সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:২১ পি.এম
ক্যালিফোর্নিয়ায় টিকা না নেওয়া একজন ব্যক্তির ট্রেন ও বাসে ভ্রমণের কারণে হাম সংক্রমণের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ওই ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে অ্যামট্রাক ট্রেন ও সংযোগকারী বাসে করে অঙ্গরাজ্যের অন্তত ছয়টি কাউন্টির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ এ ঘটনায় সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা যাত্রীদের সতর্ক করে সতর্কতা জারি করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ (সিডিপিএইচ) জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি ১০ সেপ্টেম্বর শিকাগো থেকে অ্যামট্রাক ট্রেনে করে লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছান। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে বেকার্সফিল্ড, সেখান থেকে স্টকটন এবং পরবর্তীতে সংযোগকারী বাসে করে ওরোভিল যান। ১৩ সেপ্টেম্বর বাসে করে ওরোভিল থেকে স্যাক্রামেন্টো এবং পরে স্যাক্রামেন্টো থেকে এমেরিভিলে পৌঁছান।
এরপর ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর এমেরিভিল থেকে ডেনভারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এই ভ্রমণপথের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার আলামেডা, বাট, কার্ন, লস অ্যাঞ্জেলেস, স্যাক্রামেন্টো ও সান জোয়াকিন কাউন্টি জড়িত। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে এসব ট্রেন, বাস বা সংশ্লিষ্ট স্টেশনে থাকা ব্যক্তিরা হাম ভাইরাসের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারেন।
সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্য জানানোর জন্য সিডিপিএইচ স্থানীয় কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগ এবং ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা যাত্রীদের নিজেদের হামের টিকা নেওয়ার অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন।
হামের সংস্পর্শে আসার পর সাধারণত ৭ থেকে ২১ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল বা পানি পড়া এবং শরীরে র্যাশ অন্যতম। যদি কারও মধ্যে এসব উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে সরাসরি হাসপাতালে বা চিকিৎসাকেন্দ্রে না গিয়ে আগে ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৩টি কাউন্টিতে মোট ৫৯টি হাম শনাক্ত হয়েছে। এসব রোগীর ৯৪ শতাংশ টিকা নেননি, অথবা তাদের টিকা নেওয়ার অবস্থা জানা যায়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, হাম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা টিকা না নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন।
সিডিপিএইচ জানিয়েছে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ এবং শিশুদের জন্য এর ঝুঁকি বেশি। হামের বিরুদ্ধে এমএমআর টিকার দুই ডোজ পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে। যাদের টিকা নেওয়ার তথ্য নেই বা নিজেদের টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না নিশ্চিত নন, তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে টিকার অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার মামা ওবায়দুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন একসময়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের পর একটি জাতীয় গণমাধ্যমকে ফোনে ওবায়দুর রহমান জানান, মরিয়ম তার কাছে মেয়ের মতো ছিলেন। তিনি তার লেখাপড়ার খরচও বহন করতেন। এই ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন বলেও জানান।
শেষ কয়েক দিনে মরিয়মের সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন কি না কিংবা পারিবারিক কোনো বিরোধ ছিল কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুর রহমান বলেন, ওই ঘটনার পর তিনি তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি।
তবে তিনি দাবি করেন, মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে জোর করে হয়েছিল। গাজী নজরুলের কিছু কর্মকাণ্ড তিনি মেনে নিতে পারেননি বলেও জানান।
এদিকে, মরিয়মের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, এর আগে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে মরিয়ম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তবে এসব দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম। চলতি বছর তার একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।
এরপর গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেয় দলটি।
মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধারের পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে মরিয়মের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, এ বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর পেছনে কারও প্ররোচনা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বজুড়ে যখন ২০২৬ সাল চলছে, তখন আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় ২০১৯ সাল শুরু হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসব ‘এনকুতাতাশ’ উদযাপনের মাধ্যমে নতুন বছরে প্রবেশ করেছে দেশটি। ইথিওপিয়ার ক্যালেন্ডার প্রায় সাত থেকে আট বছর পিছিয়ে রয়েছে বিশ্বের প্রচলিত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায়।
এই সময়ের পিছনে রয়েছে দেশটির নিজস্ব সময়গণনা পদ্ধতি। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পরিবর্তে ইথিওপিয়া ব্যবহার করে প্রাচীন আলেকজান্দ্রীয় কালপঞ্জির ভিত্তিতে তৈরি তাদের নিজস্ব ক্যালেন্ডার। যিশু খ্রিষ্টের জন্মসাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভিন্ন হিসাবপদ্ধতির কারণে গ্রেগরিয়ান এবং ইথিওপীয় বর্ষপঞ্জির মধ্যে এই ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে।
ইথিওপীয় ক্যালেন্ডারে মোট ১৩টি মাস রয়েছে। প্রথম ১২টি মাসের প্রতিটিতে ৩০ দিন করে থাকে। আর ১৩তম মাস ‘পাগুমে’-তে পাঁচ দিন থাকে; অধিবর্ষে এই মাসে ছয় দিন থাকে।
ইথিওপিয়ার নববর্ষের নাম ‘এনকুতাতাশ’। বর্ষাকাল শেষে সেপ্টেম্বরের শুরুতে দেশটির আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসে। পাহাড়ি অঞ্চলে হলুদ রঙের ‘আদেই আবেবা’ ফুল ফুটতে শুরু করে। প্রকৃতির এই পরিবর্তনকে ঘিরে উৎসবের আমেজে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় ইথিওপিয়ার জনগণ।
নববর্ষের আগের রাতে ‘চিবো’ নামে কাঠের তৈরি মশাল জ্বালানোর একটি প্রচলন রয়েছে। বর্ষাকে বিদায় জানিয়ে নতুন ঋতুকে বরণ করে নেওয়ার প্রতীক হিসেবে এই আয়োজন করা হয়।
ইথিওপিয়ার ভিন্নধর্মী ক্যালেন্ডারের সঙ্গে দেশটির ইতিহাস ও সংস্কৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক বিস্তারের সময় আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশ বিদেশি শাসনের অধীনে গেলেও ইথিওপিয়া দীর্ঘ সময় নিজেদের স্বাধীনতা ধরে রাখে। ১৮৯৬ সালের ঐতিহাসিক আদওয়া যুদ্ধে ইতালীয় বাহিনীকে পরাজিত করে দেশটি নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে।
যদিও ১৯৩৬ থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত ইতালির দখলদারিত্বের শিকার হয়েছিল ইথিওপিয়া, পরবর্তীতে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করে দেশটি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও নিজস্ব ক্যালেন্ডারকে ধরে রাখে।
অতএব, ইথিওপিয়ার ১৩ মাসের ক্যালেন্ডার কেবল সময় গণনার একটি ভিন্ন পদ্ধতি নয়; এটি দেশটির প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ নিয়ে এসেছে সিমন্স ইউনিভার্সিটি, যা বোস্টনে অবস্থিত। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ‘কোটজেন স্কলারশিপ’ প্রদান করছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চার বছরের পুরো পড়াশোনা ও থাকার খরচ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন করতে পারবেন।
সিমন্স ইউনিভার্সিটির ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, কোটজেন স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা চার বছরের স্নাতকের সম্পূর্ণ টিউশন ফি ও আবাসন (রুম-অ্যান্ড-বোর্ড) সুবিধা পাবেন। এর পাশাপাশি, একাডেমিক গবেষণা, বিদেশে শিক্ষাভ্রমণ, ইন্টার্নশিপ বা বিশেষ কোনো স্বল্পমেয়াদি কোর্সের ব্যয় বহনে অতিরিক্ত ৩ হাজার ডলারের (তিন হাজার মার্কিন ডলার) বিশেষ অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
এটি একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ। কেবল অসাধারণ একাডেমিক রেকর্ড, শক্তিশালী নেতৃত্বের গুণাবলি, সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা থাকা শিক্ষার্থীরাই এতে অগ্রাধিকার পান। নির্বাচিত স্কলারদের স্নাতকে প্রতি সেমিস্টারে নির্দিষ্ট জিপিএ ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের মূল ভর্তি আবেদনের পাশাপাশি এই স্কলারশিপের জন্য পৃথকভাবে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।
বর্তমানে সিমন্স ইউনিভার্সিটিতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একজন পূর্ণকালীন আবাসিক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর বার্ষিক মোট ব্যয় প্রায় ৭৪ হাজার ৮৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ধরনের ‘প্রয়োজনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা’ (নিড-বেসড এইড) প্রদান করে না। ফলে কোটজেন স্কলারশিপের বাইরে অন্যান্য সাধারণ মেধাভিত্তিক স্কলারশিপের পরিমাণ বছরে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার থেকে ৩৩ হাজার ডলার পর্যন্ত হলেও তা মোট খরচের একটি অংশ মাত্র মেটাতে পারে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কোটজেন স্কলারশিপ যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার একটি বড় পথ তৈরি করেছে। তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগে টিউশন ও আবাসন ব্যতীত অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ এবং ২০২৬-২৭ আবেদন চক্রের হালনাগাদ সময়সীমা সিমন্স ইউনিভার্সিটির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বগুড়া শহরের গোদারপাড়া এলাকায় একটি ময়লার ভাগাড়ে পড়ে থাকা একটি বস্তা থেকে স্থানীয়রা ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোট কুড়িয়ে নিয়েছেন। পরে দেখা যায়, এসব নোটের পেছনে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে ‘অনলি ফর শুটিং’। পুলিশ জানিয়েছে, এগুলো শুটিংয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা নোট।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে নওগাঁ-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু নোট ও একটি বান্ডিল আলামত হিসেবে জব্দ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সকালে ময়লার ভাগাড়ে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখে কয়েকজন সেখানে যান। বস্তার ভেতরে টাকার বান্ডিল দেখে তারা প্রথমে এগুলো আসল টাকা বলে মনে করেন। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে আরও অনেকে সেখানে জড়ো হয়ে বস্তা থেকে নোট কুড়িয়ে নেন।
বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, বস্তার ভেতরে বিপুল পরিমাণ নোট ছিল। পরে নোটগুলোর পেছনে ‘অনলি ফর শুটিং’ লেখা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা বুঝতে পারেন যে এগুলো আসল টাকা নয়।
আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, বস্তাটিতে বিপুল পরিমাণ নোট ছিল। স্থানীয়দের কেউ কেউ এর পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন। তবে পুলিশ এত বিপুল পরিমাণ নোট থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
মোহাম্মদ বিপুল নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, বস্তা থেকে নোট পাওয়ার পর অনেকেই এগুলো আসল টাকা মনে করে নিয়ে যান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা সমস্যায় না পড়তে হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার ছেঁড়া নোট পড়ে থাকতে দেখে। সেখান থেকে একটি বান্ডিলসহ কয়েকটি নোট আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি জানান, নোটগুলো পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এর পেছনে ‘অনলি ফর শুটিং’ লেখা রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) সদস্যদের ধারণ করা ভিডিওতেও একই লেখা দেখা গেছে।
নোটের পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, এর সঠিক হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়দের অনেকে নোট নিয়ে চলে যান। এ ছাড়া পড়ে থাকা নোটগুলোর বেশির ভাগই ছেঁড়া ছিল।
এসব নোট কে বা কারা সেখানে ফেলে গেছে এবং এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য বা চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওসি। জড়িত কাউকে শনাক্ত করা গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের হাতে চলে যাওয়া নোট বাজারে ব্যবহারের বিষয়ে ওসি বলেন, নোটগুলোর পেছনে ‘অনলি ফর শুটিং’ লেখা থাকায় সাধারণ মানুষ সচেতন থাকলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা কম। তারপরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে, শুটিংয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি বিপুল পরিমাণ এসব নোট কীভাবে গোদারপাড়ার ময়লার ভাগাড়ে এলো, কে বা কারা সেগুলো সেখানে ফেলে গেছে এবং এর কতটা স্থানীয়দের হাতে চলে গেছে—এসব বিষয়ে এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ