ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

একাদশে ভর্তির সুযোগ পেয়েও ভর্তি নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হতে পারে


একাদশে ভর্তির সুযোগ পেয়েও ভর্তি নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হতে পারে

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজে আসন বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন না করলে তাদের আসন বরাদ্দ এবং আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। ফলে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েও সামান্য ভুলের কারণে শিক্ষার্থীরা ভর্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

প্রথম ধাপে আবেদন করে কোনো কলেজে আসন পাননি ১৪ হাজার ৪১৫ জন শিক্ষার্থী। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ফল প্রকাশের পর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ভর্তি নিশ্চয়ন করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চয়ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। তাদের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন কলেজে মোট ৫৬ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫টি আবেদন জমা পড়েছে। প্রথম ধাপের ফল অনুযায়ী, আবেদনকারীদের প্রায় ৯৮ শতাংশই কোনো না কোনো কলেজে আসন বরাদ্দ পেয়েছেন।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

এদিকে, চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৮৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭১ জন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন। অর্থাৎ, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রায় ৮৪ শতাংশ একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে লগইন করে ফলাফল দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের মোবাইল ফোনেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাঠানো হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর।

এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর কথা ছিল। তবে, পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ওই দিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় ক্লাস শুরুর তারিখ এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

এর আগে ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এ কারণে এবার কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। অনলাইন আবেদনের ফি ছিল ২২০ টাকা।

ভর্তি নিশ্চয়নের সময় বোর্ডকে মোট ৩৪০ টাকা ফি দিতে হবে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা, রোভার/রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি ১০০ টাকা।

তাহলে আসন বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আহছানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতালে চাকরির সুযোগ, যোগ্যতা জানুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


আহছানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতালে চাকরির সুযোগ, যোগ্যতা জানুন

আহছানিয়া মিশন ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতাল জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

পদের নাম: সিনিয়র স্টাফ নার্স

পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

শিক্ষাগত যোগ্যতা: নার্সিংয়ে ডিপ্লোমা

অন্যান্য যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীদের বৈধ বিএনএমসি (BNMC) সনদ থাকতে হবে।

অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১ বছর

চাকরির ধরন: ফুলটাইম

কর্মক্ষেত্র: অফিসে

প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)

বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

কর্মস্থল: ঢাকার উত্তরার সেক্টর ১০

বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

অন্যদিকে, অন্যান্য সুবিধার মধ্যে প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট এবং বছরে ২টি উৎসব বোনাস প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রদান করা হবে।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছেলেকে কোলে নেওয়া হলো না মতিউরের, স্ত্রী হত্যার বিচার দাবি করেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


ছেলেকে কোলে নেওয়া হলো না মতিউরের, স্ত্রী হত্যার বিচার দাবি করেছেন

সৌদি আরবে গিয়েছিলেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ মতিউর রহমান (২৫), যিনি অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে দেশে রেখে সেখানে পাড়ি দিয়েছিলেন। প্রবাসে যাওয়ার তিন মাস পর তার একটি ছেলেসন্তান জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু সেই ছেলেকে কোলে নেওয়ার আগেই সৌদিতে ছুরিকাঘাতে তার মৃত্যু ঘটে।

সৌদি আরবের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানী রিয়াদের হারা এলাকায় ভাড়া বাসায় তাকে হত্যা করা হয়। রান্না নিয়ে রুমমেটদের সঙ্গে বিরোধের কারণে তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সৌদিতে অবস্থানরত এক স্বজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে সৌদি পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত মতিউর রহমান সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের বাঘারপাড় গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি সৌদি আরবে যান। রিয়াদের হারা এলাকায় একটি বাসার একটি কক্ষে ছয়জনের সঙ্গে তিনি ভাড়া থাকতেন।

মতিউরের ভাই সাইফুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে রান্না নিয়ে একই কক্ষে থাকা দুই ভাই নজরুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলামের সঙ্গে মতিউরের তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে দুই ভাই মিলে মতিউরকে মারধর করেন। পরে ছুরিকাঘাতের ফলে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় মতিউরকে হাসপাতালে না নিয়ে রুমমেটরা পালিয়ে যান। পরে কোম্পানীগঞ্জের একজনের মাধ্যমে তারা বিষয়টি ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে জানতে পারেন। এরপর সৌদিতে থাকা এক স্বজনকে জানালে তিনি পুলিশ নিয়ে মতিউরের মরদেহ উদ্ধার করেন।

সাইফুর রহমান গণমাধমকে বলেন, "আমার ভাই পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর জন্য সৌদিতে গিয়েছিল। মাত্র ছয় মাস হয়েছে। দেশে তার তিন মাসের একটি ছেলে আছে। ছেলেটা এখনো বাবাকে ঠিকমতো চিনতেই শেখেনি। অথচ বাবা মারা গেল।" তিনি আরও জানান, মতিউরের মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই তার স্ত্রী বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বুধবার সকালে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘লোকলজ্জার ভয়ে’ সীমান্ত পাড়ি দেওয়া ১৩ বছরের কিশোরী সন্তানসহ দেশে ফিরল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


‘লোকলজ্জার ভয়ে’ সীমান্ত পাড়ি দেওয়া ১৩ বছরের কিশোরী সন্তানসহ দেশে ফিরল

এক বছর আগে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিল ১৩ বছরের বাংলাদেশি এক কিশোরী, দালালের মাধ্যমে। ভারতে গিয়ে সে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়।

পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর, এক বছরের কারাবাস শেষে সন্তানসহ দেশে ফিরেছে ওই কিশোরী। তার মতো ভারতে পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের শিকার আরও ১৫ কিশোর–কিশোরীসহ মোট ১৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ১৮ বাংলাদেশি দেশে ফেরে।

ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ‘রাষ্ট্রীয় ট্রাভেল পারমিট’–এর মাধ্যমে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। পুনর্বাসনের জন্য বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’–এর জিম্মায় তাদের হস্তান্তর করেছে।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার এ বি এম মুহিত হোসেন জানান, ‘ভারত থেকে ফেরত আসা নারী ও শিশুদের বেনাপোলে আমাদের সংস্থার একটি নিজস্ব শেল্টার হোমে (নিরাপদ আশ্রয়) রাখা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুবিধাজনক সময়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

ইমিগ্রেশন পুলিশ ও মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা এক বছরের সন্তানসহ এক কিশোরীর জীবনকাহিনি অত্যন্ত করুণ। মাত্র ১৩ বছর বয়সে খুলনার নিজ এলাকায় এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে সে। পরে সামাজিক লজ্জা ও লোকলজ্জার ভয়ে দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়।

সেখানে পৌঁছানোর কিছুদিনের মধ্যেই সে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। তবে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে ভারতের একটি স্থানীয় এনজিওর সহায়তায় সন্তানসহ ওই কিশোরীকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়। দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার পর রাষ্ট্রীয় পারমিটের ভিত্তিতে বুধবার তাকে অন্যদের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ভারতের বন্দিদশা থেকে ফেরত আসা ১৮ জনের মধ্যে মাত্র দুজন প্রাপ্তবয়স্ক। বাকি ১৬ জনই শিশু–কিশোর।

তিনি বলেন, ফেরত আসা শিশুদের অনেকেরই মা–বাবা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন। আবার কারও কারও মা–বাবা আগে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরে এলেও সন্তানেরা ভারতের কলকাতার বিভিন্ন শেল্টার হোমে আটকা পড়েছিল। বুধবার সমন্বিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের মাধ্যমে তাদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশু গৃহকর্মী হাসপাতালের মেঝেতে কাতরাচ্ছে, শরীরজুড়ে গভীর ক্ষত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ পি.এম


শিশু গৃহকর্মী হাসপাতালের মেঝেতে কাতরাচ্ছে, শরীরজুড়ে গভীর ক্ষত

শরীরজুড়ে গভীর ক্ষত রয়েছে। মাথায় একাধিক সেলাই রয়েছে। পিঠ ও দুই পায়েও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শুকিয়ে আসা রক্তের দাগ কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে। ১১ বছরের এক শিশুর দুর্বল শরীরের কারণে ঠিকমতো উঠে বসার শক্তি নেই।

কখনো সে চোখ মেলে চারপাশে তাকাচ্ছে, আবার যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে ফেলছে। ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিশুটির বিরুদ্ধে। বর্তমানে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সে।

শিশুটির অভিযোগ, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। সামান্য ভুল হলেই তাকে মারধর করা হতো। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো। এইভাবে এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিনই নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ শিশুটির।

শিশুটির বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। তার বাবা দিনমজুর। মা মারা গেছেন। অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি আনতে প্রায় দেড় বছর আগে মেয়েকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠান বাবা। সে সময় শিশুটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে বা কার বাসায় রাখা হবে সেই ঠিকানা সম্পর্কে তিনি জানতেন না। প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। ওই ব্যক্তি তাকে বলেছিলেন, মেয়েটি ভালো থাকবে এবং কাজের ফাকে পড়াশোনার সুযোগও পাবে।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ-সংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে রাখা হয়। পরে ওই নারী তাকে ঢাকায় তার বোনের বাসায় পাঠান। ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার ওই বাসায় যাওয়ার পর থেকেই নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ শিশুটির।

শিশুটি জানায়, বাসার গৃহকর্তা রাসেল ও গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটনের বাসায় তাকে রাখা হয়েছিল। গৃহকর্ত্রী ও তার মেয়ে রাফাতুল তাকে মারধর করত বলেও অভিযোগ করেছে সে। মারধরের পাশাপাশি গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় টয়লেটে আটকে রাখার অভিযোগও করেছে শিশুটি।

শিশুটির বাবা বলেন, মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর দীর্ঘ সময় তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। মেয়ের ওপর নির্যাতন চলছে এ বিষয়েও তিনি কিছু জানতেন না। কয়েক দিন আগে মেয়ের মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে গত শুক্রবার ফেনীতে যান শিশুটির বাবা। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় তিনটার দিকে মেয়েকে নিয়ে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছান তিনি। হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় মেঝেতেই শিশুটির চিকিৎসা চলছে।

খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, শিশুটির শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকার কারণে তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান অনেকে।

এদিকে, শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত দম্পতি মোর্শেদা আক্তার (৩৮) ও তার স্বামী সাইফুদ্দিন রাসেলকে (৪৮) আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগানের গ্রিনরোড এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা হলে অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%