ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জন্ম থেকেই হৃদরোগ: শিশুকে সুস্থ রাখতে জরুরি যত্ন


জন্ম থেকেই হৃদরোগ: শিশুকে সুস্থ রাখতে জরুরি যত্ন

শিশুর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শরীরের আকারের পরিবর্তনের পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের গঠন ও কার্যক্রমের ধরনও পরিবর্তিত হয়। অধিকাংশ শিশুর জন্য এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে যদি জন্মগত হৃদযন্ত্রের ত্রুটি, হৃদযন্ত্রের ভালভের সমস্যা, হৃদস্পন্দনের অনিয়ম অথবা হৃদপেশির অসুখ থাকে, তাহলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মগত হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে জন্মানো শিশুর বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার হৃদযন্ত্রের পরিবর্তনগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কারণ, ছোটবেলায় কোনো সমস্যা সামান্য মনে হলেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে নতুন করে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ কেন জরুরি?

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

নিয়মিত হৃদরোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় শিশুর হৃদযন্ত্র কতটা কার্যকরী, তার বৃদ্ধি, রক্তচাপ, হৃদস্পন্দনের ছন্দ এবং শারীরিক পরিশ্রম সহ্য করার ক্ষমতা সম্পর্কে।

প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক হৃদযন্ত্রের ছবি তোলার পরীক্ষা, হৃদস্পন্দন পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন। তবে প্রতিবার চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় যে ওষুধ বা কোনো চিকিৎসা নিতে হবে, এমন নয়। অনেক সময় শিশুর অবস্থার পর্যবেক্ষণ করাই মূল উদ্দেশ্য থাকে। কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

কোন লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন?

শিশুরা সবসময় নিজেদের শারীরিক সমস্যার কথা সঠিকভাবে বোঝাতে পারে না। তাই কিছু লক্ষণের দিকে অভিভাবকদের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

যখন শিশুরা খেলাধুলার সময় বারবার বিশ্রাম নেয়, সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যায় অথবা অন্য শিশুদের তুলনায় কম সক্রিয় থাকে, তখন তা অনেক সময় স্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু যদি এসব সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা কোনো স্পষ্ট কারণ না থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অজ্ঞান হওয়ার মতো অনুভূতি, দ্রুত হৃদস্পন্দন, শারীরিক পরিশ্রমের সময় বুকে অস্বস্তি, ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া অথবা বয়স অনুযায়ী ওজন না বাড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তবে এসব লক্ষণ শুধুমাত্র হৃদরোগের কারণে হয় না। অন্য কারণেও এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ছোটবেলা থেকেই তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

আরও পড়ুন: ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুর হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

শিশুর খাবারের তালিকায় ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য, ডালসহ পুষ্টিকর খাবার রাখা উচিত। অন্যদিকে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, প্যাকেটজাত খাবার ও মিষ্টি পানীয় যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।

শিশুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়মিত খেলাধুলা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কিংবা অন্যান্য শারীরিক কর্মকাণ্ডেও উৎসাহ দেওয়া দরকার। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পান নিশ্চিত করতে হবে।

শিশুকে অন্যের ধূমপানের ধোঁয়া থেকেও দূরে রাখা জরুরি।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের বাজেটের বড় অংশ ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যয় হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের পরও বন্ধ নয় নজরদারি

জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার হয়ে যাওয়ার পর অনেক অভিভাবক মনে করেন, শিশুর আর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এমনটি করা ঠিক নয় বলে জানান ডা. লাহা।

তার মতে, স্কুলজীবন, কৈশোর ও পরবর্তী সময়ে শিশুর শরীরের চাহিদা বদলাতে থাকে। সেই অনুযায়ী ব্যায়াম, খাবার, ওষুধ কিংবা ভবিষ্যতের চিকিৎসা নিয়ে নতুন করে পরামর্শের প্রয়োজন হতে পারে। তাই চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের পরও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া জরুরি।

শিশুকে ভয় নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহ

আরও পড়ুন: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিনামূল্যে অনলাইন কোর্সে আবেদন করার পদ্ধতি

হৃদযন্ত্রের সমস্যা থাকলেই শিশুকে সব ধরনের খেলাধুলা বা স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে রাখতে হবে—এমন নয়। বরং অভিভাবক, শিশু ও চিকিৎসকের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুকে অতিরিক্ত ভয় বা অযথা বিধিনিষেধের মধ্যে না রেখে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহ দিতে হবে। সঠিক খাবার, সক্রিয় জীবনযাপন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত চিকিৎসা-পর্যবেক্ষণই শিশুর ভবিষ্যৎ হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্ধু যত কাছেরই হোক, সম্পর্কের ৫ বিষয় তাকে বলবেন না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ পি.এম


বন্ধু যত কাছেরই হোক, সম্পর্কের ৫ বিষয় তাকে বলবেন না

বন্ধুর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করার সময় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা স্বাভাবিক বিষয়। সঙ্গীর সঙ্গে ঝগড়া, অভিমান কিংবা তার আচরণ নিয়ে কাছের বন্ধুর কাছে পরামর্শ চাওয়া হতে পারে। তবে সব বিষয় বন্ধুকে জানানো সবসময় সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক হতে পারে না।

মনোবিদদের মতে, সম্পর্কের কিছু বিষয় একান্তভাবে দুজনের মধ্যে থাকা উচিত। কারণ, আপনি হয়তো রাগের বশে বন্ধুকে কিছু বললেন, পরে সঙ্গীর সঙ্গে সবকিছু মিটে গেল। কিন্তু আপনার বন্ধু হয়তো সেই ঘটনা বা কথাগুলো মনে রাখতে পারে। তাই সম্পর্কের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে একটি সীমা থাকা অত্যাবশ্যক।

কোন কোন বিষয়গুলো বন্ধু বা কাছের মানুষদের জানানো উচিত নয়?

১. ঝগড়ার খুঁটিনাটি

দাম্পত্য বা প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ঝগড়ার সময় সঙ্গী ঠিক কী বলেছেন, কতটা রেগে গিয়েছিলেন বা কী নিয়ে তর্ক হয়েছে—এসব কিছু বন্ধুদের জানানো সঠিক নয়।

কারণ, আপনি হয়তো পরদিনই সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলে ঝামেলা মিটিয়ে ফেললেন। কিন্তু আপনার বন্ধু হয়তো আপনার সঙ্গীর সেই রাগী বা খারাপ সময়ের আচরণই মনে রাখবেন। পরে দুজনের দেখা হলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

২. সঙ্গীর ব্যক্তিগত দুর্বলতা

সঙ্গী আপনার কাছে তার কর্মজীবন, পরিবার, অতীত, শারীরিক গঠন বা অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে এমন কিছু কথা বলেছেন, যা অন্য কারও সঙ্গে বলতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।

আপনার কাছে এসব কথা বলা তার বিশ্বাসের প্রকাশ। তাই বন্ধুর সঙ্গে তা শেয়ার করার আগে ভাবুন, সঙ্গী আপনার পাশে থাকলে তিনি কি একই কথা অন্যের সামনে শুনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন?

যদি উত্তর না হয়, তাহলে সেই ব্যক্তিগত দুর্বলতা নিয়ে বন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করা বা হাসাহাসি না করাই ভালো।

৩. একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত ও অভ্যাস

প্রতিটি সম্পর্কেই এমন কিছু মুহূর্ত, খুনসুটি, স্মৃতি ও ব্যক্তিগত অভ্যাস থাকে, যা কেবল দুজন মানুষেরই জানা। এসব বিষয় সম্পর্কের বিশেষত্বের অংশ।

বন্ধুদের আড্ডায় এসব একান্ত ব্যক্তিগত কথা বলে ফেললে সঙ্গীর সম্মানে আঘাত লাগতে পারে। সম্পর্কের ভালো লাগা, বোঝাপড়া বা ভালোবাসার কথা বলা এক বিষয়; কিন্তু সেই সম্পর্কের একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য অন্যকে জানানো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

৪. পরিবারের ঝামেলা ও বিবাদ

সঙ্গী নিজের মা-বাবা, ভাইবোন বা পরিবারের কাউকে নিয়ে রাগের সময় আপনার কাছে কিছু বলতে পারেন। সেই মুহূর্তের ক্ষোভ থেকে বলা কথাগুলো বন্ধুদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।

কারণ, রাগের মাথায় মানুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেক কিছু বললেও পরদিন আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আপনি সেই কথাগুলো বন্ধুদের জানালে তাঁদের মনে ওই পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

৫. সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিয়ে, সন্তান নেওয়া, কর্মজীবনে পরিবর্তন বা অন্য শহরে চলে যাওয়ার মতো বিষয় নিয়ে দম্পতিদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। এসব আলোচনা অনেক সময় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়; বরং নিজেদের মধ্যে ভাবনা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথাবার্তা।

কিন্তু এই প্রাথমিক চিন্তাগুলো বন্ধুদের জানালে তারা সেটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মনে করতে পারেন। পরে এ নিয়ে প্রশ্ন বা মতামত দিতে শুরু করলে নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়াও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

তাহলে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করার এবং প্রয়োজন হলে মত পরিবর্তনের স্বাধীনতা থাকা জরুরি।

সব কথা বলার প্রয়োজন নেই

বন্ধুত্বে খোলামেলা কথা বলা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সম্পর্কের ব্যক্তিগত সীমারেখা বজায় রাখাও অপরিহার্য। কোনো সমস্যা নিয়ে বন্ধুর পরামর্শ প্রয়োজন হলে পরিস্থিতির মূল বিষয়টি বলা যেতে পারে, কিন্তু সঙ্গীর ব্যক্তিগত দুর্বলতা, একান্ত মুহূর্ত বা ঝগড়ার খুঁটিনাটি প্রকাশ না করাই ভালো।

কারণ একটি সম্পর্ক শুধু ভালোবাসার ওপর নয়, পারস্পরিক বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপরও দাঁড়িয়ে থাকে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমার দিনে বেশি সওয়াবের জন্য করুন এই আমল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


জুমার দিনে বেশি সওয়াবের জন্য করুন এই আমল

ইসলামের পরিপ্রেক্ষিতে জুমার দিন একটি বিশেষ মর্যাদা বহন করে। মুসলমানদের কাছে এটি সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে পরিচিত। কোরআন ও হাদিসে এ দিনের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তাই, জুমার দিনে অন্যান্য দিনের তুলনায় অধিক ইবাদত ও নেক আমল করার সুযোগ রয়েছে।

জুমার দিনের গুরুত্ব তুলে ধরতে কোরআনে ‘আল-জুমুআহ’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

অর্থ: ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।’

—সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত ৯

জুমার দিন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই এটি (জুমার দিন) মুসলিমদের জন্য ঈদের দিন।’

—ইবনে মাজাহ, হাদিস ১০৯৮

আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) উল্লেখ করেছেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এ দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিনেই তাকে সেখান থেকে বের করা হয়েছে। কিয়ামতও জুমার দিনেই সংঘটিত হবে।

—সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮৫৪

জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ

জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’

—সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১০৪৭

তাহলে, জুমার দিনে অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উচিত।

দোয়া কবুলের বিশেষ সময়

জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার বিশেষ আশা থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, কোনো মুসলিম বান্দা সে সময় নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।

—সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৪০০

জুমার দিনের মর্যাদা ও ফজিলত বিবেচনায়, এ দিনটি অবহেলায় না কাটিয়ে নামাজ, দরুদ, দোয়া ও অন্যান্য নেক আমলে কাটানো উচিত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন সিনিয়র মাদরাসা: ফজলুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন সিনিয়র মাদরাসা: ফজলুর রহমান

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন সিনিয়র মাদরাসায় পরিণত হয়েছে।

তিনি বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরাম আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "তোমরা জ্ঞান অর্জন করো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন সিনিয়র মাদরাসায় পরিণত হয়েছে, তোমরা এ পথে যেও না। পোশাক এবং ভাষাই শুধু মানুষের প্রকৃতি নির্ধারণ করে না। পাঞ্জাবি, পায়জামা আর টুপি পরলেই কেউ আলিম হয় না, আলিম হতে গেলে এলেম জানতে হয়।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আমাদের দেশে বেহেশত-দোজখের টিকিট বিক্রি করা হয়। আর কেউ কিনতে না চাইলে তাকে খারাপ বানিয়ে দেওয়া হয়। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে রাজনীতি, ধর্ম এবং ধর্মব্যবসা এক নয়। আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা লেখাপড়া করছেন তারা এ বিষয়টা মানবেন যে, আমি সত্য কথা বলব, ন্যায়ের পথে চলব, আল্লাহ-রাসুলের দেখানো পথে চলব, কিন্তু ধর্মব্যবসা করব না।"

ফজলুর রহমান বলেন, "সাম্প্রদায়িকতা হলো ভারতবর্ষের সবচেয়ে সর্বনাশা আদর্শ। এই আদর্শকে যতদিন পর্যন্ত না পরাজিত করা যাবে, ততদিন পর্যন্ত মনুষ্যত্ব আসবে না। তাই একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। কবি কাজী নজরুল বারবার অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে গেছেন। নজরুলের এই চেতনাই হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। যেখানে আমরা সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদকে পরাজিত করে সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছি। নজরুল একজন সত্যবাদী ও প্রকৃত মানুষ। তাই তিনি মরে গিয়েও হাজার বছর বেঁচে থাকবেন তার এই চেতনার জন্য।"

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম বেগম, কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকার।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমা। সঞ্চালনায় ছিলেন রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিন।

নবীনবরণ শেষে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়ধ্বনি মঞ্চে আয়োজিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কঠিন সময়ে আল্লাহর সাহায্য পেতে ৪টি আমল পালন করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


কঠিন সময়ে আল্লাহর সাহায্য পেতে ৪টি আমল পালন করুন

জীবনে বিপদ, দুশ্চিন্তা ও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়া স্বাভাবিক। এমন অবস্থায় হতাশ হওয়ার পরিবর্তে আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে কঠিন সময়ে আল্লাহর সাহায্য লাভের জন্য বিভিন্ন আমল ও দোয়ার উল্লেখ রয়েছে।

আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো কাজের প্রকৃত সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই বিপদের সময় নামাজ, ধৈর্য, দোয়া, তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার শিক্ষা ইসলাম প্রদান করে।

পড়ুন দোয়া ইউনুস

বিপদে পড়লে দোয়া ইউনুস পাঠ করা যেতে পারে। হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেটে অবস্থানকালে আল্লাহর কাছে এই দোয়া করেছিলেন।

لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

অর্থ: ‘আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।’

এই দোয়ায় আল্লাহর একত্বের স্বীকৃতির পাশাপাশি নিজের ভুলের স্বীকৃতি ও ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে।

নামাজ ও ধৈর্য ধরুন

কঠিন সময়ে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো নামাজ ও ধৈর্য ধারণ করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন—

وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ

অর্থ: ‘আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় তা বিনয়ী লোক ছাড়া অন্যদের ওপর কঠিন।’

—সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৪৫

সুতরাং বিপদের সময় নামাজ ত্যাগ না করে ধৈর্য ধরে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত।

একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন

সাহায্য চাইতে হবে একমাত্র আল্লাহর কাছেই। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ

অর্থ: ‘আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই কাছে সাহায্য চাই।’

—সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ৫

অতএব বিপদের সময় সকল ধরনের অহংকার ও নির্ভরতা পরিহার করে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।

বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার

নিয়মিত তওবা ও ইস্তিগফার করা মুমিনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। হজরত নুহ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন। কোরআনে এসেছে—

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا ۝ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا

অর্থ: ‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।’

—সূরা নুহ, আয়াত ১০-১১

সুতরাং বিপদের সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার করা উচিত।

আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যে এগিয়ে আসুন

মুমিনের দায়িত্ব হলো সৎকাজে উৎসাহ দেওয়া এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ

অর্থ: ‘হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ় রাখবেন।’

—সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত ৭

জীবনের কঠিন সময়ে হতাশ না হয়ে নামাজ, দোয়া, তওবা, ইস্তিগফার ও সৎকাজের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করাই মুমিনের পথ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%