ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কারখানা বন্ধ, তবুও চলছে খরচ; চিনিকলে ব্যয় সাড়ে ১৩ কোটি


কারখানা বন্ধ, তবুও চলছে খরচ; চিনিকলে ব্যয় সাড়ে ১৩ কোটি

২০২০ সালের ডিসেম্বরে আখ মাড়াই বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকে চিনি উৎপাদনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত রংপুর চিনিকলের আয়ের খাত বলতে এখন আর কিছুই নেই। তবে, আয় না থাকলেও খরচের পাল্লা ভারী হচ্ছে। মিলটি বন্ধ থাকা সত্ত্বেও এখানে প্রতি মাসে খরচ প্রায় ২০ লাখ টাকা হয়ে থাকে। গত ৬৭ মাসে সরকারি খাতে কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা এসে দাঁড়িয়েছে।

চিনি উৎপাদন বন্ধ থাকার পরও একটি প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা খরচের বিনিময়ে আসলে রাষ্ট্র কী পাচ্ছে— এই প্রশ্ন তুলেছেন সুশীল সমাজ এবং স্থানীয় নাগরিকরা।

কেবল বেতনের সাড়ে ১৩ কোটি টাকাই নয়, খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে ফেলে রাখা মিলের শত কোটি টাকার যানবাহন ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। অর্থনীতির ভাষায়, মিলটি বন্ধ থাকায় সরকারের দুই ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। একদিকে কর্মহীন অবস্থায় থাকা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পাহারা ও রক্ষণাবেক্ষণে অব্যাহত খরচের ধাক্কা; অন্যদিকে কাজ হারিয়ে কর্মহীন হয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মিলটির ওপর নির্ভরশীল অন্তত ২০ হাজার মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় বাজারের ওপরও সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

মিলের ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিনূল ইসলাম বলেন, 'এখানে বিশাল অবকাঠামো, যানবাহন, যন্ত্রপাতি সবই আছে। মাত্র ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেই মিলটিকে পুনরায় পুরোদমে সচল করা সম্ভব। মিলটি সচল হলে প্রায় ১ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং এলাকার অন্তত ২০ হাজার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে।'

চিনিকলের শ্রমিক নেতা আবু সুফিয়ান সুজা জানান, 'প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকা ধরে সাড়ে পাঁচ বছরে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা খরচ হওয়ার পাশাপাশি এখানে অবহেলা-অনাদরে থাকা শত শত কোটি টাকার মূল্যবান সম্পদও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।'

গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক দীপঙ্কর সাহা বাপ্পা সময় সংবাদকে বলেন, 'মিলটি বন্ধ রাখার পরও এখানে রাষ্ট্র যে পরিমাণ বিনিয়োগ করছে, তা মিলের বেকার শ্রমিক-কর্মচারীদের যেমন কোনো উপকারে আসছে না, তেমনি রাষ্ট্রেরও কোনো উপকারে আসছে না। এই চিনিকলটি দ্রুত চালু করা হোক অথবা এটিকে নতুন কোনো কৃষিভিত্তিক ভারী শিল্প-কারখানায় রূপান্তর করা হোক।'

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন বলেন, 'সমীক্ষা প্রতিবেদনে যাই আসুক না কেন, এখানকার মানুষের কর্মসংস্থানের প্রয়োজনের কারণে মিলটি চালু করা দরকার। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আশা করি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আখের বিকল্প কোনো উৎস ব্যবহার করে দ্বিতীয় ধাপে মিলটি চালুর ব্যাপারে সরকার উদ্যোগ নেবে।'

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মাসদুর রহমান মোল্লা বলেন, 'গাইবান্ধার মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য শিল্প-কারখানা প্রয়োজন। শুনেছি চিনিকলটি চালুর ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগ আছে। চিনিকলটি চালু হলে নিশ্চয়ই তা ইতিবাচক দিক বয়ে নিয়ে আসবে।'

এটি উল্লেখযোগ্য যে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন সরকার রংপুর চিনিকলসহ কয়েকটি সুগার মিল বন্ধ ঘোষণা করেছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার তিন ধাপে বন্ধ হওয়া চিনিকলগুলো পুনঃচালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও, বাস্তবে এখনো তার সুফল মেলেনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিজের মৃত্যুর নাটক সাজিয়ে চীনের এক ব্যক্তির হুলুস্থুল বিপত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৯ পি.এম


নিজের মৃত্যুর নাটক সাজিয়ে চীনের এক ব্যক্তির হুলুস্থুল বিপত্তি

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মামলার শাস্তি এড়াতে নিজের মৃত্যুর ভুয়া নাটক সাজান মধ্য চীনের এক ব্যক্তি।

পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তিনি নিজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে শত শত কিলোমিটার দূরে পালিয়ে যান।

তবে কয়েক মাসের তদন্তের পর পুলিশ তাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করেছে।

সম্প্রতি চীনের হেনান প্রদেশের আনইয়াংয়ের প্রসিকিউটররা এই ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেন। এরপর ঘটনাটি দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ‘সি’ পদবিতে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে গত বছরের জানুয়ারিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে আটক করা হয়েছিলো।

তদন্তে জানা যায়, এর আগে তিনি দুবার মদ্যপ অবস্থায় এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন।

পরে চলমান মামলায় তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। চীনের আইনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই অপরাধের কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল, সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

প্রসিকিউটরদের ভাষ্য মতে, কারাদণ্ডের আশঙ্কায় সি আত্মগোপনের পরিকল্পনা করেন। তার ধারণা ছিল, নতুন করে দোষী সাব্যস্ত হলে আগের অপরাধের রেকর্ড এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের কারণে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা তার পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে।

এই কারণে গত বছরের জুনে তিনি নিজের মৃত্যুর ভুয়া নাটক সাজান। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আগে থেকেই একটি কফিন কিনে রাখেন। এরপর বাড়ির চারপাশে খালি ওষুধের বোতল ছড়িয়ে দেন, যেন মনে হয় অতিরিক্ত ওষুধ খেয়ে তিনি মারা গেছেন।

এরপর তিনি নিঃশ্বাস আটকে সম্পূর্ণ স্থির হয়ে শুয়ে থাকেন। শরীর ঠান্ডা দেখানোর জন্য শীতল করার যন্ত্রও ব্যবহার করেন।

পরে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণে তিনি মারা গেছেন। তারা আরো বলেন, তার মুখ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় সেটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যা হওয়ার আগেই সির মা ও দাদি দ্রুত কফিনটি দাফন করেন। এদিকে সি গোপনে শত শত কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান প্রদেশে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি নতুন করে কাজ খোঁজার চেষ্টা শুরু করেন।

সির মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কিন্তু ততক্ষণে কফিন দাফন করা হয়ে গিয়েছিল।

যাহোক, কিছু বিষয় পুলিশের সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তদন্তে দেখা যায়, পরিবারের কেউ জরুরি চিকিৎসা সহায়তা চাননি। কফিন আগে থেকেই কেনা ছিল। বলার অপেক্ষা নয়,死亡 সনদ, দাহ বা দাফনের সরকারি নথি কিংবা পারিবারিক নিবন্ধন থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার কোনো রেকর্ডও পাওয়া যায়নি।

পুলিশ আরো জানতে পারে, সির মা ও দাদি ছাড়া অন্য কেউ তার মরদেহ দেখেনি। কারণ পুরো সময় তার মুখ ঢাকা ছিল। পরে পুলিশ নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য এবং মোবাইল ফোনের অবস্থান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়, সি আসলে জীবিত।

এরপর তাকে খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে ইউনান প্রদেশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরের মাসে আদালত তাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি ২০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার) জরিমানাও করা হয়।

এদিকে, ১১ জুন সির মা ও দাদির বিরুদ্ধেও একজন অপরাধীকে লুকিয়ে রাখা এবং তাকে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের।

ঘটনাটি প্রকাশের পর চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালানো কি এতই কঠিন? শাস্তি এড়াতে তিনি এত বড় নাটক করলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধরা পড়তেই হলো।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘পরিবার তাকে বাঁচাতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাও আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ মেসের বন্ধ ঘরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ মেসের বন্ধ ঘরে

বন্ধ ঘরের দরজা দৃশ্যমাণ। তীব্র দুর্গন্ধ বাইরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই দুর্গন্ধের সূত্র ধরে এগিয়ে গেলেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীর মরদেহ বেরিয়ে এলো।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন খালপাড়ের একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার মেস থেকে উচ্ছ্বাস কর্মকার নামে ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উচ্ছ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, তিনি উদ্ধার হওয়ার অন্তত দুই দিন আগেই মারা গেছেন।

মেসের অন্যান্য বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে উচ্ছ্বাসের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার রাতে ঘরটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে সবাই সন্দেহে পড়ে যান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানার একদল পুলিশ বন্ধ দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর উচ্ছ্বাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার তথ্য ছড়িয়ে পড়তেই ক্যাম্পাসের প্রক্টরিয়াল বডি, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেস প্রাঙ্গণে হাজির হন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, 'খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে।'

শুরুর দিকে পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করেছে, কিন্তু মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উৎঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।

বরিশাল বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল বলেন, 'মরদেহের সার্বিক অবস্থা দৃষ্টিগত বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে অন্তত দুই দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং তদন্তের পরেই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত করা যাবে।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় অভিযান, বাংলাদেশিসহ ১০৮ অভিবাসী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


মালয়েশিয়ায় অভিযান, বাংলাদেশিসহ ১০৮ অভিবাসী আটক

জোহর রাজ্যে মালয়েশিয়ায় পরিচালিত এক যৌথ অভিবাসনবিরোধী অভিযানে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ ৩২ বাংলাদেশিসহ ১০৮ বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে।

দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস, যিনি জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক, তিনি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেন, সোমবার (২০ জুলাই) রাত আটটার সময় জোহরের তামান শ্রী বাহাগিয়া এলাকার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এই অভিযান শুরু করা হয়।

অভিযান চলাকালীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়। নথিপত্রের মধ্যে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সি ১০৮ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আটক ব্যক্তিদের তালিকা অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি, ২২ জন মিয়ানমারের, ১৬ জন পাকিস্তানের, ১৫ জন নেপালের, ১২ জন ইন্দোনেশিয়ার এবং ৪ জন ভারতের পুরুষ নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া ৩ জন মিয়ানমারের, ২ জন ইন্দোনেশিয়ার এবং ২ জন নেপালের নারীকেও আটক করা হয়েছে।

জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেইসঙ্গে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসনাতের সভায় হাতাহাতি, এনসিপির তিন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৯ পি.এম


হাসনাতের সভায় হাতাহাতি, এনসিপির তিন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

ফেনীর সোনাগাজীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনার প্রেক্ষিতে দলটির কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটি এক দিনের ব্যবধানে তিন নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ প্রদান করেছে। সর্বশেষ জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক রাজীবকে শোকজ করা হয়েছে। এর আগে গঠিত একই ঘটনায় জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দিন সজীব ও সোনাগাজী উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আকবর হোসেনও শোকজ করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শোকজপ্রাপ্ত আকবর হোসেনকে সাময়িকভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) এনসিপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমদাদুল হক রাজীবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। নোটিশ প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে লিখিত উত্তর দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক রাজীব জানান, সভায় প্রটোকল ভেঙে একটি বক্তব্য দেওয়ার জন্য একজনের নাম ঘোষণা করায় তিনি মঞ্চে প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি হয়তো কেন্দ্রের কাছে ভালো লাগেনি, সেজন্য তাকে শোকজ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি এর জবাব দেবেন।

এছাড়া, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) একই ঘটনার জন্য জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দিন সজীব ও সোনাগাজী উপজেলা যুগ্ম সদস্যসচিব আকবর হোসেনকে শোকজ করা হয়। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আকবর হোসেনকে তাৎক্ষণিকভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। উভয় নেতাকেই তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে।

সোনাগাজী উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আকবর হোসেন বলেন, সেদিন দফায় দফায় যে ঝামেলা হয়েছে, তার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি মনে করেন, যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে কেউ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বিষয়টি কেন্দ্রকে জানাবেন।

জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজাউদ্দিন সজীব বলেন, যেহেতু তিনি সোনাগাজীর ওই কর্মসূচির মূল আয়োজক ছিলেন এবং সেখানে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, সম্ভবত শৃঙ্খলা রক্ষায় ত্রুটি থাকার কারণেই তাকে শোকজের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় সোনাগাজী পৌরসভা চত্বরে অনুষ্ঠিত এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য দেওয়ার সময় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে মঞ্চে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে অনুষ্ঠান শেষে সভাস্থল ও মঞ্চের সামনে দফায় দফায় হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। ওই ঘটনায় এনসিপির ফেনী জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জোবায়ের আল মুজাহিদও মারধরের শিকার হন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%