ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
বিএনপিকে উদ্দেশ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির

‘আপা যে পথে হেঁটেছেন, সেই পথে হাঁটলে মক্কা নয়, দিল্লি যেতে হবে’


‘আপা যে পথে হেঁটেছেন, সেই পথে হাঁটলে মক্কা নয়, দিল্লি যেতে হবে’

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপা যে পথে হেঁটেছেন, এখন আপনারাও সেই পথে হাঁটছেন। অত্যাচারীর এই পথ পালানোর পথ। এই পথে হাঁটলে মক্কায় যেতে পারবেন না, দিল্লি যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কোনো আধিপত্যবাদ বা বিদেশি খবরদারি মেনে নেবে না।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। এই সমাবেশের আয়োজন করা হয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা সাইফুল্লাহ বারী এবং জামায়াতকর্মী সালাউদ্দিন হত্যার বিচার ও সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে।

এর পূর্বে জামায়াতে ইসলামীর আমির বোনারপাড়া শিমুলতাইর এলাকায় নিহত সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

সমাবেশে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপা যাওয়ার আগে বলতেন, আমি পালাই না, অমুকের মেয়ে পালায় না। কিন্তু এখন কী হলো? পালিয়েছে।’ তিনি এও বলেন, যে পথগুলো অনুসরণ করবে, তাদেরও পালাতে হবে। তার ভাষায়, ‘এই পথের শেষ ঠিকানা দিল্লি। এ দেশের মানুষ দিল্লির খবরদারি বাংলাদেশের ওপর চায় না। কোনো আধিপত্যবাদ মানবো না।’

তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করবে না। মজবুত কদমে মাথা উঁচু করে মানুষ হিসেবে বাঁচতে চান তারা। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘লড়াই চলছে, লড়াই চলবে। ইনশাআল্লাহ হকের বিজয় হবে, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হবে।’

ফ্যাসিবাদ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যুক্ত নয়, বরং একটি ভাইরাসের মতো। যেখানে এটি প্রভাব বিস্তার করে, সেখানেই ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, ‘এক ফ্যাসিবাদীকে তাড়িয়ে বাংলাদেশের জনগণ আরেক ফ্যাসিবাদী চায় না। বাংলার জমিনে কোনো ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ওই সময় ভাই-বোনেরা রাস্তায় নেমেছিলেন, এমনকি ১০ মাসের শিশুসন্তান নিয়েও মায়েরা রাস্তায় নেমেছিলেন। জাতির প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘হয়তো আবার আমাদের রাস্তায় নামতে হবে। জাতির জন্য একবার নয়, শতবার নামব ইনশাআল্লাহ,’ বলেন জামায়াত আমির।

তিনি আরও বলেন, যারা অপরাধ করে, দখল বাণিজ্য করে, নিরীহ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা নেয় অথবা মা-বোনদের ওপর নির্যাতন চালায়, তারাই প্রকৃত কাপুরুষ। এমন অপরাধী নিজের সন্তান হলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত গত ১৫ বছর মজলুম ছিল উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, মজলুমরা আবার জালিম হতে চাইবে না। সরকার গঠনের পর জামায়াতের পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

তিনি বলেছেন, ‘আমরা কি চাই, আবার খুনের রাজত্ব কায়েম হোক? না, চাই না। তাই এখানেই ফুলস্টপ। আর সামনে খুনের দিকে পা বাড়াবেন না।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে যুবকেরা কারও চোখ রাঙানিকে ভয় পায় না।

ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় উল্লেখ করে জামায়াত আমির জানিয়েছেন, ‘ক্ষমতা কারও কোমরের নিচে চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহ যাঁদের সম্মান দিয়ে ক্ষমতায় বসান, তাঁদের আবার আছাড় মেরে টুকরো টুকরোও করে দিতে পারেন।’

গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ গণভোটে তাদের মতামত দিয়েছে এবং সরকারে থাকা ব্যক্তিরাও জনগণকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

তিনি বলেন, গণভোটের রায় না মানলে শুধু ক্ষমতা হারাতে হবে না, একসময় ‘নাই হয়ে যেতে হবে’। জনগণের রায় অগ্রাহ্য বা অপমান করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি, শান্তি ও সম্মান পায়নি এবং ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা মজলুম ছিলেন। আমরা চাই আপনারা ঠিক পথে ফিরে আসুন। জনগণের সংস্কার সাধন করুন, ফ্যাসিবাদের রাস্তা বন্ধ করুন, মানবিক এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাস্তা খুলে দিন।’

এটি করা হলে বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন জামায়াত আমির।

বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত না করার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই। যারা বঞ্চিত করবে, তাদের ‘গণদুশমন’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের বিপ্লবের উদ্দেশ্য ছিল সমাজ থেকে সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা। চাঁদাবাজি ও দখলদারির সঙ্গে জড়িত হয়ে যারা মানুষ হত্যা করছে, তাদের সমাজের ‘আবর্জনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এসব দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে প্রশাসনকে কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী না হয়ে সবার জন্য কাজ করার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান। নিহত সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন কারও দলীয় বাহিনী নয়। প্রশাসন এ দেশের সম্পদ। তাঁরা সবার হয়ে কাজ করবেন।’

সমাবেশে তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, আসামিদের নজরদারিতে রাখার পাশাপাশি মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এ সময় তিনি পলাশ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রংপুর সফরের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি রংপুরে এসে এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যাতে রংপুরবাসীকে পিছিয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

শফিকুর রহমানের দাবি, মির্জা ফখরুল বলেছেন, রংপুরবাসী জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে ভোট দেওয়ায় তারা পিছিয়ে থাকবে।

এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কাকে ভোট দেব, এটা কি বিএনপি ঠিক করে দেবে? তাহলে আরও একটা আইন পাস করেন যে, আগামীতে বিএনপি ছাড়া আর কাউকে ভোট দেওয়া যাবে না। তখন জনগণ তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে ইনশাআল্লাহ।’

দেশে সব শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তিনি এমন বাংলাদেশ দেখতে চান যেখানে শিশুরা নিরাপদ থাকবে, মেয়েরা ও মায়েরা নিরাপদ থাকবে, যুবক ও বয়স্করা নিরাপদ থাকবে।

তাঁর ভাষায়, সব ধর্মের মানুষ, সব বর্ণের মানুষ এবং সব ভাষাভাষীর মানুষকে নিরাপদে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, গাইবান্ধা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির মো. আব্দুল হক, সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম হোসাইন ও সেক্রেটারি আব্দুল গফুরসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতারা।

গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছের সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনা ক্যাডেট কলেজে ৫২ জনের সবাই এসএসসিতে পেয়েছে জিপিএ-৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


পাবনা ক্যাডেট কলেজে ৫২ জনের সবাই এসএসসিতে পেয়েছে জিপিএ-৫

পাবনা ক্যাডেট কলেজ ২০২৬ সালের পরীক্ষার ফলাফলে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে।

এ বছর এই কলেজটির ৫২ জন ক্যাডেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং সবাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই জিপিএ-৫ পেয়ে গেছে।

এতে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার দুইটি শতভাগ হয়ে গেছে।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, পাবনা ক্যাডেট কলেজের ৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একটি ক্ষেত্রেও অকৃতকার্য হয়নি। এর মধ্যে ৫০ জন গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর দুজনও জিপিএ-৫ অর্জনের ফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

পাবনা ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল মেহেদী হাসান বলেন, এই সাফল্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। নিয়মিত পাঠদান, কঠোর শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা এবং শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানের কারণে ক্যাডেটরা ভালো ফলাফল করতে সক্ষম হয়েছে।

এই অর্জন আমাদের জন্য আনন্দদায়ক ও গর্বের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, ভালো ফলাফল ছাড়াও শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

ভবিষ্যতে শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থাইল্যান্ডে প্রকাশ্যে সরকারি কর্মকর্তাকে গু/লি করে মারলেন সাবেক এমপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


থাইল্যান্ডে প্রকাশ্যে সরকারি কর্মকর্তাকে গু/লি করে মারলেন সাবেক এমপি

আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে থাইল্যান্ডে প্রকাশ্যে স্থানীয় সরকারের এক কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করেছেন দেশের সাবেক এক সংসদ সদস্য (এমপি)। এই ঘটনার পরপরই পুলিশের কাছে সাবেক এমপিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে, থানার প্রাঙ্গণে তিনি সাংবাদিকদের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।

এই হত্যাকাণ্ডটি সোমবার (১০ আগস্ট) ব্যাংককের উত্তরাঞ্চলীয় ননথাবুরি প্রদেশের একটি সরকারি ভবনের বাইরে ঘটে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ প্রহরায় সাবেক এমপি চালং রিউরাং সাংবাদিকদের সামনে আসেন। তিনি বলেন, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া নিয়েই স্থানীয় কর্মকর্তা থংচাই ইয়েনপ্রাসের্টের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

নিজের অপরাধ স্বীকার করে চালং বলেন, আমি হেঁটে তার গাড়ির কাছে যাই এবং জানালার কাঁচে টোকা দিয়ে বলেছি, আমি একটু কথা বলতে চাই। কিন্তু, তিনি কথা বলতে রাজি না হওয়ায় আমি আমার কাছে থাকা পিস্তল বের করি। সাবেক এই এমপি আরও উল্লেখ করেন, আমার গুলি করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু তার গাড়িচালক পিস্তল উঁচিয়ে আমার দিকে তাকানোর কারণে আমি বাধ্য হয়ে গুলি চালাই।

ফরা নাং ক্লাও হাসপাতালের পরিচালক সাকন সুকপ্রম জানিয়েছেন, ননথাবুরির স্থানীয় সরকার প্রশাসনের চেয়ারম্যান থংচাইকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গুলিটি সরাসরি চেয়ারম্যান থংচাইয়ের ঘাড়ে বিদ্ধ হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু ঘটেছে।

সাকন সুকপ্রম আরও বলেন, হামলায় থংচাইয়ের গাড়িচালকও ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে, তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে, আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান ওয়াতানা ইয়েচিন সাংবাদিকদের জানান, চালং নিজেকে একমাত্র হামলাকারী হিসেবে দাবি করলেও তদন্তে দেখা গেছে উভয় পক্ষের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

তিনি আরও বলেন, থংচাইয়ের গাড়ির ভেতর থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হলেও সেটি থেকে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। অন্যদিকে সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, চালং একদম কাছ থেকে একে একে গুলি চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াতানা জানান, মূল বিরোধের কারণ ছিল কয়েক মিলিয়ন বাথ। ঘটনাটি একেবারেই ব্যক্তিগত। চালংয়ের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, নিহত চেয়ারম্যান কয়েক বছর আগে তার কাছ থেকে এই টাকা ধার নিয়েছিলেন এবং চালং কয়েকবার টাকাটা ফেরত চাইলেও তা পাননি।

অন্যদিকে ননথাবুরির গভর্নর চেস্তা মসিকারাত বলেন, অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী দুজনই দীর্ঘদিনের পুরোনো বন্ধু ছিলেন। পুরো ঘটনাটি কোনো চরম ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটেছে বলে তিনি মনে করছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নজির রয়েছে থাইল্যান্ডে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১ কোটি অবৈধ ও বৈধ অস্ত্র রয়েছে; যার হিসাব দাঁড়ায় প্রতি সাতজন বাসিন্দার বিপরীতে গড়ে একটি করে আগ্নেয়াস্ত্র।

এদিকে, গত শুক্রবারও এই ননথাবুরিতেই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর তাকে লালন-পালন করা দাদা-দাদিকে নিজ ঘরে গুলি করে হত্যা করে। এরপর সে তার স্কুলে গিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে আরও ছয়জনকে হত্যা এবং সবশেষে নিজের বুকেও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে। পরপর এসব রক্তক্ষয়ী ঘটনা পুরো থাইল্যান্ডের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার চরম ভঙ্গুর পরিস্থিতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। অবশ্য, সরকারের পক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র আইনে কঠোর কড়াকড়ির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, দেশটির বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতেও এমন অনেক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বারবার ঘটে যাওয়া এসব নৃশংস ঘটনা থামানো সম্ভব হয়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁর মান্দায় এলজিইডির কার্য সহকারীকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৭ পি.এম


নওগাঁর মান্দায় এলজিইডির কার্য সহকারীকে  ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

নওগাঁর মান্দা এলজিইডির এক কার্য সহকারীকে হানিট্র্যাপে ফেলে ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ এই মামলায় এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারও করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে থাকেন মান্দা উপজেলার কুসুম্বা গ্রামের বিমল চন্দ্র দাসের ছেলে কনক কুমার (৩০), কুসুম্বা দক্ষিণপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৮) এবং বড়পই গ্রামের তছির আলীর মেয়ে তানজিমা খাতুন (৪৪)। এই মামলার অন্যান্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট সকালে কুসুম্বা মসজিদের কাছে কয়েকজন ব্যক্তি ওই কার্য সহকারীকে ডেকে নেন। চা খাওয়ার কথা বলে তাকে একটি টিনশেডের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চা ও সিগারেট খাওয়ার পর তার মাথা ঘুরতে শুরু করে। এরপর তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যান অভিযুক্তরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কক্ষে এক নারী তাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছেন এবং এক ব্যক্তি মুঠোফোনে দৃশ্য ধারণ করতে থাকেন। এতে আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জোর করে তার পোশাক খুলে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ১১ হাজার ৯০০ টাকা নিয়ে নেন। অতপর আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য তার স্বাক্ষর করা একটি চেকে ওই পরিমাণ টাকা লিখে নেওয়া হয়। আরেকটি চেকে টাকার অঙ্ক ফাঁকা রেখে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ ছাড়া চেকবইয়ের অবশিষ্ট পাতাগুলো এবং তিনটি ফাঁকা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পেও তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

পরদিন ৯ আগস্ট ওই চেকের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য অভিযুক্তরা মান্দা উপজেলার সতিহাটে অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় যান। এই সময় ভুক্তভোগী ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে হিসাবটির লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করেন। এর ফলে তারা টাকা উত্তোলন করতে না পারায় ব্যাংকে অবস্থান করছিলেন।

খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কনক কুমার ও সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় আরও দুজন পালিয়ে যায়। পুলিশ ব্যাংক থেকে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা চেকটি জব্দ করে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তানজিমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ও তাদের সহযোগীরা গত ৭ আগস্ট ফয়জুল মোল্লা নামের আরেক ব্যক্তিকেও একই কায়দায় হানিট্র্যাপে ফেলে ৬০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আজ আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হা/সিনা ও হাদি হ/ত্যা মাম/লার আসামিদের ফেরত চাইল বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১২ পি.এম


শেখ হা/সিনা ও হাদি হ/ত্যা মাম/লার আসামিদের ফেরত চাইল বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভারতের প্রতি বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা জানানো হয়।

এছাড়া শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর এই সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। এ সময় হাইকমিশনার ঢাকায় গত দুই মাসে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীকে তুলে ধরেন।

পরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় বাংলাদেশ আশা প্রকাশ করে, ভারত শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।

একই সঙ্গে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এই তথ্যগুলো জানান।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%