ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ম্যানসিটির সমর্থকদের হাতে কলা, কেন এই ব্যতিক্রমী আয়োজন?


ম্যানসিটির সমর্থকদের হাতে কলা, কেন এই ব্যতিক্রমী আয়োজন?

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে স্বাধীন কমিশনের রায় ঘোষণার পর ক্লাবটির প্রতি সমর্থন জানাতে অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সমর্থকরা। লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে ম্যাচের পূর্বে আকাশে শত শত বাতাসভরা কলা উড়িয়ে পুরোনো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করেন তারা।

২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন কমিশন রায় প্রদান করে। তবে ক্লাবটি সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং নিজেদের অবস্থানের পক্ষে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছে সিটি।

রায়ের পর প্রিমিয়ার লিগে এটি ছিল সিটির প্রথম ম্যাচ। প্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুলের সমর্থকদের কাছ থেকে ম্যাচজুড়ে সিটির খেলোয়াড়রা দুয়ো ও ব্যঙ্গের মুখে পড়েন। অন্যদিকে, নিজেদের খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন জানাতে হাততালি দেন সিটির সমর্থকরা। পাশাপাশি আকাশে উড়ানো হয় শত শত বাতাসভরা কলা।

আরও পড়ুন: শূন্য রান করেও ম্যাচের নায়ক ম্যাক্স ফিল্ড, খেললেন ১৩২ বল

ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকদের কলা উড়ানোর পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের পুরোনো ইতিহাস। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে দ্বিতীয় বিভাগে অবনমনের পর বাতাসভরা কলা ক্লাবটির সমর্থকদের কাছে এক ধরনের প্রতীকে পরিণত হয়।

এই ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাবেক স্ট্রাইকার ইমরে ভারাদির নাম। সমর্থকদের কাছে তিনি ‘ইমরে বানানা’ নামে পরিচিত ছিলেন। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, ফ্রাঙ্ক নিউটন নামের এক সমর্থক পরবর্তী সময়ে মাঠে বাতাসভরা কলা নিয়ে আসেন। এরপর ধীরে ধীরে সিটির ম্যাচে কলা নিয়ে আসার রীতি ছড়িয়ে পড়ে।

লিভারপুল ম্যাচের আগে সমর্থকদের কাছে কলা বিক্রি করা দান্তে ফ্রেন্ড জানান, ভারাদিকে ‘ইমরে বানানা’ নামে ডাকতেন একজন সমর্থক। পরবর্তী ম্যাচে ফ্রাঙ্ক নিউটন বাতাসভরা কলা নিয়ে আসেন এবং এরপর অন্য সমর্থকরাও এই রীতিতে যোগ দেন।

আশির দশকের শেষ দিকে ইংলিশ ফুটবলে গ্যালারিকেন্দ্রিক সহিংসতা ও উত্তেজনার মধ্যে এই আয়োজন সমর্থকদের জন্য হাস্যরসের উপলক্ষ হয়ে উঠেছিল। দান্তে ফ্রেন্ডের ভাষ্য, সমর্থকদের বড় একটি অংশ মারামারির বদলে আনন্দ-উৎসবেই অংশ নিতেন।

আরও পড়ুন: রিয়ালের জয় ছাপিয়ে গুলারের লাল কার্ড বিতর্ক

সমর্থকদের সংগঠন ‘১৮৯৪’ এই আয়োজনের প্রচারে ভূমিকা রাখে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ও সমালোচনার মধ্যে খেলায় আনন্দ ফিরিয়ে আনা এবং নিজেদের ক্লাবের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা।

অন্যদিকে, অ্যানফিল্ডে সিটির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন লিভারপুলের সমর্থকরা। ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামের বাইরে সিটির খেলোয়াড়দের ছবি ব্যবহার করে ‘দোষী’ ও ‘প্রতারক’ লেখা পতাকা এবং স্কার্ফ বিক্রি করা হয়। খেলা শুরুর আগে লিভারপুলের টিম বাসকে স্বাগত জানাতে রাস্তার দুই পাশে ভিড় করেন সমর্থকরা।

ম্যাচ চলাকালে সিটির খেলোয়াড়রা বল স্পর্শ করলেই দুয়ো দেন স্বাগতিক সমর্থকরা। মাঠের এক কোণে প্রদর্শিত একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘সমর্থকদের একটি প্রজন্মকে প্রতারিত করা হয়েছে।’

এদিকে, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে স্টেডিয়ামের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করে মার্সিসাইড পুলিশ। লিভারপুলের টিম বাস বিপুলসংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতিতে স্টেডিয়ামে পৌঁছালেও সিটির দুটি বাস বিকল্প ও তুলনামূলক শান্ত পথ ব্যবহার করে মাঠে প্রবেশ করে।

আরও পড়ুন: সালমান আগার সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে পাকিস্তানের জয়

সব মিলিয়ে, অ্যানফিল্ডে বাতাসভরা কলা উড়ানোর ঘটনা শুধুমাত্র একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন নয়; বরং এটি ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকদের কাছে পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বিতর্কের মধ্যেও প্রিয় ক্লাবের পাশে থাকার প্রতীক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিটনের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৪৪৩ রানের লিডের পাহাড়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


লিটনের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৪৪৩ রানের লিডের পাহাড়ে

আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনটি টাইগারদের দখলে চলে এসেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) শেষ বিকেলে ১১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর আজকের প্রথম সেশনে আফগানিস্তানের বোলারদের হতাশায় ফেলেছেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। সপ্তম উইকেট জুটিতে তারা লিডকে সাড়ে চারশর কাছাকাছি নিয়ে গেছেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) লাঞ্চ ব্রেকের আগে বাংলাদেশ ৪৪৩ রানের লিড অর্জন করেছে। গতকাল ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে দিন শেষ করা বাংলাদেশ আজ প্রথম সেশনে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১১৪ রান যোগ করেছে। লিটন দাস সেঞ্চুরির পথে রয়েছেন, এবং তাকে ভালো সঙ্গ দিচ্ছেন মিরাজ।

প্রথম ইনিংসে ৫৩ রানে আউট হওয়া লিটন ৯৬ বলে ১১ চারে ৮১ রানে ব্যাট করছেন। অপরদিকে, মিরাজ ৭৪ বলে ৪ চারে ৩৮ রানে অপরাজিত আছেন।

এর আগে, গতকাল শেষ বিকালে সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে আউট হয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মুশফিক ৮১ ও শান্ত ৮২ রান করে বিদায় নেন। এরপর নাইট ওয়াচম্যান হাসান মাহমুদও ১ রান করে আউট হয়ে গেলে বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়ে।

কিন্তু আজ সকালের সেশনে লিটন-মিরাজ জুটির দুর্দান্ত ব্যাটিং বাংলাদেশকে পাহাড়সমান লিড এনে দিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁয় ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসব’: কাগজের ভাঁজে আবেগের রঙিন প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


নওগাঁয় ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসব’: কাগজের ভাঁজে আবেগের রঙিন প্রকাশ

‘চিঠির পাতায় লেখা সত্যিকারের অনুভূতি কখনো মুছে ফেলা যায় না, মানুষ ভুলে গেলেও শব্দগুলো হৃদয়ে নিজের জায়গা রেখে যায়’— এই আবেগঘন বার্তা সামনে রেখে নওগাঁয় একটি ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এই উৎসবের আয়োজন করে, যা আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া চিঠি লেখার ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে। নওগাঁ সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে কলেজের শত শত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকেই কলেজ চত্বর শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা খুদে বার্তার (এসএমএস) ডিজিটাল যুগে কাগজে কলমে মন খুলে লেখার এই অনন্য সুযোগ তৈরি করে তরুণ-তরুণীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা। ডিজিটাল যুগে চিঠির খাম ও ডাকটিকিটের বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেকের জন্য রোমাঞ্চকর ছিল।

উৎসবস্থলে শিক্ষার্থীরা বসে তাদের বাবা-মা, ভাই-বোন, শৈশবের প্রিয় বন্ধু কিংবা প্রিয় মানুষদের উদ্দেশ্যে নিজেদের মনের কথা লেখে। চিঠি লেখার পর সবাই সেগুলো নিজ হাতে কলেজ মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঐতিহ্যবাহী লাল ডাকবাক্সে ফেলে। এই আয়োজনে অংশ নেওয়া সকল শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রিয়জনের কাছে চিঠি পাঠানোর সুযোগ পায়।

উৎসবের উদ্বোধন করেন ডাক বিভাগ রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ উপ-ডাক বিভাগের পরিদর্শক মো. সানোয়ার হোসেন, নওগাঁ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মু. হযরত আলী, বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মো. ইদ্রিস আলী শেখ এবং শহর পরিদর্শক মো. সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নওগাঁ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিয়ান শারমিন উচ্ছ্বাস নিয়ে বলেন, "জীবনে এই প্রথম কাগজে কলমে চিঠি লিখলাম। মেসেঞ্জার বা ফোনে প্রতিনিয়ত কথা হলেও মনের অনুভূতি হাতে লিখে জানানোর আনন্দ যে কতটা গভীর, তা আজ না লিখলে বুঝতেই পারতাম না।"

গণিত বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম ফয়সাল বলেন, "সবশেষ ২০১১ সালে একটি চিঠি লিখেছিলাম। দীর্ঘ সময় পর আজ দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি লিখলাম। বিনামূল্যে চিঠি পাঠাতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।"

ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উৎসবে জমা হওয়া প্রতিটি চিঠি ডাক বিভাগের তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। তারা বলেন, দ্রুত যোগাযোগের নানান আধুনিক মাধ্যম চালু হলেও চিঠির আবেগী টান ও চিরন্তন গুরুত্ব আজও অপরিবর্তনশীল। তরুণ প্রজন্মকে চিঠি লেখায় উৎসাহিত করতে এবং ডাকসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

তাছাড়া, যুগের চাহিদা মেনে ডাক বিভাগের সেবা ডিজিটাল করা হয়েছে উল্লেখ করে কর্মকর্তারা জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্পিড পোস্ট সেবার মাধ্যমে মালামাল পৌঁছে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ডাকসেবা গ্রহণের আগ্রহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাজমিন কেন ভুল সময়ে বাসে উঠেছিল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


তাজমিন কেন ভুল সময়ে বাসে উঠেছিল?

কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফিরে আসতে সাধারণত ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা সময় লাগে। অধিকাংশ যাত্রী সাধারণত রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে নাইট কোচে রওনা হন, যাতে ভোরের আলোয় কুমিল্লায় পৌঁছানো সম্ভব হয়। কিন্তু কুমিল্লার স্কুলশিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) কেন দুপুরে কক্সবাজার থেকে বাসে উঠেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তাজমিনের যাত্রার সময়, টিকিট কেনা এবং গভীর রাতে কুমিল্লায় পৌঁছানোর বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষভাবে, একা ভ্রমণকারী একজন কিশোরীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কেন এই বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।

কক্সবাজার আইকনিক বাসের টিকিট কাউন্টারের কর্মী আবদুল্লাহ মন্তব্য করেন, তাজমিন এবং তার সঙ্গী রিয়াজ উদ্দিন রাজু ওরফে রাজু চৌধুরীর বিষয়টি তাদের বোঝা উচিত ছিল। তিনি বলেন, "আমি বলতে চাইছিলাম ওদের, কিন্তু কাস্টমারের চয়েজ থাকতে পারে তাই বলা হয়নি।"

জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৯টার দিকে তারা টিকিট কাটতে যান। পরদিন বুধবার দুপুর ১২টার টিকিট তারা কেনেন। বাসটি দুপুর ১টার দিকে ছাড়ে। তাজমিন একা ভ্রমণ করায় তার জন্য একটি সিটের টিকিট কাটেন রাজু।

একজন কিশোরীর জন্য একক টিকিটের বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও দিনের বেলায় রওনা দিয়ে গভীর রাতে অপরিচিত শহরে পৌঁছানোর নিরাপত্তা নিয়ে কেন ভাবা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

রাজুর দাবি, কক্সবাজারে অবস্থানকালে তাজমিনের বাবা তাকে একাধিকবার ফোন করে অবস্থান জানতে চান এবং বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধ করেন। রাজু জানান, তাজমিনকে বাবার কাছে বলতে শুনেছিলেন, সে শিগগিরই বাড়ি ফিরবে। এরপর মঙ্গলবার রাতে তারা আইকনিক এক্সপ্রেস বাসের টিকিট কাটেন। পরদিন বুধবার বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন তাজমিন।

রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, তাজমিনকে নিরাপদে কুমিল্লার বাসায় পৌঁছানোর বিষয়ে তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ছিল। তবুও ঘটে যায় হত্যাকাণ্ড।

রাজু আরও দাবি করেন, হাতঘড়ি নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে তাজমিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তাজমিন তাকে জানিয়েছিলেন, তার সৎমা আছেন এবং আপন মা মারা গেছেন। পরে তিনি এক বান্ধবীর বাসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান। সেখান থেকে কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেই রাজুর সঙ্গে তাজমিনের যোগাযোগ শুরু হয়। এরপর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে তিনি কক্সবাজারে পৌঁছান।

তবে রাজুর এসব বক্তব্যের সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

পরিবারের দাবি, ৪ অক্টোবর তাজমিন বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিজের ইচ্ছামতো চলাফেরা করছিলেন। এ সময়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ থাকলেও তিনি কোথায় এবং কার কাছে ছিলেন, তা পরিবার নিশ্চিতভাবে জানতে পারেনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর তাজমিনের আইফোনের অবস্থান শনাক্ত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে তার যাতায়াতের তথ্য পাওয়া যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বাবা-মায়ের বারবার বাড়ি ফেরার তাগিদ এবং প্রয়োজনে তাকে নিতে যাওয়ার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাজমিন দ্রুত বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। তবে যাত্রার সময় এবং গভীর রাতে কুমিল্লায় পৌঁছানোর নিরাপত্তার বিষয়টি তার সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলেছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ঘটনার দিন বুধবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাজমিনের মা কেয়া খাতুন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মেয়েকে নিয়ে আসতে বান্ধবীর বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। এ জন্য বান্ধবীর নাম এবং তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও তাজমিন কিছু জানায়নি।

কেয়া খাতুন আরও জানান, মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগে থেকেই তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। কোনো অঘটন ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি। মেয়েকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করতেন এবং তার চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে খোঁজ নিতেন। কিন্তু এত সতর্কতার পরও মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

এদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তাজমিনের মা যে বান্ধবীর কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি বয়সে তাজমিনের চেয়ে বড় এবং কুমিল্লায় থাকেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তবে হত্যাকাণ্ডে ওই বান্ধবীর সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। একইভাবে রাজুর সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

পুলিশের ভাষ্য, তাজমিনকে হত্যার ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫) জড়িত। শনিবার রাতে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তদন্তের প্রয়োজনে আটক রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তথ্য যাচাই-বাছাই করতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা থেকে কক্সবাজারে গেছেন। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের পর তাজমিনের যাত্রা, তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

সচেতন নাগরিক কমিটি, কুমিল্লার সাবেক সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খানের মতে, রাজুর সঙ্গে তাজমিনের সম্পর্ক না থাকলে হয়তো তাকে কক্সবাজার যেতে হতো না। সে ক্ষেত্রে এমন বিপদের মুখে পড়ার আশঙ্কাও এড়ানো যেত বলে মনে করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে বাসে নেমে কুমিল্লা শহরের রেইসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন তাজমিন। পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাজমিন কেন দুপুরে বাসে উঠেছিলেন, গভীর রাতে কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর কী ঘটেছিল এবং কীভাবে তিনি হত্যার শিকার হলেন এসব প্রশ্নের কিছু উত্তর পুলিশের তদন্তে উঠে এলেও ঘটনার প্রতিটি দিক যাচাই করা এখনো জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে দেশের সবার প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন নেতৃবৃন্দ। পূজার ছুটি ও অনুদান বৃদ্ধি করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তারা। একইসঙ্গে, ঢাকা-১৭ আসনের ৮টি মন্দিরের প্রতিনিধিরা তাকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।

মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।”

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, “আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।”

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।”

তারেক রহমান বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহ আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।”

নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “একজন দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। তাদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভুল করেনি, তা এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর বারবার প্রমাণ হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে।

এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূর্জা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস, রাজিব কুমার আচার্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি ও বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও সেখানে ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%