প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
স্মার্টফোন, রিলস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আধিপত্যের এই সময়ে রেডিওর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কথা সবাই বলছেন। কিন্তু আফ্রিকার চিত্র আমাদেরকে সম্পূর্ণ উল্টো গল্প শোনাচ্ছে। মূলত, তরুণদের মধ্যে বড় একটি অংশ এখনও নিয়মিত রেডিওতে সংবাদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান শোনেন। বিশেষ করে কেনিয়ায় এত বেশি রেডিও স্টেশন সম্প্রচারিত হচ্ছে যে নতুন স্টেশনের জন্য ফ্রিকোয়েন্সির সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
ডিজিটাল যুগে, দেশটির যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ একটি এমন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, যা শুনতে অনেকটা বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কেনিয়ার রেডিও তরঙ্গপথে এত বেশি ভিড় রয়েছে যে নতুন স্টেশনের জন্য জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে কেনিয়ায় ২৫০টিরও বেশি এফএম রেডিও স্টেশন রয়েছে। এর বাইরেও কিছু স্টেশন সম্প্রচারের অনুমতির অপেক্ষায় আছে। রাজধানী নাইরোবির মতো বড় শহরগুলোর রেডিও উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, নতুন স্টেশনের জন্য আসলে তেমন কোনো ফ্রিকোয়েন্সি খালি নেই।
এই পরিস্থিতি পুরো আফ্রিকায় রেডিওর বিস্ময়কর জনপ্রিয়তার প্রতিফলন। স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের পর অনেকের বিশ্বাস ছিল যে, মানুষের মনোযোগের লড়াইয়ে রেডিও হয়তো হারিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা উত্তর উল্টো। গত এপ্রিলে প্রকাশিত আফ্রোব্যারোমিটারের এক জরিপে দেখা গেছে, আফ্রিকাজুড়ে সংবাদ জানার অন্যতম প্রধান মাধ্যম এখনো রেডিও।
আফ্রিকায় রেডিও সম্প্রচার শুরু হয়েছিল ১৯২০-এর দশকে। তখন ঔপনিবেশিক শাসকেরা এটি প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় গোপন রেডিও স্টেশনও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬০-এর দশকে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকার ট্রানজিস্টর রেডিওকে সহজলভ্য করতে ভর্তুকি দেয়। তবে রেডিও সব সময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখেনি। ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডার গণহত্যার পূর্বে একটি রেডিও স্টেশন তুতসি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে দিয়ে সহিংসতা উসকে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে। আফ্রোব্যারোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, শহর ও গ্রামে মিলিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে একাধিকবার রেডিওতে সংবাদ শোনেন। তরুণদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তাও কম নয়। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী আফ্রিকানদের প্রায় ৫৫ শতাংশ নিয়মিত রেডিও থেকে সংবাদ গ্রহণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ।
দ্য ইকোনমিস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার দেশগুলোতে রেডিওর এই জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ হলো কম খরচ ও সহজলভ্যতা। সস্তা মোবাইল ফোনেও এফএম রেডিও সুবিধা থাকে। আবার রেডিও শোনার জন্য ব্যয়বহুল মোবাইল ডেটার প্রয়োজন হয় না। বড় শহরের যানজটে আটকে থাকা মানুষও সরাসরি ফোন করে বিভিন্ন রেডিও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ইন্টারনেটও রেডিওর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনপ্রিয় রেডিও উপস্থাপকেরা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারকা রূপে পরিচিত হয়ে উঠছেন। অন্যদিকে ফ্রিকোয়েন্সির সংকট মোকাবিলা করতে কেনিয়া পরীক্ষামূলকভাবে ডিএবি বা ডিজিটাল অডিও ব্রডকাস্টিং প্রযুক্তি চালু করছে। এর মাধ্যমে একই তরঙ্গপথে আরও অধিক রেডিও স্টেশন সম্প্রচার সম্ভব হবে।
সূত্রঃ দ্য ইকোনমিস্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন