বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:১০ পি.এম
রাজধানীর চকবাজারের কামালবাগ এলাকায় পলিথিন কারখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে।
বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহত মো. সাইফুলের (৩২) বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানা এলাকায় অবস্থিত। তার বাবার নাম সুলতান হাওলাদার। বর্তমানে তিনি চকবাজারের কামালবাগ এলাকার একটি পলিথিন কারখানায় বসবাস করতেন।
খোকন নামে একজন ব্যক্তি সাইফুলকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার ভাষ্যমতে, সাইফुल পলিথিন কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। গত রাতে কারখানায় একটি মেশিনে কাজ করার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পর্শে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসার পূর্বেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক গণমাধ্যমকে জানান, মৃতদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা ত্যাগ করে তেহরানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেহরানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
আগামী ৪ জুলাই তেহরান ও কোমে এই জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করার কথা রয়েছে। বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে আগামী ৯ জুলাই তার দাফন সম্পন্ন হবে।
আয়াতুল্লাহ খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর সময় বয়স ছিল ৮৬ বছর।
তিনি ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবর্তিত শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন শুরু করেন। ১৯৮০ সালে তিনি অল্প সময়ের জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের সূচনার পর তিনি ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেন এবং পরে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তাকে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচন করে।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশের অন্যান্য স্থানের মতো যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলায় ২৪০টি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা। যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে এই বছর মোট এক লাখ ১৭ হাজার ১১৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষভাবে ছাত্রীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষাকে ইতিবাচক হিসেবে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। নকলমুক্ত এবং সুষ্ঠু পরিবেশে যশোর শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্দীপনা।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মোট অংশগ্রহণকারী ১ লাখ ১৭ হাজার ১১৭ জন, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।
পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, এবারের ছাত্রের সংখ্যা কিছুটা কম হলেও ছাত্রী বেড়েছে এক হাজার ৫৫৯ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ হাজার ১৮৯ জন ছাত্রী এবং ৫৬ হাজার ৯৯৮ জন ছাত্র।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবথেকে বেশি—৮১ হাজার ৯৬০ জন। এছাড়া, বিজ্ঞান বিভাগে ২২ হাজার ৭২৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ১২ হাজার ৪৯৪ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুলনা জেলা থেকে সর্বোচ্চ ২৩ হাজার ৫৪৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে এবং সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৯১৫ জন মেহেরপুর জেলা থেকে এসেছে।
এছাড়া, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহসহ অন্যান্য জেলাগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে পাঁচ বছর পর এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। একইসঙ্গে তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিও ভালো বলে জানিয়েছেন।
শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, পরীক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য বোর্ড কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি ‘র্যাপিড ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নকলমুক্ত পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হবে এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীতে চোর সন্দেহে চার যুবককে মারধর ও মাথার চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিমানচত্বর এলাকার একটি চেম্বারে ওই চার যুবককে নিয়ে মারধর করা হয়। পরে তাদের শাহ মখদুম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিমানচত্বর এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে সিগারেট ও কিছু টাকা চুরির অভিযোগে আব্দুস সামাদ ও দেবসহ চার যুবককে আটক করা হয়। পরে তাদের মহানগর যুবদলের সদস্য ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শাকিলুর রহমান রনের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে কয়েকজন যুবক তাদের মারধর করেন এবং মাথার চুল কেটে দেন। পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়। এ বিষয়ে কথা বলতে শাকিলুর রহমান রনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্যসচিব মো. বেলাল বলেন, ‘যাদের মারধর করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অনেক চুরির অভিযোগ আছে। তবে কাউকে মারধর ও চুল কেটে দেয়া ঠিক নয়। আইন আছে, তাদের পুলিশে দিতে পারত।’
শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা চারজনকে থানায় সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং বুধবার (১ জুলাই) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে মারধর করা অপরাধ। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, অপশক্তি তাদের স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালালেও, আবহমান কালের মূল মূল্যবোধ হলো সবাই মিলেমিশে থাকা।
তিনি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকার এমন এক রাষ্ট্র এবং সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে বসবাস করবে। শুধু মানুষের নিরাপত্তাই নয়, বর্তমান সরকার চায় কোনো প্রাণীও যেন মানুষের হিংস্রতার শিকার না হয়।
এদিন ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ফরম্যাট এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নিয়ে নিজের স্পষ্ট ও খোলামেলা উপলব্ধি ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে অনেক সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক এবং শিল্পী উপস্থিত ছিলেন।
তবে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রের একটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে লেখা হয়েছে—‘সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা এবং নির্বাচিত ৭৪টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন’। তিনি মনে করেন, এর পরিবর্তে আমন্ত্রণপত্রে যদি লেখা থাকত—‘সকল বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে নজরুল গবেষক, নজরুল শিল্পী ও নজরুলপ্রেমীগণ ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন’, তাহলে সেটি বরং বেশি যৌক্তিক এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো।
নিজের এই উপলব্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কিংবা ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে যদি বলা হয় ‘নজরুল গবেষক বা শিল্পীরা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থাকবেন’, তা যেমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ; ঠিক একইভাবে নজরুল বর্ষ উদযাপনে আমলা বা সরকারি কর্মকর্তাদের এভাবে যুক্ত করার কথাটিও উদ্দেশ্যের সঙ্গে বেমানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ