বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৬ পি.এম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য এবং শিল্পসহ অন্যান্য খাতে অধিকতর বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্পখাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার পাহাড়, নদী, ঝরনা, চাবাগান, বন, হাওর সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল। আমি বিশ্বাস করি এসব খাতে আরও উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আজকে যারা প্রবাসে আছেন এবং যাদের যথেষ্ট যোগ্যতা আছে তারা যদি এসব খাতে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসেন, তাহলে এখানে আমাদের পর্যটন শিল্পে অনেক বেশি উন্নত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।"
এ সময় রাষ্ট্রপতি চা শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, "সিলেটের চা বাগান শুধু আমাদের বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বে বিখ্যাত, সেজন্য এই সিলেট অনেক বেশি সামনে এগিয়ে আছে।"
মাছ চাষের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এখানকার হাওড়গুলোতে মাছ চাষের অনেক সুবিধা আছে এবং এখানে যে মিনারেলস আছে, সেগুলো দিয়ে এখানে অনেক বড় বড় শিল্প গড়ে উঠতে পারে।"
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রবাসীদের বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিল্প, চা শিল্প, পর্যটন, গ্যাস এসব সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি পাকিস্তানের হাই কমিশনারের সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে বলেন, "তিনি কয়েকদিন আগে সিলেটে এসেছিলেন, এখান থেকে চা নিয়ে যাবেন অর্থাৎ তারা এখান থেকে চা আমদানি করবে। আমাদের এটার কোর্ডিনেট করা দরকার।"
সিলেটের প্রবাসী সমাজের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, "সিলেটের প্রবাসী সমাজ শুধু সিলেটের অর্থনীতি নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।"
তিনি বলেন, "আগামী দিনের লড়াই হচ্ছে দেশ পুনর্গঠন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য আবাসস্থল নির্মাণ করা।"
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, "আসুন এখন অন্তত আমাদের কমন যে ইস্যুগুলো আছে, সেই ইস্যুগুলোতে আমরা একমত হই। একমত হয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।"
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আমরা এখানে অনেকগুলো জাতি একসঙ্গে বাস করি এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে সৌন্দর্য হচ্ছে যে বাংলাদেশে কমিউনাল হারমিনি আছে।"
সিলেটবাসীর পাশে থাকার আশাবাদ ব্যাক্ত করে তিনি বলেন, "সিলেটের মানুষের সঙ্গে আমি সবসময় ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।"
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গাউছ, রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রমুখ। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শরীরের সুস্থতার জন্য ব্যায়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত ব্যায়াম পেশির শক্তি বজায় রাখতে, হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে এবং ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম। তবে, এর উপকারিতা শুধুমাত্র শরীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত ব্যায়াম মস্তিষ্কের স্মৃতি ও চিন্তাশক্তির উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁদের মস্তিষ্কের চিন্তা ও স্মৃতিনিয়ন্ত্রণকারী অংশের আয়তন ব্যায়াম না করা ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ছয় মাস থেকে এক বছর নিয়মিত মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু অংশের আয়তন বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
ব্যায়াম কীভাবে মস্তিষ্কের উপকার করে?
ব্যায়াম মস্তিষ্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলার পাশাপাশি পরোক্ষভাবে স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি উন্নত করতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক অবস্থাকে ভালো রাখতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
মন খারাপ, ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ—এসব বিষয় অনেক সময় চিন্তাশক্তি ও স্মৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এসব সমস্যা কমাতে পারলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ভালো থাকতে পারে।
মস্তিষ্কের জন্য কোন ব্যায়াম সবচেয়ে কার্যকর?
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যায়াম অন্যগুলোর চেয়ে বেশি কার্যকর কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে অধিকাংশ গবেষণায় হাঁটার মতো ব্যায়াম নিয়ে বেশি পরীক্ষা করা হয়েছে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের স্নায়ুরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক স্কট ম্যাকগিনিসের মতে, হৃদ্স্পন্দন বাড়ায় এমন অন্যান্য বায়বীয় ব্যায়ামেও একই ধরনের উপকার পাওয়া যেতে পারে।
অর্থাৎ, দ্রুত হাঁটার পাশাপাশি এমন অন্যান্য ব্যায়ামও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী হতে পারে, যেগুলো করলে হৃদ্স্পন্দন বাড়ে।
বয়স্কদের জন্য তাই চি কতটা উপকারী?
বয়স্কদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নিয়ে করা একটি গবেষণায় তাই চি ব্যায়ামের সম্ভাব্য উপকারের কথা উঠে এসেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছিল বয়স্কদের চিকিৎসাবিষয়ক একটি সাময়িকীতে। এতে দেখা যায়, তাই চি বয়স্কদের চিন্তাশক্তি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে পরিকল্পনা করা, কাজের বিষয় মনে রাখা, মনোযোগ দেওয়া, সমস্যা সমাধান এবং কথার মাধ্যমে যুক্তি দেওয়ার মতো মানসিক কাজ নিয়ন্ত্রণে এর উপকার থাকতে পারে।
তাই চি ধীর ও মনোযোগীভাবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ সঞ্চালনের একটি পদ্ধতি। এতে নতুন কিছু কৌশল ও শরীরের নড়াচড়ার ধরন শেখা এবং মনে রাখার প্রয়োজন হয়। এ কারণেও এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার জন্য উপকারী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সপ্তাহে কতক্ষণ ব্যায়াম করবেন?
হার্ভার্ডের বিশেষজ্ঞ স্কট ম্যাকগিনিস ব্যায়ামকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি এমনভাবে করতে হবে যেন দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য কাজ হয়ে ওঠে। মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম, যেমন দ্রুত হাঁটা, সপ্তাহে মোট ১৫০ মিনিট করার লক্ষ্য রাখা যেতে পারে।
তবে শুরুতেই দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন কয়েক মিনিট দিয়ে শুরু করে প্রতি সপ্তাহে সময় ৫ থেকে ১০ মিনিট করে বাড়ানো যেতে পারে। এভাবে ধীরে ধীরে সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
ফল পেতে সময় লাগতে পারে
ব্যায়াম শুরু করার পরপরই স্মৃতি বা চিন্তাশক্তিতে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে—এমনটা আশা না করাই ভালো। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের মাধ্যমে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার উপকার পেতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে। তাই কয়েক সপ্তাহ ব্যায়াম করার পর কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না দেখলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস ধরে রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্ককেও সুস্থ রাখতে ব্যায়াম তাই দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাস হিসেবে চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: হার্ভার্ড
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় ধারের টাকা ফেরত চাওয়ার কারণে ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন, যিনি নিঝুম নামেও পরিচিত (৩৭), কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যার পর তার মরদেহ বস্তাবন্দী করে ধানখেতে ফেলে দেওয়ার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন নাজিম উদ্দিন নামে এক আসামি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নাজিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে নাজিমকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ার কারণে বিরোধের জেরে সহযোগী মো. স্বপনের সঙ্গে মিলে ওয়াহেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াহেদের সঙ্গে নাজিম ও স্বপনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে যখন নাজিম একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চির কাজ করছিলেন। পরে ওয়াহেদ তার মায়ের নামে একটি এনজিও থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সেখান থেকে স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। সম্প্রতি ওই টাকা ফেরত চাওয়ার কারণে তিনজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গত ৭ আগস্ট বিকেলে ওয়াহেদকে বগুড়ার মালগ্রাম এলাকার ওই বেসরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ডেকে নেন নাজিম ও স্বপন। সন্ধ্যার দিকে কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ওয়াহেদকে পান করানো হয়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর রাতে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে কার্যালয়ের অদূরে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকার একটি ধানখেতে ফেলে দেওয়া হয়।
মরদেহ ফেলে দেওয়ার পর ওই রাতেই তারা কার্যালয়ে অবস্থান করেন। পরদিন সকালে চাকরি ছেড়ে দিয়ে দুজনই নিজ নিজ এলাকায় আত্মগোপনে চলে যান বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন নাজিম। ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্বপনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
নিহত ওয়াহেদ হোসেন শহরের সূত্রাপুর এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্টেশন সড়কে বাবার সঙ্গে যৌথভাবে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। গত ৭ আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
পাঁচ দিন পর ১২ আগস্ট মালগ্রামের একটি ধানখেত থেকে অর্ধগলিত বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় প্রথমে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে পোশাক ও অন্যান্য আলামত দেখে স্বজনেরা মরদেহটি ওয়াহেদের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় গত ১০ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই সোহেল হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হ্যারি ব্রুকের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছে। সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইংলিশ অধিনায়কের ঝোড়ো সেঞ্চুরির সাহায্যে স্বাগতিকরা ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫৪ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে। শ্রীলঙ্কা জবাবে মাত্র ১৩৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে ইংল্যান্ড ১১৯ রানের বড় জয় নিয়ে সিরিজের সূচনা করেছে।
টস জিতে প্রথমে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। তবে ইংলিশ ব্যাটাররা তার সিদ্ধান্তকে দ্রুত ভুল প্রমাণ করে। প্রথম ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৯০ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা।
এরপর ব্রুক ও জস বাটলার দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ঝড় তোলেন। মাত্র ৬০ বল খেলে তারা ১২৮ রান যোগ করেন। দ্রুত ফিফটি তুলে নেওয়া বাটলার শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ৮০ রান করেন, যেখানে ছিল ৮টি চার ও ৩টি ছক্কা।
অন্যপ্রান্তে ব্রুক তাণ্ডব চালিয়ে যান। মাত্র ৪৯ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করা ইংলিশ অধিনায়ক ১১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ৪৯ বলের ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৬টি ছক্কা। এছাড়া টম ব্যান্টন ১০ ও উইল জ্যাকস ২১ রান করেন।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে। পাওয়ার প্লের মধ্যেই তারা তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা লঙ্কানদের ইনিংস ১৩৫ রানে থেমে যায়।
শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন দুনিথ ভেল্লালাগে। দাসুন শানাকার ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। দলের অন্য কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল সনি বেকার। তিনি ৩ উইকেট নেন। লিয়াম ডসন ও জেমি ওভারটন ২টি করে উইকেট পান। এছাড়া তিনজন বোলার ১টি করে উইকেট নেন।
ব্যাট হাতে ব্রুকের ঝড় এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ড ১১৯ রানের বড় জয় তুলে নিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) গাঁজাসহ দুই শিক্ষার্থী আটক হওয়ার পর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্দেশ্যে প্রক্টরিয়াল বডি চারটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তগুলো অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি সভার মাধ্যমে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের নেতৃত্বে এই জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—আগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী ও তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের আরও তিন শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতির উপস্থিতিতে নিয়ে বসা; ক্যাম্পাসসংলগ্ন সরকারি অবৈধ বসতি ও স্থাপনা উচ্ছেদের সুপারিশ করা; ক্যাম্পাসে চলাচলকারী ভ্যানচালকদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ডাটাবেজ তৈরি করে পরিচয়পত্র দেওয়ার জন্য সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা; এবং ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ যানবাহন—মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের—লাইসেন্সের কপি চলতি মাসের ২৬ তারিখের মধ্যে প্রক্টর অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, "দুই শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি নিয়ে বসেছি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে জানানো হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে চারটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের পরিবার শনিবার এলে বসে শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা সেল। আটক শিক্ষার্থীরা হলেন ফার্মেসি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সুফিয়ান ও একই বিভাগের নাহিদুজ্জামান। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠের পশ্চিম এলাকা থেকে আটক করা হয়।
পরে তাদের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ