ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেত্রকোণায় মর্টার শেল উদ্ধার, ছিল অবিস্ফোরিত


নেত্রকোণায় মর্টার শেল উদ্ধার, ছিল অবিস্ফোরিত

জেলার নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) আওতাধীন ভবানীপুর বিওপির সীমান্ত এলাকা থেকে আজ একটি ৬০ মিলিমিটারের জ্যান্ত ও অবিস্ফোরিত মর্টার শেল উদ্ধার করা হয়েছে। আজ দুপুরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভবানীপুর গ্রামের নালা থেকে এই শক্তিশালী গোলাটি উদ্ধার করা হয়।

নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ আনুমানিক বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভবানীপুর বিওপির (বর্ডার অবজারবেশন পোস্ট) আওতাধীন এলাকার সীমান্ত পিলার ১১৫৫/১০-এস হতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আনুমানিক ৩০০ গজ দূরে ভবানীপুর গ্রামের কয়েকজন ছোট বাচ্চা একটি নালায় মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরার সময় কাদা মাটির ভেতরে তারা ভারী লোহার বস্তু বা একটি গোলা দেখতে পায়।

পরবর্তীতে ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ছদর উদ্দিনের পুত্র মো. আমজাদ আলী (৩০) বিষয়টি জানতে পেরে নালা থেকে উক্ত গোলাটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তুলে নিয়ে আসেন। তিনি গোলাটি তার বাড়ির নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে রেখে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি ভবানীপুর বিওপি কমান্ডারকে খবর দেন। 

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

খবর পেয়ে ভবানীপুর বিওপি কমান্ডার বিজিবির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে যান। সেখানে  তারা বস্তুটিকে ৬০ মি: মি: মর্টার এর একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অবিস্ফোরিত গোলা হিসেবে শনাক্ত করেন।

৩১ বিজিবির অধিনায়ক ও পরিচালক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী, পিএসসি জানান, জননিরাপত্তা ও যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে অবিস্ফোরিত গোলাটি বালির বস্তা দিয়ে চারপাশ থেকে নিরাপদ বেষ্টনীতে ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং উক্ত স্থানে বিজিবি মোতায়েন করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা  দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার হওয়া মর্টার শেলটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল দলের সাথে সার্বিক সমন্বয় সাধন করে গোলাটি সম্পূর্ণ  নিরাপদ উপায়ে ধ্বংস করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বোম্ব ডিসপোজাল দল উক্ত স্থানে পৌঁছে গোলাটি নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করার পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং স্থানীয় জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢেউয়ের তাণ্ডবেও পর্যটকদের আনন্দ-উল্লাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


ঢেউয়ের তাণ্ডবেও পর্যটকদের আনন্দ-উল্লাস

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো হলে থামেনি পর্যটকদের উল্লাস। উত্তাল ঢেউয়ে গা ভেজাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়। তবে নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা।

শনিবার (০৪ জুলাই) কক্সবাজারে কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, কখনও তীব্র রোদ। ভ্যাপসা গরম আর উত্তাল সাগর উপেক্ষা করেই সাপ্তাহিক ছুটিতে সমুদ্রসৈকতে ছুটে এসেছেন ভ্রমণপিপাসুরা। শুক্রবারের মতো শনিবারও দিনব্যাপি পর্যটকরা কেউ সমুদ্রস্নানে, কেউ টিউবে ভেসে ঢেউয়ের সঙ্গে মেতে উঠেছেন।

 

ঢাকার বনানী থেকে আসা পর্যটক হারুন-উর-রশিদ বলেন, ‘সমুদ্র উত্তাল হলেও আবহাওয়া দারুণ। ছুটির দিন হওয়ায় পর্যটকের চাপও অনেক বেশি। সৈকতে কিছু সময় কাটিয়ে পরে মেরিন ড্রাইভ ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

 

নোয়াখালীর সন্দ্বীপ থেকে আসা পর্যটক তানভীর ইসলাম বলেন, ‘সমুদ্র উত্তাল থাকলেও এর সৌন্দর্য ও আকর্ষণ আলাদা। তিন নম্বর সতর্কসংকেত থাকলেও মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে সমুদ্র উপভোগ করতে আসে। আমি সন্দ্বীপের মানুষ, তাই উত্তাল সাগর নতুন নয়। তবে নিরাপত্তা মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কক্সবাজারকে ঘিরে মানুষের যে উচ্ছ্বাস, সেটা সত্যিই ভালো লাগে।’

 

আরেক পর্যটক ইব্রাহিম কাদের বলেন, ‘পরিবার নিয়ে সমুদ্রসৈকতে এসে খুব ভালো লাগছে। উত্তাল সমুদ্রের কারণে ভেতরে না গিয়ে নিরাপদ দূরত্বে থেকেই সময় কাটাচ্ছি। তিন নম্বর সতর্কসংকেত থাকায় ঝুঁকি না নিয়ে সবাইকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানাই।’

 

আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় জানানো হয়- উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসগার ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘণীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

 

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ০৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

 

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

 

এদিকে বর্ষা মৌসুমেও পর্যটকের উপস্থিতিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে সৈকতপাড়। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায় বেড়েছে বেচাকেনা।

 

জেড স্কী ব্যবসায়ী মো. সাদ্দাম বলেন, ‘ছুটির দিন হওয়ায় সৈকতে পর্যটকের উপস্থিতি অনেক বেশি। তবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় সবাইকে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে চলা উচিত। পর্যটকরা নিরাপদে ঘুরতে পারলে আমাদের ব্যবসাও ভালো হবে।’

 

ফটোগ্রাফার জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বর্ষাকাল হওয়ায় ব্যবসা এখন মোটামুটি চলছে। পর্যটক এলে ব্যবসা ভালো হয়, আর পর্যটক কম থাকলে আয়ও কমে যায়। আমরা আশা করছি, আগামী দিনগুলোতেও পর্যটকের উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে।’

 

সমুদ্র উত্তাল থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা। আর লাইফগার্ডের নিরাপদ সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে লাল-হলুদ পতাকার মাধ্যমে।

 

সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র সদস্য মো. সেলিম সময় সংবাদকে বলেন, সমুদ্র বর্তমানে উত্তাল থাকায় সৈকতের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। তাই সুগন্ধা, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টে লাইফগার্ডরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপদ গোসলের জন্য রেড-ইয়েলো পতাকার মধ্যে থাকতে এবং লাল পতাকা চিহ্নিত বিপজ্জনক এলাকায় না নামতে পর্যটকদের অনুরোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হুইসেল ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে নিরাপদ এলাকায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে লাইফগার্ডের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে সৈকতকর্মী, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স‌ঙ্গে স্পিকা‌রের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৫ পি.এম


আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স‌ঙ্গে স্পিকা‌রের বৈঠক

আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বৈঠক করেছেন।

শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তালেবান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জা‌নি‌য়ে‌ছে।

আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাহার বালখি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ, বিশেষ করে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় করেছে।

বৈঠকে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যমান এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উভয় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

বাংলাদেশের স্পিকারও দুই দেশের সম্পর্ককে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের চলমান অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কা-যশোর রুটে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৩ পি.এম


কা-যশোর রুটে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন

ঢাকা-যশোর পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পে যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে অবিলম্বে বেনাপোল/দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে একটি প্রভাতি আন্তঃনগর ট্রেনসহ মোট তিনটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে আগামী ৬ জুলাই সোমবার যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করেছে 'বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি'।

এই ঘোষণা শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঢাকা-যশোর পদ্মা সেতু রেলপথে বর্তমানে দিনে মাত্র একটি ট্রেন চলাচল করছে। এটি এই অঞ্চলের মানুষের চাহিদার তুলনায় সম্পূর্ণ অপ্রতুল। এর ফলে যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষ প্রকল্পের পূর্ণ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের নাম ঢাকা-যশোর হলেও অতীতে মূল যশোর শহরকে রেল সুবিধার বাইরে রেখে পদ্মবিলা স্টেশনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যদিও পরে জনদাবির মুখে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও এখনও কাঙ্ক্ষিত রেলসেবা চালু হয়নি।

নেতারা ব্যাখ্যা করেছেন, যশোর থেকে ভোরে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে যাত্রীরা সকালে ঢাকায় গিয়ে অফিস-আদালত ও প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় ফিরতে পারবেন। এই দাবিকে সামনে রেখে তারা 'পান্তা খেয়ে ঢাকায় যাই, রাতে বাড়ি ফিরতে চাই' স্লোগানকে আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন।

তারা আরও জানান, ২০২৩ সাল থেকে স্মারকলিপি, মানববন্ধন, বিক্ষোভ, রেল অবরোধ ও নানান কর্মসূচির মাধ্যমে তারা দাবি জানিয়ে আসছেন। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মার্চ-এপ্রিল ২০২৬ সালের মধ্যেই নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই, আগামী ৬ জুলাই সোমবার বেলা ১টায় যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক কাওসার আলী ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন বলেছেন, আগামী ৬ জুলাইয়ের কর্মসূচির পরেও দাবি বাস্তবায়ন না হলে যশোরবাসী আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। তারা কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালিতে সমন্বিত বিদ্রোহীদের নতুন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ পি.এম


মালিতে সমন্বিত বিদ্রোহীদের নতুন হামলা

আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী এবং তাদের মিত্র তুয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা শনিবার মালিজুড়ে নতুন করে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। এটি তাদের আরেকটি বড় আক্রমণ, যা কয়েক মাস আগে একই ধরনের হামলায় দেশটির সামরিক জান্তাকে বড় ধাক্কা দেওয়ার পর ঘটে।

বামাকো থেকে এএফপি জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৫টার দিকে (গ্রিনিচ সময় ০৫০০) শুরু হওয়া এ হামলা উত্তরাঞ্চলের গাও, আনেফিস ও আগেলহক শহর, মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহর এবং রাজধানীর কাছে কেনিয়েরোবার একটি কারাগারকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।

গত এপ্রিলের শেষ দিকে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ জেএনআইএম (জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন) এবং তুয়ারেগ এফএলএ (আজাওয়াদ মুক্তি ফ্রন্ট) উত্তরাঞ্চলের কৌশলগত শহর কিদাল দখল করে এবং মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে হত্যা করে।

২০২০ ও ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মালি সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে। ক্ষমতা দখলের সময় সামরিক নেতৃত্ব দেশটিতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে ২০১২ সাল থেকে ঐ বিস্তীর্ণ মরুভূমি অধ্যুষিত দেশটি জঙ্গি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতায় জর্জরিত রয়েছে।

২৫-২৬ এপ্রিলের বড় হামলার পর মালির সেনাবাহিনী রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত আফ্রিকা কোরের সহায়তায় সামরিক অভিযান জোরদার করে।

প্রায় এক বছর আগে তুয়ারেগ এফএলএ এবং জেএনআইএম জোটবদ্ধ হয়ে আসে। এরপর থেকে তারা যৌথভাবে সামরিক সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে।

ডাকারভিত্তিক টিম্বুক্তু ইনস্টিটিউটের পরিচালক বাকারি সাম্বে এএফপিকে বলেন, ‘বৃহত্তর আক্রমণের আগে মধ্যবর্তী ধাপ হিসেবে পরিচালিত এসব অভিযান সরকারকে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন করে তুলছে।’

সেনাবাহিনীর দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। মালির সেনাবাহিনী শনিবার সকালে ফেসবুকে এক বিবৃতিতে চারটি শহর ও কেনিয়েরোবার ওপর হামলার কথা নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি, ‘হামলাগুলো শক্ত হাতে প্রতিহত করা হয়েছে’ এবং ‘পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

তবে এএফপির সঙ্গে কথা বলা বিভিন্ন সূত্র জানায়, দুপুর পর্যন্তও কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষ চলছিল। এফএলএর মুখপাত্র মোহামেদ এলমাউলুদ রমাদানে এএফপিকে বলেন, আনেফিসে ‘বেশ কয়েকটি অবস্থান’ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যদিও শনিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে লড়াই চলছিল।

আনেফিসের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো শহরের ভেতরে রয়েছে। তবে সেনাবাহিনী এখনো প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। সেনা শিবির এখনো দখল হয়নি।’

এপ্রিলের হামলার পর উত্তরাঞ্চলের কিদাল অঞ্চলে আনেফিস এবং আগেলহকই এখন শেষ দুটি এলাকা, যেখানে মালির সেনাবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর গাওয়ের বাসিন্দারা জানান, সেনা ঘাঁটির কাছে গুলির শব্দ ও বিকট বিস্ফোরণ শোনা গেছে।

সন্ত্রাসবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক একাডেমির কৌশলগত গবেষণা ইনস্টিটিটের এক গবেষক এএফপিকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে তাদের লক্ষ্য সম্ভবত উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা, এরপর আরও দক্ষিণে অগ্রসর হওয়া।’

মধ্যাঞ্চলের সেভারে শহরে, যেখানে একটি বড় সেনা ঘাঁটি ও বিমানবন্দর রয়েছে, স্থানীয় এক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ‘সকাল ৫টার দিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর কয়েকটি যুদ্ধবিমান এলাকাটির ওপর দিয়ে উড়তে দেখা যায়।’

রাজধানী বামাকো থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কেনিয়েরোবা কারাগার কমপ্লেক্সেও হামলা চালানো হয়। সেখানে জঙ্গিসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত বন্দিদের রাখা হয়।

এক বন্দি এএফপিকে বলেন, ‘আমরা বিছানার নিচে লুকিয়ে আছি। এখনো গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।’ এরপরই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কেনিয়েরোবা কেন্দ্রীয় কারাগার মালির সবচেয়ে বড় আধুনিক কারাগার, যেখানে আড়াই হাজারের বেশি বন্দি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।

দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সংকট। ২০১২ সাল থেকে আল-কায়েদা এবং তথাকথিত ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী, বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কারণে মালি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে।

এপ্রিলের যৌথ হামলায় তুয়ারেগ বিদ্রোহী ও জঙ্গিরা কিদাল পুনর্দখল করে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে মালির সেনাবাহিনী এবং রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপ শহরটি দখল করেছিল। পরে ওয়াগনারের স্থলাভিষিক্ত হয় আফ্রিকা কোর।

জান্তাপ্রধান জেনারেল আসিমি গোইতা রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন এবং সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন।

গত মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, এপ্রিলের হামলার পর বিদ্রোহী গোষ্ঠী, মালির সেনাবাহিনী এবং তাদের রুশ মিত্ররা বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন’ করেছে।

২০১২ সালের সংকটেও তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা জঙ্গিদের সঙ্গে মিলে উত্তর মালির গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো দখল করেছিল। ঐতিহাসিকভাবে যাযাবর তুয়ারেগ জনগোষ্ঠী মালি, নাইজার, আলজেরিয়া, লিবিয়া এবং বুরকিনা ফাসো জুড়ে বিস্তৃত। দীর্ঘদিন ধরে তারা বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে আসছে, যার কেন্দ্র ছিল বিশেষ করে কিদাল।

এদিকে জেএনআইএম গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানী বামাকোগামী জ্বালানিবাহী ট্যাংকার বহরে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে। এ হামলা গত অক্টোবরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%