি এবং একই সময়ে তাজপুর বাজারে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে ওসমানীনগরের স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও নেতৃত্বের বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে এক বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্যারিস রোডে এসে শেষ হয়।
র্যালিতে ফোরামের সভাপতি প্রফেসর গোলাম ছাদিক এবং সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম, ফোরামের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
র্যালি-পরবর্তী সময়ে বক্তারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাঁরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও শিক্ষাঙ্গনে মুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শিক্ষকদের উচিত নিজেদের অবস্থান থেকে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।
এ সময় রাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আমীরুল ইসলাম বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও জাতীয় ঐক্যের যে রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিএনপি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের প্রত্যয় হওয়া উচিত—বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষার পরিবেশ এবং মানুষের মৌলিক অধিকারকে আরও শক্তিশালী করা। বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কেন্দ্র। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম মনে করে, একটি মুক্ত, নিরাপদ ও দলনিরপেক্ষ শিক্ষাঙ্গনই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি উন্নত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্ব দিতে।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। তাই সকল বিভেদ, সংকীর্ণতা ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমাদের প্রত্যাশা—বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
প্রসঙ্গত, প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা পার্কে দলটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনি ছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। সেই দিনকে স্মরণ করেই বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কওমি-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগদান করেন একটি দাওয়াতি সমাবেশের মাধ্যমে, যা দলটির মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়।
মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই দাওয়াতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জামায়াতের নেতারা নতুন যোগদানকারী নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান এবং তাদের বরণ করে নেন। পরে, নতুন যোগদানকারীদের মধ্যে কয়েকজন সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে একটি দৃঢ় বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘কোনো বাতিলের সঙ্গে আপস করব না, কারও কাছে মাথানত করব না। চলার পথে বাধা আসবে, জীবন দেওয়ার সময় আসবে। ইনশাআল্লাহ, এ দেশে কোরআনের আইন কায়েম হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যেমন এক ছাদের নিচে আছি, পরকালে আল্লাহ যেন আমাদের গুনাহ মাফ করে এক ছাদের নিচে রাখেন।’
যুব সমাজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, যুগে যুগে যুব সমাজের ওপর ভর করেই আল্লাহর দ্বীন কায়েম হয়েছে। আল্লাহ যতদিন হায়াত দেবেন, ততদিন উদ্যমের সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।
এ সময় তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, ধর্মের ভিত্তিতে সমাজকে কোনোভাবেই বিভাজনের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে না।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা জামায়াতে ইসলামীকে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশ ও সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের পুঁজিবাজারে ডেরিভেটিভস মার্কেট ২০২৮ সালের মধ্যে চালু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে 'ইনডেক্স ফিউচার' এর মাধ্যমে ডেরিভেটিভস লেনদেন শুরু হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) দাখিলকৃত একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করার মাধ্যমে এই সময়সীমা চূড়ান্ত করেছে।
মঙ্গলবার বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
কমিশন সভায় পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তি বিধিমালার খসড়া অনুমোদন, ‘জেড ক্যাটাগরির’ শেয়ার হস্তান্তরে শর্ত শিথিলকরণ এবং বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ বিতরণে জটিলতা নিরসনের বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলমান সমস্যার সমাধান করবে এবং দেশের পুঁজিবাজারে গতিশীলতা আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আর্থিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইনডেক্স ফিউচার চালুর ফলে বিনিয়োগকারীরা পুরো ইনডেক্সের উত্থান-পতনের ওপর ভিত্তি করে হেজিং করার সুযোগ পাবেন। এটি নিম্নমুখী বাজারে পোর্টফোলিও রক্ষায় কার্যকর সেফটি নেট হিসেবে কাজ করবে। ডেরিভেটিভস মার্কেট চালুর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারে আধুনিক বিনিয়োগ সরঞ্জামের সংযোজন এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার পথ প্রশস্ত হবে।
ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের খসড়া অনুমোদন: বিএসইসির কমিশন সভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ বাই স্টক এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২৬) এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এই নতুন বিধিমালার অধীনে যোগ্য কোম্পানিগুলো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়া ছাড়াই সরাসরি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন মোট শেয়ারের ১০% থেকে ২০% শেয়ার অফলোড করার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। নতুন বিধিমালার আওতায় নিম্নলিখিত ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে:
সরকারের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি, যার পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০% সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানাধীন রয়েছে। বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি। বিটিআরসি অনুমোদিত এবং কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনি টেলিকম, আইসিটি, অবকাঠামো সেবা প্রদানকারী অথবা উৎপাদনকারী কোম্পানি। তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানি যারা কমপক্ষে ৩ বছর ধরে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদের অধিকারী কোম্পানি।
কমিশনে নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি এবং সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি।
বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রেরণ: বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রেরণ ও তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রেরণের দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে কমিশন একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) হতে ডাবল ট্যাক্সেশন অ্যাভয়েডেন্স (ডিটিএ) সার্টিফিকেট প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের মধ্যেই ঘোষিত লভ্যাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে প্রেরণ করতে হবে। পরবর্তীতে বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রেরণের ৩০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রত্যাবাসনে বিলম্ব সংক্রান্ত অভিযোগ নিরসনে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে কমিশন মনে করছে।
জেড-ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল: ‘জেড-ক্যাটাগরি’ ভুক্ত কোম্পানির স্পন্সর বা পরিচালকদের শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিশেষ দুটি পরিস্থিতিতে কমিশনের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা বিলোপ করা হয়েছে। এখন থেকে ঋণখেলাপির কারণে শেয়ার বাজেয়াপ্ত এবং মূল শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যুর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের অনুকূলে শেয়ার ট্রান্সমিশনের জন্য কমিশনের আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হবে না। স্টক এক্সচেঞ্জগুলো লিস্টিং রেগুলেশন অনুযায়ী সরাসরি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ