বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৩ পি.এম
রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে দেশের প্রতিটি জেলা থেকে সম্ভাবনাময় পণ্যের তালিকা সংগ্রহ করছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), যা তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত যেসব পণ্যের দেশে এবং বিদেশে বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে রপ্তানিযোগ্য শিল্পে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে, ইপিবি দেশের সব জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভাবনাময় পণ্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। জেলা প্রশাসনগুলো স্থানীয় উদ্যোক্তা, উৎপাদক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে এসব তালিকা তৈরি করছে।
ইপিবি কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ থেকে ৮২ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বছরে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মোট রপ্তানির মধ্যে তৈরি পোশাকের অবদান প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। তাই রপ্তানি আয়ের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি একাধিক সম্ভাবনাময় খাত গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ জানিয়েছেন, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জেলা ইতোমধ্যে তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এসব প্রতিবেদনে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে— এমন বিভিন্ন পণ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি জেলাগুলোও স্থানীয় উদ্যোক্তা, উৎপাদক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে তথ্য সংগ্রহ করছে।
তিনি আরও বলেন, জেলা থেকে পাওয়া প্রাথমিক তালিকাকেই চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। ইপিবি এসব পণ্য কারিগরি দিক থেকে যাচাই করবে। প্রয়োজনে মাঠপর্যায়ে গিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা এবং রপ্তানির প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হবে।
ইপিবির এ উদ্যোগে প্রতিটি জেলার নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা ও স্থানীয় সম্পদকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো জেলায় উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানির উপযোগী কি না, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা সম্ভব কি না এবং বিদেশি ক্রেতাদের জন্য নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত উৎপাদন বাড়ানো যাবে কি না— এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ওই পণ্যের চাহিদা ও সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে। এরপর যেসব পণ্যের টেকসই রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ইপিবির উদ্দেশ্য শুধু বিভিন্ন জেলায় কী কী পণ্য উৎপাদিত হয়, তা খুঁজে বের করা নয়। বরং কোন পণ্যকে টেকসই রপ্তানি শিল্পে পরিণত করা সম্ভব, সেটিই চিহ্নিত করতে চায় ইপিবি।
এক্ষেত্রে পণ্যের মান উন্নয়ন, উৎপাদনোত্তর ক্ষতি কমানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, আন্তর্জাতিক সনদ, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা, অর্থায়ন এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আগামী রোববার খাগড়াছড়ি সফরের মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। সেখানে সম্ভাবনাময় পণ্য পর্যালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, খাগড়াছড়ি থেকে প্রাথমিকভাবে আম, আদা, হলুদ ও আনারসসহ চার-পাঁচটি কৃষিপণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় হস্তশিল্পসহ অন্যান্য পণ্যও বিদেশের বাজারে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ইপিবি সরাসরি উৎপাদকদের সঙ্গে কাজ করতে চায়, যাতে তারা আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পান। বিশেষ করে পণ্যের মান, উৎপাদন পদ্ধতি, প্যাকেজিং এবং বিদেশি বাজারের মানদণ্ড সম্পর্কে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
রপ্তানির প্রকৃত সম্ভাবনা রয়েছে— এমন পণ্য চিহ্নিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নীতিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, পণ্যের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী হিমাগার, উন্নত সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং সুবিধা, অর্থায়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মতো সহায়তা দেওয়া হতে পারে। মৎস্যজাত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে ব্রুড মাল্টিপ্লিকেশন সেন্টার বা মাছের পোনা উৎপাদন ও সরবরাহের অবকাঠামোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এসব সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং ভবিষ্যতের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে ইপিবি।
মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, তৈরি পোশাক খাতের মাধ্যমে বাংলাদেশ রপ্তানি বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে একটি খাতের ওপর রপ্তানি আয়ের অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি খাতের স্থিতিস্থাপকতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
তাই তৈরি পোশাকের বাইরে নতুন নতুন পণ্য ও খাত চিহ্নিত করে সেগুলোকে ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকভাবে সফল রপ্তানি শিল্পে পরিণত করতে চায় ইপিবি।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাকের বিকল্প হিসেবে একটি মাত্র খাত গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই। বরং কয়েকটি মাঝারি ও বড় আকারের রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব হলে প্রতিটি খাত থেকেই বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় করা যেতে পারে। এতে দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয় বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি ঝুঁকিও কমবে।
ইপিবি মনে করছে, জেলা ভিত্তিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, স্থানীয় সম্পদ ও উৎপাদন সক্ষমতাকে নতুন রপ্তানি সম্ভাবনায় রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি কৃষি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হস্তশিল্প, মৎস্যসহ বিভিন্ন খাতে নতুন শিল্প গড়ে উঠতে পারে এবং ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়ি আরও বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট বি-টু বা ক্রিটিক্যালিটিতে যাওয়ার অনুমতি এখন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বাডরা) এর অপেক্ষায় রয়েছে।
এই পর্যায়ে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন ঘটানো হবে, যা চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদ উপায়ে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে। এর আগে ইউনিটটির সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনজীবনের ভোগান্তি লাঘবে সবাই এখন এই নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন—কবে নাগাদ আসবে এই বিদ্যুৎ?
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন অনুযায়ী, রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘স্টেজ বি-ওয়ান’ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। সবশেষে স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে।
এর পরবর্তী ধাপ হলো বি-টু। এই ধাপে পারমাণবিক চুল্লিকে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়। এরপর আসে ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়, যেখানে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
এই ধাপে সফলভাবে এগিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, ‘আমরা বাডরাকে সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাব। আগের সব কাজ এখন সম্পূর্ণ। বাডরার পারমিশন পেলেই ইনশাআল্লাহ আমরা পরবর্তী পর্যায়ে (বি-টু) প্রবেশ করব।’
এদিকে, রূপপুরের সব নথিপত্র পর্যালোচনা করে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, রূপপুর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আটটি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজও ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, আকিজ গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
পদের নাম: অপারেটর
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: কারিগরি/ভোকেশনাল শাখায় এসএসসি/এইচএসসি
অন্যান্য যোগ্যতা: প্রক্রিয়া, ফ্রাইং এবং প্যাকিং মেশিন পরিচালনায় দক্ষতা থাকা আবশ্যক।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ২–৬ বছর
চাকরির ধরন: ফুলটাইম
কর্মক্ষেত্র: কারখানায়
প্রার্থীর ধরন: শুধু পুরুষ
বয়সসীমা: ২০ থেকে ৩৫ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা (ধামরাই)
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী
আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি, যা স্কয়ার গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদনকারী ব্যক্তিরা ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
পদের নাম: কল সেন্টার, টিম লিড/এজেন্ট
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়
শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক/ডিপ্লোমা
অন্যথায় যোগ্যতা: কল সেন্টারে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে এটি অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে গন্য হবে।
অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ২ বছর
চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক
কর্মক্ষেত্র: অফিসে
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ (উভয়)
বয়সসীমা: উল্লেখ নেই
কর্মস্থল: ঢাকা
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
অন্যান্য সুবিধা: প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী
আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার দেশের মানুষের কাছে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য একটি সমন্বিত প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে, যা প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এই তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, "আমরা আজকে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ইউনিসেফের সঙ্গে কথা বলেছি। সেটা হচ্ছে কীভাবে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে আমরা নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে পারি। আপনারা জানেন যে, পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। কিন্তু এই পানি যদি দূষিত হয়, যদি জীবাণুপূর্ণ হয়, তাহলে এই পানি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, "আজকের দুনিয়ায় একদিকে পানি মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য, অন্যদিকে এই পানি আবার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এ চ্যালেঞ্জ নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।"
ড. আবদুল মঈন খান জানান, "আমাদের নদীতে অনেক পানি আছে, কিন্তু সেই নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আমাদের যে উজান, নদীর উজানগুলোতে পানি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলশ্রুতিতে একদিকে যেমন আমাদের উত্তরের জেলাগুলোতে ডেজার্টিফিকেশন হচ্ছে, অর্থাৎ মরুভূমিজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, আবার এর দ্বিতীয় একটি প্রভাব রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলে।"
মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের নদীগুলো দিয়ে পানি বঙ্গোপসাগরে যায়। এই পানির পরিমাণ কমে গেলে সমুদ্রের পানির লবণাক্ততা ওপরের দিকে উঠতে থাকে। এ কারণে দক্ষিণাঞ্চলে বিগত কয়েক দশক ধরে উজানে পানি প্রত্যাহারের কারণে পানীয় জলের বিরাট সমস্যা দেখা দিয়েছে। যারা দক্ষিণাঞ্চলের অধিবাসী অথবা আপনারা যদি তাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাহলে জানতে পারবেন যে সুপেয় পানি কীভাবে মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের।"
মন্ত্রী বলেন, "সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে আমাদের দায়িত্ব মানুষের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়া। সেই উদ্দেশ্যে আমরা কীভাবে জাতিসংঘের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারি, তার অর্থায়ন কীভাবে হবে, সেটি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।"
সুপেয় পানির জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পে ব্যয়ের পরিমাণ জানতে চাইলে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, "আজকে আমরা সম্মিলিতভাবে যে প্রকল্প নিয়ে আলাপ করেছি, সেখানে শুধু ইউনিসেফ নয়; বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে। সবাইকে মিলিয়ে যোগ করলে প্রায় এটা ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউএস ডলারের দাঁড়াবে। তার অর্থ হচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার মতো।"
মন্ত্রী জানান, বৈঠকে ইউনিসেফ ছাড়াও বিশ্বব্যাংক ও ওয়াটারএইডের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, "এসব সংস্থাকে নিয়ে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করার চেষ্টা চলছে।"
মন্ত্রী বলেন, "আমাদের যে লিড মিনিস্ট্রি, যেটাকে আপনারা এলজিআরডি বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান একটি প্রধান কাজ হচ্ছে মানুষের যে জীবন, যে পানি, সেই নিরাপদ পানি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।"
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় দাতা সংস্থার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পেয়ে আসছে। তবে সেই সহায়তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ফরচুনেটলি বাংলাদেশ কিন্তু বাইলেটারাল এবং মাল্টিলেটারাল ডোনার উভয়পক্ষ থেকে যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা সহায়তা আমরা পেয়েছি। তবে, আমি কিন্তু খোলাখুলি একটা কথা বলবো, সেই সহায়তা কিন্তু আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি নাই। বর্তমানে বিদেশি অর্থায়নের পরিমাণও কমে আসছে। ধনী দেশগুলো নিজেরাও অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়ায় দরিদ্র দেশগুলোর জন্য সহায়তার পরিমাণ কমছে।"
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, "আজকে বাংলাদেশে দীর্ঘ ১৭ বছর পরে যখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার ফিরে এসেছে, আমরা যেভাবে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার গঠন করে মানুষের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি, সেই পরিস্থিতিতে বিগত ১৭ বছরে যে অপচয় হয়েছে, যে দুর্নীতি হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের, যারা তাদের গায়ের রক্ত জল করে, যারা পরিশ্রম করে এই দেশকে তারা গড়ে তুলেছে, তাদের সেই সম্পদ যে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল বিগত ১৭ বছরে, আমরা সেটা বন্ধ করেছি ইতিমধ্যেই, আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে।"
তিনি বলেন, "ভবিষ্যতে আমি বিশ্বাস করি এই দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করে আমরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে, জনগণের সেবায় সঠিকভাবে নিয়োজিত করবো।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ