মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে খাবার বিতরণ করতে গিয়ে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই-ICE) এক অফিসারের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলার যুবক উইলবার রাফায়েল গারসেস পেরেজ। এ তথ্য জানিয়েছেন তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে উত্তর অস্টিনে। পেরেজের শরীরের ওপরের অংশে গুলি লাগে। প্রথমে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে গুরুতর তবে স্থিতিশীল অবস্থায় পাওয়া যায় বলে স্থানীয় জরুরি চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আইনজীবী জানান, পেরেজ খাবার সরবরাহের (ফুড ডেলিভারি) কাজ করছিলেন। অভিবাসন অফিসাররা তার গাড়িকে অনুসরণ করার পর এ ঘটনা ঘটে। টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, নীল রঙের একটি গাড়িকে ধাওয়া করার জন্য অভিবাসন অফিসাররা সহায়তা চেয়েছিলেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় একটি গাঢ় রঙের গাড়ির পাশে নীল গাড়ি থেমে আছে। এরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। ভিডিওতে গুলি চালানোর পুরো ঘটনা স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।
অস্টিন পুলিশ জানিয়েছে, গুলি চালানোর সময় তাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পরে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির চালককে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেন।
আইনজীবীর দাবি
পেরেজের আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফিঞ্চ জানিয়েছেন, পেরেজ যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে প্রবেশ করেছিলেন এবং একটি মানবিক অনুমতিপ্রাপ্ত কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে এসেছিলেন। তার বৈধ কাজের অনুমতিপ্রত্রও ছিল বলে আইনজীবীর দাবি।
তবে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, পেরেজ বাইডেন প্রশাসনের সময় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে দেশ থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল। ঘটনার তদন্ত করছে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্ত বিভাগ, এতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাও সহায়তা করছে বলে জানানো হয়েছে।
আইনজীবী আরও জানান, পেরেজকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দেওয়ার পর অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে টেক্সাসের পিয়ারসালের দক্ষিণ টেক্সাস অভিবাসন আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
পেরেজের পিঠে এখনও গুলি আটকে রয়েছে বলে তার আইনজীবীর কার্যালয় জানিয়েছে। আইনজীবীর দাবি, গুলিটি মেরুদণ্ডের কাছাকাছি থাকায় চিকিৎসকেরা তা বের করেননি। পেরেজ তার আইনজীবীকে জানিয়েছেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং শুরুতে প্রয়োজনীয় ব্যথানাশকও দেওয়া হয়নি।
পেরেজের স্ত্রী বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি বলে আইনজীবী জানিয়েছেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর পেরেজ স্ত্রীকে ফোন করে জানান যে তাকে গুলি করা হয়েছে। কথা বলার সময় তিনি প্রচণ্ড ব্যথায় চিৎকার করছিলেন এবং একপর্যায়ে ফোন কেটে যায়।
হাসপাতাল থেকে নেওয়া হয় অভিবাসন হেফাজতে। আইনজীবী জানান, তিনি পেরেজের স্ত্রীর সঙ্গে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তার শারীরিক অবস্থার খবর নিতে। কিন্তু তাদের হাসপাতাল চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পরে অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি জানতে চান। আইনজীবীর দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরে নিশ্চিত করে যে পেরেজকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পেরেজের চিকিৎসা নেওয়া হাসপাতাল এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার পর অস্টিনের মেয়র কার্ক ওয়াটসন স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শহরের পুলিশ এ অভিযানে জড়িত ছিল না। অস্টিনের পুলিশ প্রধান লিসা ডেভিস জানান, ঘটনাস্থলে অল্প সময়ের একটি পায়ে হেঁটে ধাওয়া করার ঘটনা ঘটেছিল এবং পুলিশ তদন্তকারীরা সেখানে ছিলেন।
টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, তাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।
পেরেজের আইনজীবী প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তার মক্কেলকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং তার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে পরিবারকে পরিষ্কার তথ্য দেওয়া হয়নি।
ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ
গুলির ঘটনার পর উত্তর অস্টিনে বহু মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। কেউ কেউ অভিবাসন অভিযান বন্ধের দাবিতে প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
রাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে টেক্সাসের জননিরাপত্তা বিভাগের সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটকানোর ঘটনাও ঘটে। রাত ১১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লাতিন আমেরিকান বংশোদ্ভূত নাগরিকদের বৃহত্তম অধিকার সংগঠনও অভিবাসন আইন প্রয়োগের ওপর স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
ট্রাভিস কাউন্টির সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ও তদন্তে সমান অংশীদার হওয়ার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার দাবি জানিয়েছে।
আইনপ্রণেতাদের প্রতিক্রিয়া
টেক্সাসের কংগ্রেস সদস্য গ্রেগ কাসার ঘটনার স্বাধীন তদন্ত, গুলির সময় ধারণ করা ক্যামেরার সব ফুটেজ প্রকাশ এবং আইন ভঙ্গ করে থাকলে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
টেক্সাসের আরেক কংগ্রেস সদস্য হোয়াকিন কাস্ত্রোও ঘটনার পূর্ণ জবাবদিহি দাবি করেছেন।
এদিকে, টেক্সাসের একটি আসনের জন্য সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জেমস তালারিকোও ঘটনাটি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছেন এবং তদন্তের দাবি করেছেন।
দেশজুড়ে অভিবাসন অভিযান জোরদার
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি গ্রীষ্মে অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান জোরদার হয়েছে। জুলাই ও আগস্টে প্রথমবারের মতো প্রতি মাসে ৫০ হাজারের বেশি গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা।
অস্টিনের ঘটনাটি টেক্সাসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলির আরেকটি ঘটনা। এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে হিউস্টনে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউখো নামে মেক্সিকোর এক নাগরিককে অভিবাসন কর্মকর্তা গুলি করে হত্যা করেন। ওই ঘটনার তদন্তও চলছে।
অস্টিনের সাম্প্রতিক গুলির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা শরীরে ধারণ করা ক্যামেরা ব্যবহার করেছিলেন কি না এবং পেরেজকে লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছিল কি না—এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দেয়নি।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে শিশুদের বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ হলো গৃহপালিত বা উঠানের পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) পাখির সংস্পর্শে আসা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে চার শিশুর শরীরে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (এইচ৫এন১) বা বার্ড ফ্লু শনাক্ত করা হয়েছে। চলতি বছরে দেশে এ সংক্রমণের চতুর্থ মানব কেসটি শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত চার শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর সর্বশেষ ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা অ্যাট দ্য হিউম্যান-অ্যানিমেল ইন্টারফেস: সামারি অ্যান্ড রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হাঁস ও মুরগির সংস্পর্শে আসার সঙ্গে এসব সংক্রমণের সম্পর্ক রয়েছে।
গত ৮ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দুই বছরে আবারও এ ধরনের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের গৃহপালিত হাঁস-মুরগির সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সর্বশেষ আক্রান্ত শিশুটি রংপুর বিভাগের। ১৫ আগস্ট তার জ্বর, কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়ার উপসর্গ দেখা দেয়। দুই দিন পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আক্রান্তের বিষয়টি যখন জানা যায়, তখন শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল বলে জানান চিকিৎসকরা।
শিশুটি সাম্প্রতিক সময়ে কোথাও ঘুরতে যায়নি। তবে নিজ বাড়ি ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে হাঁস-মুরগির সংস্পর্শে এসেছিল সে। এর মধ্যে অসুস্থ হাঁস-মুরগিও ছিল।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে শনাক্ত হওয়া এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার সব সংক্রমণই শিশুদের মধ্যে হয়েছে। আমরা সংক্রমণের সঙ্গে হাঁস-মুরগির সংস্পর্শে আসার যোগসূত্র পেয়েছি। হাঁস-মুরগির মাংস বা অন্যান্য পণ্য খাওয়ার চেয়ে সরাসরি সংস্পর্শ থেকেই সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
ডা. জাকী বলেন, আক্রান্ত বা অসুস্থ হাঁস-মুরগি ধরার সময়, জবাই করার সময় কিংবা সরাসরি সংস্পর্শে এলে ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তিনি বলেন, ভালোভাবে রান্না করা হাঁস-মুরগির মাংস খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি নেই।
এইচ৫এন১ একটি জুনোটিক রোগ, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। তিনি বলেন, তাই খামার ও হাঁস-মুরগির নিয়মিত নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। হাঁস-মুরগির নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। সংক্রমিত পাখি শনাক্ত হলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে তাদের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। উৎসেই ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হবে না।
২০০৩ সালের পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ১৭ জনের এইচ৫এন১ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন—একজন ২০১৩ সালে এবং অন্যজন চলতি বছরের শুরুতে। ২০২৫ সালে তিনজন আক্রান্ত হলেও কারও মৃত্যু হয়নি। আর ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঘটনা শনাক্ত হয়নি।
২০২৬ সালে এইচ৫এন১-এ প্রথম মারা যায় চট্টগ্রাম বিভাগের এক শিশু। ১ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়। পরে ৭ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষায় তার এইচ৫এন১ সংক্রমণ নিশ্চিত হয়। রংপুরের সর্বশেষ ঘটনাটির আগে সিলেট বিভাগের আরও দুই শিশুর এইচ৫এন১ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল।
শিশুদের হাঁস-মুরগি থেকে দূরে রাখার পরামর্শ
চলতি বছর চার শিশুর এইচ৫এন১ এ সংক্রমিত হওয়ায় মহামারি পরিস্থিতির ঝুঁকি তৈরি করছে। এ কারণে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন।
ডা. মুশতাক বলেন, এইচ৫এন১ একটি এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এবং আমরা এটিকে মহামারির ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করি। মানুষের মধ্যে নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি এটাও দেখায় যে আমাদের নজরদারি ব্যবস্থা কাজ করছে—অন্তত আমরা আক্রান্তদের শনাক্ত করতে পারছি। আগে কোনো খামারে সংক্রমণ শনাক্ত হলে হাঁস-মুরগি মেরে ফেলা হতো। তবে এখন অনেক ক্ষেত্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু টিকা দিলেও ভাইরাস নির্মূল হয় না।
তিনি বলেন, টিকা দিলে মুরগির মৃত্যু কমে, কিন্তু ভাইরাসের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয় না। এতে ভাইরাসের ঘনত্ব বেড়ে যেতে পারে এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। গ্রামাঞ্চলে শিশুরা প্রায়ই গৃহপালিত হাঁস-মুরগির সঙ্গে খেলা করে বা সেগুলো ধরে। এতে তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশুদের গৃহপালিত হাঁস-মুরগি স্পর্শ করা থেকে বিরত রাখতে হবে।
হাঁস-মুরগির খামারের কর্মী ও জীবন্ত হাঁস-মুরগি বিক্রেতাদের জন্য মাস্ক ও গ্লাভস পরা এবং কাজ শেষে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক করারও পরামর্শ দেন তিনি।
প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারেন
ডা. মুশতাকের মতে, এইচ৫এন১ ভাইরাসে শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারেন। ভাইরাসটি মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে নতুন হওয়ায় বেশির ভাগ মানুষের শরীরে এর বিরুদ্ধে আগে থেকে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নেই।
তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে এ সংক্রমণ বেশি শনাক্ত হতে পারে, তবে প্রাপ্তবয়স্করাও ঝুঁকিতে রয়েছেন। যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে আরও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা উচিত।
দেশে মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা চালুর বিষয়টিও বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০০৩ থেকে ২০২৬ সালের সম্মিলিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (এইচ৫এন১) সংক্রমণের ১ হাজার ৩টি কেস নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৭৯ জনের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস একটি নতুন সরাসরি সম্প্রচার চ্যানেল চালু করেছে, যার নাম ‘ট্রাম্প টিভি’৷
চ্যানেলটির সম্প্রচার সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শুরু হয়। এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প টিভিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, বিভিন্ন ভিডিও এবং উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ২৪ ঘণ্টা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এই বিষয়গুলো নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হবে।
চ্যানেলটি চালু হওয়ার পর সেখানে গত ৩ জুলাই মাউন্ট রাশমোরে ট্রাম্পের দেওয়া একটি বক্তব্যের পুরোনো ভিডিও সম্প্রচার করা হচ্ছিল।
এই চ্যানেলটির উদ্বোধন এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত শুক্রবার ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। পরে, ওই তিন সংবাদমাধ্যম প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে।
এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক—এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স ও এনবিসি—হোয়াইট হাউসের যৌথ সংবাদ সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ রাখে। সেদিন সিএনএন হোয়াইট হাউসের টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকার কথা ছিল।
সাধারণত, হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও প্রেসিডেন্টের কার্যক্রমের ভিডিও ধারণের জন্য এক বা একাধিক সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সেই ভিডিও ব্যবহার করতে পারে। এই ব্যবস্থাকেই যৌথ সংবাদ সংগ্রহ বলা হয়।
পাঁচটি বড় সংবাদমাধ্যম এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, "সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক ও স্বাধীন তথ্য পাওয়ার অধিকার জনগণের রয়েছে। কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত নয়।"
ট্রাম্প দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এসব সংবাদমাধ্যম তার প্রশাসন সম্পর্কে মিথ্যা বা নেতিবাচক খবর প্রকাশ করে।
সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণার পরও ট্রাম্প নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘ক্যানসার’ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক প্রচারণা চালানোর অভিযোগ করেছেন। তবে তিনি বলেন, এসব সংবাদমাধ্যম এখনও খবর প্রকাশ করতে পারবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও থাকবে।
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর শনিবার সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাদের সংবাদকর্মীদের প্রবেশপত্রও বাতিল করা হয়।
এই তিন সংবাদমাধ্যম আদালতে গিয়ে এই সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করার আবেদন করেছে। তাদের দাবি, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার বাতিলের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বুধবার এ বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ওই তিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তারা হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করবে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরোধের মধ্যেই সোমবার হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধন করেন ট্রাম্প। তবে বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো যৌথ সংবাদ সংগ্রহ বন্ধ রাখায় অনুষ্ঠানটি তাদের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়নি।
হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ওয়েবসাইটে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হলেও ট্রাম্পের বক্তব্যের পুরো শব্দ শোনা যায়নি।
এএফপিসহ কয়েকটি আলোকচিত্র সংবাদমাধ্যমও নিষিদ্ধ তিন সংবাদমাধ্যমের প্রতি সংহতি জানিয়ে হেলিপ্যাড উদ্বোধনের ছবি প্রকাশে বিলম্ব করে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের এই বিরোধের মধ্যে ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হলো। নতুন চ্যানেলটিতে ট্রাম্পের বক্তব্য, ভিডিও এবং হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের পাশাপাশি পুরোনো গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যও দেখানো হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বড় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলো হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা দেশটির সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
সূত্র: এএফপি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এক সময় গ্রামাঞ্চলে শীতলপাটির ব্যাপক চাহিদা ছিল। গরমের দিনগুলোতে মেঝেতে শীতলপাটি বিছানো স্বস্তি দিত, এবং এটি বাঙালির লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রা বদলেছে। প্লাস্টিক, ফোম ও আধুনিক উপকরণের প্রভাবের কারণে শীতলপাটির ব্যবহার কমে গেছে, ফলে এর সঙ্গে জড়িত কারিগরদের জীবনও সংকটে পড়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চার শিক্ষার্থী এই হারাতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা শীতলপাটির প্রচলিত ব্যবহারকে ছাড়িয়ে নান্দনিক স্যান্ডেল তৈরি করছেন। ঐতিহ্যবাহী উপকরণকে আধুনিক নকশা ও ব্যবহারিক প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের এই উদ্যোগ পুরোনো গল্পকে নতুনভাবে বুনে দেওয়ার চেষ্টা।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নাম ‘বুনন বাজার’। দলের সদস্য অপূর্ব কৃষ্ণ দে ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। বাকি তিনজন ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের আবির দে, মো. আশিক মিয়া ও চৌধুরী খুবাইব বিন করিম। তাদের উদ্যোগের মাধ্যমে শীতলপাটিকে নতুনভাবে নকশা করে স্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের বাড়ি থেকে ভাবনার শুরু
শীতলপাটি থেকে স্যান্ডেল তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে অপূর্ব কৃষ্ণ দের হাত ধরে। তার বাড়ি টাঙ্গাইলে। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন, পরিবারের অনেক সদস্য মূর্তা বা বেতি গাছ চাষ এবং শীতলপাটি তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন। শীতলপাটির কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে কারিগরদের কাজ; সবকিছুই ছিল তার পরিচিত।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি লক্ষ্য করেন, শীতলপাটির প্রচলিত ব্যবহার কমে যাচ্ছে। এই চিন্তা থেকেই তার মাথায় নতুন ভাবনা আসে। তিনি ভাবেন, ঐতিহ্যবাহী উপকরণকে যদি নতুন কোনো পণ্যে ব্যবহার করা যায়?
সেই ভাবনা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। নকশা তৈরি, উপকরণ সংগ্রহ, নমুনা বানানো—একটির পর একটি ধাপ পেরিয়ে তারা এগোতে থাকেন শীতলপাটির স্যান্ডেল তৈরির দিকে।
শীতলপাটি দিয়ে স্যান্ডেল বানানোর চিন্তাটা কিভাবে মাথায় এলো জানতে চাইলে অপূর্ব কৃষ্ণ দে আরটিভিকে বলেন, "শীতলপাটি দিয়ে স্যান্ডেল বানানোর মূল চিন্তাটা প্রথমে আমার মাথায় আসে। আমার বাড়ি টাঙ্গাইলে। আমাদের পরিবারের অনেকেই মূর্তা বা বেতি গাছ চাষ এবং শীতলপাটি তৈরির সঙ্গে যুক্ত। ছোটবেলা থেকেই শীতলপাটির কাঁচামাল এবং কারিগরদের কাজ খুব কাছ থেকে দেখে এসেছি। সেখান থেকেই একটা চিন্তা আসে যে শীতলপাটিকে যদি শুধু প্রচলিত ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক কোনো পণ্যে রূপান্তরিত করা যায় কিনা।"
শীতলপাটি থেকে পায়ের উপযোগী স্যান্ডেল
শীতলপাটি সাধারণত মেঝেতে ব্যবহারের জন্য তৈরি হলেও, মানুষের পায়ের চাপ, হাঁটার সময় বাঁকানো এবং নিয়মিত ব্যবহার; সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সেটিকে স্যান্ডেলে রূপ দেওয়া সহজ ছিল না।
প্রথম দিকে মাপ, আকৃতি, কাটিং, ফিতার অবস্থান ও তলার কাঠামো নিয়ে একাধিকবার নমুনা তৈরি করতে হয়েছে। নিজেদের ব্যবহার, বন্ধুদের মতামত এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নকশা বদলাতে হয়েছে।
অপূর্ব বলেন, "প্রথম দিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল শীতলপাটিকে আরামদায়ক ও টেকসই স্যান্ডেলে রূপ দেওয়া। মাপ, আকৃতি, কাটিং, ফিতার অবস্থান ও তলার কাঠামো নিয়ে কয়েক দফা নমুনা তৈরি করে পরীক্ষা করতে হয়েছে। নিজেরা ব্যবহার করে দেখা, ক্রেতাদের মতামত নেওয়া এবং বারবার সংশোধনের মাধ্যমে নকশা ও গঠনে উন্নতি আনা হয়েছে। একই সঙ্গে শীতলপাটির স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও বুনন বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।"
তাদের কাছে শুধু স্যান্ডেল তৈরি করাই লক্ষ্য ছিল না। শীতলপাটির নিজস্ব সৌন্দর্য যেন নষ্ট না হয়, আবার পণ্যটিও যেন ব্যবহারকারীর কাছে আরামদায়ক হয়—এ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
চার শিক্ষার্থীর কাছে শীতলপাটির স্যান্ডেল শুধু একটি পণ্য নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের গল্প।
তাদের স্যান্ডেলে তাই একদিকে রয়েছে আধুনিক নকশা, অন্যদিকে শীতলপাটির পরিচিত বুনন। দেশীয় কারুশিল্পকে নতুন প্রজন্মের রুচি ও ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত করাই তাদের মূল ভাবনা।
দলের আরেক সদস্য আশিক মিয়া আরটিভিকে বলেন, "আমাদের কাছে এটি শুধু একটি স্যান্ডেল নয়; এর সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি শিল্প ও কারিগরদের গল্প জড়িয়ে আছে। ঐতিহ্যকে শুধু সংরক্ষণ না করে আধুনিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। তাই শীতলপাটিকে নতুনভাবে ব্যবহার করে এমন একটি পণ্য তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠতে পারে।"
শুরুতে ছিল সংশয়, এখন সহযোগিতা
নতুন কোনো ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করলে সংশয় থাকা স্বাভাবিক। শীতলপাটি দিয়ে স্যান্ডেল তৈরির বিষয়টিও শুরুতে পরিবার ও বন্ধুদের কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল।
তবে প্রথম প্রোটোটাইপ তৈরি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং ক্রেতাদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর তাদের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি এই কাজ চালিয়ে যাওয়া অবশ্য সহজ নয়। ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক ব্যস্ততার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পণ্যের নকশা, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের পরিকল্পনাও করতে হচ্ছে তাদের।
অপূর্ব বলেন, "শুরুতে শীতলপাটি দিয়ে স্যান্ডেল তৈরির ধারণাটি পরিবার ও বন্ধুদের কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হলেও, প্রোটোটাইপ তৈরি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং গ্রাহকদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর তাদের আগ্রহ ও সহযোগিতা বেড়ে যায়। বন্ধুরা প্রোটোটাইপ ব্যবহার করে আরাম, নকশা ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে মতামত দিয়েছেন।"
বাজারে যখন নানা ধরনের স্যান্ডেল পাওয়া যায়, তখন একজন ক্রেতা কেন শীতলপাটির স্যান্ডেল কিনবেন; প্রশ্নটি তাই স্বাভাবিক।
আশিকের মতে, "শুধু শীতলপাটি দিয়ে তৈরি বলেই একজন ক্রেতা স্যান্ডেলটি কিনবেন—এমনটা তারা মনে করেন না। বরং পণ্যের আরাম, ব্যবহারযোগ্যতা ও নকশাকেই তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন।"
তিনি বলেন, "ক্রেতারা শুধু শীতলপাটি দিয়ে তৈরি বলেই স্যান্ডেলটি কিনবেন—এমন নয়। আরাম, ব্যবহারযোগ্যতা ও আধুনিক নকশাকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি এই স্যান্ডেলে দেশীয় কারুশিল্প, স্বতন্ত্র নকশা ও ঐতিহ্যের গল্প যুক্ত হয়েছে। লক্ষ্য হলো, ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটিকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করে এমন একটি স্যান্ডেল তৈরি করা, যা দেশীয় হওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী।"
তাদের কাছে ঐতিহ্য পণ্যের পরিচয়ের একটি অংশ; কিন্তু পণ্যটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে সেটিকে ব্যবহারকারীর প্রয়োজনও পূরণ করতে হবে।
প্রতিযোগিতা পেরিয়ে বাজারের পথে
‘বুনন বাজার’ এখন আর শুধু চার শিক্ষার্থীর পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এরই মধ্যে সাড়া পেয়েছে তারা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছে ‘বুনন বাজার’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায়ও সেরা আটে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। সেখানে আকিজ রিসোর্সেসের পৃষ্ঠপোষকতায় চার সদস্যই পেয়েছেন ইন্টার্নশিপের সুযোগ।
গত ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারেও প্রদর্শিত হয়েছে তাদের উদ্যোগ। সেখানে দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও পেয়েছে প্রশংসা। এই পথচলায় অর্থায়নের পাশাপাশি আর্থ সোসাইটির মেন্টরশিপ ও ব্যবসায়িক দিকনির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে সামনে রয়েছে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। পণ্যের মান ঠিক রেখে উৎপাদন খরচ কমানো, উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো এবং আরও বেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছানো এখন তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
এক সময় যে শীতলপাটি ছিল কেবল ঘরের শীতলতার উপকরণ, সেটিই এখন হয়ে উঠছে ফ্যাশন ও সৃজনশীলতার অংশ। ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে নয়, বরং তাকে নতুনভাবে ব্যবহার করেই যে বাঁচিয়ে রাখা যায়—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চার শিক্ষার্থীর উদ্যোগ যেন তারই একটি ছোট্ট উদাহরণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সরকারের পক্ষ থেকে আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেন উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আইন, ২০২২-এর ধারা-১০(২) অনুযায়ী, তানজিম ইবনে ওয়াহাবকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ