প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিশ্বজুড়ে যখন ২০২৬ সাল চলছে, তখন আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় ২০১৯ সাল শুরু হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসব ‘এনকুতাতাশ’ উদযাপনের মাধ্যমে নতুন বছরে প্রবেশ করেছে দেশটি। ইথিওপিয়ার ক্যালেন্ডার প্রায় সাত থেকে আট বছর পিছিয়ে রয়েছে বিশ্বের প্রচলিত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায়।
এই সময়ের পিছনে রয়েছে দেশটির নিজস্ব সময়গণনা পদ্ধতি। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পরিবর্তে ইথিওপিয়া ব্যবহার করে প্রাচীন আলেকজান্দ্রীয় কালপঞ্জির ভিত্তিতে তৈরি তাদের নিজস্ব ক্যালেন্ডার। যিশু খ্রিষ্টের জন্মসাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভিন্ন হিসাবপদ্ধতির কারণে গ্রেগরিয়ান এবং ইথিওপীয় বর্ষপঞ্জির মধ্যে এই ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে।
ইথিওপীয় ক্যালেন্ডারে মোট ১৩টি মাস রয়েছে। প্রথম ১২টি মাসের প্রতিটিতে ৩০ দিন করে থাকে। আর ১৩তম মাস ‘পাগুমে’-তে পাঁচ দিন থাকে; অধিবর্ষে এই মাসে ছয় দিন থাকে।
ইথিওপিয়ার নববর্ষের নাম ‘এনকুতাতাশ’। বর্ষাকাল শেষে সেপ্টেম্বরের শুরুতে দেশটির আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসে। পাহাড়ি অঞ্চলে হলুদ রঙের ‘আদেই আবেবা’ ফুল ফুটতে শুরু করে। প্রকৃতির এই পরিবর্তনকে ঘিরে উৎসবের আমেজে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় ইথিওপিয়ার জনগণ।
নববর্ষের আগের রাতে ‘চিবো’ নামে কাঠের তৈরি মশাল জ্বালানোর একটি প্রচলন রয়েছে। বর্ষাকে বিদায় জানিয়ে নতুন ঋতুকে বরণ করে নেওয়ার প্রতীক হিসেবে এই আয়োজন করা হয়।
ইথিওপিয়ার ভিন্নধর্মী ক্যালেন্ডারের সঙ্গে দেশটির ইতিহাস ও সংস্কৃতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক বিস্তারের সময় আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশ বিদেশি শাসনের অধীনে গেলেও ইথিওপিয়া দীর্ঘ সময় নিজেদের স্বাধীনতা ধরে রাখে। ১৮৯৬ সালের ঐতিহাসিক আদওয়া যুদ্ধে ইতালীয় বাহিনীকে পরাজিত করে দেশটি নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে।
যদিও ১৯৩৬ থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত ইতালির দখলদারিত্বের শিকার হয়েছিল ইথিওপিয়া, পরবর্তীতে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করে দেশটি। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও নিজস্ব ক্যালেন্ডারকে ধরে রাখে।
অতএব, ইথিওপিয়ার ১৩ মাসের ক্যালেন্ডার কেবল সময় গণনার একটি ভিন্ন পদ্ধতি নয়; এটি দেশটির প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন