মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৮ পি.এম
একটি পরিবারের বুকে স্বস্তি এবং একটি শিশুর মুখে হাসি— এই প্রত্যাশা নিয়ে ঠোঁট ও তালুকাটা শিশুদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক বাজারে অবস্থিত মেডিল্যাব হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টার।
ডা. আরিফ উল হাসান, হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এসব শিশুর জন্য বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং পুরোপুরি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত ওষুধ সহায়তা প্রদানের। অসচ্ছল পরিবারের অভিভাবকরা নতুন আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন এই উদ্যোগের মাধ্যমে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের শাহরাস্তি উয়ারুক বাজারে মেডিল্যাব হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারের আয়োজনের মাধ্যমে এ মানবিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাছের শাকিল।
এতে অংশগ্রহণ করেন চাঁদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিশু ও তাদের অভিভাবকেরা। সন্তানের সুস্থতার প্রত্যাশায় দূরদূরান্ত থেকে আসা অভিভাবকদের উপস্থিতিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ঠোঁট ও তালুকাটা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু অনেক পরিবারের জন্য আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থের অভাবে যেন কোনো শিশু চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া পর্যন্ত ওষুধ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডা. আবু নাছের শাকিল এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়।" তিনি আরও বলেন, সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে এসব শিশু সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার আরও সুযোগ পাবে।
হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আরিফ-উল-হাসান জানান, "প্রচলিত চিকিৎসাসেবার গণ্ডি পেরিয়ে অসহায় শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ করে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।" তিনি বলেন, অর্থের অভাবে কোনো শিশু যেন ঠোঁট ও তালুকাটার চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের যেকোনো এলাকার ঠোঁট ও তালুকাটা শিশুরা নিবন্ধনের মাধ্যমে এ বিনামূল্যের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই উদ্বোধনের মাধ্যমে মেডিল্যাব হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ২৪ ঘণ্টা জরুরি ও ট্রমা সেবার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এদিকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার এ উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা শিশুদের অভিভাবকেরা। তাদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তানরা সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে।
মানবিক এ উদ্যোগ শুধুমাত্র বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার পথে সহায়তার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে আরও অনেক অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) মূল ফটকের সামনে গাড়ির ধাক্কায় মার্কেটিং বিভাগের ৩২তম ব্যাচের ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে সাদমান সাকিব বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাচ্ছিলেন। আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের মূল ফটক এলাকায় ঘটে। প্রথমে আহত শিক্ষার্থীদের শহিদ ডা. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়, যেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যান্ডেজ দেওয়া হয়। আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ও ছিলে যাওয়ার ক্ষত রয়েছে, বিশেষ করে হাত-পা এবং হাঁটুর কাছে। এক শিক্ষার্থীকে অক্সিজেন সাপোর্টও দেওয়া হয়েছে, এবং এক্স-রে রিপোর্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে কারও হাড় ভেঙেছে কি না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গাড়িচালক সাদমান সাকিবের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। তারা জানান, তিনি ক্যাম্পাসের মতো জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় গাড়ি চালানো শিখছিলেন এবং ওই দিনই প্রথমবারের মতো গাড়ি চালাচ্ছিলেন। যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের দাবি।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ব্যর্থতা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মন্তব্য করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রদর্শনের জায়গা কিংবা গাড়ি চালানো শেখার পরীক্ষাকেন্দ্র নয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, "ছয়জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পরও যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও বিবেক নিয়ে গর্ব করার জায়গা থাকে না।"
তাদের দাবি, আহত শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তের পরিচয়, পদবি কিংবা পারিবারিক প্রভাব যেন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে, দুর্ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত সাদমান সাকিবের বাবা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানান, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি তা মেনে নেব।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকার আইনজীবীদের জন্য বয়সসীমা নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এর ফলে, ৩৫ বছর বয়সের পর কেউ আইনজীবী হওয়ার সুযোগ পাবেন না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস এবং ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভলপমেন্ট-এর ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের কনভোকেশন ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের দ্বিতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের অনভোকেশন প্রদান করা হয় এবং তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নরা শপথ গ্রহণ করেন।
মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ভবিষ্যতে লিগ্যাল প্রফেশনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এআই। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের প্রফেশনকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে, যেখানে সমাজের মানুষ মনে করবে, তারা একজন জ্ঞানী মানুষের কাছে যাচ্ছেন। আইনজীবী হওয়ার জন্য শুধু ‘ল’ জানলেই হবে না, বরং অর্থনীতি, কেমেস্ট্রি, নৃবিজ্ঞান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানও জানা প্রয়োজন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়নের জন্য শুধুমাত্র শিক্ষায় ও জ্ঞানে গরীমা অর্জন করলেই হবে না, নীতি ও নৈতিকতার বিষয়গুলোও মাথায় রাখতে হবে। যদি একজন আইনজীবী ভালো হন কিন্তু টাকার প্রতি লোভী হন এবং মক্কেল থেকে টাকা বের করার চিন্তা করেন, তাহলে তিনি ভালো আইনজীবীর কাতারে পড়বেন না। এ ধরনের ব্যবসা বন্ধ হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, সুইডেনের অ্যাম্বাসেডর নিকোলাস উইকস এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টিটিভ স্টেপেন রদরিগ প্রমুখ। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নতুন ফিচার নিয়ে কাজ করছে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ, যা নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্দেশ্যে। এই ফিচারটি চালু হলে পুরোনো অপারেটিং সিস্টেমে চলা স্মার্টফোনের ব্যবহারকারীরা অ্যাপটিতে লগইন করতে সমস্যায় পড়তে পারেন। এমনকি ফোনের অপারেটিং সিস্টেম আপডেট না করা পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপে লগইন বন্ধও থাকতে পারে।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সাইবারনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরোনো অপারেটিং সিস্টেমে চলা ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে লগইন করার চেষ্টা করলে প্রথমে সফটওয়্যার আপডেট করার নির্দেশনা দেখাবে অ্যাপটি। ব্যবহারকারীরা আপডেট সম্পন্ন করার পরই আবার লগইন করতে পারবেন। অর্থাৎ, শুধু হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ ইনস্টল করলেই হবে না, ফোনের অপারেটিং সিস্টেমও হালনাগাদ রাখতে হবে।
ফিচারটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস দুই ধরনের ফোনের জন্য তৈরি হচ্ছে। তবে আপাতত সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে এটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোন কোন অপারেটিং সিস্টেমের সংস্করণে এ বিধিনিষেধ কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট করেনি হোয়াটসঅ্যাপ।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করলে ডিভাইস ম্যালওয়্যারসহ বিভিন্ন নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়তে পারে। অপারেটিং সিস্টেম হালনাগাদ রাখলে ডিভাইস ও অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়ে। হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ ইনস্টল করা থাকলেও ফোনের অপারেটিং সিস্টেম পুরোনো হলে নিরাপত্তার ঝুঁকি থেকে যেতে পারে। এ কারণে ব্যবহারকারীদের নিয়মিত ফোনের সফটওয়্যার আপডেট করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বাড়াতে আরও কিছু ফিচার নিয়ে কাজ করছে হোয়াটসঅ্যাপ। এর মধ্যে রয়েছে ‘রেস্ট্রিক্টেড চ্যাট’। এই সুবিধার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু কথোপকথন ও ফাইলের অ্যাক্সেস আরও সীমিত রাখা যাবে।
এ ছাড়া ‘অ্যাডভান্সড চ্যাট প্রাইভেসি’ সুবিধার আওতায় চ্যাট এক্সপোর্ট বন্ধ রাখা, ছবি ও ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হওয়া নিয়ন্ত্রণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট কিছু ফিচারের ব্যবহার সীমিত করার সুযোগ রয়েছে।
নতুন এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও কথোপকথনের নিরাপত্তা বাড়াতে চায় হোয়াটসঅ্যাপ। তবে পুরোনো ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন লগইন বিধিনিষেধ কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে (৩৫) হত্যার অভিযোগে জিতেশ চন্দ্র গোপ নামে এক আসামির বিরুদ্ধে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করেছে। আদালত তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দিয়েছে। এছাড়া, মরদেহ গুমের চেষ্টার অপরাধে তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের শাস্তিও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত জিতেশ চন্দ্র গোপ কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথপুর বাজারে তার পরিবার নিয়ে বসবাস ও ব্যবসা করে আসছিলেন।
সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মল্লিক মো. মঈন উদ্দিন সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রায়ের আদেশ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এছাড়া, অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না বলেও রায়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে কারাগারের নির্ধারিত সেলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নার ভাই ও মামলার বাদী হেলাল উদ্দিন দ্রুত রায়টি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে জগন্নাথপুরের সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নাকে (৩৫) কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর গভীর রাতে ফার্মেসির ভেতর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ ৬ টুকরা করা হয়। পরে মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়। পরদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের ব্যারিস্টার মির্জা আব্দুল মতিন মার্কেটের তালাবদ্ধ অভি মেডিকেল হল থেকে শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার পর ১৮ ফেব্রুয়ারি মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে দুই দফা রিমান্ড শেষে ঘটনার মূল আসামি জিতেশ চন্দ্র গোপ তার দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। সর্বশেষ পিবিআই জিতেশ চন্দ্র গোপের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার প্রতিবেদন দাখিল করলে বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত এ রায় প্রদান করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ