০৩:৩১ পি.এম
ভারতের কেরালা রাজ্যের এরনাকুলাম জেলার নেদুম্বাসেরিতে একটি দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়ির আঘাতে স্কুটারে থাকা তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটে। রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ১৯ বছর বয়সী গাড়িচালক সুহাইল সাজিভকে আটক করেছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে চালক মন্তব্য করেছেন, "বাবা সামলে নেবে"। অভিযোগ রয়েছে, দুর্ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য তার রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
নিহত তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দেবিকা, গোপিকা ও ইজাজ অন্তর্ভুক্ত। দেবিকার বাড়ি কেরালার ওয়েনাড জেলায়, গোপিকা পালাক্কাডের বাসিন্দা এবং ইজাজের বাড়ি কর্ণাটকে। তিনজনই ত্রিক্কাকারায় কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে তারা কাছের একটি দোকানে চা পান শেষে স্কুটারে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় একটি দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়ি তাদের স্কুটারে সজোরে ধাক্কা দেয়, ফলে তিনজনই গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুহাইল দুর্ঘটনার আগে অ্যালকোহল পান করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি জানান, তিনি শুধু বিয়ার পান করেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার শরীরে অ্যালকোহল বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় পদার্থের প্রভাব ছিল কি না, তা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এরনাকুলাম গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট কে এস সুদর্শন সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার পেছনে চালকের ভূমিকা এবং গাড়ির ভেতরে কোনো নেশাজাতীয় পদার্থ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য গাড়িটির ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত মিনি কুপার গাড়িটি সুহাইলের বাবার নামে নিবন্ধিত। তবে সুহাইলের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর চালকের ওপর হামলার অভিযোগও তদন্ত করছে পুলিশ। চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য সুহাইলকে হাসপাতালে নেওয়ার পর নিহত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বন্ধু তার ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল থেকে তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে মাথায় আঘাত করা হয় বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ এসেছে।
পুলিশ সদস্যরা পরে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ, চালকের মাদক গ্রহণের বিষয়টি এবং তার ওপর হামলার ঘটনা—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন