০৭:১৩ পি.এম
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারা দেশের মতো যশোরেও দফায় দফায় ভারী ও হালকা বর্ষণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
২০ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটারের রেকর্ড বৃষ্টির কারণে শহরের নিচু এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে গেছে।
এতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাটও। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় নাগরিকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
যশোর বিমানবন্দরস্থ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ বেলা ২টা পর্যন্ত মোট ২০ ঘণ্টায় যশোরে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এর মধ্যে গতকাল সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার এবং আজ সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
ছুটির দিনে এই মুষলধারে বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটে লোকসমাগম কমে গেছে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শহরের খড়কি, বেজপাড়া, চাঁচড়া, শংকরপুর, আরবপুর, পালবাড়ি এবং বকচর এলাকাগুলোর রাস্তাঘাটে বৃষ্টি নামলেই পানিতে তলিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকায় স্কুলগামী শিশু, অফিসগামী মানুষ এবং ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
খড়কি এলাকার বাসিন্দা আমিনুর রহমান এবং রাশিদুল ইসলাম জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে।
ড্রেন থাকলেও পানি ঠিকমতো নামে না।
শংকরপুর এলাকার তাহমিনা খাতুন জানান, ঘরের সামনে হাঁটু পানি জমে গেছে।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার
বাইরে বের হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে বাইরে বের হওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।
পৌরসভার দেয়া তথ্যমতে, যশোর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ড্রেনের দৈর্ঘ্য ২৫১.৯৬ কিলোমিটার।
এর মধ্যে ৪৯.২২ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ৬৯.২৫ কিলোমিটার ইটের গাঁথুনির ড্রেন, পাঁচ কিলোমিটার পাইপ ড্রেন এবং ১২৮.৪৯ কিলোমিটার এখনো কাঁচা ড্রেন।
অর্থাৎ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অর্ধেকেরও বেশি অংশ এখনো কাঁচা অবস্থায় রয়েছে, যা বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে বাধা তৈরি করছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এসআরবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, পুলিশ উদ্ধার অভিযান
পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে শুধু ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২ crore ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১ crore ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
একইসঙ্গে ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় সাত কিলোমিটার নতুন আরসিসি ড্রেন নির্মাণের জন্য ২০ crore ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
জলাবদ্ধতার বিষয়ে পৌরসভার প্রকৌশলী (পানি ও পয় নিস্কাশন) এস এম কামাল হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগেই শহরের অধিকাংশ ড্রেন পরিস্কার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসপাতালের টয়লেট নিজ হাতে পরিষ্কার করলেন এমপি খোকন
কিন্তু জনগণের অসচেতনতার কারণে এসব ড্রেন আবার প্লাস্টিক, পলিথিন এবং বর্জ্যে ভরে গেছে।
তাছাড়া অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে পানি জমে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনে সময় লাগছে।
আশা করা যায় নতুন করে কোনো বৃষ্টিপাত না হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শহরের রাস্তাঘাটের পানি নেমে যাবে।
আরও পড়ুন: ভাড়া বাসায় মিলল প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ, প্রেমিক উধাও
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
