ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারী বর্ষণ নিয়ে নতুন বার্তা দিলো আবহাওয়া অফিস


ভারী বর্ষণ নিয়ে নতুন বার্তা দিলো আবহাওয়া অফিস

আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ও সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশের কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার ও সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই সময়ে দেশের কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা নেই।

আরও পড়ুন: আগামী চার দিন আবহাওয়া থাকবে প্রধানত শুষ্ক, চট্টগ্রামে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা

রোববার সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সোমবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সারা দেশে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য স্থানে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

আরও পড়ুন: উপকূলীয় খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশালে বৃষ্টির সম্ভাবনা, তাপমাত্রা কমার আশঙ্কা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিনে বৃষ্টির প্রবণতা থাকলেও অঞ্চলভেদে এর মাত্রায় পার্থক্য থাকবে। বিশেষ করে মঙ্গলবার বরিশাল ও চট্টগ্রাম এবং বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলা রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কি না, বুঝবেন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৪ পি.এম


কলা রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কি না, বুঝবেন যেভাবে

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কলা অন্তর্ভুক্ত করেন অনেক মানুষ। পুষ্টিগুণের কারণে নিয়মিত কলা খাওয়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যে বিদ্যমান। কিন্তু বাজার থেকে কলা কেনার সময় এটি প্রাকৃতিকভাবে পেকেছে, নাকি কৃত্রিম উপায়ে পাকানো হয়েছে—এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে।

তবে কলার খোসা বা ডাঁটার রং দেখে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় যে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়েছে কি না। অনেক সময় প্রাকৃতিকভাবে পাকানো কলার রংও অসমান হতে পারে। সংরক্ষণ, পরিবহণ ও তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এ ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনো রং দেখে কলাকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়েছে বলে ধরে নেওয়া সঠিক নয়।

সাধারণত কলা পুরোপুরি পাকা অবস্থায় বাজারে আসে না। কাঁচা কলা সংগ্রহ করার পর নির্দিষ্ট পরিবেশে পাকানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর ফলে পরিবহণ ও সংরক্ষণ সহজ হয়। কলা পাকানোর প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে কিছু অনুমোদিত পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এর মধ্যে ইথাইলিন গ্যাস অন্যতম। ফল নিজেই প্রাকৃতিকভাবে ইথাইলিন তৈরি করে, যা ফল পাকতে সহায়তা করে। বাইরের ইথাইলিন ব্যবহার করলে ফলের স্বাভাবিক পাকানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করা সম্ভব। অনুমোদিত পদ্ধতিতে কলা পাকানো হলে তা নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।

তবে নিষিদ্ধ কোনো উপাদান ব্যবহার করা হলে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কৃত্রিমভাবে ফল পাকানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত উপাদান হলো ক্যালশিয়াম কার্বাইড। ভারতে ফল পাকাতে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ, কারণ এটি বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। নিষিদ্ধ হওয়ার পর এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

কলার কেনার সময় তাই শুধু রং নয়, আরও কিছু বিষয় খেয়াল করা উচিত। প্রাকৃতিকভাবে পাকা কলা সাধারণত মিষ্টি গন্ধযুক্ত হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিমভাবে পাকানো কলায় গন্ধ তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে।

আবার কলার পুরো খোসা হলুদ হলেও যদি সেটি বাইরে থেকে অস্বাভাবিকভাবে শক্ত মনে হয়, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। খুব বেশি উজ্জ্বল রঙের কলা না কেনাই ভালো। কলা বা অন্য কোনো ফলে অস্বাভাবিক রাসায়নিকের গন্ধ পাওয়া গেলে সেটিও না কেনা নিরাপদ।

বাজার থেকে কলা কেনার সময় বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাড়িতে আনার পর যদি দেখা যায় কলা অস্বাভাবিকভাবে বেশি পেকে গেছে, তাহলে সেটি না খাওয়াই ভালো।

খাওয়ার আগে কলা পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধোয়া জরুরি। তবে মনে রাখতে হবে, শুধু কলার রং, গন্ধ বা ডাঁটার চেহারা দেখে এটি রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কি না, তা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তাই ফল কেনার সময় সামগ্রিকভাবে এর চেহারা, গঠন ও গন্ধ দেখে এবং বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কেনাই সবচেয়ে সতর্ক পদ্ধতি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের দ্বারা ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত, নতুন অভিযান পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৫ পি.এম


ট্রাম্পের দ্বারা ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত, নতুন অভিযান পরিকল্পনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার রোডম্যাপ পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। দুই দেশের চলমান উত্তেজনায় নতুন করে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের দেওয়া শর্তগুলো গ্রহণ করেনি। খবরটি র‍য়টার্সের মাধ্যমে এসেছে।

দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে সাত দিনের এই রোডম্যাপ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। প্রস্তাবে উল্লেখ ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দফায় তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ও প্রাথমিক শর্তগুলো মানলে সপ্তম দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটকে থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের হিমায়িত সম্পদ ছাড় করা। পাশাপাশি লেবাননসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছিল।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এই প্রস্তাব গ্রহণ করলে ইরান ভবিষ্যতে তাদের পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ীভাবে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য।

প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হলেও কাতারভিত্তিক কূটনৈতিক মধ্যস্থতা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়নি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা পরোক্ষ বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবন ঘিরে খুলনা অঞ্চলে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৫ পি.এম


সুন্দরবন ঘিরে খুলনা অঞ্চলে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে

‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’ সামনে রেখে খুলনা অঞ্চলে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে। পর্যটকদের সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে পর্যটনবাহী নৌযান এবং ট্যুর অপারেটররাও এখন ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।

আসন্ন পর্যটন মৌসুমে সুন্দরবনে নতুন করে পর্যটকদের আগমন বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার জন্য আরও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে সাধারণত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যটনের প্রধান মৌসুম থাকে। এই সময়ে আবহাওয়া অনুকূল থাকে এবং নদী ও খাল তুলনামূলক শান্ত থাকে।

সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন। তবে পর্যটনবাহী নৌযানে করে বনে প্রবেশ করেছেন প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক।

পরিবারের সঙ্গে সুন্দরবন ভ্রমণ করা ৯ বছর বয়সী সুমাইয়া তাবাসসুম বলেন, "আমি বাঘ দেখতে খুব আগ্রহী ছিলাম, কিন্তু দেখতে পারিনি। তবে হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী দেখেছি। সুন্দরবন ভ্রমণ সত্যিই আমি খুব উপভোগ করেছি।"

পর্যটক সাহিদা আক্তার লতা বলেন, "সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর প্রতি আগ্রহ থেকেই আমি এসেছি।" তিনি আরও বলেন, "সবুজের সমারোহ, নদী ও বনের নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা ব্যস্ত নগরজীবন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।"

সাহিদা আক্তার লতা আরও জানান, "সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, হরিণ, বানর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখার ব্যাপারে বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলাম। পাশাপাশি সম্ভব হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখব বলেও আশা করেছিলাম।"

পরিবারের সঙ্গে সুন্দরবন ভ্রমণ করা আরেক পর্যটক রুবেল বলেন, "সুন্দরবন ভ্রমণ শুধু আনন্দদায়কই নয়, শিশুদের জন্য শিক্ষণীয়ও। তারা বই ও টেলিভিশনে আগে যেসব প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সম্পর্কে জেনেছে, সেগুলো সরাসরি দেখার সুযোগ পায়।"

ট্যুর অপারেটররা জানান, সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার নিয়ে মানুষ সুন্দরবনে ভ্রমণে আসেন।

দ্য ইন্টারভাল ট্যুরসের পরিচালক সৈয়দ আতিক শাহরিয়ার তাকিম বলেন, "সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে। এ বছরও পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"

সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরও উপকার করে। এর মধ্যে রয়েছেন দোকানদার, মাছ ও সবজি বিক্রেতা, রিকশা ও অটোরিকশাচালক, পরিবহনকর্মী, হোটেল ও রেস্তোরাঁর কর্মচারী, মাঝি, গাইড এবং দিনমজুর।

তবে খুলনার ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, "সুন্দরবনে পর্যটন কমে যাচ্ছে।" তিনি বলেন, "গত বছর পর্যটনবাহী নৌযানে করে মাত্র প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক বনে প্রবেশ করেছেন। ছোট নৌযানে করে করমজলে যাওয়া পর্যটকের সংখ্যাও কমেছে। সব মিলিয়ে পর্যটকের সংখ্যা প্রায় এক লাখের বেশি ছিল না।"

কচির মতে, পর্যটন কমে যাওয়ার একটি কারণ সুন্দরবনের আশপাশে অননুমোদিত রিসোর্ট গড়ে ওঠা। তিনি অভিযোগ করেন, "কিছু রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ এমন সুযোগ-সুবিধা ও বিনোদনের বিজ্ঞাপন দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করে, যেগুলো সুন্দরবনের ভেতরে পাওয়া যায় না। ফলে অনেক দর্শনার্থী বনে প্রবেশ না করে রিসোর্টেই অবস্থান করেন।"

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এর আকর্ষণ বাড়াতে ২০ বছর মেয়াদি ‘সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি করা হয়েছে। প্রচলিত অবকাঠামো উন্নয়নের পরিবর্তে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে টেকসই পর্যটন বিকাশের একটি রূপরেখা দেওয়া হয়েছে এ পরিকল্পনায়।

মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে ডেপুটি চিফ অব পার্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম বলেন, "এটি প্রণয়নে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে।" তিনি বলেন, "মাস্টার প্ল্যানটি মূলত একটি কারিগরি রূপরেখা, যেখানে সুন্দরবনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক দিককে সমন্বয় করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ত্বরান্বিত হবে।"

তিনি বলেন, "পরিকল্পনাটির লক্ষ্য সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকায় পরিবেশবান্ধব পর্যটন, ব্যবস্থাপনা ও বিপণনকে উৎসাহিত করা। এর মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদান রাখা এবং স্থানীয় মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা হবে।"

পরিকল্পনাটির লক্ষ্য আরও বেশি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো। অধ্যাপক ওয়াসিউল ইসলামের মতে, সুন্দরবনের শান্ত, নিরিবিলি পরিবেশ এবং চাঁদনি রাত বিদেশি দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

এদিকে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’ উপলক্ষে খুলনা টোয়াস রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় একটি বিশেষ রোড শোর আয়োজন করেছে।

রোড শোটি বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও শহীদ হাদিস পার্ক হয়ে শিববাড়ী মোড়ে গিয়ে শেষ হবে।

টোয়াসের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবির ইমতিয়াজ বলেন, "এ আয়োজন কেবল একটি র‌্যালি নয়, বরং খুলনা ও সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি প্রতীকী উদ্যোগ।" তিনি বলেন, "শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত খুলনা এ অঞ্চলের পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারে। এ সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সুন্দরবন।"

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলেন, সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তারা যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন অবকাঠামো, গবেষণা সুবিধা, দক্ষ জনবল, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার এবং সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তারা বলেন, পর্যটক, ট্যুর অপারেটর, গাইড, নৌযান শ্রমিক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বন বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ সুন্দরবন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা জানান, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্লাস্টিক ও বর্জ্য অপসারণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগও নিয়েছে টোয়াস।

তাদের মতে, সুন্দরবন, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক স্থাপনা, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন, লোকসংস্কৃতি এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে একীভূত করে খুলনাকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরে ক্রিকেটারদের জন্য মসজিদ নির্মাণ করছে বিসিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


মিরপুরে ক্রিকেটারদের জন্য মসজিদ নির্মাণ করছে বিসিবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশে ক্রিকেটারদের নামাজ আদায়ের সুবিধার জন্য একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

মসজিদ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মুশফিক তামিমকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর জানা গেছে, প্রস্তাবিত স্থানটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে অনুশীলন কিংবা ম্যাচ চলাকালে নামাজ আদায়ের জন্য ক্রিকেটারদের বিসিবি প্রাঙ্গণের বাইরে যেতে হয়। এ কারণে তাদের সময়, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। ক্রিকেটারদের এই সমস্যা সমাধানে বোর্ডের নিজস্ব প্রাঙ্গণে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মুশফিকুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য পরিচিত। মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনায় তাকে সম্পৃক্ত রাখা হয়েছে।

তবে, মসজিদের নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে, এর আয়তন ও ধারণক্ষমতা কত হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে বিসিবির পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

চলতি বছর বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর, তামিম ইকবাল ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এবার সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিসিবি প্রাঙ্গণে ক্রিকেটারদের জন্য একটি নিজস্ব মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা যুক্ত হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%