প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় তেলের দাম কমে গেছে। এর প্রভাবে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজার পুনরায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। মার্কিন শেয়ারবাজার একটি অস্থির সপ্তাহ শেষ করেছে ইতিবাচক লেনদেনের মাধ্যমে। খবরটি এসেছে বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে।
বাজারে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে। বিশ্বের এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলে, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমে যাওয়ার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে।
নিউইয়র্কে চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠককে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের সম্পর্কের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বাজারে বিভিন্ন ধরনের বার্তা এসেছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য প্রদান করেছেন, তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি একটি পরিকল্পনার প্রস্তাব করেছেন।
এই পরিকল্পনার আওতায় সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ব্রিফিং ডটকমের বিশ্লেষক প্যাট্রিক ও’হেয়ার মন্তব্য করেন, ইরান পূর্বে যেসব শর্ত দিয়েছিল, সেগুলোর পরিবর্তন না আসায় প্রস্তাবটি নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “ইরানের এই প্রস্তাবের ইতিবাচক প্রভাব আর কতদিন থাকে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।”
এদিকে, এডওয়ার্ড জোন্সের বিশ্লেষক অ্যাঞ্জেলো কোরকাফাস জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের কিছু সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার তেলের দামও কিছুটা কমেছে।
বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতিকে কিছুটা আশাবাদী দৃষ্টিতে দেখছেন। এর ফলে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে যায়। দিনের বেশিরভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
বৃহত্তর বাজারের প্রতিফলক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৫ শতাংশ বেড়েছে। কোরকাফাস বলেন, একদিকে সুদের হার এবং জ্বালানির দামের অস্থিরতা বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী রয়েছে। এই দুই বিপরীত প্রবণতার মধ্যে বাজারে এক ধরনের টানাপোড়েন চলছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের অবকাঠামোয় হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল সরবরাহ আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
এসব কারণে সরকারি বন্ডের সুদের হার বা ইল্ড আবার বেড়েছে। অর্থাৎ সরকারকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা এখন বেশি মুনাফা দাবি করছেন।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সময়ে জাপানের সরকারি বন্ডের সুদের হারও কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
এদিকে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের মতো তারাও সুদের হার বাড়াতে পারে।
এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে, তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
শেয়ারবাজারের বিষয়ে এজে বেলের বাজার বিভাগের প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ জানান, ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত “তুলনামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠক” বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন তাদের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়ে জানুয়ারি পর্যন্ত করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন