প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আরেকটি রুদ্ধশ্বাস জয় অর্জন করে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর, কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার স্মৃতিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি ব্যক্ত করেছেন, এই জয় তিনি ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করছেন। সাংবাদিক মাতিয়াস পেলিচিওনি ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার পরা জার্সির একটি প্রতিরূপ মেসির হাতে তুলে দিলে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি মন্তব্য করেন, নিঃসন্দেহে ওপর থেকে দিয়েগো আজকের জয়টি দারুণভাবে উপভোগ করছেন। তার জন্য আজকের দিনটি বিশেষ ছিল। তাকে এই আনন্দটা দিতে পেরে তিনি ভালো লাগছেন। এটাও ম্যারাডোনার জন্য একটি উপহার বলে মনে করেন তিনি।
৪০ বছর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন। ঐ ম্যাচে তার 'হ্যান্ড অব গড' গোল এবং পরবর্তী অসাধারণ একক নৈপুণ্যের গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
আবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচ ঘিরে সেই স্মৃতিগুলি নতুন করে উন্মোচিত হয়। যদিও গোল করেননি, মেসি আর্জেন্টিনার দুই গোলেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হন। তার নেতৃত্বের জন্যই নাটকীয় লড়াই শেষে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচ শেষে জাতীয় সংগীতের সময়ের আবেগঘন পরিবেশ সম্পর্কে মেসি আলোকপাত করেন। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় সংগীতের সময় তিনি বিশেষ কিছু অনুভব করেছেন। দর্শকদের কণ্ঠ ধীরে ধীরে আরও জোরালো হয়ে উঠেছিল। আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারছিলাম, এটি শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। কখনও কখনও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়, আর সেই অনুভূতি নিয়েই আমরা ম্যাচটি খেলেছি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস (মালভিনাস) যুদ্ধের স্মৃতি এবং ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ম্যাচের ফলস্বরূপ, এই দ্বৈরথ বরাবরই বাড়তি আবেগের সৃষ্টি করে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের 'মালভিনাস আর্জেন্টিনার' লেখা ব্যানার নিয়ে উদযাপন করতে দেখা যায়।
এদিকে, এই ম্যাচের মধ্যে দিয়ে মেসি আরও কয়েকটি রেকর্ডের সামনে পৌঁছে গেছেন। আগামী রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামলে এটি হবে তার তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল, যা তাকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর রেকর্ডের সমতায় নিয়ে আসবে। পাশাপাশি, দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের সুযোগের পাশাপাশি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে তার।
এখন ফুটবল বিশ্বের নজর রোববারের ফাইনালে। ম্যারাডোনার স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন