প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জয়িতা বসুর বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও সরকারি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মসহ নানা ধরনের দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুব্ধ খামারিদের তীব্র আন্দোলন ও বিক্ষোভের মুখে, সদ্য বদলি হওয়া এই কর্মকর্তা শেষ কর্মদিবসে পুলিশ পাহারায় তাঁর কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাউজান উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এলাকার খামারিরা ও স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, ডা. জয়িতা বসুর শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে দপ্তরে একটি ঘরোয়া বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। খবর পেয়ে পূর্ব থেকে আন্দোলনরত খামারিরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ পাহারায় তিনি একটি গাড়িতে করে দপ্তর ত্যাগ করার সময় আন্দোলনকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে "চোর চোর" স্লোগান দেন।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, ডা. জয়িতা বসু ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে এবং ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে রাউজানে যোগদান করেন। তবে চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে খামারিরা তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি প্রণোদনা ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। একই বিষয়ে গত ১৫ আগস্ট সাংবাদিক সম্মেলনও করেন ভুক্তভোগীরা। এর ফলস্বরূপ, গত ২৩ আগস্ট এক অফিস আদেশে তাঁকে পটিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে বদলি করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মোহাম্মদপুর আসিফ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী মো. আমিনুর রহমান আসিফ জানান, "২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে খামারিদের প্রশিক্ষণ ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও দপ্তরের সরকারি সরঞ্জাম বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "কদলপুরের এক ব্যক্তির কাছে প্রতিটি ৩০০ টাকা দরে ৫০টি সরকারি চেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া, ১৫ হাজার টাকায় একটি ঘাস কাটার যন্ত্র বিক্রি এবং দুধ দোহনের মেশিন অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমনকি দপ্তরের এসি পর্যন্ত তিনি খুলে নিয়ে গেছেন।"
মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে অন্যান্য খামারি সালাউদ্দিন, আলমগীর, রত্না মুহুরী, মনছুরুল হাসান চৌধুরী ও মোহাম্মদ আলী আকবর অভিযোগ করেন যে, অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে তাঁদের নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। খামারিরা অবিলম্বে এসব দুর্নীতির বিভাগীয় ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
তবে, ডা. জয়িতা বসু নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, "সমস্ত কর্মকাণ্ড প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদন করা হয়েছে। আমি কোন দুর্নীতি-অনিয়ম করি নি।" তিনি আরও বলেন, "কোন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ে এসি নেই। আমার কার্যালয়ে কোনো সরকারি এসি ছিল না, আমি নিজের কেনা এসি ব্যবহার করতাম, যা বদলি সূত্রে নিয়ে যাচ্ছি। কিছু অসাধু লোক অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।"
রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, "বিশৃঙ্খলা এড়াতে কর্মকর্তার অনুরোধে কার্যালয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।" এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. রাহাতুল ইসলাম জানান, "অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন