বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:১৮ পি.এম
ত্বকের গভীর যত্নের জন্য ভারী মেকআপের পর বেসন হতে পারে একটি কার্যকরী সমাধান। এটি একটি প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে পরিচিত, যা ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার করে এবং মৃত কোষগুলোকে দূর করে।
সপ্তাহে অন্তত একবার বেসনের ফেসপ্যাক ব্যবহার করা ত্বকের জন্য উপকারী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বেসনে থাকা প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ত্বকের জন্য বিভিন্নভাবে উপকারে আসে। আসুন, বেসনের কিছু গুণ সম্পর্কে জানি।
১। মৃত কোষ দূর করে: বেসন প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে, যা ত্বকের ওপর জমে থাকা মৃত কোষগুলোকে তুলে ফেলে।
২। তেলতেলে ভাব ও ব্রণ কমায়: এটি অতিরিক্ত সিবাম বা তেল শোষণ করে এবং এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৩। উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও ট্যান দূর করে: বেসন রোদে পোড়া দাগ (ট্যান) এবং কালচে ছোপ দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় করে তোলে।
৪। অবাঞ্ছিত লোম কমায়: নিয়মিত ব্যবহারে মুখের রোমকূপের গোড়া নরম হয়ে অবাঞ্ছিত লোম কমাতে সাহায্য করে।
জনপ্রিয় কয়েকটি বেসনের ফেসপ্যাক
১। বেসন ও দইয়ের প্যাক (উজ্জ্বলতার জন্য):
• উপকরণ: ২ টেবিল চামচ বেসন, ১ টেবিল চামচ টক দই এবং এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো।
• ব্যবহার: উপকরণগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে লাগান। ১৫-২০ মিনিট রেখে শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
২। বেসন ও দুধের প্যাক (নরম ও ময়েশ্চারাইজড ত্বকের জন্য):
• উপকরণ: পরিমাণমতো বেসন, মধু ও সামান্য কাঁচা বা জ্বাল দেয়া দুধ।
• ব্যবহার: পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করা যায়।
৩। বেসন ও টমেটোর প্যাক (রোদে পোড়া দাগ বা ট্যান তাড়াতে):
• উপকরণ: ২ টেবিল চামচ বেসন এবং ২ টেবিল চামচ টমেটোর রস।
• ব্যবহার: একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান, শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।
ব্যবহারের কিছু জরুরি টিপস
১। শুষ্ক ত্বক হলে বেসনের সাথে সামান্য মধু বা দুধ মিশিয়ে ব্যবহার করুন। কারণ বেসন ত্বক থেকে তেল শুষে নেয়।
২। সংবেদনশীল বা অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকে প্রতিদিন বেসনের ফেসপ্যাক ব্যবহার না করাই ভালো।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে দেশটির বিশেষ দূত লানা নুসেইবেহ। তিনি তার প্রার্থিতার ঘোষণা করেছেন, যা আমিরাত সরকারের দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হওয়ার পর এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রার্থিতা ঘোষণার পর লানা নুসেইবেহ এক বিবৃতিতে জানান, পেশাগত জীবনের একটি বড় সময় তিনি জাতিসংঘের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজের মধ্যে কাটিয়েছেন। তার মতে, সংকল্পবদ্ধ কূটনীতি কীভাবে অর্জন করতে পারে, তা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তার মূল্য কতটা চড়া হতে পারে, সেটিও তার অভিজ্ঞতা থেকে জানা। নুসেইবেহ বলেন, "প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব কাজের মধ্যে ব্যবধান বাড়তে থাকলে মানুষের আস্থা নষ্ট হয় এবং কাজ করার সক্ষমতাও কমে যায়।"
আনাদোলুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রার্থিতার বিষয়ে মনোযোগ দিতে বর্তমানে আমিরাত সরকারের দায়িত্ব থেকে ছুটিতে রয়েছেন নুসেইবেহ।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদের কার্যকাল আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। তার উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চললেও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
গত ১৬ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে ষষ্ঠ দফার ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো একক প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
লানা নুসেইবেহের প্রার্থিতার ফলে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলতি মাসের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন সংঘাত শুরু না করার পক্ষে মতামত দেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বেনামী সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
এই বিষয়ে অবগত তিনজন ব্যক্তি একটি ব্রিটিশ সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন যে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ১০ অক্টোবরের দিকে ইরানি পারমাণবিক স্থাপনা, শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন কেন্দ্র এবং জ্বালানি কেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত ছিল।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানায়, ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন সংঘাত শুরু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। ইসরাইলেও নির্বাচন আসন্ন, যেখানে আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য নেসেট নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি ইসরাইলকে হামলা চালানোর জন্য ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেন, তবে সেই হামলাগুলো ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চালানো হামলার তুলনায় আরও তীব্র হতে পারত।
তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলায় অংশ নিত কি না, নাকি ইসরাইল একাই তা পরিচালনা করত, সে বিষয়টি অস্পষ্ট।
যদিও একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নির্বাচনের পর আগামী সপ্তাহগুলোতে এ ধরনের হামলা পুনরায় শুরু হওয়া ‘অযৌক্তিক কোনো পরিস্থিতি নয়’।
একটি সূত্র জানায়, ইসরাইল লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি নতুন তালিকা প্রস্তুত করেছে, যার মধ্যে এমন সব বেসামরিক অবকাঠামোও রয়েছে, যেগুলোতে আগে কখনো হামলা চালানো হয়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নেতানিয়াহুর ওপর হামলার জন্য চাপ দেওয়ার খবর সামনে আসা এটিই প্রথম নয়।
তবে এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে, ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেছেন যে, আগামী সপ্তাহের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ইসরাইল যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ক্রিকেটের ইতিহাসে খেলার ধরন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে, নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটেছে, এবং ব্যাটিংয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। টেস্টের ধৈর্যশীল ব্যাটিং থেকে ওয়ানডের আগ্রাসী মেজাজ, কিংবা টি-টোয়েন্টির ঝোড়ো ব্যাটিং—এই তিন ফরম্যাটেই অসংখ্য কিংবদন্তি নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
তবে ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ব্যাটার কারা, সেই আলোচনা আজও সমান জনপ্রিয়। সেরা ব্যাটারের সংজ্ঞা একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে।
ক্যারিয়ারের রান, ব্যাটিং গড়, সেঞ্চুরি, ধারাবাহিকতা, প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য এবং ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য বিবেচনায় সর্বকালের সেরা ১০ ব্যাটারের একটি তালিকা তৈরি করা সম্ভব। যদিও এই তালিকা নিয়ে মতভেদ থাকতে পারে, তবুও ক্রিকেট ইতিহাসে কয়েকজন ব্যাটারের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিতর্ক তুলনামূলকভাবে কম। চলুন ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ১০ ব্যাটার সম্পর্কে জানি।
১. ডন ব্র্যাডম্যান (অস্ট্রেলিয়া)
ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্যাটারদের আলোচনায় সবার আগে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের নাম আসে। টেস্ট ক্রিকেটে ৯৯.৯৪ গড় তার অসাধারণ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হয়ে রয়েছে। মাত্র ৫২ টেস্টে ৬ হাজার ৯৯৬ রান এবং ২৯টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। টেস্টে তার এই অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান তাকে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে অনন্য ব্যাটারদের একজন করে রেখেছে।
২. শচীন টেন্ডুলকার (ভারত)
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে শচীন টেন্ডুলকারের তুলনা পাওয়া কঠিন। টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে ৩৪ হাজার ৩৫৭ রান এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি সেঞ্চুরি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন। টেস্টে ১৫ হাজার ৯২১ এবং ওয়ানডেতে ১৮ হাজার ৪২৬ রান করে তিনি দুই ফরম্যাটেই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছিলেন এই কিংবদন্তি।
৩. স্যার ভিভ রিচার্ডস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সংজ্ঞা বদলে দেওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে ভিভ রিচার্ডস অন্যতম। তার সময়ের বোলারদের ওপর দাপট দেখানোর পাশাপাশি টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই ফরম্যাটেই অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। টেস্টে ৮ হাজার ৫৪০ এবং ওয়ানডেতে ৬ হাজার ৭২১ রান করেন রিচার্ডস। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আগ্রাসী ব্যাটিংয়েও তার খেলার ধরন মানানসই হতো বলে মনে করেন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক।
৪. ব্রায়ান লারা (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
নান্দনিক ব্যাটিং, বড় ইনিংস খেলার ক্ষমতা এবং রেকর্ড গড়ার দক্ষতায় ব্রায়ান লারা ছিলেন অনন্য। টেস্ট ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ অপরাজিত ৪০০ রান, যা এখনো পুরুষদের টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। টেস্টে ১১ হাজার ৯৫৩ এবং ওয়ানডেতে ১০ হাজার ৪০৫ রান করেছেন তিনি। প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণকে একাই চাপে ফেলার ক্ষমতা তাকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে জায়গা দিয়েছে।
৫. কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলংকা)
শ্রীলংকার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার কুমার সাঙ্গাকারা। নিখুঁত টেকনিক, ধারাবাহিকতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করার দক্ষতায় তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন। টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই ফরম্যাটেই তার পারফরম্যান্স ছিল ঈর্ষণীয়। উইকেটকিপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি, যা তার ক্রিকেটীয় দক্ষতাকে আরও বিস্তৃত করেছে। টেস্ট ক্রিকেটে তার মোট রান ১২ হাজার ৪০০, ওয়ানডেতে ১৪ হাজার ২৩৪ এবং টি-টোয়েন্টিতে ১ হাজার ৩৮২।
৬. রিকি পন্টিং (অস্ট্রেলিয়া)
অস্ট্রেলিয়ার সোনালি যুগের অন্যতম প্রধান ব্যাটার রিকি পন্টিং। টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বড় ম্যাচে রান করার জন্যও পরিচিত ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৭ হাজারের বেশি রান করেছেন পন্টিং। অধিনায়ক হিসেবেও বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা তার ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
৭. জ্যাক ক্যালিস (দক্ষিণ আফ্রিকা)
জ্যাক ক্যালিস মূলত অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও ব্যাটার হিসেবেও তিনি সর্বকালের সেরাদের একজন। টেস্টে ১৩ হাজার ২৮৯ এবং ওয়ানডেতে ১১ হাজার ৫৭৯ রান করেছেন তিনি। দুই ফরম্যাটেই তার ব্যাটিং গড় ছিল ৫০-এর ওপরে। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে রান করার সামর্থ্য তাকে এই তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।
৮. বিরাট কোহলি (ভারত)
আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলি। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে রান তাড়া করার দক্ষতা, চাপের মধ্যে ব্যাটিং এবং ধারাবাহিক সেঞ্চুরি করার ক্ষমতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। শচীন টেন্ডুলকারের ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ডও ভেঙেছেন তিনি। তিন ফরম্যাটেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন এই ভারতীয় তারকা।
৯. সুনীল গাভাস্কার (ভারত)
টেস্ট ক্রিকেটে দুর্দান্ত ওপেনিং ব্যাটিংয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন সুনীল গাভাস্কার। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে তার সাফল্য ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। টেস্টে ১০ হাজারের বেশি রান করা প্রথম ব্যাটার ছিলেন তিনি। কঠিন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকার ক্ষমতা তাকে কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছে।
১০. এবি ডি ভিলিয়ার্স (দক্ষিণ আফ্রিকা)
ব্যাটিংয়ের বহুমুখিতা ও উদ্ভাবনী শট খেলার জন্য এবি ডি ভিলিয়ার্স ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটেই নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। মাঠের চারদিকে শট খেলার ক্ষমতা এবং অল্প সময়ে ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার সামর্থ্য তাকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটারে পরিণত করেছে। তিন ফরম্যাটের সকল আন্তর্জাতিক ম্যাচ মিলিয়ে তার মোট রান ২০ হাজারের বেশি।
সেরা কে—ব্র্যাডম্যান, শচীন নাকি কোহলি?
সর্বকালের সেরা ব্যাটার নির্ধারণ করতে গেলে ভিন্ন যুগের ক্রিকেটারদের তুলনা করা কঠিন। ব্র্যাডম্যানের টেস্ট গড় অবিশ্বাস্য, শচীন টেন্ডুলকারের আন্তর্জাতিক রান ও সেঞ্চুরির রেকর্ড অনন্য, আর বিরাট কোহলি আধুনিক সাদা বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতার অসাধারণ উদাহরণ।
অন্যদিকে, ভিভ রিচার্ডসের আগ্রাসন, ব্রায়ান লারার বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য এবং রিকি পন্টিংয়ের বড় ম্যাচে পারফরম্যান্সও তাদের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি জোরালো করে।
টেস্ট ক্রিকেটে আধিপত্যের বিচারে ডন ব্র্যাডম্যান এবং তিন ফরম্যাটে দীর্ঘমেয়াদি অর্জন ও ধারাবাহিকতার বিচারে শচীন টেন্ডুলকারের নাম সবার আগে আসে। তবে ক্রিকেটের সেরা ব্যাটার বেছে নেওয়া শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে ব্যক্তিগত পছন্দ, পরিসংখ্যান এবং কোন যুগের ক্রিকেটকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তার ওপর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার লাকসামের নাওটি রেলস্টেশনে ঘটে যাওয়া ট্রেন দুর্ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের আপ লাইনে ট্রেন চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগিগুলো লাকসাম রেলওয়ে জংশনে নিয়ে আসা হয়। লাকসাম রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া নিশ্চিত করেছেন যে ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধার এবং রেললাইন মেরামতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে, বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনটি লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের নাওটি রেলস্টেশনের আউটার সিগন্যালের কাছে লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এই ঘটনায় ইঞ্জিনসহ চারটি বগির চাকা লাইন থেকে ছিটকে পড়ে এবং বগিগুলো কাত হয়ে যায়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন, তবে কেউ নিহত হননি।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু ইমতিয়াজ রাফি, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মাসুদ ও রেজওয়ানুল ইসলাম এবং বিভাগীয় সিগন্যাল ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী আশিকুর রহমান।
এদিকে, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ফেনী রেলওয়ে জংশনে কর্মরত ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) গোলাম সরোয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের চালক মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছেন, নাওটি রেলস্টেশনে রেললাইন মেরামতের কাজ চলার বিষয়ে তাঁকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। নাঙ্গলকোট রেলস্টেশন থেকে লাইন ক্লিয়ার পাওয়ার পর ট্রেনটি ছেড়ে আসে।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির প্রধান ফারহান মাহমুদ বলেছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় যাঁদের দায়ী পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে রেলওয়ের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ