প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তিনি এ বিষয়গুলোতে আলেমদের সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী এ নিয়ে একটি বিস্তারিত স্ট্যাটাস দেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ডাকসুতে সাদিক কায়েমের বিজয়ের পর তিনি অনেক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। তিনি সারারাত সজাগ থেকে ফলাফলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। "চাইলে যে কেউ আমার আইডিতে ঘুরে ঐ সময়ের পোস্টগুলো দেখতে পারেন।"
তিনি আরও লেখেন, "কারণ একটাই, এ বিজয়কে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তির বিজয় মনে করেছিলাম, নিজেদের বিজয় মনে করেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার; জুলাই আন্দোলনও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়েছে। তাই এখানে শিবিরের হাতে ক্ষমতা থাকা মানে দিল্লির জন্য বিশাল ভয় আর সে কারণেই খুশি হয়েছিলাম।"
তিনি বলেন, সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদরা অনেক কাজ করেছে, যা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। সিট বাণিজ্য বন্ধ করা, যোগ্যতা অনুযায়ী সিট দেওয়া, বৃষ্টির দিনে মেয়েদের জন্য ভেনগাড়ি, আলাদা বাস, গরমের দিনে সুপেয় পানির ব্যবস্থা এসব অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, "আমরা ত মুসলিম, আমরা কি শুধুমাত্র এসব কাজের জন্য কাউকে সাপোর্ট করতে পারি? নাকি দুনিয়ার সকল সুযোগ-সুবিধার চেয়েও আমাদের কাছে আল্লাহর বিধান বড়?"
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ইসলামিক স্থান নয়, সব মেয়েও পর্দা করে না। তাহলে তারা বাস্কেটবল খেললে দোষের কী? বিষয়টি শুধুমাত্র খেলার নয়, বরং শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং গেঞ্জি পরে মেয়েদের খেলার আয়োজন করে সেটাকে প্রকাশ্যে উৎসাহ ও গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা। "আরমান নামে একজন আয়োজকের জন্য হাত তালি দিতে বলা! সমস্যাটা ঠিক এই জায়গায়।"
কারণ, সাদিক কায়েমকে অনেক মেয়ে ফলো করে এবং নেতা মনে করে। তারা যখন দেখে সাদিক কায়েম শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক, আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ সহ অনেক হুজুরের সঙ্গে প্রোগ্রামে দেখা যায় এবং জামায়াতের আমিরসহ অনেক আলেমরা তাকে সাপোর্ট করেন, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই মনে করবে, "উনি যা করছেন সেটা মনে হয় সঠিক।"
রফিকুল ইসলাম লেখেন, মারজিয়া মমতাজের মতো মহিলা শাখার মহিলারা যখন টকশোতে বলেন, "মেয়েরা শর্ট প্যান্ট পরলেও সমস্যা নেই," তখন সেই সরলমনা মেয়েগুলো ইসলামকে কী ভাববে? তারা তো মনে করবে এগুলো সব জায়েজ!
তাহলে আমি যে শায়েখদের নাম নিলাম, আপনাদের বলব প্লিজ, এই বিষয়ে সুস্পষ্ট কথা বলুন। কারণ যেসব মেয়ে সাদিক কায়েমকে ফলো করে, তাদের কাছে আমাদের হুজুরদের আওয়াজও পৌঁছে না। তাই আপনারা এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা তুলে ধরুন যাতে সাদিক কায়েমসহ সকলেই সতর্ক হতে পারে!
তিনি লেখেন, বিষয়টি শুধুমাত্র উন্নয়নের নয়, উন্নয়ন কিন্তু হাসিনা ও আওয়ামী লীগও অনেক করছিল। আমরা শুধু উন্নয়ন দেখিনি, তাদের এজেন্ডার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। কারণ আমাদের কাছে আদর্শ ও আল্লাহর বিধান গুরুত্বপূর্ণ।
স্পষ্ট কথা, এপস্টিন ফাইলে জড়িত কুখ্যাত নরপিশাচ আমেরিকা ও পশ্চিমের কাছে নিজেদের প্রগতিশীল প্রমাণ করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা যদি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে গৌণ করে দেয়, তাহলে কাকতালীয়ভাবে সেই ক্ষমতা যদি এসেও যায়, সেটা ইসলামের পক্ষের হবে না, ফায়দাও হবে না।
আর তখন সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে আমাদের স্পষ্ট অবস্থানও থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন