বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৩১ পি.এম
নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি চাকরি, পাবলিক স্কুল এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একাধিক পদে আবেদন করার সুযোগ এখনো বিদ্যমান।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সরকারি চাকরির পোর্টাল, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলস এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্যারিয়ার পেজে বেশ কিছু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কারেকশন অফিসার, পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান, স্কুল এইড এবং রিটেইল ও ফুড সার্ভিস খাতের চাকরিগুলি।
নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস বা ডিসিএএসের তথ্য অনুযায়ী, কারেকশন অফিসার পদে পরীক্ষা নম্বর ৭৩০২-এর জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত। এই পরীক্ষায় আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়নি। প্রার্থীদের যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে হবে। নিউইয়র্ক সিটির কারেকশন ফ্যাসিলিটিতে নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দিদের তত্ত্বাবধান এবং বিভিন্ন দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা এই পদের প্রধান দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।
পুলিশ কমিউনিকেশনস টেকনিশিয়ান পদেও আবেদন প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষা নম্বর ৭৩০৭-এর জন্য আবেদন করার শেষ সময় ১৩ অক্টোবর। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের এই পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা মূলত ৯১১ কল গ্রহণ, জরুরি তথ্য সংগ্রহ এবং পুলিশ রিসোর্স ডিসপ্যাচের মতো দায়িত্ব পালন করেন। এই পদের বর্তমান প্রারম্ভিক বেতন বছরে ৫১ হাজার ৭৯০ ডলার। আবেদন ফি ৬৮ ডলার হলেও নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীরা ফি মওকুফের সুযোগ পেতে পারেন।
ডিসিএএসের চলমান ওপেন কম্পিটিটিভ পরীক্ষার তালিকায় আরও কয়েকটি পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ অফিসার এবং নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের স্পেশাল অফিসার পদও রয়েছে। যোগ্যতা ও আবেদনের সময়সীমা পদভেদে আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নোটিস অব এক্সামিনেশন ভালোভাবে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি চাকরির পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসেও স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন পদে নিয়োগ চলছে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ব্রঙ্কস, কুইন্স, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বিভিন্ন স্কুলে স্কুল এইডসহ একাধিক পদ তালিকাভুক্ত রয়েছে।
ব্রঙ্কসের ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমি ফর দ্য ফিউচারে স্কুল এইড পদে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনকারীর হাইস্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভালো উপস্থিতির রেকর্ড, সময়ানুবর্তিতা, স্কুলের শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার যোগ্যতা থাকতে হবে।
এই স্কুল এইড পদে সাধারণত শিক্ষকদের অশিক্ষণমূলক কাজে সহায়তা, শিক্ষার্থীদের প্রবেশ ও ছুটির সময় তদারকি, লাঞ্চরুমে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং সাধারণ ক্লারিক্যাল কাজে সহায়তার মতো দায়িত্ব পালন করতে হয়। কাজের সময় স্কুলভেদে ভিন্ন হতে পারে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিদিন ন্যূনতম চার ঘণ্টা এবং সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের সুযোগ রয়েছে। পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হতে পারে এবং নির্বাচিত প্রার্থীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
বেসরকারি খাতেও নিউইয়র্ক সিটিতে নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। বুধবার সকালে ম্যানহাটনের ১০১ লিবার্টি স্ট্রিটে ইটালি ডাউনটাউনে নতুন ইটালি ক্যাফের জন্য ওপেন হায়ারিং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি টিম মেম্বার, প্রেপ কুক এবং ক্যাফে লিড পদে কর্মী নিচ্ছে।
ইটালির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টিম মেম্বার পদে ঘণ্টায় ১৭ থেকে ১৮ ডলার এবং টিপস, প্রেপ কুক পদে ঘণ্টায় ১৭ থেকে ১৯ ডলার এবং ক্যাফে লিড পদে ঘণ্টায় ২২ থেকে ২৫ ডলার পর্যন্ত বেতন দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির নিউইয়র্ক ক্যারিয়ার পেজে বর্তমানে আরও বেশ কিছু পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে।
রিটেইল খাতেও নিয়োগ রয়েছে। ওয়েগম্যানসের নিউইয়র্ক সিটি লোকেশনে কাস্টমার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েট, ফুড সার্ভিস ওয়ার্কার, ডিশওয়াশার, সুশি কুক, লাইন কুক এবং স্টোর সিকিউরিটি স্পেশালিস্টসহ বিভিন্ন পদের বিজ্ঞপ্তি সক্রিয় রয়েছে। কিছু পদের ক্ষেত্রে পার্ট টাইম এবং কিছু ক্ষেত্রে ফুল টাইম কাজের সুযোগ রয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির ওয়ার্কফোর্স১ ক্যারিয়ার সেন্টারও বিনামূল্যে সহায়তা প্রদান করে। এখানে চাকরি খোঁজা, ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্পর্কে সহায়তা পাওয়া যায়। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির চাকরির জন্য সরকারি জব পোর্টাল এবং সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য ডিসিএএসের আলাদা আবেদন ব্যবস্থা রয়েছে।
চাকরির বিজ্ঞপ্তির সংখ্যা ও স্ট্যাটাস দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট পদের ডেডলাইন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বেতন এবং অন্যান্য শর্ত যাচাই করে যত দ্রুত সম্ভব অ্যাপ্লিকেশন জমা দেওয়া উচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় পারাপারের সময় একটি জীর্ণ ব্রিজের ভাঙা অংশ দিয়ে খালে পড়ে মৃত্যু ঘটে রাফি (৮) নামে এক শিশুর।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের করল্যাছড়ি বাজার সংলগ্ন ব্রিজ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত রাফি ছিল একই ইউনিয়নের আদর্শ পাড়া এলাকার মো. নাছিরের পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে করল্যাছড়ি বাজারের প্রধান ব্রিজটি পার হচ্ছিল শিশু রাফি। সে সময় সেতুর পাশে দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা সাইডওয়াল দিয়ে সে অসাবধানতাবশত খালে পড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে উদ্ধার করে লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, করল্যাছড়ি বাজারে যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির সাইডওয়াল দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, অবিলম্বে সেতুটি সংস্কার ও সুরক্ষা রেলিং নির্মাণ না করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রায় সাত বছর আগে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মানিক শীলের পরিবারে একমাত্র সন্তান অনুষ্কার জন্ম হয়। পরিবারের সদস্যরা মেয়েকে ঘিরে যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, তা হঠাৎ করেই ভেঙে পড়ে। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে জানা যায়, তার ব্রেন টিউমার রয়েছে।
শুরুতে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও, অনুষ্কার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে। এরপর তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার ব্রেন টিউমারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসকেরা দ্রুত অপারেশনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। অপারেশন ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। তবে, এই অর্থ সংগ্রহ করা স্বল্প আয়ের পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
অনুষ্কার বাবা মানিক শীল পেশায় একজন চুল কাটার কর্মী। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একমাত্র সন্তানকে বাঁচানোর জন্য তিনি সরকার, দানশীল ব্যক্তি, সমাজের বিত্তবান এবং মানবিক মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
মানিক শীল বলেন, "আমার মেয়েকে বাঁচাতে অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু এত টাকা আমার একার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। সমাজের মানুষের সহযোগিতা পেলে আমার মেয়েটা হয়ত নতুন জীবন ফিরে পাবে।"
মঠবাড়িয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল হাসান এ বিষয়ে বলেন, "আমরা এই পরিবারের পাশে দাঁড়াব। আর্থিক সহায়তার জন্য আমাদের কাছে আবেদন করলে পরিবারটিকে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।"
ছোট্ট অনুষ্কার চিকিৎসার জন্য এখন মানবিক সহায়তার প্রয়োজন। মানুষের সহযোগিতায় হয়ত একটি শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে, এবং তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।
সহযোগিতার জন্য বিকাশঃ 01725-097633 (শিশুটির বাবা)
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের বিদেশে অবস্থানরত স্বজনদের গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নির্দিষ্ট আর্থিক সক্ষমতা প্রদর্শন করা আবশ্যক। এই প্রক্রিয়ায় স্পনসরকে সাধারণত ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট জমা দিতে হয়। এই নথির মাধ্যমে স্পনসর আইনগতভাবে প্রতিশ্রুতি দেন যে যুক্তরাষ্ট্রে আগত অভিবাসী প্রয়োজন হলে তার আর্থিক সহায়তা পাবেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনে এই আর্থিক সহায়তার নথি প্রয়োজন হয়। কিছু নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হতে পারে, যদি আবেদনকারীর হয়ে কোনো মার্কিন নাগরিক, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা মার্কিন নাগরিকত্বধারী আত্মীয় আবেদন করেন।
মূল বিষয় হলো, স্পনসরের আয় তার পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যার জন্য নির্ধারিত ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হবে। অর্থাৎ, সবার জন্য একই আয়সীমা প্রযোজ্য নয়। স্পনসরের পরিবারে সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়।
২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের দারিদ্র্য নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই সদস্যের পরিবারের দারিদ্র্যসীমা ২১ হাজার ৬৪০ ডলার। এর ১২৫ শতাংশ হলো ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যসীমা ২৭ হাজার ৩২০ ডলার এবং ১২৫ শতাংশের হিসাব দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের জন্য দারিদ্র্যসীমা ৩৩ হাজার ডলার এবং ১২৫ শতাংশ হলো ৪১ হাজার ২৫০ ডলার। পরিবারের সদস্যসংখ্যা বাড়লে প্রয়োজনীয় আয়ও বাড়ে।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্পনসরের নিজের আয় যদি তার নির্ধারিত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ১২৫ শতাংশ সীমা পূরণ করে, তাহলে অন্য পরিবারের সদস্যদের আয় যোগ করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পরিবারের সদস্যসংখ্যা হিসাবের বাইরে থাকবে। বরং আই-৮৬৪ ফর্মে স্পনসরের পরিবারের সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেই প্রয়োজনীয় আয়ের সীমা ঠিক করা হয়।
পরিবারের সদস্যসংখ্যা নির্ধারণের সময় স্পনসরের স্বামী বা স্ত্রী, নির্দিষ্ট সন্তান, আয়কর রিটার্নে নির্ভরশীল হিসেবে দেখানো ব্যক্তি, যে অভিবাসীকে স্পনসর করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অন্যান্য অভিবাসী আবেদনকারীকেও হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়। যদি কোনো অ-নির্ভরশীল আত্মীয় একই বাড়িতে থাকেন এবং তার আয় ব্যবহার করতে চান, তাহলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফর্ম আই-৮৬৪এ প্রয়োজন হতে পারে।
যদি স্পনসরের নিজের আয় প্রয়োজনীয় সীমায় না পৌঁছায়, তখন আবেদন বাতিল হয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রয়েছে। একজন যোগ্য যৌথ স্পনসর বা জয়েন্ট স্পনসর অতিরিক্ত আর্থিক দায়িত্ব নিতে পারেন। অথবা একই পরিবারের যোগ্য সদস্যের আয় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ফর্ম ও আর্থিক প্রমাণ জমা দিতে হয়।
আয়ের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে সম্পদও ব্যবহার করা যায়। স্পনসরের আয় নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলে সঞ্চয়, শেয়ার, বন্ড বা নির্দিষ্ট সম্পদের মূল্য ব্যবহার করে ঘাটতি পূরণের সুযোগ রয়েছে। তবে সম্পদের ক্ষেত্রে আলাদা হিসাব ও প্রমাণের নিয়ম আছে। সাধারণভাবে সম্পদের নিট মূল্য এবং আয়ের ঘাটতির অনুপাত নির্দিষ্ট নিয়মে বিবেচনা করা হয়।
আবেদনের সঙ্গে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী সাম্প্রতিক বেতন স্লিপ, চাকরির প্রমাণ, নিয়োগকর্তার চিঠি, আয়কর-সংক্রান্ত নথি বা অন্যান্য আর্থিক কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে। কোনো স্পনসরের আয় দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকলে অতিরিক্ত আয় বা সম্পদের প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।
স্পনসর হওয়ার জন্য শুধু পর্যাপ্ত আয় থাকা যথেষ্ট নয়। সাধারণভাবে আর্থিক স্পনসরকে অন্তত ১৮ বছর বয়সী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পাশাপাশি তার যুক্তরাষ্ট্রে ডমিসাইল বা প্রধান বসবাসের ভিত্তি থাকতে হবে।
ফর্ম আই-৮৬৪ স্বাক্ষর করার পর এটি আইনগতভাবে কার্যকর একটি অঙ্গীকারে পরিণত হয়। সাধারণভাবে স্পনসরের আর্থিক দায়িত্ব তখন পর্যন্ত চলতে পারে, যতক্ষণ না স্পনসর করা ব্যক্তি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন, সামাজিক নিরাপত্তা আইনের অধীনে ৪০টি যোগ্য কর্ম-ত্রৈমাসিক অর্জন করেন বা আইনে নির্ধারিত অন্য কোনো সমাপ্তির শর্ত পূরণ হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে সম্ভাবনাময় পণ্যের তালিকা সংগ্রহ করছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), যা তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত যেসব পণ্যের দেশে এবং বিদেশে বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে রপ্তানিযোগ্য শিল্পে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে, ইপিবি দেশের সব জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভাবনাময় পণ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। জেলা প্রশাসনগুলো স্থানীয় উদ্যোক্তা, উৎপাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে এসব তালিকা তৈরি করছে।
ইপিবি কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ থেকে ৮২ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বছরে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মোট রপ্তানির মধ্যে তৈরি পোশাকের অবদান প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। তাই রপ্তানি আয়ের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি একাধিক সম্ভাবনাময় খাত গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানিয়েছেন, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জেলা ইতোমধ্যে তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদনে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে— এমন বিভিন্ন পণ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি জেলাগুলোও স্থানীয় উদ্যোক্তা, উৎপাদক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে তথ্য সংগ্রহ করছে।
তিনি আরও বলেন, জেলা থেকে পাওয়া প্রাথমিক তালিকাকেই চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। ইপিবি এসব পণ্য কারিগরি দিক থেকে যাচাই করবে। প্রয়োজনে মাঠপর্যায়ে গিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা এবং রপ্তানির প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হবে।
ইপিবির এ উদ্যোগে প্রতিটি জেলার নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা ও স্থানীয় সম্পদকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো জেলায় উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানির উপযোগী কি না, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা সম্ভব কি না এবং বিদেশি ক্রেতাদের জন্য নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত উৎপাদন বাড়ানো যাবে কি না— এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ওই পণ্যের চাহিদা ও সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে। এরপর যেসব পণ্যের টেকসই রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ইপিবির উদ্দেশ্য শুধু বিভিন্ন জেলায় কী কী পণ্য উৎপাদিত হয়, তা খুঁজে বের করা নয়। বরং কোন পণ্যকে টেকসই রপ্তানি শিল্পে পরিণত করা সম্ভব, সেটিই চিহ্নিত করতে চায় ইপিবি।
এক্ষেত্রে পণ্যের মান উন্নয়ন, উৎপাদনোত্তর ক্ষতি কমানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, আন্তর্জাতিক সনদ, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থায়ন এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আগামী রোববার খাগড়াছড়ি সফরের মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। সেখানে সম্ভাবনাময় পণ্য পর্যালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, খাগড়াছড়ি থেকে প্রাথমিকভাবে আম, আদা, হলুদ ও আনারসসহ চার-পাঁচটি কৃষিপণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় হস্তশিল্পসহ অন্যান্য পণ্যও বিদেশের বাজারে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ইপিবি সরাসরি উৎপাদকদের সঙ্গে কাজ করতে চায়, যাতে তারা আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পান। বিশেষ করে পণ্যের মান, উৎপাদন পদ্ধতি, প্যাকেজিং এবং বিদেশি বাজারের মানদণ্ড সম্পর্কে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
রপ্তানির প্রকৃত সম্ভাবনা রয়েছে— এমন পণ্য চিহ্নিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নীতিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, পণ্যের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী হিমাগার, উন্নত সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং সুবিধা, অর্থায়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মতো সহায়তা দেওয়া হতে পারে। মৎস্যজাত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ব্রুড মাল্টিপ্লিকেশন সেন্টার বা মাছের পোনা উৎপাদন ও সরবরাহের অবকাঠামোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এসব সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং ভবিষ্যতের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে ইপিবি।
মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, তৈরি পোশাক খাতের মাধ্যমে বাংলাদেশ রপ্তানি বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে একটি খাতের ওপর রপ্তানি আয়ের অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি খাতের স্থিতিস্থাপকতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
তাই তৈরি পোশাকের বাইরে নতুন নতুন পণ্য ও খাত চিহ্নিত করে সেগুলোকে ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকভাবে সফল রপ্তানি শিল্পে পরিণত করতে চায় ইপিবি।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের বিকল্প হিসেবে একটি মাত্র খাত গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই। বরং কয়েকটি মাঝারি ও বড় আকারের রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব হলে প্রতিটি খাত থেকেই বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় করা যেতে পারে। এতে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি ঝুঁকিও কমবে।
ইপিবি মনে করছে, জেলা ভিত্তিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, স্থানীয় সম্পদ ও উৎপাদন সক্ষমতাকে নতুন রপ্তানি সম্ভাবনায় রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হস্তশিল্প, মৎস্যসহ বিভিন্ন খাতে নতুন শিল্প গড়ে উঠতে পারে এবং ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়ি আরও বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ