মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৭ পি.এম
পাখি শিকার বন্ধের লক্ষ্যে শেরপুরের সদর ও নকলা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুর বার্ড ক্লাব এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ছয়টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চলেছে। অভিযানের সময় পাখি শিকারিদের ৬টি হালা (শিকারের সরঞ্জাম) ও ৫টি শিকারি বক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত বকগুলো পরে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়। পাখির সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এলাকাবাসীর মধ্যে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়েছে।
এই অভিযান সদর উপজেলার পাকুরিয়া, কামারিয়া এবং নকলা উপজেলার ৫নং বানেশ্বর্দী ইউনিয়নে পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় পাখি শিকারিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাদের শিকারি বকগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
অভিযান পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইন এর নির্বাহী পরিচালক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. মুগনিউর রহমান মনি, নকলা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব মো. মামুন মিয়া, স্বেচ্ছাসেবক মো. গোলাম জাকারিয়া পবনসহ অন্যান্য সদস্যরা।
এদিকে পাখি শিকার হচ্ছে এমন খবর পেয়ে দুপুরে জামালপুর জেলার লাঙ্গলজোড়া পূর্ব নাছিরপুর এলাকায় জামাল ওস্তাগারের বাড়ির পিছনে বাঁশ ঝাড় ও রেইন ট্রি গাছে কলোনি বানিয়ে থাকা শামুকখোল পাখির খোঁজ নিতে এই দলটি উপস্থিত হয়। তারা উপস্থিত হয়ে পাখির সুরক্ষায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করেন।
এ সময় জামালপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. খোকন মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার জানান, পাখি শিকার বন্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও মার্কিন ডলারের দাম কমার প্রেক্ষাপটে সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮৬ দশমিক ৯১ ডলারে পৌঁছেছে। তবে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে সোনার এই দর রেকর্ড করা হয়। একই সময়ে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার দর ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১১ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ এবং ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত অবস্থান সোনার দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেন মন্তব্য করেছেন, এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশিত হবে। বুধবার সেপ্টেম্বরের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রকাশ করা হবে। বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশ করা হবে। এছাড়া শুক্রবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) বক্তব্য দেবেন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ।
হ্যানসেনের মতে, এসব তথ্য ও বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে স্বল্পমেয়াদে সরকারি বন্ডের মুনাফার হার, ডলারের মূল্য এবং মূল্যবান ধাতুর বাজারের গতিপথ নির্ধারিত হতে পারে। একই সঙ্গে সোনা কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক দরপতনের দিকে এগোচ্ছে তেলের বাজার। অন্যদিকে, ১৮ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা কমেছে মার্কিন ডলারের দর। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের মুনাফার হারও ২ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বন্ডের মুনাফার হার কমলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ধরে রাখার সুযোগব্যয় কমে যায়। এতে মূল্যবান ধাতুটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারে সোনার দাম নির্ধারিত হওয়ায় মার্কিন মুদ্রার দর কমাও সাধারণত সোনার দাম বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক। তার মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফেডারেল রিজার্ভের তুলনামূলক দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা মাত্র ১৭ শতাংশ। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (সিএমই) ফেডওয়াচ টুলের তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভোর মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনার প্রবণতা, সরকারি ঋণ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো সোনার বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা দিতে পারে। তার ধারণা, বছরের শেষ দিকে এবং ২০২৭ সালেও সোনার দাম স্থিতিশীল হয়ে আবার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরতে পারে।
সোনার পাশাপাশি মঙ্গলবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৪৪৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭০১ দশমিক ১০ ডলারে পৌঁছেছে। এ ছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৪৯ দশমিক ৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
একটি পরিবারের বুকে স্বস্তি এবং একটি শিশুর মুখে হাসি— এই প্রত্যাশা নিয়ে ঠোঁট ও তালুকাটা শিশুদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক বাজারে অবস্থিত মেডিল্যাব হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টার।
ডা. আরিফ উল হাসান, হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এসব শিশুর জন্য বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং পুরোপুরি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত ওষুধ সহায়তা প্রদানের। অসচ্ছল পরিবারের অভিভাবকরা নতুন আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন এই উদ্যোগের মাধ্যমে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের শাহরাস্তি উয়ারুক বাজারে মেডিল্যাব হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারের আয়োজনের মাধ্যমে এ মানবিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাছের শাকিল।
এতে অংশগ্রহণ করেন চাঁদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিশু ও তাদের অভিভাবকেরা। সন্তানের সুস্থতার প্রত্যাশায় দূরদূরান্ত থেকে আসা অভিভাবকদের উপস্থিতিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ঠোঁট ও তালুকাটা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু অনেক পরিবারের জন্য আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থের অভাবে যেন কোনো শিশু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া পর্যন্ত ওষুধ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডা. আবু নাছের শাকিল এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়।" তিনি আরও বলেন, সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে এসব শিশু সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার আরও সুযোগ পাবে।
হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আরিফ-উল-হাসান জানান, "প্রচলিত চিকিৎসাসেবার গণ্ডি পেরিয়ে অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ করে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।" তিনি বলেন, অর্থের অভাবে কোনো শিশু যেন ঠোঁট ও তালুকাটার চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের যেকোনো এলাকার ঠোঁট ও তালুকাটা শিশুরা নিবন্ধনের মাধ্যমে এ বিনামূল্যের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই উদ্বোধনের মাধ্যমে মেডিল্যাব হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ২৪ ঘণ্টা জরুরি ও ট্রমা সেবার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার এ উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা শিশুদের অভিভাবকেরা। তাদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তানরা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে।
মানবিক এ উদ্যোগ শুধুমাত্র বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার পথে সহায়তার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে আরও অনেক অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) মূল ফটকের সামনে গাড়ির ধাক্কায় মার্কেটিং বিভাগের ৩২তম ব্যাচের ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে সাদমান সাকিব বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাচ্ছিলেন। আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের মূল ফটক এলাকায় ঘটে। প্রথমে আহত শিক্ষার্থীদের শহিদ ডা. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়, যেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যান্ডেজ দেওয়া হয়। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ও ছিলে যাওয়ার ক্ষত রয়েছে, বিশেষ করে হাত-পা এবং হাঁটুর কাছে। এক শিক্ষার্থীকে অক্সিজেন সাপোর্টও দেওয়া হয়েছে, এবং এক্স-রে রিপোর্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে কারও হাড় ভেঙেছে কি না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গাড়িচালক সাদমান সাকিবের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তারা জানান, তিনি ক্যাম্পাসের মতো জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় গাড়ি চালানো শিখছিলেন এবং ওই দিনই প্রথমবারের মতো গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের দাবি।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ব্যর্থতা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মন্তব্য করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রদর্শনের জায়গা কিংবা গাড়ি চালানো শেখার পরীক্ষাকেন্দ্র নয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, "ছয়জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পরও যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও বিবেক নিয়ে গর্ব করার জায়গা থাকে না।"
তাদের দাবি, আহত শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তের পরিচয়, পদবি কিংবা পারিবারিক প্রভাব যেন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে, দুর্ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত সাদমান সাকিবের বাবা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানান, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নেব।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকার আইনজীবীদের জন্য বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এর ফলে, ৩৫ বছর বয়সের পর কেউ আইনজীবী হওয়ার সুযোগ পাবেন না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস এবং ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভলপমেন্ট-এর ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের কনভোকেশন ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের দ্বিতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের অনভোকেশন প্রদান করা হয় এবং তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নরা শপথ গ্রহণ করেন।
মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ভবিষ্যতে লিগ্যাল প্রফেশনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এআই। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের প্রফেশনকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে, যেখানে সমাজের মানুষ মনে করবে, তারা একজন জ্ঞানী মানুষের কাছে যাচ্ছেন। আইনজীবী হওয়ার জন্য শুধু ‘ল’ জানলেই হবে না, বরং অর্থনীতি, কেমেস্ট্রি, নৃবিজ্ঞান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানও জানা প্রয়োজন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নের জন্য শুধুমাত্র শিক্ষায় ও জ্ঞানে গরীমা অর্জন করলেই হবে না, নীতি ও নৈতিকতার বিষয়গুলোও মাথায় রাখতে হবে। যদি একজন আইনজীবী ভালো হন কিন্তু টাকার প্রতি লোভী হন এবং মক্কেল থেকে টাকা বের করার চিন্তা করেন, তাহলে তিনি ভালো আইনজীবীর কাতারে পড়বেন না। এ ধরনের ব্যবসা বন্ধ হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, সুইডেনের অ্যাম্বাসেডর নিকোলাস উইকস এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টিটিভ স্টেপেন রদরিগ প্রমুখ। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ