মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:০০ পি.এম
অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন পেশায় যুক্ত যে কেউই, তিনি যতই প্রভাবশালী হোন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আইন শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল উল্লেখ করেন, আইন পেশা শুধুমাত্র জীবিকা নির্বাহের একটি মাধ্যম নয়, বরং এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আইনজীবী শুধুমাত্র মক্কেলের প্রতিনিধি নন, বরং তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন এবং আইনের শাসনের রক্ষক হিসেবে কাজ করেন।
তিনি আরও বলেন, একজন আইনজীবীর সাফল্য কেবল মামলায় জয়লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার সততা, পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং নৈতিক অবস্থানই প্রকৃত মর্যাদার সূচক।
আইনজীবীদের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, মক্কেলের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সত্য ও ন্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। তবে আদালতকে বিভ্রান্ত করার জন্য মিথ্যা তথ্য প্রদান কিংবা ন্যায়বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করে মক্কেলের স্বার্থ রক্ষা করা যাবে না। পেশাগত সাফল্যের জন্য কোনো অনৈতিক পন্থা গ্রহণযোগ্য নয়।
অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত আইনজীবীদের সতর্ক করে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, কেউ যদি আইন পেশাকে শর্টকাট হিসেবে ব্যবহার করে নীতি-নৈতিকতা উপেক্ষা করে দ্রুত অর্থ-সম্পদ ও প্রভাব অর্জন করতে চান, তবে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কঠোর অবস্থানে থাকবে।
তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তিনি পেশায় যতই শক্তিশালী হোন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবে।
সুপ্রিম কোর্টে কিছু আইনজীবীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দায়িত্ব পালন ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
‘এজিও-ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী ও তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিক্স এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকসসহ অন্যান্য অতিথিরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মানুষের দৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও, আল্লাহর কাছে কিছু ছোট ছোট নেক আমল অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া অথবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজগুলোও সওয়াব অর্জনের উপায় হতে পারে।
ইসলামে কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ মনে করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ মনে করো না, এমনকি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও।’ (সহিহ মুসলিম)
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, নিয়মিতভাবে করা যায় এমন সাতটি ছোট নেক আমল তুলে ধরা হলো-
১. হাসিমুখে কথা বলা
অন্যের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং আন্তরিক আচরণ করাও সদকার অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের সামনে তোমার হাসিমুখ তোমার জন্য সদকা।’ (জামে তিরমিজি: ১৯৫৬)
একটি হাসি কিংবা আন্তরিক আচরণ অন্যের মন ভালো করে দিতে পারে। এটি অর্থ ব্যয় না করেই নেকি অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করে।
২. রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো
রাস্তার ওপর পড়ে থাকা কাঁটা, পাথর বা অন্যান্য বিপজ্জনক বস্তু সরিয়ে মানুষের চলাচল নিরাপদ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ঈমানের সত্তরেরও বেশি শাখা রয়েছে। এর সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া। (সহিহ মুসলিম: ৩৫)
এ কাজটি হয়তো কেউ দেখবে না, কিংবা কেউ প্রশংসা করবে না। কিন্তু মানুষের উপকারে আসা এমন কাজ ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
৩. তৃষ্ণার্ত প্রাণীকে পানি পান করানো
প্রাণীর প্রতি দয়া দেখানোও নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, এক ব্যক্তি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়েছিলেন। আল্লাহ তার এই কাজের জন্য তাকে ক্ষমা করেন। (সহিহ বুখারি: ২৩৬৩)
এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া কখনোই তুচ্ছ কাজ নয়। তৃষ্ণার্ত প্রাণীকে সামান্য পানি পান করানোও সওয়াব অর্জনের কারণ হতে পারে।
৪. নিজের হাত ও জবান থেকে অন্যকে নিরাপদ রাখা
ইসলামে ইবাদত শুধুমাত্র নামাজ, রোজা ও নফল আমলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অন্যকে কষ্ট না দেওয়া এবং নিজের কথা ও কাজের মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকাও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম সে, যার জবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ।’ (সহিহ বুখারি: ১০)
অন্যায় কথা বলা, অপমান করা কিংবা কারও ক্ষতি করা থেকে নিজেকে বিরত রাখা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিশেষ করে আল্লাহর ভয়ে অন্যায় থেকে বিরত থাকাও নেক আমল।
৫. পিতা-মাতার ছোট ছোট প্রয়োজন পূরণ করা
পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। তাঁদের জন্য দোয়া করা, সম্মানের সঙ্গে কথা বলা, প্রয়োজনের সময় পানি এগিয়ে দেওয়া অথবা দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করার মতো ছোট কাজগুলোও নেক আমল।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ২৩)
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিতা-মাতার ছোট ছোট প্রয়োজনও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই তাঁদের সেবা ও যত্নকে সামান্য মনে না করে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা উচিত।
৬. অন্যের জন্য গোপনে দোয়া করা
অন্যের অনুপস্থিতিতে তার জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করাও ফজিলতপূর্ণ আমল। এতে প্রশংসা পাওয়ার কোনো প্রত্যাশা থাকে না; বরং অন্যের কল্যাণ কামনাই মুখ্য।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করলে নিযুক্ত ফেরেশতা বলেন, ‘তোমার জন্যও অনুরূপ।’ (সহিহ মুসলিম: ২৭৩২)
অসুস্থ ব্যক্তি, বিপদগ্রস্ত মানুষ কিংবা প্রিয়জনের জন্য নীরবে দোয়া করা যায়। এ ধরনের আমলের প্রতিদান মানুষের চোখে দৃশ্যমান না হলেও ইসলামে এর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
৭. গোপনে দান করা
দান করার ক্ষেত্রে লোকদেখানো মনোভাব থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। গোপনে দান করলে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে নিজেকে দূরে রাখা সহজ হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) কেয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়া লাভকারী সাত শ্রেণির মানুষের কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন এমন ব্যক্তি, যিনি এত গোপনে দান করেন যে তাঁর বাম হাতও জানতে পারে না তাঁর ডান হাত কী দান করেছে। (সহিহ বুখারি: ৬৬০; সহিহ মুসলিম: ১০৩১)
দান অল্প হোক বা বেশি, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তা করা একজন মুমিনের জন্য সওয়াব অর্জনের সুযোগ।
ছোট আমলও হতে পারে নাজাতের মাধ্যম
ইসলামের শিক্ষা হলো, কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়। হাসিমুখে কথা বলা, মানুষের উপকার করা, প্রাণীর প্রতি দয়া দেখানো, পিতা-মাতার সেবা কিংবা গোপনে দান ও দোয়া করার মতো কাজ নিয়মিত চর্চা করা যায়।
কোন আমল আল্লাহর কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ভর করে তার ইচ্ছা, বান্দার নিয়ত ও আমলের ওপর। তাই বড় আমলের পাশাপাশি ছোট ছোট নেক কাজও আন্তরিকতার সঙ্গে করে যাওয়া উচিত। মানুষের চোখে সামান্য মনে হওয়া কোনো ভালো কাজও আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম হতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের বড় মদক ও আশপাশের প্রায় ৬০ গ্রামের ১০ হাজারের বেশি মানুষের জন্য স্থায়ী হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। চিকিৎসা সেবা নিতে তাদের প্রায় ৭০ কিলোমিটার পাহাড়ি ও নৌপথ পারি দিতে হয়। এই পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হচ্ছে, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা বড় মদকে সরকারি হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
বড় মদক, ছোট মদক, সাঙ্গু রিজার্ভ, আন্ধারমানিক ও তিন্দু ইউনিয়নের কিছু অংশে প্রতিবছর ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও হামসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। স্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রের অভাবে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং টিকাদান কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে গুরুতর রোগীদের হাসপাতালে নিতে দেরি হওয়ায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রেমাক্রী ও তিন্দু ইউনিয়নে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শতাধিক রোগী চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পেরে নদীপথে মারা গেছেন।
রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা (রনি) বলেন, "বড় মদক ও আশপাশে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না থাকায় জরুরি চিকিৎসার অভাবে প্রতিবছর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সেখানে হাসপাতাল স্থাপন করা হলে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকার মানুষ দ্রুত চিকিৎসা পাবেন।"
স্থানীয় বাসিন্দা চসিংমং মারমা বলেন, "অস্থায়ী চিকিৎসা কার্যক্রম দিয়ে দীর্ঘদিনের সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বড় মদকে হাসপাতাল স্থাপনের পাশাপাশি চিকিৎসক, ওষুধ ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"
থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, "স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, পাড়াপ্রধান ও শিক্ষিত তরুণেরা বড় মদকে হাসপাতাল স্থাপনের আবেদন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় তথ্যচিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সঙ্গে এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বৈঠকে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন, মো. মজিবুর রহমান, নিলোফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, মো. শফিকুল ইসলাম এবং মোসা. নাজমুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবেশনের সামাজিক প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
এ সময় উল্লেখ করা হয়, বিটিভির দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভির উদ্দেশ্য কোনো বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলে রূপান্তরিত হওয়া নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। তাই বিটিভির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।
বৈঠকে আরও বলা হয়, সংবাদ পরিবেশন করার সময় সংবাদটির গুরুত্ব অনুধাবন করা উচিত। প্রাসঙ্গিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করতে হবে।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে গত ১৭ বছরে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের নাম ও পদবিসহ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সময়ে বাতিল করা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও উপস্থাপনের কথা বলা হয়। মন্ত্রণালয়ের অধীন সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বিএফডিসি পরিদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে সহযোগিতা ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশোধনী সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হয়।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং এর সম্ভাব্যতা যথাযথভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্প গ্রহণের সময় পরিকল্পনা এমনভাবে করতে হবে যাতে এর সুফল সর্বাধিক মানুষের কাছে পৌঁছায়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ জুনকো তাকাহাশির সঙ্গে বৈঠকের সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাইকার চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী। তিনি জাপানের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার জন্য জাইকাকে ধন্যবাদ জানান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান।
উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী মেট্রোরেল প্রকল্পের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, "মেট্রোরেল টঙ্গী বা জয়দেবপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা গেলে আরও বেশি মানুষ এ সেবার সুফল ভোগ করতে পারত।" হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কমিউনিটি সেবা, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, আঞ্চলিক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও হাওর অঞ্চলের উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প চলমান রয়েছে। জাইকার চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশ্বাস দেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সঙ্গে বাস্তবায়নাধীন ‘আর্বান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্ট (ইউডিসিজিপি)’ এবং সাউদার্ন চট্টগ্রাম রিজিয়নাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসসিআরডিপি)’র অগ্রগতি বৈঠকে তুলে ধরা হয়। এ সময় মন্ত্রী প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে দেশের সব উপজেলায় গৃহীতব্য ‘উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ফেজ-টু (ইউজিডিপি-টু)’-এর কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
মন্ত্রী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, "দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।" তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন। জাইকার গৃহীত ও সমাপ্ত বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
বৈঠকে মন্ত্রী দাতা সংস্থার প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। এই কমিটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে কাজ করবে।
বৈঠকে জাইকার সিনিয়র রিপ্রেজেনটেটিভ মরিকাওয়া ইয়োকো, লোকাল গভর্নেন্স উপদেষ্টা আকিরা মুনাকাতা, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়া এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ