০৫:১৬ পি.এম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনের আন্দোলনের শুরুটাই ঘটেছিল ১ জুলাই থেকে। উচ্চ আদালতের এক রায়কে কেন্দ্র করে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ থেকে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও সড়কে এসে অংশ নেন।
শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ দলীয় অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক দমনপীড়ন চালাতে থাকে। এ কারণে আন্দোলন আরো তীব্র হয়।
শাহবাগে অবস্থান নিয়ে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। সরকারের দমনপীড়ন বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও আন্দোলনে বাড়তে থাকে। আওয়ামী দুঃশাসনে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে সমর্থন দেয়।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে পুলিশ খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। ঐদিন চট্টগ্রামে শহীদ হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। সারাদেশে আন্দোলন দাবানলের মতো জ্বলে ওঠে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী পরবর্তী প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে গুলি করে শিশুদেরসহ হত্যা করা হয় প্রায় ১৪০০ মানুষকে।
এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, সড়কে এসে শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনমুখী লাখো মানুষের ঢল দেখা যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওইদিন দুপুরে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এভাবে পতন হয় কর্তৃত্ববাদী এক শাসনের। গণভবন ও সংসদভবন দখলে নেয় ছাত্র-জনতা।
পরে জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলার তদন্তে উঠে আসে যে, নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে মারণাস্ত্র ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এমনকি তিনি হেলিকপ্টার থেকে গুলি করারও আদেশ দিয়েছিলেন। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে নগ্নভাবে ব্যবহারের প্রমাণও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক্ষেত্রে পেয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন