০৪:০০ এম
আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সড়ক অবরোধ ও মিছিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা। যখনই তাদের ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তখন তারা ছুড়েছেন ককটেল ও পেট্রল বোমা। এইসব কারণে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির ২৪৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মারজুক আব্দুল্লাহ নামে এক যুবক। মামলার আসামির তালিকায় চারজন মৃত নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, মারজুক বরিশালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা। গতকাল বৃহস্পতিবার বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি এই মামলা দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে বিচারক এস এম শরীয়ত উল্লাহ অভিযোগ গ্রহণ করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার জানিয়েছেন, এই নালিশী মামলায় অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে, আসামির তালিকায় মৃত নেতাদের নাম যুক্ত করায় অভিযোগের সত্যতা ও মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মামলাটির আসামির তালিকায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, সাবেক সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র জিয়াউর রহমান বিপ্লব এবং রফিকুল ইসলাম খোকনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও সিটির ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার রেজাউর রহমান রেজা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল ফারুক হুমায়ুন, ২২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম হাফিজুর রশিদ শিবলী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী হাওলাদারের নাম রয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, ২১২ নম্বর আসামি খন্দকার রেজাউর ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেছেন। মারজুকের অভিযোগে বলা হয়েছে, রেজাউর ১০ জুন নগরীর গড়িয়ারপার এলাকায় আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল করেছেন ও সড়কে হাতবোমা নিক্ষেপ করেছেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
মামলার ১৯৮ নম্বর আসামি আবুল ফারুকের মৃত্যু হয়েছে ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। তার বিরুদ্ধেও ১০ জুনের মিছিলের অভিযোগ ওঠে। ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মারা যান ২২৫ নম্বর আসামি হাফিজুর রশিদ এবং একই বছরের ২৬ জুলাই মারা যান ১৯৫ নম্বর আসামি আলী হাওলাদার। তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে ওই মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের সম্পর্কে। বরিশাল সিটির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রাজীব হোসেন খান বলেন, ‘মারজুক নামের যে ব্যক্তি এই মামলাটি করেছেন, তাকে বরিশালের সবাই মামলা ব্যবসায়ী বলে চেনেন। এর আগেও তিনি একটি মামলা করেছিলেন। এই মামলা যে ভুয়া সেটার বড় প্রমাণ হল আসামি চারজন মৃত। তারা কি কবর থেকে উঠে এসে বাদীর ওপর ককটেল নিক্ষেপ করেছেন? যারা মারা গেছেন, তাদের জানাজায় আমি উপস্থিত ছিলাম।’ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনাগ্রহী এক নেতা বলেছেন, ‘এই চারজন বহু আগে মারা গেছেন। তারা বরিশাল সিটিতে বেশ পরিচিত ছিলেন। এই মামলা যিনি করেছেন, তিনি অশুভ উদ্দেশ্যে অনেকের থেকে চাঁদা তুলেছেন।’ এসব বিষয়ে জানতে মারজুক আব্দুল্লাহকে কল করা হয়। প্রশ্ন শুনার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করার পরও তার কাছ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। পরে শুক্রবার বিকালে কলব্যাক করে মামলার সাক্ষীদের ওপর দায় চাপালেন মারজুক। তার ভাষ্য, ‘রেজা নামে যে ব্যক্তির নাম দেয়া হয়েছে মামলার আসামি হিসেবে, সেটি সাক্ষীদের ভুলের কারণে এসেছে। অন্য তিনজনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সাক্ষীদের ভুল ইনফরমেশনের কারণে এমনটি হয়েছে।’ বরিশালের গবেষক আনিসুর রহমান খান স্বপন মন্তব্য করেছেন, মামলায় মৃতদের আসামি করা হলে তা আদালত অবমাননা ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার ঘটনা।
এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। বরিশাল আদালতের সিনিয়র আইনজীবী মেহেদী হাসান বলেছেন, তদন্তে মামলার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালত ব্যবস্থা নিতে পারে। মারজুক আব্দুল্লাহ ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলার সাবেক সমন্বয়ক। বর্তমানে তিনি জাতীয় ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচনের ঘোষণাও তিনি দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ১৪ মে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমুসহ ২৪৭ জনের নামে জুলাই মাসে মামলা করেছিলেন মারজুক। সেসময় তার বিরুদ্ধে আসামি তালিকায় নাম রাখা ও বাদ দেওয়া নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। বৈষম্যবিরোধী নেতারাই সংবাদ সম্মেলন করে তখন মারজুকের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার পদ স্থগিত করে সংগঠনটির জেলা কমিটি।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন