০৫:৫২ পি.এম
আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে থাইল্যান্ডে প্রকাশ্যে স্থানীয় সরকারের এক কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করেছেন দেশের সাবেক এক সংসদ সদস্য (এমপি)। এই ঘটনার পরপরই পুলিশের কাছে সাবেক এমপিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে, থানার প্রাঙ্গণে তিনি সাংবাদিকদের কাছে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।
এই হত্যাকাণ্ডটি সোমবার (১০ আগস্ট) ব্যাংককের উত্তরাঞ্চলীয় ননথাবুরি প্রদেশের একটি সরকারি ভবনের বাইরে ঘটে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ প্রহরায় সাবেক এমপি চালং রিউরাং সাংবাদিকদের সামনে আসেন। তিনি বলেন, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া নিয়েই স্থানীয় কর্মকর্তা থংচাই ইয়েনপ্রাসের্টের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
নিজের অপরাধ স্বীকার করে চালং বলেন, আমি হেঁটে তার গাড়ির কাছে যাই এবং জানালার কাঁচে টোকা দিয়ে বলেছি, আমি একটু কথা বলতে চাই। কিন্তু, তিনি কথা বলতে রাজি না হওয়ায় আমি আমার কাছে থাকা পিস্তল বের করি। সাবেক এই এমপি আরও উল্লেখ করেন, আমার গুলি করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু তার গাড়িচালক পিস্তল উঁচিয়ে আমার দিকে তাকানোর কারণে আমি বাধ্য হয়ে গুলি চালাই।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ফরা নাং ক্লাও হাসপাতালের পরিচালক সাকন সুকপ্রম জানিয়েছেন, ননথাবুরির স্থানীয় সরকার প্রশাসনের চেয়ারম্যান থংচাইকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গুলিটি সরাসরি চেয়ারম্যান থংচাইয়ের ঘাড়ে বিদ্ধ হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু ঘটেছে।
সাকন সুকপ্রম আরও বলেন, হামলায় থংচাইয়ের গাড়িচালকও ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে, তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে, আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান ওয়াতানা ইয়েচিন সাংবাদিকদের জানান, চালং নিজেকে একমাত্র হামলাকারী হিসেবে দাবি করলেও তদন্তে দেখা গেছে উভয় পক্ষের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
তিনি আরও বলেন, থংচাইয়ের গাড়ির ভেতর থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হলেও সেটি থেকে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। অন্যদিকে সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, চালং একদম কাছ থেকে একে একে গুলি চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াতানা জানান, মূল বিরোধের কারণ ছিল কয়েক মিলিয়ন বাথ। ঘটনাটি একেবারেই ব্যক্তিগত। চালংয়ের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, নিহত চেয়ারম্যান কয়েক বছর আগে তার কাছ থেকে এই টাকা ধার নিয়েছিলেন এবং চালং কয়েকবার টাকাটা ফেরত চাইলেও তা পাননি।
অন্যদিকে ননথাবুরির গভর্নর চেস্তা মসিকারাত বলেন, অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী দুজনই দীর্ঘদিনের পুরোনো বন্ধু ছিলেন। পুরো ঘটনাটি কোনো চরম ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটেছে বলে তিনি মনে করছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের নজির রয়েছে থাইল্যান্ডে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১ কোটি অবৈধ ও বৈধ অস্ত্র রয়েছে; যার হিসাব দাঁড়ায় প্রতি সাতজন বাসিন্দার বিপরীতে গড়ে একটি করে আগ্নেয়াস্ত্র।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এদিকে, গত শুক্রবারও এই ননথাবুরিতেই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর তাকে লালন-পালন করা দাদা-দাদিকে নিজ ঘরে গুলি করে হত্যা করে। এরপর সে তার স্কুলে গিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে আরও ছয়জনকে হত্যা এবং সবশেষে নিজের বুকেও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে। পরপর এসব রক্তক্ষয়ী ঘটনা পুরো থাইল্যান্ডের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার চরম ভঙ্গুর পরিস্থিতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। অবশ্য, সরকারের পক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র আইনে কঠোর কড়াকড়ির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, দেশটির বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতেও এমন অনেক আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বারবার ঘটে যাওয়া এসব নৃশংস ঘটনা থামানো সম্ভব হয়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন