মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:০২ পি.এম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় তথ্যচিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সঙ্গে এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বৈঠকে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন, মো. মজিবুর রহমান, নিলোফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, মো. শফিকুল ইসলাম এবং মোসা. নাজমুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবেশনের সামাজিক প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
এ সময় উল্লেখ করা হয়, বিটিভির দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভির উদ্দেশ্য কোনো বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলে রূপান্তরিত হওয়া নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। তাই বিটিভির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।
বৈঠকে আরও বলা হয়, সংবাদ পরিবেশন করার সময় সংবাদটির গুরুত্ব অনুধাবন করা উচিত। প্রাসঙ্গিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করতে হবে।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে গত ১৭ বছরে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের নাম ও পদবিসহ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সময়ে বাতিল করা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও উপস্থাপনের কথা বলা হয়। মন্ত্রণালয়ের অধীন সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বিএফডিসি পরিদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে সহযোগিতা ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশোধনী সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হয়।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং এর সম্ভাব্যতা যথাযথভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্প গ্রহণের সময় পরিকল্পনা এমনভাবে করতে হবে যাতে এর সুফল সর্বাধিক মানুষের কাছে পৌঁছায়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ জুনকো তাকাহাশির সঙ্গে বৈঠকের সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাইকার চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী। তিনি জাপানের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার জন্য জাইকাকে ধন্যবাদ জানান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান।
উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী মেট্রোরেল প্রকল্পের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, "মেট্রোরেল টঙ্গী বা জয়দেবপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা গেলে আরও বেশি মানুষ এ সেবার সুফল ভোগ করতে পারত।" হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কমিউনিটি সেবা, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, আঞ্চলিক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও হাওর অঞ্চলের উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প চলমান রয়েছে। জাইকার চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশ্বাস দেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সঙ্গে বাস্তবায়নাধীন ‘আর্বান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্ট (ইউডিসিজিপি)’ এবং সাউদার্ন চট্টগ্রাম রিজিয়নাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসসিআরডিপি)’র অগ্রগতি বৈঠকে তুলে ধরা হয়। এ সময় মন্ত্রী প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে দেশের সব উপজেলায় গৃহীতব্য ‘উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ফেজ-টু (ইউজিডিপি-টু)’-এর কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
মন্ত্রী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, "দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।" তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন। জাইকার গৃহীত ও সমাপ্ত বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
বৈঠকে মন্ত্রী দাতা সংস্থার প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। এই কমিটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে কাজ করবে।
বৈঠকে জাইকার সিনিয়র রিপ্রেজেনটেটিভ মরিকাওয়া ইয়োকো, লোকাল গভর্নেন্স উপদেষ্টা আকিরা মুনাকাতা, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়া এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সাঘাটায় প্রেমের বিয়ে পরিবারের সদস্যদের অমতে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের ফলে নবদম্পতির মৃত্যু ঘটেছে। নববধূ তানিশা বেগম সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মারা যান। পরবর্তী দিন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামী মো. আলামিনের মৃত্যু হয়।
মৃত আলামিন সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কলেজমোড় এলাকার আজাদুল ইসলামের পুত্র। তার স্ত্রী তানিশা বেগম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে আলামিন ও তানিশার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ চার বছরের সম্পর্কের পর, তারা ১২ অক্টোবর পরিবারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করেন।
তবে, আলামিন অবিবাহিত থাকলেও তানিশার পূর্বে বিয়ে হয়েছিল এবং তার একটি দুই বছর বয়সী সন্তান রয়েছে। এই কারণে দুই পরিবারের কেউই তাদের বিয়েতে সম্মতি দেয়নি। পারিবারিক অসম্মতি এবং স্বজনদের অসন্তোষের কারণে, একপর্যায়ে সোমবার বিকেলে তারা দুজন বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন।
পরে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তানিশার মৃত্যু ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলামিনকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দরুল হুদা জানান, প্রেমঘটিত কারণে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক দুটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় একটি সোনার দোকানের শোকেসে ঝুলন্ত অবস্থায় প্রায় ১৪ ফুট লম্বা অজগর পাওয়া গেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানার দোভাষী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে দোকানিরা এটি উদ্ধার করে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অজগরটি সন্ধ্যা জুয়েলার্স নামক দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই বাজারের পাশে একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রায়ই অজগরটি সেখান থেকে বাজারে চলে আসে। দোকানিরা কৌশলে অজগরটিকে নিচে নামিয়ে আনেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সন্ধ্যা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী রাজিব বণিক বলেন, ‘হঠাৎ রাতে দোকানের শোকেসে অজগর দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে সবার সহযোগিতায় এটি নিচে নামিয়ে আনা হয়। মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে অজগরটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
কাপ্তাই বন বিভাগের রেঞ্জের মামুনুর রশিদ জানান, অজগরটি প্রায় ১৪ ফুট লম্বা। সেটিকে আজ স্থানীয় রাম পাহাড়ে অবমুক্ত করা হয়েছে। বাজারের পাশে সংরক্ষিত বন থাকায় অজগরটি সেখানে থেকে চলে এসেছে। এর আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও আগের অজগরগুলো ছোট ছিল। এ বারই প্রথম ১৪ ফুট লম্বা অজগর পাওয়া গেল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কালেমার পর ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ নামাজ। পবিত্র কোরআনে নামাজ আদায়ের বিষয়ে ৮২ বার উল্লেখ করা হয়েছে। তাই প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধি-জ্ঞানসম্পন্ন নারী ও পুরুষের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ওয়াক্তমতো আদায় করা ফরজ। তবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগমন কিভাবে হলো, তা জানা প্রয়োজন।
নামাজের ব্যাপারে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, নির্ধারিত সময়ে নামাজ কায়েম করা মুমিনদের জন্য ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য। (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)
মহান আল্লাহ আরও বলেন, "আর যারা তাদের নামাজে যত্নবান, তারাই জান্নাতের ওয়ারিশ, যারা ফেরদাউসের ওয়ারিশ হবে এবং সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।" (সুরা মুমিনুন, আয়াত ৯-১১)।
নামাজের আগমনের ইতিহাস বুখারি শরিফে বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, তিনি নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শোনেন যে, ‘তিনি বলেছেন, আমি মক্কায় অবস্থানকালে আমার ঘরের ছাদ খুলে দেওয়া হলো।
এরপর জিবরাইল (আ.) এসে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। তিনি এটি জমজমের পানি দিয়ে ধুলেন। তারপর হিকমত ও ঈমানে ভর্তি একটি সোনার পাত্র নিয়ে এসে আমার বুকের মধ্যে ঢেলে দিলেন এবং বন্ধ করে দিলেন। এরপর তিনি হাত ধরে আমাকে দুনিয়ার আকাশের দিকে নিয়ে গেলেন।
প্রখ্যাত সাহাবি আনাস (রা.) বলেন, আবু জর (রা.) উল্লেখ করেন যে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমানগুলোতে আদম (আ.), ইদ্রিস (আ.), মুসা (আ.), ঈসা (আ.) ও ইব্রাহিম (আ.)-এর সাক্ষাৎ পান। তবে আবু জর (রা.) সেসব স্থান সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তিনি শুধু এটুকু বলেছেন যে, তিনি আদম (আ.)-কে দুনিয়ার আকাশে ও ইব্রাহিম (আ.)-কে ষষ্ঠ আকাশে পেয়েছিলেন।
পরে যখন দুনিয়ার আকাশে এলাম, জিবরাইল (আ.) আসমানের রক্ষককে বললেন, দরজা খোলো। আসমানের রক্ষক প্রশ্ন করলেন, আপনি কে? জিবরাইল (আ.) বললেন, আমি জিবরাইল (আ.)। (আকাশের রক্ষক) বললেন, আপনার সঙ্গে কি কেউ রয়েছেন? জিবরাইল (আ.) বললেন, হ্যাঁ, মুহাম্মদ (সা.) রয়েছেন। রক্ষক তখন বললেন, তাকে কি ডাকা হয়েছে? জিবরাইল (আ.) বললেন, হ্যাঁ।
এরপর যখন আমাদের জন্য দুনিয়ার আসমান খুলে দেওয়া হলো এবং আমরা সেখানে প্রবেশ করলাম, তখন দেখি সেখানে একজন বসে আছেন, যার ডানে এবং বায়ে অনেকগুলো মানুষের আকৃতি রয়েছে। তিনি ডানদিকে তাকালে হাসছেন, আর বাঁয়ে তাকালে কাঁদছেন। তিনি বললেন, "স্বাগত, হে সৎ নবী ও সৎ সন্তান।" আমি জিবরাইল (আ.) কে প্রশ্ন করলাম, এই ব্যক্তিটি কে? তিনি জবাব দিলেন, ইনি আদম (আ.)। তার ডানে-বাঁয়ে রয়েছে তার সন্তানদের রুহ। ডান দিকের লোকেরা জান্নাতি, বাঁ দিকের লোকেরা জাহান্নামি। তাই ডানে তাকালে তিনি হাসছেন, বাঁয়ে তাকালে কাঁদছেন।
এরপর জিবরাইল (আ.) আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আসমানে উঠলেন। এরপর রক্ষককে বললেন, দরজা খোলো। তখন এই রক্ষক প্রথম রক্ষকের মতোই প্রশ্ন করলেন। পরে দরজা খুলে দেওয়া হলো।
আনাস (রা.) বলেন, জিবরাইল (আ.) যখন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে ইদ্রিস (আ.)-এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ইদ্রিস (আ.) বলেন, "বাহ্, ও ভাই, ও পুণ্যবান নবী।" আমি (রসুলুল্লাহ) বললাম, তিনি কে? জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি হচ্ছেন ইদ্রিস (আ.)।
এরপর আমি মুসা (আ.)-এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, "বাহ্, হে সৎ নবী ও পুণ্যবান ভাই।" আমি বললাম, ইনি কে? জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি মুসা (আ.)।
অতঃপর আমি ঈসা (আ.)-কে অতিক্রম করার সময় তিনি বললেন, "বাহ্, হে সৎ নবী ও পুণ্যবান ভাই।" আমি প্রশ্ন করলাম, তিনি কে? জিবরাইল (আ.) বললেন, তিনি ঈসা (আ.)। তারপর আমি ইব্রাহিম (আ.)-কে পেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বললেন, "বাহ্, হে পুণ্যবান নবী ও পুণ্যবান সন্তান।" আমি বললাম, ইনি কে? জিবরাইল (আ.) বললেন, ইনি ইব্রাহিম (আ)।
ইবনে শিহাব বলেন, ইবনে হাজম (রহ.) আমাকে বলেছেন যে, ইবনে আব্বাস ও আবু হাব্বা আল-আনসারী উভয়েই বলতেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এরপর আমাকে আরও ওপরে নিয়ে যাওয়া হলো। এমন একটি সমতল স্থানে নেয়া হলো যেখানে আমি লেখার শব্দ শুনতে পেলাম।
ইবনে হাজম ও আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেছেন যে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এরপর আল্লাহ আমার উম্মতের ওপর ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দিলেন। আমি সেটি নিয়ে ফিরে আসি। মুসা (আ.)-কে পার হওয়ার সময় তিনি বললেন, আল্লাহ আপনার উম্মতের ওপর কী ফরজ করেছেন? আমি বললাম, ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। তিনি বললেন, আপনি আপনার পালনকর্তার কাছে ফিরে যান, আপনার উম্মত তো এতটা পালন করতে পারবে না। আমি তখন ফিরে গেলাম। আল্লাহ তাআলা কিছুটা কমিয়ে দিলেন। আমি মুসা (আ.)-কে পার হওয়ার সময় বললাম, কিছুটা অংশ (আল্লাহ) কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আপনি আবার আপনার রবের কাছে ফিরে যান। কারণ আপনার উম্মত এটুকুও আদায় করতে পারবে না। আমি ফিরে গেলাম। তখন আরও কিছু অংশ কমিয়ে দেওয়া হলো।
আবারও মুসা (আ.)-এর কাছে গেলাম। এবারও তিনি বললেন, আপনি আবার আপনার প্রতিপালকের কাছে যান। কারণ আপনার উম্মত এও আদায় করতে পারবে না। তখন আমি আবার গেলাম। তখন আল্লাহ বললেন, ‘এই পাঁচটিই (পুণ্যের হিসেবে) ৫০ (বলে গণ্য হবে)। আমার কথার কোনো রদবদল হয় না।’ আমি আবার মুসা (আ.)-এর কাছে গেলে তিনি আমাকে আবারও বললেন, আপনার প্রতিপালকের কাছে আরেকবার যান। আমি বললাম, আরেকবার আমার প্রতিপালকের কাছে যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি। তখন জিবরাইল (আ.) আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। সে সময় সেটি নানা রঙে রঞ্জিত ছিল। আমি এর তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত ছিলাম না।
মহান আল্লাহ এইভাবে মিরাজের রাতে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ৫০ ওয়াক্ত থেকে কমিয়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত করে উম্মতের জন্য উপহারস্বরূপ দান করেছেন। মানুষের জন্য প্রতি দিন এ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ বা অত্যাবশ্যক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ