বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৬ পি.এম
তরুণ ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ করে দিতে আবারও শুরু হতে যাচ্ছে ‘মেসি কাপ’। এই টুর্নামেন্টটি ইন্টার মায়ামির উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে এবং এর দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণ করবে ১৬টি ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১৬ দল। পূর্ববর্তী আসরে অংশ নিয়েছিল আটটি দল।
এবারের মেসি কাপ আগামী ২৫ অক্টোবর শুরু হয়ে ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলে ইন্টার মায়ামি স্টেডিয়াম ও ফ্লোরিডা ব্লু ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলো। বিভিন্ন দেশের নামী ক্লাবগুলোর একাডেমি থেকে আসা তরুণ ফুটবলাররা এই দুই ভেন্যুতে মুখোমুখি হবে।
প্রথম আসরের তুলনায় এবার দলসংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তরুণ ফুটবলারদের আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে খেলার সুযোগ দেওয়া যায়। আয়োজকেরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি মাঠ ও মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের বিকাশেও ভূমিকা রাখতে চান।
ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক লিওনেল মেসি টুর্নামেন্টটির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তরুণদের বিকাশের ক্ষেত্রে। নিজের নামে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে আর্জেন্টাইন তারকা মন্তব্য করেন, ‘মেসি কাপ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ছেলেরা যেন নিজেদের বিকাশের এই গুরুত্বপূর্ণ বয়সে মাঠ ও মাঠের বাইরে একটি অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মেজাজ কেমন হয়, তা এখন থেকেই বুঝতে শিখুক।’
এবারের আসরে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মেসি সন্তুষ্ট। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ ক্লাবের তরুণ খেলোয়াড়দের এক জায়গায় এনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
মেসি বলেন, ‘টুর্নামেন্টটি যেভাবে বড় হচ্ছে, তা দেখে আমরা সত্যিই খুব আনন্দিত। বিশ্বের সেরা সেরা ক্লাব থেকে আসা তরুণ খেলোয়াড়দের এখানে একত্রিত হতে দেখে ভালো লাগছে, যাতে তারা একে অপরের বিপক্ষে লড়তে পারে, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারে এবং সবচেয়ে বড় কথা, ফুটবলকে উপভোগ করতে পারে।’
এবারের মেসি কাপে অংশ নেবে ইন্টার মায়ামি সিএফ, আয়াক্স, ইন্টার মিলান, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, বেনফিকা, এফসি বার্সেলোনা, পালমেইরাস, আর্সেনাল, নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজ, ফ্ল্যামেঙ্গো, ইউই কর্নেয়া, ম্যানচেস্টার সিটি, বোকা জুনিয়র্স, রিভার প্লেট, ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তে দেল ভ্যালে ও চেলসি।
টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে ডিজনি প্লাস ও ইএসপিএন প্লাস। তবে অঞ্চলভেদে ম্যাচ দেখার সুযোগ নির্ভর করবে স্থানীয় সম্প্রচার-সুবিধার ওপর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মিশরে কর্মরত বাংলাদেশি পোশাক শ্রমিকদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও কর্মমানের প্রশংসা করে বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির একটি শীর্ষস্থানীয় পোশাক কারখানা। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতাও চেয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মিশরের মোনুফিয়া ফ্রি জোনে অবস্থিত এলিগেন্স অ্যাপারেলস ফ্যাক্টরি পরিদর্শনকালে কারখানা কর্তৃপক্ষ এ আগ্রহের কথা জানায়। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) গৌতম কুমার দে এবং শ্রম সচিব মো. জাকির হোসেন কারখানাটি পরিদর্শন করেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এলিগেন্স অ্যাপারেলসে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে। কারখানাটিতে উৎপাদিত পোশাক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও বহুজাতিক ক্রেতার কাছে রপ্তানি করা হয়।
পরিদর্শনকালে কারখানা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মদক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, পরিশ্রম ও কাজের মানের প্রশংসা করে। তারা বাংলাদেশি কর্মীদের কাজে সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে। এ জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
ওয়ার্ক পারমিট বন্ধ, তবু বৈধ হওয়ার সুযোগ। মিশরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সরকারি পর্যায়ে ওয়ার্ক পারমিটভিত্তিক ভিসা চালু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে নতুন করে বাংলাদেশি শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ সীমিত। তবে দেশটিতে আগে থেকেই বসবাসরত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে মিশরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিককে বৈধতার আওতায় আনার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা অনেক বাংলাদেশি কর্মী বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও কর্মমানের প্রতি মিশরীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে পোশাকশিল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কর্মীদের কল্যাণে গুরুত্ব দূতাবাসের
এলিগেন্স অ্যাপারেলস পরিদর্শনের সময় দূতাবাসের কর্মকর্তারা কারখানায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তারা কর্মপরিবেশ, আবাসন, সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবাসনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও তারা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করা হয়। পাশাপাশি বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দূতাবাসের পরিদর্শনে সন্তুষ্ট কর্মীরা
এ সময় কারখানাটিতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রোডাকশন ম্যানেজার হোসেন ও প্রোডাকশন সুপারভাইজার মাসুদ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কর্মস্থল পরিদর্শনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তারা বলেন, দূতাবাসের কর্মকর্তারা সরাসরি কর্মস্থলে এসে বাংলাদেশি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলায় তারা আনন্দিত। কর্মীদের স্বার্থ ও কল্যাণের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য তারা দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থে নিয়মিত পরিদর্শন।
পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) গৌতম কুমার দে বলেন, মিশরে যেসব প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি কর্মীরা কাজ করছেন, সেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পরিদর্শন করা হবে। বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ, কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য দূতাবাস কাজ করে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও সুনাম যেন মিশরে আরও বৃদ্ধি পায় এবং দেশটিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হয়, সে বিষয়ে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
এলিগেন্স অ্যাপারেলস ফ্যাক্টরি পরিদর্শনকে মিশরে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে দূতাবাসের সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার এবং সম্ভাব্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে, সব দিক পরীক্ষা করে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন ও উপনির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এই তথ্য জানিয়েছেন।
ইসি আনোয়ারুল বলেন, পাবলিক পরীক্ষা বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে কমিশন চিন্তা করছে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কমিশন সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিল। পরে দেখা যায়, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বিষয়গুলোর পিছিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি রয়েছে। তাই রমজান, ঈদ, পূজা, এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষাসহ সব দিক বিবেচনা করে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে কমিশন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকারের কোনো চাপের কারণে নির্বাচন কমিশন তারিখ পেছায়নি। বরং, বাস্তবতা, আইন ও সংবিধান সবকিছু বিবেচনা করেই কমিশন তারিখ ঘোষণা করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অ্যাডভান্সড কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (এসিআই) জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদন করার জন্য আগ্রহী ব্যক্তিরা আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
বিভাগ: রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স (কনজিউমার ব্র্যান্ডস)।
পদের নাম: এক্সিকিউটিভ।
পদসংখ্যা: একটি।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: ব্যাচেলর অব ফার্মেসি, এলএলবি, বিবিএ।
অভিজ্ঞতা: সর্বোচ্চ এক বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। তবে, অভিজ্ঞতা ছাড়াও প্রার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
চাকরির ধরন: ফুলটাইম।
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন।
কর্মক্ষেত্র: অফিস।
বয়স: সর্বোচ্চ ২৪–৩২ বছর।
কর্মস্থল: ঢাকা।
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে।
আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শিশুসাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ছড়াকার আখতার হুসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দেশের শিশুসাহিত্যে তার মৃত্যুতে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও তার দুই ছেলে পান্থ ও প্রমিত এই দুঃখজনক খবর নিশ্চিত করেছেন।
নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে ১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বরে আখতার হুসেনের জন্ম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮১ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আখতার হুসেন ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন দীর্ঘদিন। সর্বশেষ তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ঘটে। শরীরে রক্তচাপও কমে গিয়েছিল। শারীরিক জটিলতার কারণে প্রথমে তাকে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে বারডেম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরিশেষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। গত শুক্রবার থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
মৃত্যুকালে আখতার হুসেন দুই ছেলে পান্থ ও প্রমিতসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার জানাজা নামাজ এবং দাফনের বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
তিনি সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে শিশুসাহিত্য, ছড়া, গল্প, নাটক ও সম্পাদনার জগতে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। কর্মজীবনে তিনি ৩০টির বেশি গ্রন্থ সম্পাদনা এবং প্রায় ৮০টি বই রচনা করেন।
তার সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে দুই বাংলার মুক্তিযুদ্ধের কবিতা, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী গল্প, বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ দেশপ্রেমের গান এবং বাংলা সাহিত্যের সেরা কিশোর কবিতা। এছাড়া তিনি ও. হেনরি, মোপাসাঁ, ম্যাক্সিম গোর্কি ও মার্ক টোয়েনের নির্বাচিত গল্পের অনুবাদ সংকলনও সম্পাদনা করেছেন।
জীবনীধর্মী লেখাতেও তার বিশেষ অবদান রয়েছে। ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার, শহীদ মতিউর রহমান, হাবীবুর রহমান ও কাজী আফসারউদ্দিন আহমেদের জীবনী রচনা করেছেন তিনি। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রকাশিত পাঁচ খণ্ডের শিশু-বিশ্বকোষ-এ সর্বাধিক লেখক হিসেবেও কাজ করেছেন।
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পুরস্কার এবং ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতিপদকসহ অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ