ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘রোহিঙ্গা সংকট ১০ বছরকে ২০ বছরে পরিণত হতে দেয়া যাবে না’


‘রোহিঙ্গা সংকট ১০ বছরকে ২০ বছরে পরিণত হতে দেয়া যাবে না’

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার সংকট দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি এ সময় বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের ১০ বছরকে কোনোভাবেই ২০ বছরে পরিণত হতে দেয়া যাবে না।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর লেক শোর হোটেলে ‘রোহিঙ্গা সংকটের এক দশক: মানবিক প্রতিক্রিয়া থেকে টেকসই সমাধান’ শিরোনামে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিকাব) এবং অক্সফাম যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১০ বছর একটি সরকারের জন্য একটি নীতিগত চক্র হলেও শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা একটি শিশুর কাছে এটি তার পুরো শৈশব, একজন তরুণের কাছে হারিয়ে যাওয়া শিক্ষা এবং একটি পরিবারের কাছে ঘরছাড়া জীবনের এক দশক। আমরা কিছুতেই এই ১০ বছরকে ২০ বছরে পরিণত হতে দিতে পারি না।’

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালের ব্যাপক অনুপ্রবেশের পর বাংলাদেশ সীমান্ত ও হৃদয় উন্মুক্ত করে ১২ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করেছে।

তবে বাংলাদেশ এমন একটি সংকটের চূড়ান্ত সমাধান করতে পারেনা, যে সংকট বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি—এই বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। তাই এর টেকসই সমাধানও চূড়ান্তভাবে মিয়ানমারেই খুঁজে বের করতে হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। এটি শুধুমাত্র একটি কূটনৈতিক পথ নয়, বরং সামনে এগোনোর একমাত্র টেকসই উপায়। রোহিঙ্গারাও বারবার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তাই তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ২০১৭ সালের পর রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরে জন্ম নেয়া শিশুদেরও যাচাই প্রক্রিয়ার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

মানবিক সহায়তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান) সংকুচিত হলেও রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন কমেনি। খাদ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন, শিক্ষা ও সুরক্ষা কোনোকিছুকেই বিলাসিতা মনে করা যাবে না; এগুলো জীবন রক্ষার অপরিহার্য উপাদান।

কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের ওপর রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে স্থানীয় জনগণ জমি, সম্পদ, পরিবেশ ও জনসেবার ওপর বেড়ে গেছে চাপ সহ্য করতে হচ্ছে। তাই স্থানীয় জনগণের জন্য সহায়তাকেও মানবিক কার্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয়, জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, টেকসই কূটনীতি, নিশ্চিত অর্থায়ন ও জবাবদিহিতা প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক আলোচনায় ধরে রাখতে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করতে গিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

সেমিনারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। এ বিষয়ে ভুল তথ্য প্রচারের ব্যাপারে সকলের সতর্ক থাকতে হবে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে যাচাই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, ঢাকার চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউয়িন, আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম্ব বন্ডে প্রমুখ।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটি ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


‘২৪-এর আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, এটি ছিল যুদ্ধের রিহার্সেল’

২০২৪ সালের আন্দোলন ফাইনাল যুদ্ধ নয়, বরং যুদ্ধের রিহার্সেল (মহড়া) ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

জামায়াত আমির বলেন, ২৪-এ যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল, তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছেন। মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, মহড়া দিতে হয়। তিনি বললেন, এরা যেন ২৪-এর আন্দোলনকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে। এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের পর আমি আশা করেছিলাম, দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া ফ্যাসিবাদের ‘পঙ্কিলতা, ময়লা ও আবর্জনা’ পরিষ্কার হবে। কিন্তু ব্যাপারটি তা হয়নি; বরং আবর্জনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বরাবরই বলেন, ফ্যাসিবাদ একটি সংক্রামক ব্যাধি। এটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস যার ওপরই ভর করবে, সে ফ্যাসিবাদী। তিনি দেখতে পাচ্ছেন, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার যে পথে হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও সেই পথে হাঁটছে। এই রাস্তা পরিবর্তন করতে হবে। এটি ফ্যাসিবাদীদের রাস্তা, আয়নাঘরের রাস্তা, এই রাস্তা অসংখ্য মানুষকে বিনা বিচারে খুন করার রাস্তা। বাংলাদেশের মানুষ কাউকে ওই পথে চলতে দেবে না।

এ সময় জুলাই জাদুঘর থেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, আমি মনে করি, যারা সচেতন নাগরিক, তাদের প্রত্যেকেরই এই জাদুঘর পরিদর্শন করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতির দুঃখের ঘটনাগুলো এখানে তুলে ধরা হয়েছিল। বিশেষ একটি দেশ ও রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য এর অনেক উপাদান এখান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এখানে ১৯৪৬ বা ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে অনেক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের যাদের পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, তাদের তুলে ধরা হয়েছিল। এর অনেক কিছু এখন গায়েব করে ফেলা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের হাতে আসার সময়, অনেক নির্যাতিত মানুষের স্মৃতিচিহ্ন ও ছবিও সেখানে ছিল।

তিনি আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে। আপনারা সেই সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনের কথা জানেন, যাকে প্রায় ২০০ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এরপর তার ওপর কী না অত্যাচার করা হয়েছে। আমাদের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার নাম নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন। তার একটি স্মৃতি ছিল, সেটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে। সীমান্তে ফেলানীকে অমানবিকভাবে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই স্মৃতিটিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি ভালো লক্ষণ নয়। ক্ষমতায় যারা আসে, এসেই বলে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সবাই ইতিহাস বিকৃতির নায়ক ছিল। এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি।

বক্তব্যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও পাসপোর্টের শক্তি নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। বিশ্বের কাছে দেশের মানুষের সম্মানের একটি মানদণ্ড হচ্ছে পাসপোর্টের শক্তি। কিন্তু বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান হতাশাজনক।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনম রফিকুর রহমান মাদানীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি মুদি দোকান চালুর পরিকল্পনা মামদানির, ৩০% কম দামে পণ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


সরকারি মুদি দোকান চালুর পরিকল্পনা মামদানির, ৩০% কম দামে পণ্য

মেয়র জোহরান মামদানি সরকারি উদ্যোগে নিউইয়র্ক শহরে পাঁচটি মুদি দোকান চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

এমন পরিকল্পনায় সব দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দামে উন্নতভাবে বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ডলার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের প্রত্যেক বরো’র জন্য একটি করে মুদি দোকান চালুর লক্ষমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে ইস্ট হারলেমের একটি দোকানের জন্য প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। নিউইয়র্ক শহরের কর্তৃপক্ষ বিশেষজ্ঞ মুদি ব্যবসায়ীদের বিনা ভাড়ায় জায়গা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে তারা দোকান পরিচালনা করতে সক্ষম হন।

মামদানির প্রশাসন বলছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল খাদ্যপণ্যের বাড়তি দাম কমানো এবং যেসব এলাকায় তাজা ও পুষ্টিকর খাবারের সংস্কৃতি নেই, সেসব এলাকার মানুষের জন্য সাশ্রয়ী খাবারের ব্যবস্থা করা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিউইয়র্কের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সমস্যার শিকার হচ্ছেন।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে নিউইয়র্কের স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, যদি সরকারি সহায়তায় পরিচালিত দোকানগুলো কম দামে পণ্য বিক্রি করে, তবে ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে অনেক দোকান ইতিমধ্যে কম লাভে পরিচালিত হচ্ছে, যা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার আশঙ্কা তৈরি করছে।

এছাড়া দোকানের কর্মীদের বেতন, পণ্যে ছাড়ের অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে প্রকল্পটি কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হবে—এ সব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি দোকানে কেনাকাটার জন্য পরিচয়পত্র লাগবে—এমন দাবি ছড়ালেও নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ বিরোধিত করেছে। তারা জানিয়েছে, দোকানে কেনাকাটার জন্য কোনো পরিচয়পত্র দেখানোর বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

মামদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচটি মুদি দোকান ২০২৯ সালের মধ্যে চালুর লক্ষ্য রয়েছে। তবে সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি স্থানীয় ছোট ব্যবসার ওপর এর প্রভাব ও প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কার্যকারিতা—এই দুই বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিনিতে লোকসান, কেরুর মদে রেকর্ড মুনাফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


চিনিতে লোকসান, কেরুর মদে রেকর্ড মুনাফা

দেশের অধিকাংশ চিনিকলের মতো চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চিনি উৎপাদন ইউনিটও লোকসান গুনে চলেছে বছরের পর বছর। তবে, চমক দেখিয়েছে কেরুর ডিস্টিলারি ও অন্যান্য ইউনিট।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু অ্যালকোহল (মদ) বিক্রি থেকেই ২২৪ কোটি টাকা মুনাফা কামিয়ে নিয়েছে কোম্পানিটি। ফলে, চিনিতে বড় লোকসান হলেও আয়ে ভাটা পড়েনি কেরুর; নিট মুনাফা হয়েছে ১৬৫ কোটি টাকারও বেশি। কোম্পানিটির ইতিহাসে স্মরণকালের রেকর্ড এটি। 

এর আগে, গত অর্থবছরে ১২৯ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছিল কেরু। সেটিও তখন প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল।

সামগ্রিক মুনাফার এই চিত্রের উল্টো পিঠে রয়েছে কেরুর চিনি কারখানা। এবার চিনি উৎপাদন ইউনিটে লোকসান দেখানো হয়েছে ৬০ কোটি টাকারও বেশি। চিনিতে প্রতিবছর লোকসান হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আখচাষি ও স্থানীয়রা।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান জানান, ফরেন লিকারের উৎপাদন ও বিক্রি—দুটিই গত অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাত থেকে মুনাফা ছিল ১৮৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৩ কোটি টাকায়।

এছাড়াও জৈব সার কারখানা, বাণিজ্যিক খামার ও ফার্মাসিউটিক্যালস ইউনিট থেকেও উল্লেখযোগ্য মুনাফা এসেছে। এসব মুনাফার সঙ্গে লোকসান ও রাজস্ব খাত সমন্বয় করে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি টাকা। 

তবে, আগামীতে চিনি খাতের লোকসান আরও কমিয়ে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি কেরু কর্তৃপক্ষের।

 

 

 

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুপারম্যান চাচা বলায় শাস্তি, সত্যি প্রমাণ করতে পরদিন স্কুলে হাজির হেনরি ক্যাভিল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৫৪ পি.এম


সুপারম্যান চাচা বলায় শাস্তি, সত্যি প্রমাণ করতে পরদিন স্কুলে হাজির হেনরি ক্যাভিল!

হলিউডের তারকা হেনরি ক্যাভিলের ভাতিজা, থমাস, ছোটবেলায় স্কুলে গিয়েছিল এবং সেখানে সহপাঠীদের বলেছিল যে, তার চাচা হচ্ছে সুপারম্যান। কিন্তু এই বক্তব্যে বিশ্বাস করেনি শিক্ষক ও অন্যান্য সহপাঠীরা। বরং শিক্ষক তাকে মিথ্যা বলার জন্য শাসন করেছিলেন। পরবর্তীতে থমাসের মা যখন বিষয়টি নিশ্চিত করেন, তখন পুরো পরিস্থিতি অন্যরূপ ধারণ করে। ক্যাভিল নিজেই এই ঘটনাটি বিভিন্ন টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন।

ঘটনাটি ঘটে যখন ক্যাভিল সুপারম্যানের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নির্বাচিত হন। একবার পরিবারের সঙ্গে স্কুলে একটি আলোচনার সময় থমাস গর্ব করে জানায়, তার চাচা হচ্ছে সুপারম্যান। তবে শিক্ষকেরা থমাসের কথা বিশ্বাস করেননি, কারণ তাকে স্কুলে গল্প বানিয়ে বলার জন্য পরিচিত ছিল। এজন্য তাকে সতর্ক করা হয় যে, মিথ্যা বলবেন না এবং পূর্বোক্ত বিষয়টি তার মাকে জানানো হয়।

স্কুল থেকে ছেলের চিকিৎসক নেয়ার সময় থমাসের মা শিক্ষককে জানান যে, থমাস আসলে মিথ্যা বলছে না। তার চাচা সত্যিই হেনরি ক্যাভিল, যিনি পর্দায় সুপারম্যান হয়ে আছেন। এই সম্পর্কিত ক্যাভিলের বর্ণনা অনুযায়ী, এরপর থমাস আত্মবিশ্বাসের সাথে সবকিছু ব্যাখ্যা করে দেয় যে, সে সত্যিই শুরু থেকেই সত্য কথা বলছিল।

ঘটনাটি পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্নভাবে ভাইরাল হয়ে যায়। তবে কিছু বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে একটি ছবিকে কেন্দ্র করে। ছবিটি ক্যাভিলের ভাতিজাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ের দৃশ্য মনে হলেও, ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ছবিটি আসলে ২০১৩ সালে তোলা একটি পারিবারিক ছবি এবং এটি পরে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রচার করা হয়েছে।

একই সাথে, হেনরি ক্যাভিল ২০১৩ সালে জে লেনোর অনুষ্ঠানে এই ঘটনার কথা বলেছিলেন এবং ২০১৮ সালে ‘লাইভ উইথ কেলি অ্যান্ড রায়ান’ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আবার খোঁজখবর নিয়েছেন। এর মানে হল, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়, বরং ক্যাভিলের নিজের কণ্ঠে প্রকাশিত একটি পুরনো পারিবারিক ঘটনা, যা সময়ের সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার ভাইরাল হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%