০৬:০৩ পি.এম
২০২০ সালের ডিসেম্বরে আখ মাড়াই বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকে চিনি উৎপাদনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জে অবস্থিত রংপুর চিনিকলের আয়ের খাত বলতে এখন আর কিছুই নেই। তবে, আয় না থাকলেও খরচের পাল্লা ভারী হচ্ছে। মিলটি বন্ধ থাকা সত্ত্বেও এখানে প্রতি মাসে খরচ প্রায় ২০ লাখ টাকা হয়ে থাকে। গত ৬৭ মাসে সরকারি খাতে কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা এসে দাঁড়িয়েছে।
চিনি উৎপাদন বন্ধ থাকার পরও একটি প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা খরচের বিনিময়ে আসলে রাষ্ট্র কী পাচ্ছে— এই প্রশ্ন তুলেছেন সুশীল সমাজ এবং স্থানীয় নাগরিকরা।
কেবল বেতনের সাড়ে ১৩ কোটি টাকাই নয়, খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে ফেলে রাখা মিলের শত কোটি টাকার যানবাহন ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। অর্থনীতির ভাষায়, মিলটি বন্ধ থাকায় সরকারের দুই ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। একদিকে কর্মহীন অবস্থায় থাকা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পাহারা ও রক্ষণাবেক্ষণে অব্যাহত খরচের ধাক্কা; অন্যদিকে কাজ হারিয়ে কর্মহীন হয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মিলটির ওপর নির্ভরশীল অন্তত ২০ হাজার মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় বাজারের ওপরও সরাসরি প্রভাব পড়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
মিলের ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিনূল ইসলাম বলেন, 'এখানে বিশাল অবকাঠামো, যানবাহন, যন্ত্রপাতি সবই আছে। মাত্র ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেই মিলটিকে পুনরায় পুরোদমে সচল করা সম্ভব। মিলটি সচল হলে প্রায় ১ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং এলাকার অন্তত ২০ হাজার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি মিলবে।'
চিনিকলের শ্রমিক নেতা আবু সুফিয়ান সুজা জানান, 'প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকা ধরে সাড়ে পাঁচ বছরে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা খরচ হওয়ার পাশাপাশি এখানে অবহেলা-অনাদরে থাকা শত শত কোটি টাকার মূল্যবান সম্পদও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।'
গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক দীপঙ্কর সাহা বাপ্পা সময় সংবাদকে বলেন, 'মিলটি বন্ধ রাখার পরও এখানে রাষ্ট্র যে পরিমাণ বিনিয়োগ করছে, তা মিলের বেকার শ্রমিক-কর্মচারীদের যেমন কোনো উপকারে আসছে না, তেমনি রাষ্ট্রেরও কোনো উপকারে আসছে না। এই চিনিকলটি দ্রুত চালু করা হোক অথবা এটিকে নতুন কোনো কৃষিভিত্তিক ভারী শিল্প-কারখানায় রূপান্তর করা হোক।'
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন বলেন, 'সমীক্ষা প্রতিবেদনে যাই আসুক না কেন, এখানকার মানুষের কর্মসংস্থানের প্রয়োজনের কারণে মিলটি চালু করা দরকার। এ ব্যাপারে আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আশা করি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আখের বিকল্প কোনো উৎস ব্যবহার করে দ্বিতীয় ধাপে মিলটি চালুর ব্যাপারে সরকার উদ্যোগ নেবে।'
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মাসদুর রহমান মোল্লা বলেন, 'গাইবান্ধার মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য শিল্প-কারখানা প্রয়োজন। শুনেছি চিনিকলটি চালুর ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগ আছে। চিনিকলটি চালু হলে নিশ্চয়ই তা ইতিবাচক দিক বয়ে নিয়ে আসবে।'
এটি উল্লেখযোগ্য যে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন সরকার রংপুর চিনিকলসহ কয়েকটি সুগার মিল বন্ধ ঘোষণা করেছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার তিন ধাপে বন্ধ হওয়া চিনিকলগুলো পুনঃচালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও, বাস্তবে এখনো তার সুফল মেলেনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন