ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নওগাঁয় ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসব’: কাগজের ভাঁজে আবেগের রঙিন প্রকাশ


নওগাঁয় ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসব’: কাগজের ভাঁজে আবেগের রঙিন প্রকাশ

‘চিঠির পাতায় লেখা সত্যিকারের অনুভূতি কখনো মুছে ফেলা যায় না, মানুষ ভুলে গেলেও শব্দগুলো হৃদয়ে নিজের জায়গা রেখে যায়’— এই আবেগঘন বার্তা সামনে রেখে নওগাঁয় একটি ব্যতিক্রমী ‘চিঠি উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এই উৎসবের আয়োজন করে, যা আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া চিঠি লেখার ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে। নওগাঁ সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে কলেজের শত শত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকেই কলেজ চত্বর শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা খুদে বার্তার (এসএমএস) ডিজিটাল যুগে কাগজে কলমে মন খুলে লেখার এই অনন্য সুযোগ তৈরি করে তরুণ-তরুণীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা। ডিজিটাল যুগে চিঠির খাম ও ডাকটিকিটের বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেকের জন্য রোমাঞ্চকর ছিল।

উৎসবস্থলে শিক্ষার্থীরা বসে তাদের বাবা-মা, ভাই-বোন, শৈশবের প্রিয় বন্ধু কিংবা প্রিয় মানুষদের উদ্দেশ্যে নিজেদের মনের কথা লেখে। চিঠি লেখার পর সবাই সেগুলো নিজ হাতে কলেজ মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঐতিহ্যবাহী লাল ডাকবাক্সে ফেলে। এই আয়োজনে অংশ নেওয়া সকল শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রিয়জনের কাছে চিঠি পাঠানোর সুযোগ পায়।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

উৎসবের উদ্বোধন করেন ডাক বিভাগ রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ উপ-ডাক বিভাগের পরিদর্শক মো. সানোয়ার হোসেন, নওগাঁ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মু. হযরত আলী, বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মো. ইদ্রিস আলী শেখ এবং শহর পরিদর্শক মো. সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নওগাঁ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জিয়ান শারমিন উচ্ছ্বাস নিয়ে বলেন, "জীবনে এই প্রথম কাগজে কলমে চিঠি লিখলাম। মেসেঞ্জার বা ফোনে প্রতিনিয়ত কথা হলেও মনের অনুভূতি হাতে লিখে জানানোর আনন্দ যে কতটা গভীর, তা আজ না লিখলে বুঝতেই পারতাম না।"

গণিত বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম ফয়সাল বলেন, "সবশেষ ২০১১ সালে একটি চিঠি লিখেছিলাম। দীর্ঘ সময় পর আজ দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি লিখলাম। বিনামূল্যে চিঠি পাঠাতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে।"

ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উৎসবে জমা হওয়া প্রতিটি চিঠি ডাক বিভাগের তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। তারা বলেন, দ্রুত যোগাযোগের নানান আধুনিক মাধ্যম চালু হলেও চিঠির আবেগী টান ও চিরন্তন গুরুত্ব আজও অপরিবর্তনশীল। তরুণ প্রজন্মকে চিঠি লেখায় উৎসাহিত করতে এবং ডাকসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তাছাড়া, যুগের চাহিদা মেনে ডাক বিভাগের সেবা ডিজিটাল করা হয়েছে উল্লেখ করে কর্মকর্তারা জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্পিড পোস্ট সেবার মাধ্যমে মালামাল পৌঁছে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ডাকসেবা গ্রহণের আগ্রহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাজমিন কেন ভুল সময়ে বাসে উঠেছিল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


তাজমিন কেন ভুল সময়ে বাসে উঠেছিল?

কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফিরে আসতে সাধারণত ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা সময় লাগে। অধিকাংশ যাত্রী সাধারণত রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে নাইট কোচে রওনা হন, যাতে ভোরের আলোয় কুমিল্লায় পৌঁছানো সম্ভব হয়। কিন্তু কুমিল্লার স্কুলশিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) কেন দুপুরে কক্সবাজার থেকে বাসে উঠেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তাজমিনের যাত্রার সময়, টিকিট কেনা এবং গভীর রাতে কুমিল্লায় পৌঁছানোর বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষভাবে, একা ভ্রমণকারী একজন কিশোরীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কেন এই বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।

কক্সবাজার আইকনিক বাসের টিকিট কাউন্টারের কর্মী আবদুল্লাহ মন্তব্য করেন, তাজমিন এবং তার সঙ্গী রিয়াজ উদ্দিন রাজু ওরফে রাজু চৌধুরীর বিষয়টি তাদের বোঝা উচিত ছিল। তিনি বলেন, "আমি বলতে চাইছিলাম ওদের, কিন্তু কাস্টমারের চয়েজ থাকতে পারে তাই বলা হয়নি।"

জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৯টার দিকে তারা টিকিট কাটতে যান। পরদিন বুধবার দুপুর ১২টার টিকিট তারা কেনেন। বাসটি দুপুর ১টার দিকে ছাড়ে। তাজমিন একা ভ্রমণ করায় তার জন্য একটি সিটের টিকিট কাটেন রাজু।

একজন কিশোরীর জন্য একক টিকিটের বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও দিনের বেলায় রওনা দিয়ে গভীর রাতে অপরিচিত শহরে পৌঁছানোর নিরাপত্তা নিয়ে কেন ভাবা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

রাজুর দাবি, কক্সবাজারে অবস্থানকালে তাজমিনের বাবা তাকে একাধিকবার ফোন করে অবস্থান জানতে চান এবং বাড়ি ফিরে আসার অনুরোধ করেন। রাজু জানান, তাজমিনকে বাবার কাছে বলতে শুনেছিলেন, সে শিগগিরই বাড়ি ফিরবে। এরপর মঙ্গলবার রাতে তারা আইকনিক এক্সপ্রেস বাসের টিকিট কাটেন। পরদিন বুধবার বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন তাজমিন।

রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, তাজমিনকে নিরাপদে কুমিল্লার বাসায় পৌঁছানোর বিষয়ে তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ছিল। তবুও ঘটে যায় হত্যাকাণ্ড।

রাজু আরও দাবি করেন, হাতঘড়ি নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে তাজমিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। তাজমিন তাকে জানিয়েছিলেন, তার সৎমা আছেন এবং আপন মা মারা গেছেন। পরে তিনি এক বান্ধবীর বাসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান। সেখান থেকে কুমিল্লায় ফিরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেই রাজুর সঙ্গে তাজমিনের যোগাযোগ শুরু হয়। এরপর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে তিনি কক্সবাজারে পৌঁছান।

তবে রাজুর এসব বক্তব্যের সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

পরিবারের দাবি, ৪ অক্টোবর তাজমিন বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিজের ইচ্ছামতো চলাফেরা করছিলেন। এ সময়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ থাকলেও তিনি কোথায় এবং কার কাছে ছিলেন, তা পরিবার নিশ্চিতভাবে জানতে পারেনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর তাজমিনের আইফোনের অবস্থান শনাক্ত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে তার যাতায়াতের তথ্য পাওয়া যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বাবা-মায়ের বারবার বাড়ি ফেরার তাগিদ এবং প্রয়োজনে তাকে নিতে যাওয়ার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তাজমিন দ্রুত বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। তবে যাত্রার সময় এবং গভীর রাতে কুমিল্লায় পৌঁছানোর নিরাপত্তার বিষয়টি তার সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলেছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ঘটনার দিন বুধবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাজমিনের মা কেয়া খাতুন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মেয়েকে নিয়ে আসতে বান্ধবীর বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। এ জন্য বান্ধবীর নাম এবং তার মা-বাবার পরিচয় জানতে চাইলেও তাজমিন কিছু জানায়নি।

কেয়া খাতুন আরও জানান, মেয়ের বন্ধুবান্ধব নিয়ে আগে থেকেই তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। কোনো অঘটন ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি। মেয়েকে চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করতেন এবং তার চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে খোঁজ নিতেন। কিন্তু এত সতর্কতার পরও মেয়েকে রক্ষা করতে পারেননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

এদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তাজমিনের মা যে বান্ধবীর কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি বয়সে তাজমিনের চেয়ে বড় এবং কুমিল্লায় থাকেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তবে হত্যাকাণ্ডে ওই বান্ধবীর সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। একইভাবে রাজুর সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

পুলিশের ভাষ্য, তাজমিনকে হত্যার ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া (৩৫) জড়িত। শনিবার রাতে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তদন্তের প্রয়োজনে আটক রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তথ্য যাচাই-বাছাই করতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা থেকে কক্সবাজারে গেছেন। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের পর তাজমিনের যাত্রা, তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

সচেতন নাগরিক কমিটি, কুমিল্লার সাবেক সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খানের মতে, রাজুর সঙ্গে তাজমিনের সম্পর্ক না থাকলে হয়তো তাকে কক্সবাজার যেতে হতো না। সে ক্ষেত্রে এমন বিপদের মুখে পড়ার আশঙ্কাও এড়ানো যেত বলে মনে করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে বাসে নেমে কুমিল্লা শহরের রেইসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন তাজমিন। পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাজমিন কেন দুপুরে বাসে উঠেছিলেন, গভীর রাতে কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর কী ঘটেছিল এবং কীভাবে তিনি হত্যার শিকার হলেন এসব প্রশ্নের কিছু উত্তর পুলিশের তদন্তে উঠে এলেও ঘটনার প্রতিটি দিক যাচাই করা এখনো জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক হিসেবে দেশের সবার প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন নেতৃবৃন্দ। পূজার ছুটি ও অনুদান বৃদ্ধি করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তারা। একইসঙ্গে, ঢাকা-১৭ আসনের ৮টি মন্দিরের প্রতিনিধিরা তাকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।

মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।”

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, “আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।”

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।”

তারেক রহমান বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহ আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।”

নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “একজন দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। তাদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভুল করেনি, তা এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর বারবার প্রমাণ হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে।

এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূর্জা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস, রাজিব কুমার আচার্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি ও বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও সেখানে ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের সহযোগিতায় ‘ক্লিন চাঁদপুর’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের সহযোগিতায় ‘ক্লিন চাঁদপুর’

মা ইলিশের ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে নদীর মিঠা পানিতে আসা মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকার উদ্দেশ্যে ৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সচেতন করার পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে ‘ক্লিন চাঁদপুর’ নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত শহরের পুরান বাজার রনাগোয়াল, হরিসভা, দোকানঘর, বহরিয়া এলাকায় জেলেদের মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালনা করা হয়। এ সময় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

সংগঠনের সদস্যরা এ সময় জেলেদেরকে অসাধু উপায়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার না করার এবং মা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতে অনুরোধ জানান। একই সাথে এসব এলাকার প্রায় দুই শতাধিক জেলেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।

‘ক্লিন চাঁদপুর’ এর প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ বলেন, উপকূলীয় এলাকার জেলেদের সরকারের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ইলিশ না ধরার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "কারণ ইলিশ জাতীয় সম্পদ। এটি রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব।"

তিনি আরও বলেন, "২২ দিনের জন্য সরকার জেলেদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। তারপরেও জেলেদের পাশে আমরা ক্ষুদ্র উপহার নিয়ে এসেছি। তাদের যেন কিছুটা হলেও সহায়ক হয়।"

‘ক্লিন চাঁদপুর’ সংগঠনটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছে। চাঁদপুর শহরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ‘বর্জ্যরে বিনিময়ে খাদ্য ও গাছ বিতরণ কর্মসূচি’ পরিচালনা করা হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ও সড়ক সংস্কার সহ যে কোন দূর্যোগে সরকারের পাশাপাশি এই সংগঠনের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকভাবে কাজ করে আসছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীস্বাস্থ্য রূপান্তরে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


নারীস্বাস্থ্য রূপান্তরে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

বাংলাদেশের বিশাল জনগণের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা যথেষ্ট নয়, এ কথা উল্লেখ করে নারীস্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে আমাদের ক্রমবর্ধমান জনগণের স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবনী অর্থায়ন, জাতীয় পর্যায়ে অঙ্গীকার, সহজ শর্তে বিনিয়োগ, অনুদানভিত্তিক কারিগরি সহায়তা এবং টেকসই অভ্যন্তরীণ সম্পদের সমন্বয়।’

রোববার (১১ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে (ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট) ‘দ্য মোমেন্ট ইজ নাউ: আনলকিং নিউ ক্যাপিটাল ফর উইমেনস হেলথ বিয়ন্ড এইড’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জানান, ‘ইনশাআল্লাহ, রাজনৈতিক অঙ্গীকার, উদ্ভাবনী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে কীভাবে নারীস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো যায়, বাংলাদেশ তা করে দেখাবে।’

তিনি নারীস্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘খণ্ডিত ও বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বল্পমেয়াদি সহায়তার পরিবর্তে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপান্তর করা প্রয়োজন।’

তিনি উল্লেখ করেন, নারীস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ কেবল স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় নয়; এটি মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মাতৃস্বাস্থ্যের প্রচলিত সেবার পরিধি বাড়িয়ে কিশোরীদের রক্তস্বল্পতা, মাতৃ অপুষ্টি, প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু এবং নারীদের আক্রান্তকারী প্রাণঘাতী ক্যানসার মোকাবিলায় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার মতো সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগগুলোও নারী ও মেয়েদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।’

তিনি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এক লাখ কর্মী নিয়োগে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান।

মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সরকার দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে এক লাখ কমিউনিটি ও ওয়েলবিইং কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। পাশাপাশি আরও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা হস্তক্ষেপ কমানো এবং প্রত্যেক নারীর দক্ষ ও সহানুভূতিশীল মাতৃত্বকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।’

জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো প্রান্তের কোনো নারীকে প্রয়োজনীয় ও সমন্বিত মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা পেতে নিজের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালের বাইরে যেতে হবে না।’

তিনি বলেন, ‘সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে কোনো নারীর বেঁচে থাকা কখনোই ঢাকা পর্যন্ত যাতায়াতের সামর্থ্য কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, এটি কেবল স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য নয়; বরং সমতা, মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার।’

নারীর ক্ষমতায়নে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা, নারীশিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের অপরিহার্য ভূমিকা রেখেছেন। যার সুফল পাচ্ছেন নারীরা। ‘

তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ উন্নয়ন, জনগণের অংশগ্রহণ এবং পরিবার পরিকল্পনার ওপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গুরুত্বারোপ সামাজিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।’

অন্যদিকে, বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীদের উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মের তরুণীর সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জুবাইদা রহমান।

নারীদের আক্রান্তকারী ক্যানসারে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের নতুন নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান।

এ উদ্যোগে অংশীদারত্বের জন্য তিনি জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বাংলাদেশের প্রতিটি মেয়ে নিরাপদ শৈশবের অধিকারী উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি মা নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার অধিকারী। আর গ্রাম ও শহরের প্রতিটি নারীর দীর্ঘ ও উৎপাদনশীল জীবন যাপনের সুযোগ পাওয়া উচিত।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওই অধিবেশনে ডা. জুবাইদা রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে সরকার, উন্নয়ন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিগণ প্রচলিত সহায়তার বাইরে নারীস্বাস্থ্য খাতে নতুন অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

অধিবেশনে ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কেইতা, ঘানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোয়াবেনা মিনতাহ আকানদোহ, ইআইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা, জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয়ের বির্গিট পিকেল এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টেকসই স্বাস্থ্য অর্থায়ন এবং মিডওয়াইফারি খাতে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনায় অংশ নেয়।

এ ছাড়া নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল বায়ার, রোশে, বার্লিন ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং শারিতে- ইউনিভার্সিটেটসমেডিজিন বার্লিন।

নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ২৫ কোটি ইউরোর ঋণ পুনর্বিন্যাস:

এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (ইআইবি) ২৫ কোটি ইউরোর একটি সার্বভৌম ঋণ নারীস্বাস্থ্য উদ্যোগে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করবে ইউএনএফপিএ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%